বিস্মৃতিপ্রবণ জাতি হিসেবে আমরা যে প্রায়ই অনন্য, তার দৃষ্টান্ত হাজির করি নানাভাবে। ‘নির্মল চলচ্চিত্র আন্দোলনের মুখপত্র’ হিসেবে প্রত্যয়দীপ্ত পত্রিকা ধ্রুপদী সমসময় সবাইকে স্পন্দিত করলেও আমরা ভুলতে বসেছি তার কথা। নতুন ও বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানে না, জানলেও ততটা বুঝে না কিংবা তালাশ করে দেখে না ধ্রুপদী আমাদের চলচ্চিত্রাকাশকে আলোকময় করার ক্ষেত্রে কতটা যুগান্তবাহী। মুহম্মদ খসরু সম্পাদিত ওই পত্রিকাকে আমরা কেবল বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকার সঙ্গে তুলনা করতে পারি। কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো, বুদ্ধদেব বসুর কবিতা পত্রিকার মধ্য দিয়ে অনেক কিছু অর্জন সম্ভব হয়েছে, কিন্তু মুহম্মদ খসরুর ধ্রুপদী দিয়ে সেভাবে অর্জন সম্ভব হয়নি। প্রকারান্তরে বলা যায়, আমরা পারিনি কিছুই অর্জন করতে; বরং বিস্মৃত হতে হতে ভুলতে বসেছি সেই পত্রিকার কথা। একটা পত্রিকা কতটা সাহসী, সময়োপযোগী ও চিত্তাকর্ষক ভূমিকা পালন করতে পারে, তার নজির হলো ধ্রুপদী। ওই পত্রিকায় একদা লিখেছেন ওয়াহিদুল হক, মহাশ্বেতা দেবী, শামসুর রাহমান, হাসান আজিজুল হক, মাহমুদুল হক, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো বিদ্বজ্জন। পত্রিকাটির একটি সংখ্যার সূচিপত্র এ রকম: ঢাকার ছবির নির্বাক যুগ: অনুপম হায়াত্, আমাদের চার্লি: গর্ডন হেইলস/ অনুবাদ: শিহাব সরকার, কস্তা গাভরাসের সাথে একটি সাক্ষাত্কার: পিটার এস গ্রীনবার্গ/ অনুবাদ: হাসান ফেরদৌস, চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাপটে নারী: হাসনা বেগম, তৃতীয় চলচ্চিত্রের লক্ষ্যে: ফার্নান্দো সোলানাস, অক্তেভিও গেত্তিনো/ ভাষান্তর: কাইজার চৌধুরী, চলচ্চিত্রের অভিনয় প্রসঙ্গে: মাইকেলাঞ্জেলো আন্তোনিওনি/ ভাষান্তর: শামসুদ্দিন আবুল কালাম, পুরনো ভারত নতুন চলচ্চিত্র: পল্লল ভট্টাচার্য, মৃণাল সেনের সাথে সাক্ষাত্কার: মাহবুব আলম, ফেলিনীর দীর্ঘভ্রমণ: ইয়েভগেনি ইয়েভতুশেঙ্কো/ ভাষান্তর: বেলাল চৌধুরী, সত্যজিত্ ও রবীন্দ্রনাথ: চিদানন্দ দাশগুপ্ত/ ভাষান্তর: আ ও ম ফখরুদ্দিন, মাধ্যমই মধ্যমণি: রবিউল হুসাইন।
সাহিত্যিকের চলচ্চিত্র ভাবনা
চলচ্চিত্রে ভায়োলেন্সের ভূমিকা: মহাশ্বেতা দেবী, চলচ্চিত্র নিয়ে: হাসান আজিজুল হক, চলচ্চিত্র এবং সাহিত্য: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, আমাদের চলচ্চিত্র বাস্তবতার এক ভয়াবহ কবরখানা: মাহমুদুল হক, ঋত্বিকাবলোকন: তাঁর বহমানতা, অমরতা— ওয়াহিদুল হক, আত্মজীবনীর মতোই কিছু: শামসুর রাহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলন: মুহম্মদ খসরু, লেখক, পরিচিতি।
এই হলো বিষয় সূচি ও লেখক তালিকা। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কারা এবং তাদের বর্তমান অবস্থানের দিকে খেয়াল করলে বোঝা যাবে কেন ধ্রুপদী অনন্য। পদানুক্রমে ছিলেন— সম্পাদক মুহম্মদ খসরু, সংযুক্ত সম্পাদক মাহবুব আলম, প্রচ্ছদ আসেম আনসারী, অলঙ্করণ: গোলাম সারোয়ার/ কোলাজ ও স্কেচ: নিসার হোসেন, শিশির ভট্টাচার্য, সমর মজুমদার, সম্পাদকীয় সহযোগী: কাইজার চৌধুরী, ইকবাল করিম হাসনু, ব্যবস্থাপক মইনুদ্দিন খালেদ। এ লেখায় মূলত আলোচনা করা হচ্ছে ধ্রুপদীর পঞ্চম সংখ্যা নিয়ে, যেটি উত্সর্গ করা হয়েছে হীরালাল সেনকে। সম্পাদকীয়র উত্সর্গ নিবেদন এ রকম: হীরালাল সেন ছিলেন তদানীন্তন ভারতবর্ষের প্রথম চলচ্চিত্রকার। তাঁর জন্ম এই বাংলাদেশে, ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জের বগজুরী গ্রামে। স্বদেশে তো বটেই ভারতবর্ষেও তিনি অনেকটা অজ্ঞাত রয়ে গেছেন। নিতান্ত দায়সারাভাবে ভারতে তাঁর নাম মাঝে মধ্যে উচ্চারিত হতে দেখি। আত্মবিস্মরণের এই মহামারীতে আমার আমাদের বিশ বছর পূর্তি সংখ্যা ধ্রুপদীর পঞ্চম সংখ্যাটি উত্সর্গ করছি এই উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের জনক হীরালাল সেনকে।
ধ্রুপদী প্রকাশিত হতো রাজধানী ঢাকার নিম্নোক্ত ঠিকানা থেকে। যথারীতি আলোচ্য সংখ্যাটিও এখান থেকেই প্রকাশ হয়েছে। প্রিন্টার্স লাইনে লেখা ঠিকানাটা হলো:
ধ্রুপদী/ ৫ম সংকলন, আগস্ট ১৯৮৫/ প্রকাশক: বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদ, কাজী মঞ্জিল (নিচতলা), ১১৩ সেগুন বাগিচা, ঢাকা।
ধ্রুপদীর পঞ্চম সংখ্যা প্রকাশকালে সে সময়ের শিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কেমন ছিল, তার একটি ফটোগ্রাফিক চিত্র খুঁজে পাওয়া যায় সম্পাদকীয় নিবেদনের প্রথমাংশে। লিখেছেন: ‘রামদা এসিড নানচাকু, ভিসিআর ব্লু-ফিল্ম, খুন ধর্ষণ, বেশ্যালয় উত্খাত, কেবলই নারীদেহ শোভিত রমরমা রম্য সাময়িকীর মাসিক প্রসব, এফডিসি ভায়োলেন্স চলচ্চিত্রকার হাসপাতালান্তরিত, রাজনৈতিক নেতৃত্বের দেউলেপনা, আত্মসার বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়, জলোচ্ছ্বাসে লক্ষ প্রাণের জীবননাশ, জাতীয় বাজেটে বৈদেশিক ঋণের স্যালাইন, হিংসা-দুর্নীতি-নৈরাজ্য-হতাশা এবং অপশনের স্থবিরতায় মাত্র চৌদ্দ বছরের কৈশোরে বুড়িয়ে যাওয়া বাংলাদেশের এই যখন কোলাজ-দৃশ্য, ঠিক সেই মুহূর্তে বেরুল ধ্রুপদীর ৫ম সংকলন।’
শুধু সম্পাদকীয় নয়, পুরো ধ্রুপদীই যেন খাপখোলা তলোয়ার। সত্য প্রকাশে দ্বিধাহীন ও নিঃশঙ্কচিত্ত।
প্রতিটি লেখায় লেখকরা যেভাবে নিজেদের মতামত, বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন, তা পাঠ করলে চমকিত যেমন হতে হয়, তেমনি আফসোস ও খেদোক্তিও জাগে। সেই লেখকদের কেউ কেউ কিংবা উত্তরসূরিরা তো এখনো আছেন, তাহলে লেখার সেই তেজ নেই কেন? কোথায় গেল একলব্যর মতো নিষ্ঠা? আমাদের লেখকসমাজ কি তেজ বিকিয়ে দিল? ধ্রুপদীর মতো প্লাটফর্ম নেই বলে, মুহম্মদ খসরুর মতো সম্পাদক ট্র্যাকচ্যুত কিংবা নির্বাসিত বলেই কি প্রিয় সময়গুলো হয়ে উঠছে পেঁচার নিবাস? সম্পাদকীয়তে মুহম্মদ খসরু লিখেছেন: ‘আমাদের দেশের বিদ্বত্সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের মধ্যেও একটি অশিক্ষিত ধারণা প্রচলিত আছে যে চলচ্চিত্র কোন গভীর বক্তব্য প্রকাশের মাধ্যম হতে পারে না। তাদের ধারণায় চলচ্চিত্র কেবলমাত্র মানুষের চিত্তবিনোদনের চাহিদা মেটাবে। কিন্তু তারা জানে না যে বিংশ শতাব্দীর সবচাইতে বলিষ্ঠতম প্রকাশমাধ্যম চলচ্চিত্র নিয়ে মজাকী মারার দিন ১৯২৫ সালে আইজেনস্টাইনের ব্যাটলশিপ পোটেমকিনের ওডেসা সিঁড়ির দৃশ্য চলচ্চিত্রায়িত হবার পরই শেষ হয়ে গেছে। চলচ্চিত্র শিল্প কি শিল্প না, এ ধরনের সাবেকী বিতর্ক নিয়ে অম্ল-ঢেকুর তোলা একমাত্র গাড়লের পক্ষেই সম্ভব।’
অথচ আমাদের সমাজে-শিল্পে-সাহিত্যে-সংস্কৃতিতে-মিডিয়ায় গাড়লের এ বিতর্ক এখনো প্রবহমান। এখনো আমাদের মিডিয়ায় বিদ্বজ্জন সাংবাদিক, থিয়েটারের গুনিন প্রশ্ন করেন, অভিনয় করার জন্য থিয়েটার করার দরকার আছে কি? আমাদের চলচ্চিত্র অন্ধকারের পথে যেতে যেতে এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, তার আর পথ নেই কোথাও যাওয়ার। এখন প্রত্যাশা ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তূপ থেকে জেগে ওঠার। চলচ্চিত্র যে ক্রমে তলানিতে যাচ্ছে, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের শিল্প আমাদের সাহিত্য যে ক্রমে ভূতাক্রান্ত হয়ে পড়ছে এবং এর পেছনে যে রাজনৈতিক ব্যর্থতা পালন করেছে ক্রীড়নকের ভূমিকা, তা মুহম্মদ খসরু আঁচ করেছিলেন তিন দশকের অধিক সময় আগে। আলোচ্য সংখ্যাতেই সম্মিলিত সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলন শিরোনামের লেখায় তিনি উল্লেখ করেছেন: ‘একটি স্বাধীন মুক্ত দেশে কোনো সাংস্কৃতিক নীতিমালা না থাকার দরুন ও উত্পাদনশীল কর্মকাণ্ডের অপ্রাধান্যের জন্য তার জন্মলগ্ন থেকেই অর্থনীতি ক্ষেত্রে ফটকাবাজি, পশ্চিমা সংস্কৃতির ঢালাও অনুপ্রবেশ ও আধিপত্যবাদ, বুর্জোয়া শ্রেণীর লাম্পট্য, বুদ্ধিজীবীদের নির্লিপ্ত পলায়নী মানসিকতা এবং রাজনীতিকদের বিশ্বাসঘাতকতার ফলে সমগ্র সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ও মানবিক মূল্যবোধের যে পচন ও অবক্ষয় শুরু হয়েছিল, তা আজ চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে উপনীত। মূলত রাজনৈতিক চোরাপথেই ঢুকে পড়েছিল অপসংস্কৃতির বেনোজল। স্বাধীনতার পর দেশে গণতন্ত্র বিরাজমান থাকাকালে ক্ষমতাসীন সরকার সমেত প্রগতিশীল রাজনৈতিক সংগঠনগুলি পর্যন্ত দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে দলবাজি, পারমিটবাজি, স্বজনপ্রীতি ও ব্যক্তিগত স্বার্থ উদ্ধারের জন্য চরম দুর্নীতি ও অরাজকতার মধ্যে নিজেদের গা ভাসিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করেনি। যার ফলশ্রুতিতে এই সাংস্কৃতিক বিপর্যয়। কেবলমাত্র চলচ্চিত্রের উপর বিচ্ছিন্নভাবে দোষ চাপিয়ে দিলে ভুল হবে, কেননা একটি দেশের চলচ্চিত্র তার সংস্কৃতিরই সৃষ্টি। এতকাল যাবত্ অরক্ষিত ও অপরিকল্পিত সংস্কৃতি ভুবনে যে অনাচার সংগঠিত হয়েছে, তার অবক্ষয় ও ব্যর্থতার চূড়ান্ত রূপটি কুষ্ঠ রোগীর দগদগে ঘায়ের মতো আজ আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতিতে দৃশ্যমান। কেবলমাত্র চলচ্চিত্রে অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশটাকে বড় করে দেখার কোন কারণ আছে বলে মনে করি না, প্রতিটি মাধ্যমেরই আজ একই দৈন্যদশা (বিশেষত বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সম্প্রতি যেভাবে বিকিয়ে যাচ্ছে যাবতীয় মতাদর্শ)। তবে চলচ্চিত্রের অধপতনটা আমাদের চেতনাকে গভীরভাবে নাড়া দেওয়ার প্রধান কারণ হোল, একটি দৃশ্যবাহী শিল্পমাধ্যম হিসেবে চলচ্চিত্র সঙ্গত কারণেই আমাদের দৃশ্য ইন্দ্রিয়ে সরাসরি অভিঘাত সৃষ্টি করে। উপরন্তু চলচ্চিত্র সবচাইতে শক্তিশালী মাধ্যমও বটে। চলচ্চিত্রকে তুলনা করা চলে এটমের সাথে। ধ্বংস এবং সৃষ্টি উভয় কাজে এটমের শক্তির যেমন তুলনা হয় না, অনুরূপভাবে চলচ্চিত্রও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ধ্বংস ও সৃষ্টির কাজে সমান শক্তিশালী।’
উপর্যুক্ত ভাষ্যও অভিঘাতের পর নিশ্চয় স্পষ্ট হয় কেন লেখার শুরুতে বলেছিলাম বুদ্ধদেব বসু ও তার কবিতা পত্রিকার কথা। ওই পত্রিকাটি যেমন সেই সময়ের কাব্যান্দোলনকে বেগবান ও নতুন মাত্রা দিয়েছিল, ধ্রুপদীর পক্ষেও স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে ততটাই দেয়ার ছিল, সেই ক্ষেত্রও প্রস্তুত হয়েছিল; কিন্তু আমরা নিতে পারিনি। কবিতা পত্রিকার সম্পাদকীয়তে প্রথম দাবি ও অনুরোধ রাখা হয়েছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রবর্তনের। এটিকে এক ধরনের ক্রুসেড হিসেবেই নিয়েছিলেন। যুদ্ধের মাঠের ক্রুসেডের মতোই পত্রিকার ক্রুসেডে তিনি সফল ও সার্থক হয়েছিলেন এবং রবীন্দ্রনাথের নামে প্রবর্তিত হয়েছিল রবীন্দ্র পুরস্কার। আর ধ্রুপদী থেকে আমরা কিছুই নেয়নি। ধ্রুপদীর পাঠ গুরুত্বের প্রতিও আমরা রাখতে পারিনি বিবেচক পরিচয়। আমাদের চলচ্চিত্র বাস্তবতার এক ভয়াবহ কবরখানা শিরোনামে মাহমুদুল হক সেই কবেই করেছিলেন সতর্ক ও সাবধানের সত্য উচ্চারণ। যদি ধ্রুপদী থেকে কিছু নিতে পারতাম, নেয়ার হিম্মত থাকত তাহলে আমাদের চলচ্চিত্র এভাবে নিশ্চয় ভাগাড়বাসী হতো না। পাশের দেশের বাংলাভাষী চলচ্চিত্র যখন সর্বভারতীয় চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে অশ্ব দাবড়াচ্ছে, আমরা তখন কেবলই হচ্ছি তলানিগামী আর সিন্দাবাদের দৈত্যসঙ্গী।
হাসান আজিজুল হক, মাহমুদুল হক ও শামসুর রাহমানের লেখাগুলো পাঠান্তে পাঠক উপলব্ধি করবেন যে, চলচ্চিত্র নিয়ে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা আজকের নয় এবং এত বছরেও বাংলা চলচ্চিত্রের করুণ দশার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বুদ্ধদেব বসুর কবিতা পত্রিকা সম্পর্কে পণ্ডিতপ্রবর সুকুমার সেনের মূল্যায়ন হলো: “তাঁর লক্ষ্য ছিল আধুনিক কবিতার স্বত্ব প্রতিষ্ঠা করা এবং ‘আধুনিক’ কবিতা লেখকদের পক্ষ সমর্থন করা।” ধ্রুপদী সম্পাদক মুহম্মদ খসরুর লক্ষ্যও ছিল এ রকমই, কবিতার জায়গায় তার প্রিয় হাতিয়ারের নাম ছিল চলচ্চিত্র। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সুকুমার সেনের মতো করে কেউ তার ধ্রুপদী নিয়ে একটা শব্দ করেননি নিবেদন। যাতে নিহিত আছে আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতা ও বামনত্ব। এ কারণে প্রয়োজন ধ্রুপদীর পুনর্পাঠ ও বিবেচনা।
ড. কাজল রশীদ শাহীন: সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক






