খুব কম লোকই সাহিত্যের দিকপাল হোর্হে লুইস বোর্হেসের বোনের কথা জানে, আরো কম জানে লেওনর ফানি বোর্হেস আচেবেদোর কথা (১৯০১-৯৮), পরিচিতি যা কিছু তা নোরা বোর্হেস ছদ্মনামে। নিজ দক্ষতায় ১৯২০ সালের দিকে নোরা আধুনিক চিত্রশিল্পের একজন নারী পথিকৃৎ হিসেবে আবির্ভূত হন। কিন্তু চিত্রশিল্পী হিসেবে আর্জেন্টিনা ও স্প্যানিশ দুনিয়ায় তার সুখ্যাতি জুটলেও পর্বতসম উচ্চতার সহোদর বোর্হেসের ছায়তলেই তাকে থাকতে হয়েছে। তার জীবদ্দশায় ৮০টির মতো বইয়ের অলঙ্করণের কাজ করেছেন। এর মধ্যে তার ভাই হোর্হে লুইস বোর্হেসের বইও রয়েছে, সঙ্গে আভা-গ্রাদ ঘরানার কিছু সাময়িক পত্রিকার অঙ্গসজ্জার কাজও আছে।
বোন লেওনর ফানি বোর্হেসের নোরা নামটি দেয়া সাহিত্যিক বড় ভাই লুইস বোর্হেসেরই। নিজের বোন সম্বন্ধে হোর্হে লিখেছেন:
আমাদের সব রকম খেলাধুলায় সবসময়ই নেতা ছিল ও, আমিই ছিলাম শ্লথগতির, লাজুক, অনুগতদের একজন। ছাদে উঠত ও, অকারণে গাছগাছালির মধ্যে হেঁটে বেড়াত ও, আর আমি উত্সাহ তো দূরে থাক, ভয়ে ভয়ে ওকে অনুসরণ করতাম।
—হোর্হে লুইস বোর্হেস, নোরাহ
বাবার ক্রমবর্ধমান অন্ধত্বের চিকিত্সার জন্য নোরা পরিবারের সঙ্গে সুইটজারল্যান্ডে চলে যায় শৈশবেই। চিত্রকলায় এ সময় ধ্রুপদী ভাস্কর মরিস সারকিসফের কাছে চিত্রকলার দীক্ষা নেন নোরা। শিক্ষাপর্বে আরনাল্ডো বসি ও জার্মান এক্সপ্রেশনিস্ট আর্নস্ট লুডভিগ ক্রিশনারের সান্নিধ্যেও আসেন। বসির কাছেই নোরা উডকাটিং ও এক্সপ্রেশনিজমের নান্দনিক বিষয়ে জ্ঞান লাভ করেন।
সুইটজারল্যান্ডে থাকাকালীন নোরা তার অলঙ্কৃত প্রথম কবিতার বই প্রকাশ করেন, নোতাস লেহানাস (১৯১৫)। এ বই প্রকাশের পর বোর্হেস পরিবারের আর্জেন্টিনায় ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বেধে যাওয়ায় আরো চার বছর তাদের ইউরোপেই থাকতে হয়। এ সময় নোরা প্যারিস ছাড়াও স্পেনে পড়াশোনা করেন। বার্সেলোনায় আভা-গ্রাদ আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এ সময়ে স্পেনের বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত অলঙ্করণের কাজ করেন। মাদ্রিদে থাকার সময় প্রখ্যাত কবি হুয়ান রামোন হিমেনেথের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। হিমেনেথের বেশকিছু বইয়ের প্রচ্ছদ করেন।
আর্জেন্টিনায় ফিরে আসার পরও তাদের বন্ধুত্ব অক্ষুণ্ন ছিল। ১৯৪২ সালে হিমেনেথের প্ল্যাতেরো ই ইয়ো গ্রন্থের অঙ্গসজ্জা করেন নোরা। এ সময়ে বড় ভাই বোর্হেস ছাড়াও আজেন্টিনার আরো অনেক খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকের বইয়ের অঙ্গসজ্জার কাজ করেছেন। এদের মধ্যে ছিলেন ভিক্তোরিয়া ওকাম্পো, সিলবিনা ওকাম্পো, আদালফো বিয়ো কাসারেস, হুলিয়ো কোর্তাসার, ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা।





