‘শত শত চোখ আকাশটা দেখে

শত শত শত মানুষের দল

যশোর রোডের দু’ধারে বসত

বাঁশের ছাউনি, কাদামাটি জল

কাদামাটি মাখা মানুষের দল

গাদাগাদি হয়ে আকাশটা দেখে

আকাশে বসত মরা ঈশ্বর

নালিশ জানাবে ওরা বলো কাকে

ঘরহীন ওরা ঘুম নেই চোখে

যুদ্ধে ছিন্ন ঘর বাড়ি দেশ

মাথার ভেতরে বোমারু বিমান

এই কালো রাত কবে হবে শেষ

শত শত মুখ হায় একাত্তর

যশোর রোড যে কত কথা বলে

এত মরা মুখ আধমরা পায়ে

পূর্ব বাংলা কলকাতা চলে

সময় চলেছে রাজপথ ধরে

যশোর রোডে মানুষ মিছিল

সেপ্টেম্বর হায় একাত্তর

গরুগাড়ি কাদা রাস্তা পিছিল

লক্ষ মানুষ ভাত চেয়ে মরে

লক্ষ মানুষ শোকে ভেসে যায়

ঘরহীন ভাসে শত শত লোক

লক্ষ জননী পাগলের প্রায়

রিফিউজি ঘরে খিদে পাওয়া শিশু

পেটগুলো সব ফুলে ফেঁপে ওঠে

এইটুকু শিশু এত বড় চোখ

দিশেহারা মা কার কাছে ছোটে

সেপ্টেম্বর হায় একাত্তর

এত এত শুধু মানুষের মুখ

যুদ্ধ মৃত্যু তবুও স্বপ্ন

ফসলের মাঠ ফেলে আসা সুখ

কার কাছে বলি ভাত রুটি কথা

কাকে বলি কর কর কর ত্রাণ

কাকে বলি ওগো মৃত্যু থামাও

মরে যাওয়া বুকে এনে দাও প্রাণ

কাঁদো কাঁদো তুমি মানুষের দল

তোমার শরীর ক্ষত দিয়ে ঢাকা

জননীর কোলে আধপেটা শিশু

এ কেমন বাঁচা, বেঁচে মরে থাকা

ছোট ছোট তুমি মানুষের দল

তোমার ঘরেও মৃত্যুর ছায়া

গুলিতে ছিন্ন দেহ-মন-মাটি

ঘর ছেড়েছ তো মাটি মিছে মায়া

 

সেপ্টেম্বর হায় একাত্তর

ঘর ভেঙে গেছে যুদ্ধের ঝড়ে

যশোর রোডের দু’ধারে মানুষ

এত এত লোক শুধু কেন মরে

শত শত চোখ আকাশটা দেখে

শত শত শত শিশু মরে গেল

যশোর রোডের যুদ্ধক্ষেত্রে

ছেড়া সংসার সব এলোমেলো

কাদামাটি মাখা মানুষের দল

গাদাগাদি হয়ে আকাশটা দেখে

আকাশে বসত মরা ঈশ্বর

নালিশ জানাবে ওরা বল কাকে

ঘরহীন ওরা ঘুম নেই চোখে

যুদ্ধে ছিন্ন ঘর বাড়ি দেশ

মাথার ভিতরে বোমারু বিমান

এই কালো রাত কবে হবে শেষ

শত শত মুখ হায় একাত্তর

যশোর রোড যে কত কথা বলে

এত মরা মুখ আধ মরা পায়ে

পূর্ব বাংলা কোলকাতা চলে

এত মরা মুখ আধ মরা পায়ে

পূর্ব বাংলা কলকাতা চলে।’

 

 

অ্যালেন গিনসবার্গের এ বিখ্যাত কবিতাটির বাংলা অনুবাদ করেন খান মোহাম্মদ ফারাবী। পরবর্তীতে কবিতাটিকে গানে রূপান্তর করার প্রয়োজনে বিশিষ্ট শিল্পী মৌসুমি ভৌমিক কবিতাটির ওপরে উদ্ধৃত বাংলা ভাবানুবাদ করেন।