১৯৩৩ সালের আমেরিকান সিনেমা ‘এয়ার হোস্টেস’। প্রথম মহাযুদ্ধে পাইলট বব কিং ফ্রান্সে গুলিবিদ্ধ ও নিহত হয়। তার বন্ধু টেড হান্টার এবং পা কেয়ার্ন তার মেয়ে কিটিকে দেখাশোনার ভার নিয়েছে। এ প্রতিশ্রুতি তারা বব কিংকেও দিয়েছিল। যুদ্ধের ক’বছর পর কেয়ার্ন অন্ধ হয়ে যায়, তবে উড়োজাহাজের ইঞ্জিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে এয়ারপোর্টে কর্মরত থাকে আর কিটি হয়ে যায় ট্রান্সকন্টিনেন্টাল-ওয়েস্টার্ন এয়ারলাইনসের আকাশবালিকা— স্টিউয়ার্ডেস হিসেবে যোগ দেয়। তখনো বাবার দুই বন্ধু অনেকটা গায়ে পড়ে তাকে দেখাশোনার দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে থাকে।
এবং এক বন্ধু টেড ততদিনে কিটিকে মুগ্ধ করে ফেলেছে। এয়ারপোর্ট থেকে জাহাজ নিয়ে যাওয়ার সময় কিটিকে সঙ্গে নিয়ে যায়, পরদিন আবার এয়ারপোর্টে ফিরিয়ে আনে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ইঞ্জিনের এক কারিগর, যে নিজেও কিটিকে ভালোবাসে তার নাম ডিক মিলার।
কিন্তু টেড শিগগিরই কিটির সঙ্গে বিয়ের ঘোষণা দেয়, কিটিকে এয়ার হোস্টেসের চাকরি ছাড়তে বাধ্য করে। একসময় টেড জীবন ধারণের মতো অর্থ উপার্জনে ব্যর্থ হয়ে পড়ে, কিটি তখন আবার বিমান সেবিকার চাকরিতে ফিরে যায়।
ওদিকে তিন স্বামীর কাছ থেকে তালাক পাওয়া এক ধনাঢ্য মহিলা, সিলভিয়া কার্লটন টেডকে একটি সুযোগ দেয়— সে একটি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ বানাবে, যা আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিতে সক্ষম। কিন্তু ওই সময়ে এটা একটা অসম্ভব দুঃসাধ্য পরিকল্পনা। এরকম এক আলোচনার মধ্যে কিটি একদিন হাজির হয়ে দেখে ডিক ও টেড— দুজনই মদ খেয়ে বুঁদ হয়ে আজগুবি সব কথাবার্তা বলছে।
এটা দেখে রেগেমেগে কিটি একটা ট্রেনে চেপে বাড়ির দিকে রওনা হয়। ততক্ষণে টেড ও ডিক দুজনই জানতে পারে যে, কিটির ট্রেনটিকে ভেঙে পড়ছে এমন একটি সেতুর ওপর দিয়ে যেতে হবে। তার মানে দুর্ঘটনা অনিবার্য, কিটির জন্য জীবন-মরণের প্রশ্ন। দুজনই দুটো উড়োজাহাজ নিয়ে ট্রেন দুর্ঘটনা ঠেকাতে চেষ্টা করে। একসময় টেডের উড়োজাহাজ রেলওয়ে ট্র্যাকের ওপর ক্রাশ করে, ট্রেনটি থেমে যায়। বেঁচে যায় কিটির জীবন।
ডিক আহত টেড ও বিস্মিত কিটিকে তার উড়োজাহাজে নিয়ে আসে হাসপাতালে। তার পর এ দম্পতির পুনর্মিলন।
এই হচ্ছে এয়ার হোস্টেসের কাহিনী। কিটির চরিত্রে অভিনয় করেছে এভালিন ন্যাপ, টেড হান্টারের ভূমিকায় জেমস মাবে, ডিক মিলার হিসেবে আর্থার পিয়ার্সন আর সিলভিয়া কার্লটনের চরিত্রে থেলমা টড। আলবার্ট রোগেল পরিচালিত কলম্বিয়া পিকচার্সের ৬৭ মিনিটের এ সিনেমা ১৫ জানুয়ারি ১৯৩৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পায়। ডোরা ম্যাসির এয়ার হোস্টেস নামক ছোটগল্পের ওপরই কাহিনীর এ চিত্রনাট্য। সিনেমাটি উড্ডয়নের ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক। ১৯৩৩ সালে একটি কি দুটি বিচ্ছিন্ন উদাহরণ ছাড়া এয়ার হোস্টেস নিয়োগের নজির মিলবে না। ট্রান্সকন্টিনেন্টাল-ওয়েস্টার্ন এয়ারলাইনস ১৯৩৫-এর ডিসেম্বরে ৪৩টি পদ পূরণের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে দুই হাজার নারী চাকরির আবেদন করে।
এয়ার হোস্টেস একটি ভবিষ্যত্মুখী সিনেমা। উড্ডয়ন ও রোমান্সের এমন মিশেল চলচ্চিত্রে এই প্রথম। ছবিটির বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আকাশে ডেটিং আর নিরাপদ ল্যান্ডিং।
ছবিটিতে ১৬ ধরনের উড়োজাহাজ কমবেশি দেখানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি দেখানো হয় কোর্ড ট্রাইমোটর উড়োজাহাজটি। এয়ার হোস্টেস মুক্তি পাওয়ার আগেই উড়োজাহাজটি নিউ মেক্সিকোতে বিধ্বস্ত হয় এবং পাঁচ যাত্রীর সবাই প্রাণ হারায়।
আকাশযানের ইতিহাস পর্যালোচনা করতে হলে সিনেমাটি দেখা খুবই জরুরি।
ক্যালিফোর্নিয়ার গ্লেনডেল গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল এয়ারপোর্টে শুটিংয়ের বড় অংশটি ধারণ করা হয়।
সম্পূর্ণভাবে একজন কেবিন ক্রুকেন্দ্রিক একটি ছায়াছবি হচ্ছে ডরিস ডে অভিনীত ‘জুলি’।
ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট বা কেবিন ক্রু নিয়ে একালের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সিনেমা:
সিনেমার নাম চরিত্র অভিনেত্রী
১. দ্য টার্মিনাল অ্যামেলিয়া ওয়ারেন ক্যাথেরিন জেটা-জোন্স
২. অলমোস্ট ফেমাস অনিতা জুডি ডেচনেল
৩. এক্সিকিউটিভ ডিসিশন জিন হ্যালি বেরি
৪. এয়ারপ্লেন ইলেইন জুলি হোগার্টি
৫. স্নেকস অন আ প্লেন টিফানি সানি ম্যাবরে
৬. প্যান অ্যাম ম্যাগি ক্রিস্টিনা রিচ্চি
৭. ফ্লাইটপ্ল্যান ফিয়োনা এরিকা ক্রিস্টেনসেন
৮. এলিজাবেথটাউন ক্লেয়ার কার্স্টেন ডুনস্ত
৯. প্যাসেঞ্জার ৫৭ সাব্রিনা রিচি এলিজাবেথ হার্লে
১০. সৌল প্লেইন ব্লাঙ্কা সোফিয়া ভার্গারা
লেখক: ই মোতালিব





