আমীর খসরু
(রা.) অধিকাংশ
রাত প্রার্থনায়
কাটাতেন। একবার
হযরত খাজা
নিজামুদ্দিন আওলিয়া
চিশতী (রা.)
তাকে জিজ্ঞেস
করেন, ‘তুর্ক,
কেন রাষ্ট্র
দখল হয়?’
তিনি জবাব
দিলেন, ‘রাজনী
শেষ হওয়ার
একটা সময়
আছে, তখন
কেউ তাকে
উচ্ছেদ করে।’
‘খোদাতালার
পুরস্কার, ধাপে
ধাপে উপলব্ধ
হয়’—বলেন
নিজামুদ্দিন আওলিয়া।
কিন্তু আমীর
খসরুর কি
উপলব্ধ হয়েছিল?
শুধু ‘বন্ধুত্ব’
শব্দ দিয়ে
আমীর খসরু
ও নিজামুদ্দিন
আওলিয়ার সম্পর্কের
সবটা বোঝা
যাবে না,
বরং ‘হরিহর
আত্মা’ যে
দ্যোতনা তৈরি
তা হয়তো
কাছাকাছি যেতে
পারে। এর
দৃশ্যত আবুল
হাসান ইয়ামুদ্দিন
খসরু, সংক্ষেপে
আমীর খসরু
ছিলেন আওলিয়ার
আধ্যাত্মিক শিষ্য,
কিন্তু আওলিয়া
তাকে উল্লেখ
করতেন ‘অন্তরঙ্গ
বন্ধু’ বলে।
ভারতবর্ষের ইতিহাসে
এ বন্ধুত্ব
কিংবদন্তি হয়ে
আছে দুজনের
বোঝাপড়া, হূদ্যতা
ও প্রায়
সমসাময়িক মৃত্যুর
মধ্যদিয়ে। কিন্তু
তাদের জীবনের
জানতে হবে
কিংবদন্তি আর
মুখে মুখে
প্রচলিত উপাখ্যান
দিয়ে। এর
অন্যতম দিক
ছিল গুরুর
প্রতি কেবল
শিষ্য নয়,
শিষ্যের প্রতিও
গুরুর অন্তরাত্মা-ভালোবাসা।
নিজামুদ্দিন শিষ্যদের
বলতেন, ‘শরিয়তে
অনুমতি থাকলে
আমি অসিয়ত
করতাম যে
আমীর খসরুকে
মৃত্যুর পর
আমার কবরের
সঙ্গে দাফন
দিও। যেন
আমরা দুজনে
একস্থানে থাকতে
পারি। অন্তত
তাকে আমার
মাজারের পাশে
দাফন করো।
কেননা সে
আমার অন্তরঙ্গ
বন্ধু, আমি
তাকে সঙ্গে
না নিয়ে
বেহেশতে পা
রাখব না।’
তবু তিনি
এতটুকু অসিয়ত
করেছিলেন, ‘আমার
ইন্তেকালের পর
আমীর খসরু
বেশিদিন বাঁচবে
না।’ ঘটেছিলও
তাই। নিজামুদ্দিন
আওলিয়ার ‘ওফাত’
হয় ১৩২৫
সালে ৩
এপ্রিল। এর
মাত্র ছয়
মাস পর
২৯ জিলকদ
৭২৫ হিজরি,
শুক্রবার মারা
যান আমীর
খসরু। তবে
গুরুর মৃত্যুর
সময় তিনি
উপস্থিত থাকতে
পারেননি।
নিজামুদ্দিন আওলিয়ার
মৃত্যুর সময়
সুলতান মোহাম্মদ
তুঘলকের সঙ্গে
আমীর খসরু
বাংলায় ছিলেন।
হঠাৎ মনে
অস্থিরতা বোধ
করলে সুলতানের
অনুমতি নিয়ে
দিল্লি ফিরে
আসেন। এসে
জানতে পারেন
তার পীর-কেবলা
প্রয়াত হয়েছেন।
তিনি বিমর্ষ
হয়ে পড়েন।
সমুদয় ধন-দৌলত
গরিব-মিসকিনদের
মধ্যে বিলিয়ে
দিয়ে
শোকের পোশাকে
যান গুরুর
মাজারে। তিনি
চিত্কার করে
বললেন, ‘সূর্য
জমিনের নিচে
হেলে গিয়েছে,
আর খসরু
এখনো জীবিত!’
আমীর খসরু
লেখেন-
‘গরি
সভায় সেজ
পার,
মুখ পার
দারায় কেশ;
চল খসরু
ঘর আপনায়,
সাঁঝ ভায়ে
চাহু দেশ।’
ছয় মাসের
ব্যবধানে প্রয়াণের
কারণে বছরে
দুবার দিল্লির
নিমাজউদ্দিন আওলিয়ার
মাজারে ওরশের
মিলিত হয়
উপমহাদেশে তাদের
ভক্তরা। প্রতি
বছর ঈদুল
ফিতরের ১৬
দিন পর
‘সাতরাভিন
শারিফ’ (পবিত্র
সতের) উৎসব
হয়। এই
দিন আমীর
খসরুর প্রয়াণ
দিবস।
গুরু-শিষ্যের
প্রথম সাক্ষাত্টাও
আরেক ‘রহস্য’
হয়ে আছে।
আমীর খসরুর
বয়স তখন
মাত্র আট
বছর, মা-দাদা
তাকে নিজামুদ্দিন
আওলিয়ার দরবারে
নিয়ে যান।
কিন্তু বালক
খসরু দরবারের
ভেতরে প্রবেশ
না করে
ফটকেই বসে
থাকেন। ভবিতব্য
গুরুর আধ্যাত্মিক
শক্তি যাচাই
করতে তাকে
নিবেদন করে
মনে মনে
একটা ‘শের’
রচনা করেন—‘তুমি
সেই সম্রাট,
প্রসাদেরই রাজা/কবুতর
গেলে যেথা
হয়ে যায়
বাজপাখি/গরিব
পথচারী এসেছে
সে দরজায়/ভেতরে
ডাকবে- নাকি
ফিরে যাব,
জানাবে কি?’
খানিকবাদেই আওলিয়ার
পক্ষ থেকে
এক খাদেম
দরজার এসে
বালক খসরুকে
পাল্টা কবিতা
শোনান—‘হে
প্রাণের বন্ধু,
ভেতরে এসো/সারাজীবন
আমার বিশ্বস্ত
বন্ধু হয়ে
থেকো /বোকা
মানুষ কেউ
যদি আসত/তাহলে
না হয়
সে খালি
হাতে ফিরে
যেত।’ আমীর
খসরু বিষয়টি
বুঝতে পেরে
তার শিষ্যত্ব
নিয়ে বিশ্বস্ত
বন্ধুতে পরিণত
হন। মনে
রাখা যেতে
পারে নিজামুদ্দিন
আওলিয়ার বয়স
তখন ২৮
বছর। তবে
তাদের বয়সের
পার্থক্য ছিল
১৭ বছর।
পরবর্তী ছয়
দশকের বেশি
সময় ধরে
তাদের বন্ধুত্ব
অটুট ছিল।
অন্তরঙ্গ আত্মা
হলেও নিজামুদ্দিন
আওলিয়ার ও
আমীর খসরুর
মধ্যে মিল-অমিল
উভয় ছিল।
দুজনেই অল্প
বয়সে পিতা
হারিয়ে পিতামহোর
কাছে মানুষ
হন। অল্প
বয়সেই পরিবারের
একাধিক সদস্য,
নিকট আত্মীয়
হারিয়ে মানসিক
বৈরাগ্যে পড়েন
তারা। দুজনেরই
জন্ম ভারতের
উত্তর প্রদেশে
আর তাদের
পূর্বপুরুষরা এসেছিলেন
আরব থেকে।
নিজামুদ্দিন আওলিয়া
শৈশবে দারিদ্র্য
দেখলেও খসরু
তা দেখেননি।
অন্যান্য চিশতীদের
মতো নিজামুদ্দিন
আওলিয়া ছিলেন
সুলতানের আনুগত্য
বিরোধী। সদা-ই
রাজা বাদশাহগণের
সংসর্গ হতে
দূরে থাকতেন,
তাদের সঙ্গে
সাক্ষাৎ করাও
পছন্দ করতেন
না। যে
কারণে কতিপয়
শিষ্য নিয়ে
জনাকীর্ণ দিল্লির
বাইরে নির্জন
গিয়াসপুর গ্রামে
নিজের আশ্রম
গড়েন এবং
সেখানে তিনি
জীবনের পরবর্তী
৬০ বছর
পার করেন।
কিন্তু আমীর
খসরু ছিলেন
দিল্লির ১১
জন শাসকের
সমকালীন ব্যক্তিত্ব
এবং সাতজন
সুলতানের দরবারের
সংগীতজ্ঞ ও
কবি। বিশেষ
করে দিল্লির
অন্যতম পরাক্রমশালী
সুলতান আলাউদ্দিন
খিলজির সভাকবি
এবং দরবারের
প্রধান সংগীতজ্ঞ
ছিলেন তিনি।
এমনকি তার
বাবা সাইফ-উদ-দীন
মাহমুদ সুলতানের
পক্ষে যুদ্ধে
অংশ নিয়ে
শহীদ হন।
তার দাদা
ছিলেন সুলতানের
দরবারের গুরুত্বপূর্ণ
ব্যক্তি।
সুলতানের দরবারে
কাজ করলেও
খসরু মনে
থেকে একে
গ্রহণ করেননি।
জীবনের শেষ
মুহূর্তে তিনিও
গুরুর নিয়ম
মেনে চলেছেন।
যে কারণে
সুলতান জালালউদ্দিন
খিলজিকে হত্যা
করে তার
ভাতিজা আলাউদ্দিন
খিলজি যখন
মসদন দখল
করেন, দিল্লি
তখন পুরনো
সুলতানদের জন্য
অশ্রুপাতে মূহ্যমান।
তিনি লেখেন,
‘আমরা
যখন পুরনো
সুলতানের জন্য
অশ্রুপাত করি,
যিনি তার
ভালোবাসার কারো
হাতে নিষ্ঠুরভাবে
খুন হয়েছেন,
আমাদের অবশ্যই
মনে রাখা
দরকার জালালউদ্দিনও
মসনদের জন্য
তার প্রতিপালককে
হত্যা করেছেন।’
আবার পরে
জেনারেল মালিক
কাফুরের দেয়া
বিষে যখন
আলাউদ্দিন খিলজির
মৃত্যু হয়,
খসরু লেখেন,
‘কেন
এত নগর
ও রাজ্য
জয়, যখন
তোমার মৃত্যুপর
চার গজের
বেশি জায়গা
পাচ্ছ না।’
আলাউদ্দিন খিলজির
দরবারের প্রধান
সংগীতজ্ঞ হলেও
খসরুর বিকাশ
শুরু হয়ে
ছিল পূর্ববর্তী
সুলতান জালালউদ্দিন
খিলজির দরবারে।
তবে বলা
হয়, জালাউদ্দিন
খিলজি যদি
তাকে আদর
করে থাকেন,
নিজামুদ্দিন আওলিয়া
তাকে শিশুর
মতো আগলে
রেখেছেন। হাত
ছাড়া করেননি।
বলতেন, ‘আমি
সবাইকে নিয়ে
ক্লান্ত, এমনকি
নিজেকে নিয়েও,
কিন্তু তোমাকে
নিয়ে কখনই
ক্লান্ত নই।’
একবার খসরুকে
যখন দিল্লি
থেকে দূরে
বদলির আদেশ
আসে, তিনি
একরাতে গুরু
নিজামুদ্দিনের কাছে
আসেন। সেই
সময় আওলিয়ার
দরবারে কারো
প্রবেশের অনুমতি
ছিল না,
শুধু খসরু
ছাড়া। প্রার্থনায়
বসে খসরুকে
উদ্দেশ করে
নিজামুদ্দিন বলেন,
‘মোমবাতি
আর আমার
মধ্যে একটা
আভাস মিল
আছে। যখন
আমার নিঃশ্বাস
বেরিয়া যায়,
তখন আমার
মোমবাতির শিখাও
হারিয়ে যায়।’
নিজামুদ্দিন আওলিয়া
প্রায়ই সারা
রাত প্রার্থনায়
কাটাতেন। যেমনটা
খসরুও পরবর্তী
সময় করেছেন।
এমনকি গুরুর
প্রভাবে তিনি
একাধারে ৪০
বছর কাল
রোজা রেখেছিলেন।
এক ভোরে
নিমাজউদ্দিন যখন
চারপাশে ‘পরমানন্দ
আবহ’ নিয়ে
ফিরলেন, তার
চোখ লাল
আর দীপ্তিময়
মুখাবয়, তা
দেখে খসরু
দৌড়াতে শুরু
করলেন। তা
দেখে আরেক
শিষ্য বোরহানউদ্দিন
গরিব তাকে
জিজ্ঞেস করলেন,
তিনি উত্তর
দেন, ‘যখন
একটি আয়না
সূর্যের সামনে
বসান হয়,
তখন কার
সাধ্য আছে
তাতে মুখ
দেখে?’
আমীর খসরুর
জীবনীর সঙ্গে
দিল্লির অনেক
উত্থান-পতনের
ইতিহাসের সন্ধান
পাওয়া যায়।
খিলজি বংশের
শেষ সুলতান
কুতুব-উদ-দিন
মুবারক শাহ্-এর
দরবারে প্রতি
সপ্তাহে দিল্লির
বিখ্যাত মানুষরা
মিলিত হতেন।
কিন্তু নিজামুদ্দিন
আওলিয়া কখনো
যাননি। একবার
আমীর খসরুর
মাধ্যমে তাকে
খবর পাঠালেন,
তাকে পরবর্তী
সপ্তাহে দিল্লি
দরবারে উপস্থিত
হতে হবে
অন্যথায় তাকে
ফাঁসিতে ঝুলান
হবে। নিজামুদ্দিন
যথারীতি যেতে
অস্বীকার করেন।
দিন ঘনিয়ে
আসায় এ
নিয়ে শিষ্যরা
যখন চিন্তিত,
নিজামুদ্দিন সবাইকে
বিশ্রামে যেতে
বললেন। তিনি
মায়ের কবর
ঘুরে এসে
সারা রাত
প্রার্থনায় কাটালেন।
পরদিন সকালে
শোনা গেল
গতরাতেই কুতুব-উদ-দিন
আঁততায়ীর হাতে
খুন হয়েছেন।
তবে এটা
আধ্যাত্ম রহস্য
নাকি ক্ষমতা
দ্বন্দ্ব ছিল
তা অমীমাংসিতই
রয়ে গেছে।
প্রায়ই নিজামুদ্দিন
আওলিয়া ও
আমীর খসরু
যমুনার পাড়ে
ঘুরতে যেতেন।
এটা ছিল
তাদের বোঝাপড়া
ও জ্ঞান
বৃদ্ধির প্রয়াস।
এক ভোরে
তারা দেখলেন
লোকজন গোসল
করছেন ও
প্রার্থনা করছেন।
নিজামুদ্দিন বললেন,
‘প্রত্যেক
প্রার্থনাকারীর একটা
বিশ্বাস আছে,
সে সেদিকে
কেবলা স্থাপন
করেন।’ এ
সময় তিনি
মাথার টুপিটা
একটু বাঁকা
করে পড়লেন।
তখন খসরু
বলেন, ‘আমি
এই বাঁকা
টুপির দিকেই
আমার কেবলা
স্থাপন করেছি।’
খসরু তার
রচিত শে’র
নিজামুদ্দিনকে আবৃত্তি
করে শুনাতেন,
তার মধ্যে
যে শে’র
নিজামুদ্দিনের অধিক
পছন্দ হতো,
তা পুনঃ
পুনঃ আবৃত্তি
করতেন। নিজামুদ্দিনের
প্রশংসায়ও বহু
শে’র
রচনা করেছেন
তিনি।
নিজামুদ্দিনের প্রতি
ভালোবাসা নজির
আমীর খসরুর
অনেক আছে।
আওলিয়া বিস্তর
দান করতেন।
একবার এক
ভিখারি তার
দরবারে এসে
কিছু চাইলেন।
কিন্তু তাকে
দেয়ার কিছু
না থাকায়
নিজামুদ্দিন ছেঁড়াখোঁড়া
জুতা দেখিয়ে
এক খাদেম
বললেন, চাইলে
এ জুতা
নিতে পারেন।
ভিখারি তা-ই
নিয়ে চলে
যান। অন্য
এক শহরে
ওই জুতা
পড়ে চলার
সময় আমীর
খসরুর সঙ্গে
তার দেখা
হয়ে যায়।
খসরু তখন
রাজকীয় ভ্রমণ
শেষে ফিরছিলেন।
তিনি হঠাৎ
বলে উঠলেন—আমি
গুরুর সুবাস
পাচ্ছি, গুরুর
সুবাস পাচ্ছি।
পরে তার
কাছে সমুদয়
অর্থ দিয়ে
তিনি ভিখারির
কাছ থেকে
গুরুর জুতাজোড়া
কিনে নেন।
পরে এ
কথা শুনে
নিজামুদ্দিন তাকে
বলেন, ‘ভালো,
তবে তুমি
খুব কম
মূল্যে তা
কিনতে পেরেছ।’
গুরু-শিষ্যের
এমন হেঁয়ালি
তাদের জীবন
ভরই চলেছে।
পীর-মুর্শিদের
দরবারে সংগীত-নৃত্য
নিয়ে অনেক
বিতর্ক শোনা
যায়। এ
নিয়ে অনেক
ভিন্ন মত
আছে। শুরুতে
নিজামুদ্দিনের দরবারে
সামা (সংগীত)
মাহফিলে নৃত্যের
অনুমতি ছিল
না। তেমনি
এক মাহফিলে
ভাবতাড়িত আমীর
খসরু উঠে
নৃত্য শুরু
করেন। নিজামুদ্দিন
তাকে বারণ
করে বলেন,
‘তোমার
নৃত্য করা
উচিত নয়,
নিতান্তই মানুষের
মতো লাগছে।’
তিনি বলেন,
এমনভাবে নৃত্য
করার উচিত
যেন তোমার
হাত আকাশে
উঠে গেছে
খোদাকে ডাকার
জন্য’ এবার
বিষণ্ন গুরুকে
বাসন্তী রঙা
কাপড় পরিহিত
ভক্ত-শিষ্যদের
নৃত্য দিয়ে
খুশি করেছিলেন
আমির খসরু।
এতেই খাজার
দরবারে সুফি
নৃত্য প্রচলিত
হয়।
আরবি ‘ওরশ’
শব্দে সাহিত্যার্থ
হচ্ছে ‘বিবাহ’
বা মিলন।
চিশতি সিলসিলা
অনুযায়ী, মৃত্যু
আসলে বিনাশ
বা শেষ
নয়, এর
মধ্যদিয়ে তারা
স্বীয় দরদির
সঙ্গে একাত্ম
হন। নিজামুদ্দিন আওলিয়ার
গুরু বাবা
ফরিদউদ্দিন মাসুদ
চিশতির অনুসারী
একটা দলের
মতে, মৃত্যুর
মধ্যে দিয়ে
তা সম্পন্ন
হয়। তবে
নিজামুদ্দিনের ধারা
মতে, মৃত্যু
নয়, বরং
ভালোবাসার মধ্যদিয়ে
দুনিয়াতেই খোদার
সঙ্গে একাত্ম
হওয়া যায়।
তাই মৃত্যুতে
তাদের ভয়
নেই, বরং
প্রিয় দরদির
সঙ্গে মহামিলনের
সুযোগ। তাই
তাদের প্রয়াণ
দিবসে দিল্লির
খাজা নাজিমউদ্দিন
চিশতির মাজারে
‘ওরশ’
উৎসব হয়।
আমির খসরু
লেখেন—
‘অনেক
বেশি রইলে
বাবুল ঘরে,
আসো, ডাকে
তোমার প্রিয়জন;
প্রিয় খসরু,
তুমি গিয়েছিলে
একলা,
কেউ তোমার
সাথী হবে
না এখন।’
তথ্য
সূত্র :
১. Amir Khusro, Monu Kulhari
২. Siyar-ul-Auliya, Amir Khurd
৩. Nizamuddin Auliya to Amir
Khusro: I am weary of everyone, even myself, but never of you; Meher Murshed;
June 19, 2019, https://blog.sufinama.org/
৪. A Relationship Par
Excellence: Amir Khusrau and Nizamuddin Aulia; By M H Ahssan; May 11, 2009;
https://innlivenetwork.wordpress.com
৫. বিভিন্ন
সংবাদপত্র, ব্লগ
ও প্রবন্ধ
অলাত এহ্সান: গল্পকার,
প্রাবন্ধিক





