আমি প্রতিদিন তার চলে যাওয়া দেখি
যেমন করে কয়েদ গাড়ির ওপাশের চোখগুলো
জমাট বুনট শিকের ফাঁকে দেখে
রাস্তার অহংকারী মুক্ত চোখগুলোকে
ঠিক তেমন করে নয় যদিও।
কিন্তু দেখি
আমার চেয়ে থাকায় কোনো অহংকারী ভান নেই,
করুণ শীতল নিরুত্তাপ টানও নেই।
আমি প্রতিদিন নিজেকে দেখবার মতন করে তার চলে যাওয়া দেখি
আয়নায় তাকিয়ে নিজের চুলের বাম
দিকের সিঁথির সরল দাগ টানার অভ্যাসের মতন
আমি প্রতিদিন তার চলে যাওয়া দেখি।
অভ্যাসের ধারে আবেগ বাসা বাঁধে না।
আমি আবেগহীন অভ্যাসের মতন তার চলে যাওয়া দেখতে থাকি।
যেদিন আমি তার চলে যাওয়া দেখি না, সেদিন আমার তাকেও দেখা হয় না
সেদিন হয়তো অন্য রকম অভ্যাসহীন দিন,
সেদিন হয়তো ধুলোজমা বইয়ের তাকের দিন
যেদিন হয়তো ভেজা ছাতার ডাঁট ভাঙা ঝোড়ো দিন,
পাঁচফোড়নে, তেলে তিলে আনাজপাতির দিন
তেমন দিনের অন্যদিনে, আমি তার চলে যাওয়া দেখি।
কলের জলে, ফোনের বিলে, ছাদের রোদে, জ্বরের তাপে, উনুন আঁচে,
মাঘের মেঘে আমি তার চলে যাওয়া দেখি।
বিকেল শেষে ছাদের তারে ঝুলতে থাকা রোদ খটখটে হলদে শাড়িকে গুটিসুটি পেঁচিয়ে
বাড়ি ফিরিয়ে আনবার মতন পুরাতন অভ্যাসে
আমি তার চলে যাওয়া দেখি।
পরিচিত গল্পের শেষ দৃশ্যে আবার ও দেখবার অপেক্ষার মতন
চেনা চেনা অভ্যাসে
আমি তার চলে যাওয়া দেখি।
হঠাত্ সামনে পাওয়া কোনো টুকরো আয়নার টুপ করে নিজেকে দেখবার মতন
যখন তখন সুযোগে
আমি তার চলে যায় দেখি।
আর যেদিন তার চলে যাওয়া দেখি না, সেদিন তার সাথে আর দেখা হয় না,
সেদিন নিজের সাথেও দেখা হয় না আর।
নিজের সাথে দেখা করবার অজুহাতে
আমি এক নামগোত্রহীন অভ্যাসে
তার চলে যাওয়া দেখি।





