[পলাশীর যুদ্ধের পর যুদ্ধ এবং ক্লাইভ সম্পর্কে কোম্পানির অন্যান্য অংশীদার কিছু প্রশ্ন তোলেন। এর মধ্যে যুদ্ধকালীন ক্লাইভের অলসতা অন্যতম। অভিযোগের একটি অংশ এমন ছিল যে ক্লাইভ যুদ্ধের সময় রীতিমতো ঘুমিয়ে ছিলেন। উইলিয়াম বেলচার নামে কোম্পানির এক কথিত অংশীদারের তরফ থেকে আনা সে অভিযোগের উত্তর পাওয়া যায় কোম্পানির রেকর্ডে]
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির স্টক মালিকদের প্রতি
মহোদয়, নিজেকে একজন পুরনো অধিকারবলে দাবিকারী এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে আপনাদের উদ্দেশ্য করে লেখা দুটি চিঠি বিগত ১৮ ও ২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়। অপমানজনক ও মিথ্যা অভিযোগে ভরা এ চিঠি লক্ষ করে আমি এ আধিকারিক সম্বন্ধে খোঁজ করতে আগ্রহী হই। পরবর্তী সময়ে প্রকাশকের মাধ্যমে জানতে পারি, লম্বার্ড স্ট্রিটের জনৈক উইলিয়াম বেলচার উত্তরাধিকার সূত্রে কোম্পানির স্টকের শরিক, বর্তমানে অবসর নিয়ে দেশে অবস্থান করছেন। এ ব্যক্তির চরিত্র সম্বন্ধে সাধারণভাবে জানা আছে তাই আমার মনে হয় তার কিংবা এ চিঠিগুলো প্রকাশের পেছনে তার উদ্দেশ্য সম্বন্ধে কিছু বলার প্রয়োজন নেই। আমরা কেবল লক্ষ করব কোম্পানির তহবিলে তার কোনো সম্পদ নেই।
কিন্তু পলাশীর যুদ্ধ চলাকালে বেশির ভাগ সময় কমান্ডার ইন চিফের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে আমি তার অভীষ্ট কর্মপরিকল্পনা সম্বন্ধে জানি। পাশাপাশি এও জানি, পরিকল্পনার কী কী বাস্তবে রূপায়িত হয়েছিল। আমি তাই ওই বিষয়ে পলাশীর যুদ্ধ সম্বন্ধে উত্থিত প্রশ্ন সম্বন্ধে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, পলাশীর যুদ্ধ সম্পর্কে উল্লেখিত বিষয় সর্বৈব মিথ্যা। আমার পরবর্তী বয়ান থেকে সেদিনের ঘটনার স্পষ্ট ও অন্তরঙ্গ বয়ান থেকে সবাই তা বিচার করতে পারবেন।
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন রাত ৩টায় এক হাজার ইউরোপীয় ও দুই হাজারের দেশী সিপাহি এসে পলাশীর উদ্যানে জমায়েত হয় এবং সকালে তারা দেখল সিরাজউদ্দৌলার বাহিনী তাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কমান্ডার ইন চিফ স্বয়ং সৈন্যদের বিন্যস্ত করেন এবং যুদ্ধকালে তিনিই সেনাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বিপক্ষ সেনারা নিজ ক্যাম্পে পশ্চাদপসরণ করলে তিনি ধারণা করেন লড়াই রাত অবধি বিলম্বিত হবে। যুদ্ধক্ষেত্র শূন্য হওয়ার কারণে তিনি এ সময় নিকটস্থ একটি দালানে অবস্থান করেন। কেননা বাহিনীর তরফে কোনো তাঁবু খাটানো হয়নি। তার পোশাক বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিল এবং ভেজা পোশাক বদলের আগেই তাকে জানানো হয় তার সৈন্যদের একাংশ উদ্যান থেকে বেরিয়ে সিরাজউদ্দৌলা ও ফরাসি সৈন্যদের একটি ছোট ঘাঁটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার আদেশের অপেক্ষা না করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে তিনি দ্রুত ওই দলের দিকে অগ্রসর হন। তিনি এ দলের নেতৃত্বে থাকা মেজর কিলপ্যাট্রিককে তার এমন আচরণের জন্য তিরস্কারপূর্বক উদ্যানে ফেরার আদেশ দেন। অগ্রসরমাণ এ দলের অধিনায়কত্ব স্বয়ং গ্রহণ করেন। ২ ঘণ্টা পর শত্রুশিবির গুঁড়িয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে এ অভিযান সমাপ্ত হয়।
সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে কোনো প্রকার সন্ধির ইচ্ছা না রেখে কমান্ডার ইন চিফ স্বয়ং নদী পার হয়ে শত্রুর দিকে এগিয়ে গেছেন এবং পলাশীর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, যা কিনা ওয়ার কাউন্সিলে কতিপয় অফিসারের দেয়া বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।
এ মর্মে আমাকে যেকোনো সময় প্রশ্ন করলে বিষয়গুলো সত্যায়নে আমি প্রস্তুত এবং এ কারণে কেউ কোনো কিছু জানার আগ্রহ প্রকাশ করলে আমার নামোল্লেখ করার জন্য প্রকাশককে নির্দেশ দিয়েছি।
তথাকথিত এ আধিকারিকের অন্যান্য প্রশ্নও মানহানিকর, যার কোনো সত্যতা অনুপস্থিত। কিছু প্রশ্নের উত্তর আমি দিয়েছি এবং কোনোভাবেই তাকে মিথ্য প্রমাণ করা যাবে না।
মহোদয়, আমি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং কোম্পানির স্বার্থের প্রতি সচেতন। আপনাদের সেবক এবং একজন সত্যিকার আধিকারিক।
(অনুমোদিত)
প্রাপক: রবার্ট ওর্মে
জুন ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ সম্বন্ধে ১৭৬৩ সালে মি. ওয়ালশ কর্তৃক প্রকাশিত চিঠি
সূত্র: ইন্ডিয়ান রেকর্ডস সিরিজ





