হাজার হাজার বছর আগে যে ছিল অরণ্য ও তৃণভূমির ভয়ংকর বন্যপ্রাণী, সময়ের প্রবাহে সেটিই মানুষের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গীদের একটিতে পরিণত হয়েছে। কৃষিকাজ, পরিবহন, খাদ্য, ধর্মীয় আচার, এমনকি শিল্প ও পুরাণেও গরু ও ষাঁড়ের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। হান্না ভেলটেনের ‘কাউ’ গ্রন্থে গরুর দীর্ঘ রূপান্তরের ইতিহাস উপস্থাপিত হয়েছে। বন্য ‘অরক্স’ থেকে গরু কীভাবে আধুনিক গৃহপালিত প্রাণীতে রূপান্তর হলো সেই বিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরেছেন লেখক।

প্রাগৈতিহাসিক যুগে ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিচরণ করত বিশালাকৃতির বন্য গরু, যাদের বলা হতো ‘অরক্স’ (Aurochs)। এরা ছিল আধুনিক গরুর অতীত। আকারে আজকের গরুর তুলনায় অনেক বড়, শক্তিশালী ও আক্রমণাত্মক ছিল এ প্রাণী। পুরুষ অরক্সের উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট পর্যন্ত হতো এবং তাদের বিশাল বাঁকানো শিং ছিল ভয়ংকর অস্ত্র। মানুষের জন্য এরা যেমন ছিল শিকারের লক্ষ্য, তেমনি ভয়েরও কারণ। প্রাচীন গুহাচিত্রে অরক্সের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষ এ প্রাণীকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করত এবং তাদের শক্তির প্রতি এক ধরনের মুগ্ধতাও পোষণ করত।

ভৌগোলিক বিস্তার ও খাদ্য

আজ থেকে প্রায় ২০ লাখ বছর আগে এশিয়ায় দেখা যাওয়া হরিণসদৃশ ‘লেপ্টোবোস’ (Leptobos) নামক প্রাণী থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে অরক্সদের উৎপত্তি। জলবায়ু ও ঘাসের জমির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা মধ্যপ্রাচ্য হয়ে প্রায় আড়াই লাখ বছর আগে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।

অরক্স উত্তর গোলার্ধের নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে ছিল। তবে তারা কখনো আয়ারল্যান্ড, মধ্য ও উত্তর স্ক্যান্ডিনেভিয়া কিংবা উত্তর আমেরিকায় পৌঁছায়নি। এত বিশাল ভৌগোলিক অঞ্চলের ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে তারা তিনটি স্বতন্ত্র ধারায় বিবর্তিত হয়েছিল। যেমন এক. ভারতীয় বা এশীয় ধরন, দুই. ইউরোপীয় ধরন এবং তিন. উত্তর আফ্রিকান ধরন।

অরক্সদের সময়কার পৃথিবী ছিল আজকের তুলনায় অনেক বেশি সবুজ। তারা সাধারণত নদী উপত্যকা ও জলাভূমিময় বনাঞ্চলে বাস করতে পছন্দ করত। তাদের গৃহপালিত বংশধরদের মতো তারাও ছিল প্রকৃত তৃণভোজী প্রাণী। তাদের খাদ্যতালিকায় ছিল ঘাস, বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ, বসন্ত ও গ্রীষ্মে গাছের পাতা ও বাঁকল, শরতে ওক গাছের ফল এবং শীতে শুকনো পাতা।

অরক্স থেকে গৃহপালিত গরু: যুগান্তকারী মুহূর্ত

খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৭০০০ অব্দে, প্রথম আদিম মানুষ হিংস্র ও ভয়ংকর ‘অরক্স’ (বুনো ষাঁড়)-এর সঙ্গে আরো কাছাকাছি সম্পর্ক তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু যখন তাদের কাছে এরই মধ্যে গৃহপালিত ভেড়া ও ছাগল ছিল, যা তাদের মাংস, দুধ এবং চামড়ার জোগান দিত। তখন কেন তারা এ বিপজ্জনক জন্তুগুলোকে পোষ মানানোর চেষ্টা করতে গেল, তা আজও বিতর্কের বিষয়। এমনকি প্রত্নতাত্ত্বিকরাও একসময় বিশ্বাস করতে পারেননি যে আজকের গরু ওই বিপজ্জনক অরক্স থেকেই এসেছে। ১৮৪৬ সালে অধ্যাপক রিচার্ড ওয়েন আয়ারল্যান্ডের পিট বগ (এক ধরনের জলাভূমি) থেকে ছোট, খাটো শিংওয়ালা গবাদিপশুর অবশিষ্টাংশ খুঁজে পান। তিনি এটিকে Bos longifrons নামে অভিহিত করেন এবং ভেবেছিলেন যে তিনি হয়তো আজকের গৃহপালিত গরুর আসল পূর্বপুরুষের সন্ধান পেয়েছেন।

গবাদিপশু পোষ মানানোর পেছনে নানা ধরনের তত্ত্ব রয়েছে। তবে এডুয়ার্ড হানের (১৮৯৬ ও ১৯০৯ সালে প্রকাশিত) একটি তত্ত্ব আদিম সভ্যতার সঙ্গে অরক্সের ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক সম্পর্কের ওপর জোর দেয়। নিয়মিত রূপ পরিবর্তন করা চাঁদ ছিল তখনকার সমাজে উর্বরতার প্রতীক, আর অরক্সের অর্ধচন্দ্রাকৃতির শিংগুলো চন্দ্রদেবীদের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল। শস্য ও পশুপাখির উর্বরতা বজায় রাখতে দেবীদের সন্তুষ্ট করার জন্য নিয়মিত পশু বলি দেয়া হতো। তাই অপেক্ষাকৃত কম হিংস্র এবং শান্ত প্রকৃতির অরক্সের একটি স্থায়ী জোগান নিশ্চিত করাটা তাদের জন্য বেশ স্বস্তির ছিল। এটি প্রয়োজনীয়ও ছিল। এভাবে মানুষ শান্ত প্রকৃতির গরুর প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে।

16

চার্লস হ্যামিল্টন স্মিথের আঁকা অসবার্গ অরক্স, ১৯২৭ খ্রি. ছবি: অ্যানিমেল পিকচার আর্কাইভ

অন্যান্য তত্ত্ববিদ, বিশেষ করে এফই জিউনার (১৯৬৩) গবাদিপশু পোষ মানানোকে মানুষের ফসল বাঁচানোর এক নিরন্তর লড়াইয়ের একটি আনুষঙ্গিক ফল হিসেবে দেখেন। কারণ এ ‘খুরওয়ালা শস্য-চোর’ (অরক্স) মানুষের ফসল নষ্ট করত। তার মতে, ফসলের মাঠ থেকে দূরে রাখার জন্য মানুষ গরু বাছুরগুলোকে ধরে ফেলত এবং নিজেদের বসতিতে আটকে রাখত। তবে এ পশুগুলোকে ক্যাম্পের মতো জায়গায় বেঁধে রাখার পর, মানুষ তাদের খাবারের ব্যাপারে তেমন একটা মাথা ঘামাত না। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এবং প্রায় অনাহারে থাকার কারণে মানুষের বসতির ভেতরেই এক ছোট এবং শান্ত প্রজন্মে পরিণত হয় তারা। এভাবেই এ বৃহৎ জাবর কাটা পশুরা প্রথমে এসেছিল শস্য-চোর হিসেবে, আর শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় গৃহপালিত পশুতে।

এভাবে অরক্স পোষ মানানোর পর, বংশবৃদ্ধি করতে দেয়া, কিংবা বুনো পশু ধরে এনে পোষা পশুদের দলে ছেড়ে দেয়ার মাধ্যমে পালের সংখ্যা বাড়ানো বেশ সহজ হয়ে উঠেছিল।

গবাদিপশুরা দলবদ্ধ প্রাণী। ফলে তারা সবসময় পালে থাকতে পছন্দ করে এবং দল থেকে বিচ্ছিন্ন হলে অত্যন্ত ছটফট বা ব্যাকুল হয়ে পড়ে। ইংরেজ প্রকৃতিবিদ গিলবার্ট হোয়াইট (১৭২০-৯৩), হ্যাম্পশায়ারের সেলবোর্নে তার বাড়ির চারপাশের বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ করে গবাদিপশু সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন:

যৌন আকর্ষণ ছাড়াও পশুর মধ্যে সামাজিকতার এক অপূর্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ষাঁড় ও গাভী একা একা থাকলে মোটেই হৃষ্টপুষ্ট হবে না; এমনকি চারপাশের সমাজ বা সঙ্গী না থাকলে তারা সবচেয়ে সেরা চারণভূমিও অবহেলা করবে।

এ বৈশিষ্ট্যের কারণে ধরা পড়া অরক্সদের একসঙ্গে দলবদ্ধ করা এবং আটকে রাখা মানুষের জন্য বেশ সহজ হয়ে গিয়েছিল। তাছাড়া গবাদিপশুর মধ্যে আধিপত্যের একটি সুনির্দিষ্ট স্তরবিন্যাস বা চেইন অব কমান্ড থাকে। এর মানে হলো একবার দলের ‘নেতা’কে ধরে ফেলতে পারলে বাকিরা তাকেই অনুসরণ করত।

এ অরক্সগুলোকে সামলানো যেন আরো নিরাপদ হয়, সেজন্য সম্ভবত তাদের শিং কেটে ছোট করে দেয়া হতো। এটি ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি প্রক্রিয়া। কারণ গরুর শিঙে স্নায়ুতন্ত্র থাকে এবং পুরুষ পশুগুলোকে খোজা (castrated) করা হতো। প্রাচীন মিসরীয় উপকথা ‘দ্য লায়ন ইন সার্চ অব ম্যান’-এও গবাদিপশুকে বশ করার জন্য মানুষের ব্যবহৃত অন্যান্য নিষ্ঠুর পদ্ধতির উল্লেখ আছে।

সম্পদ হিসেবে গরু

নব্যপ্রস্তর যুগে (Neolithic era) খ্রিস্টপূর্ব ৬০০০ থেকে ৪০০০ অব্দের মধ্যে মানুষ তিনটি ভিন্ন অঞ্চলে অরক্সদের পোষ মানিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। বিশেষত নিকট প্রাচ্যের উর্বর অর্ধচন্দ্রাকৃতি অঞ্চল (Fertile Crescent), সিন্ধু নদ ব্যবস্থা (বর্তমান পাকিস্তান) এবং আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্ব সাহারায়। যদিও প্রতিটি গৃহপালিতকরণ কেন্দ্রের নিজস্ব স্থানীয় অরক্সের জাত ছিল। তবে গৃহপালিত গবাদিপশু মূলত দুটি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যে বিকশিত হয়েছিল: নিকট প্রাচ্য ও আফ্রিকায় কুঁজহীন (টোরিন) (Bos taurus) এবং ভারতে কুঁজযুক্ত (জেবু) গরু (Bos indicus)।

এ দুই জাতের গরু মানবসভ্যতা গঠনে এক বিশাল ভূমিকা পালন করেছে। মূলত দুধ দোয়ানোর উদ্ভাবন এবং লাঙল দিয়ে জমি চাষের মাধ্যমে তারা এটি করেছিল। এর ফলে আগে যাযাবর থাকা মানুষজন প্রান্তিক জমিগুলোতে চাষাবাদ শুরু করে এবং এক জায়গায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে গ্রাম ও শহর গড়ে তোলে। এসব শহরের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গৃহপালিত গরু ও ষাঁড় এক ধরনের ‘চলতি সম্পদ’ (mobile wealth) হয়ে ওঠে। এটি অবশ্য সমাজে প্রাথমিক শ্রেণীভেদ বা স্তরায়ন তৈরি করেছিল।

গরু কেনা এবং তা লালন-পালন করা বেশ ব্যয়বহুল ছিল। তাই ধনী মালিকরা তাদের ষাঁড় ও গাভী এমন মানুষদের কাছে ভাড়া দিতে শুরু করে যারা নিজেরা পশু কেনার সামর্থ্য রাখত না। এ ধার দেয়ার বিষয়টি স্পষ্টতই সমাজে পারস্পরিক বিরোধের সৃষ্টি করত। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১৭৫০ অব্দে ব্যাবিলনের রাজা হাম্মুরাবির প্রণীত আইন সংহিতায় দেখা যায় যে ২৮২টি সংক্ষিপ্ত আইনের মধ্যে ২৯টিরই ছিল ষাঁড়ের বিরুদ্ধে অপরাধ, ভাড়ার অর্থ পরিশোধ এবং পশু চিকিৎসকের বিল-সংক্রান্ত।

গবাদিপশু ভাড়া দেয়ার পাশাপাশি মালিকরা সমুদ্রপারের দেশগুলোর সঙ্গে পশুপাখি বাণিজ্য করেও তাদের সম্পদ বাড়াত। এভাবেই খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় সহস্রাব্দ থেকে ভারতে উৎপাদিত জেবু এবং নিকট প্রাচ্যের টোরিন গরু বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। টোরিনের তুলনায় জেবু জাতের পশুরা উচ্চ তাপমাত্রা, আর্দ্র পরিবেশ এবং ক্রান্তীয় রোগ বা পোকামাকড় প্রতিরোধে বেশি সহনশীল হিসেবে বিবর্তিত হয়েছিল। এ কারণে ভারতের বাইরে জেবু গরুর ব্যাপক বাণিজ্য হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল পূর্ব আফ্রিকা। সেখানে স্থানীয় টোরিন জাতের সঙ্গে জেবুর সংকরায়ণ ঘটিয়ে আরো বেশি শক্তিশালী বা কষ্টসহিষ্ণু হাইব্রিড গরু তৈরি করা হয়। একইভাবে সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়া এবং লাতিন আমেরিকা খরা ও পোকামাকড় প্রতিরোধী জাত তৈরির জন্য জেবু জিনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে শুরু করেছে।

এদিকে টোরিন গরু নিকট প্রাচ্য থেকে সিন্ধু উপত্যকার সঙ্গে বাণিজ্যের মাধ্যমে এবং পরবর্তী সময়ে গ্রিস হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তারা নব্যপ্রস্তর যুগের মানুষের স্থানান্তরের দুটি পথ অনুসরণ করে: একটি সমুদ্রপথে পশ্চিম ভূমধ্যসাগর বা ইউরোপে এবং অন্যটি স্থলপথে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে।

গরু যেখানেই পৌঁছেছে, সেখানেই সমাজ গঠনে সাহায্য করেছে এবং মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে। প্লিনি দ্য এল্ডার তার ‘দ্য ন্যাচারাল হিস্ট্রি’ (আনুমানিক ৭৭ খ্রিস্টাব্দ) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে ষাঁড় ছিল ‘‌আমাদের বিশেষ সঙ্গী’।

আমেরিকায়

আমেরিকা মহাদেশে স্প্যানিশ ও পর্তুগিজ গরু আমদানি করা হতো। এটি ১৬১১ সালে ভার্জিনিয়ার জেমসটাউন উপনিবেশের প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে আসা বিপুলসংখ্যক ইংলিশ গরু আমদানির পূর্ব পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এ গরুগুলোকে কেবল ঔপনিবেশিকদের দুধ, শ্রম ও মাংসের জোগান দেয়ার জন্যই আনা হয়নি, বরং এগুলো ছিল ইংরেজ সভ্য জীবনের প্রতীক। মনে করা হতো যে এরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। ১৬৫৬ সালে হাউজ অব বার্গোসেস (তৎকালীন আইনসভা) নিয়ম জারি করে যে স্থানীয় রেড ইন্ডিয়ানদের একটি করে গরু দেয়া হলে তা তাদের সভ্য করার এবং খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করার একটি পদক্ষেপ হবে। এর উদ্দেশ্য ছিল বিশৃঙ্খল, অলস ও যাযাবর শিকারি জীবন থেকে রেড ইন্ডিয়ানদের স্থায়ী ও পরিশ্রমী কৃষকে পরিণত করা।

পৃথিবীর বহু অঞ্চলে কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থা এখনো গরুকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। গরু গৃহপালিত হওয়ার ফলে মানবসভ্যতায় অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটে। কৃষিকাজে গরু ব্যবহারের ফলে জমি চাষ দ্রুত ও কার্যকর হয়। গরুর দুধ মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যনিরাপত্তা দেয়। মাখন, ঘি, পনির ও দইয়ের মতো খাদ্য তৈরি সম্ভব হয়। তাই বন্য অরক্স থেকে আজকের গৃহপালিত গরু হয়ে ওঠার এ দীর্ঘ যাত্রা মূলত মানবসভ্যতার নিজেরই বিবর্তনের গল্প।

বাশার খান: সহসম্পাদক, বণিক বার্তা