শুনিলেক ধাঞি জদি ইছুফ উত্তর।

বিমরিষ মনে গেল জলিখা গোচর\

ধাঞি মুখে শুনিয়া ইছুফ বাক্যজাল।

কুমারী কর্ণেত জেন ফুটিলেক শাল\

আপনে চলিয়া গেলা ইছুফের স্থান।

ইছুফে কুমারী দেখি হৈলা তুরমান\

দণ্ডাইলা কন্যার অগ্রত কর জুড়ি।

রহিলেন্ত চিন্তাজুক্ত অধোমুখ করি \

শুনহ ইছুফ তুহ্মি নবীর সন্ততি।

আহ্মার দুক্ষের কথা শুন তত্ত্বমতি\

তত্ত্ববুদ্ধি ভূতশুদ্ধি তোহ্মা বিদ্যমান।

স্বপ্ন আদি অন্ত কথা তুমি ভাল জান\

আজিজ দেখিয়া মুঞি হৈলু হতবোধ।

অন্তবীক্ষ বাণী শুনি হই প্রবোধ\

আজিজের সঙ্গে জথ হৈছে গতাগত।

অবশ্য তোহ্মার পদে হইব বেকত\

তুহ্মি মোর প্রাণেশ্বর আহ্মি তোহ্মা দাসী।

আব জথ বাজ্যলোক সব উপহাসি\

তোহ্মা পদতলে মোর জীবন জৌবন।

কথ পুণ্য ফলে পাইলুঁ তোহ্মা দরশন \

কোন ইষ্ট আহ্মাক আনাইল এহি দেশ।

তোহ্মাব কারণে আইলুঁ দেশান্তবী ভেস\

তোহ্মার কারণে মুঞি হইলুঁ দূরান্তর।

তোহ্মা উপলক্ষে মোর জথ অথান্তর\

সর্বলোকে বোলন্ত বিদেশী মোর নাম।

মুঞি দুক্ষমতীর ন পুরে মনস্কাম \

মোব মনুরথ বিনে জদি কর আন।

বিষ ভক্ষি মরিমু তোহ্মার বিদ্যমান\

ইছুফে শুনিলা জদি কন্যার বচন।

অধোমুখ করিয়া রহিলা ততক্ষণ\

গদগদ কান্দি কহে জলিখা সুন্দরী।

ইছুফে উত্তর দিলা ধর্ম অনুসরি\

শুন কন্যা তোহ্মাক কহিএ কিছু শুদ্ধি।

রাজার কুমারী হৈয়া নহি জান বুদ্ধি\

জথ কিছু কহ তুহ্মি কিছু নহে আনে।

এক দেখি আন করে প্রভু ভাল জানে\

তোহ্মার আহ্মার হোন্তে নহে কোন কাম।

আপনা ভুলাএ ভুলি থাকে সর্ব ঠাম\

আহ্মাক দেখাই তোহ্মা করিল পাগল\

বেচিল আহ্মারে জেন এ ভেড়া ছাগল\

এহি সে লেখিল মোর কর্ম প্রজাপতি।

জেহি ইচ্ছা সেহি করে তান অনুমতি\

আজিজের পত্নী তুহ্মি জানে ত্রিভুবন।

মনভঙ্গ দোহান ন জানে কোন জন\

কিনিয়াছ আহ্মাক জানএ ত্রিজগত।

পুত্র কবি তোহ্মা সমর্পিল পদগত \

তুহ্মি রাজমহিষী জানএ সর্বজন।

তোহ্মার সেবক আহ্মি বিদিত ভুবন।

হেন কর্ম জুক্ত নহে করিতে আহ্মার।

তিলেক পরশে হৈব জগতে প্রচার\

শ্বেত বাস তোহ্মাব নবীন অনুদিন।

বুন্দেক পড়িলে কালি সর্বত্রে মলিন\

তিলেক এ সুখ হৈব জন্মান্তরে পাপ।

কেমন মুগধ আছে বিগারএ আপ\

মোক খেমা করহ ভজিলুঁ তোহ্মা ঠাই।

হেন ঘোরতর পাপ ভুবনেত নাই \

মুঞি অগ্নি তুহ্মি তুলা একত্র উপেক্ষি।

ঘৃত বহ্নি সমজুক্ত কদাপি ন রাখি।

ইছুফের মুখে শুনি এমত বচন।

বিষাদিত বাজসুতা বিষণ্ন বদন।