শালিখ সমুদ্র গাঙচিল এই বঙ্গীয় সংস্কৃতির বুকের তলে নিরাকার স্বপ্নগুলো
আমাকে আঘাত করে, আমাকে ধাক্কা দেয় প্রতিনিয়ত
তখন বেঁচে থাকাটা বাতাসময় এই পৃথিবীতে আমার জন্য হয়ে উঠে অনেক কঠিন
বঙ্গোপসাগরীয় ঢেউয়ের জোয়ারে নতুন পলিতে শস্যদানায় ভরে যায় বুক
সভ্যতাকে বড় করে না দেখে সংস্কৃতিকে বড় দেখার এই উত্তর অভিনিবেশ
আমাকে ঘায়েল করে ফেলে
আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি উত্তর আধুনিক মানুষের সভ্যতার মোড়কে
জমিতে চরে বেড়ানো শান্ত শালিখগুলোর দিকে তাকাতেও আমি ভয় পাই
জানি না, এরাও কখন আমাকে শত্রু ভেবে বসে এবং আমাকে দেখে সন্দেহের বসে উড়ে যায়
অথচ আমি শালিখগুলোকে শৈশব থেকে ভালোবাসি, বঙ্গোপসাগরকে শৈশব থেকে ভালোবাসি
ভালোবাসাই ছিল আমাদের দাদা-দাদির সংস্কৃতি, যা আমি, আমার মা-বাবা থেকে শিখেছিলাম
শালিখের দিকে তাকালে মনে হয় সভ্যতার কি প্রয়োজন পৃথিবীতে
যদি কারো গর্ব করার মতো সংস্কৃতি থাকে একসঙ্গে থাকা একসঙ্গে ওড়া
একসঙ্গে গান করা...
আমি এখন উপোস থাকাকে সম্বল করে এ নগরে তা উপলব্ধি করি
শাহবাগে রুটির সঙ্গে চা মিশিয়ে পান করি আর উত্তর ঔপনিবেশিক মননের বীজ বুনি
এটাই আমার গর্ব ও শ্লাঘার বিষয় যে
বুল পাল্টানো গিরগিটির মতো আমি এখনো উত্তর আধুনিক হতে পারিনি





