শিখ ধর্মের প্রবর্তক শিখ গুরু নানক পাকিস্তান, তিব্বত ও মক্কা-মদিনায় গিয়েছিলেন বলে শিখ ইতিহাসে উল্লেখ আছে। বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে শিখ গুরুদুয়ারা রয়েছে। একসময় ময়মনসিংহে কিছু শিখ সম্প্রদায়ের লোকের বসবাস ছিল।

ময়মনসিংহে গুরু নানক গুরুদুয়ারা শহরের গাঙ্গিনারপাড় শিববাড়ী মন্দিরের কাছে অবস্থিত। শিখদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এটি ১৯৪৭ সালের আগে প্রতিষ্ঠা করা হয়। শিখ ধর্মাবলম্বীরা গুরুদুয়ারাকে তাদের ঐতিহাসিক পুণ্যস্থান হিসেবে মনে করে। এখানে প্রতিদিন কীর্তন, নাম জপ ও গুরু পাঠ করা হয়। এটি পরিচালনার জন্য একটি কমিটি আছে। কমিটি মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ও সংস্কারকাজ করে।

WEF

কলকাতার গুরুদুয়ারা কমিটি বাংলাদেশের এ মন্দিরগুলোর সংস্কার ও উন্নয়নে সহযোগিতা করে। ময়মনসিংহের গুরুদুয়ারার পাশে ১১টি হিন্দু পরিবার রয়েছে, তারা গুরুদুয়ারাটি দেখাশোনা করে। এখানে সাপ্তাহিক লঙ্গর, গুরু নানকের জন্মানুষ্ঠান ও বৈশাখী উৎসব পালন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের শিখ ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেয়।

ময়মনসিংহে গুরুদুয়ারা প্রতিষ্ঠার পর ভাই হরি সিং এটি পরিচালনা করতেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি ময়মনসিংহ থেকে চলে যান। বর্তমানে এখানে কোনো শিখ পরিবার নেই।

ময়মনসিংহ গুরুদুয়ারার পরিচালক নবজিৎ দে জানান, ময়মনসিংহের তৎকালীন ডেপুটি কালেক্টর জ্যোতিন্দ্র মোহন চ্যাটার্জি এ গুরুদুয়ারা প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে গুরুদুয়ারার প্রায় এক একর জায়গা রয়েছে। এটি সব ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত। সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মন্দির খোলা থাকে। নবজিৎ দে আরো জানান, এখানে উৎসবের সময় ঢাকা ও ভারত থেকে লোকজন আসে।

মুহাম্মদ আলমগীর কবীর: বণিক বার্তা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ