অন্য দেশের মহারথীরা যখন তার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন, তাদের কথার ধরন বলে দিত যেন তারা আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলছেন। তাদের অনেকবার মনে করিয়ে দিতে হয়েছে তিনি আদৌ প্রেসিডেন্ট নন।
১২ জুন ১৯১৫ সালে তার জন্ম নিউইয়র্কে, পৃথিবীর সর্বোচ্চ আবাসিক ভবনে (নয়তলা বাড়ি এটাই তখন সর্বোচ্চ)। ভালো ছাত্র ছিলেন। শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করেছেন, হার্ভার্ডের পাঠ সেরে যখন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়তে এলেন, সেখানে ছাত্র হিসেবে পেলেন জন এফ কেনেডিকে। ১৯৪০ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি।
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ফ্রান্স ও উত্তর আফ্রিকায় সামরিক গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করেন। প্যারিসে মার্কিন দূতাবাসের সহকারী সামরিক অ্যাটাসেও ছিলেন। চেজ ব্যাংকে যোগ দিয়ে বেসামরিক চাকরির শুরু, পরে এই ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যান হন। সিআইএর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছেন।
রকফেলারের আত্মজীবনী ‘বিয়িং অ্যা রকফেলার’-এর নির্বাচিত অংশের সংক্ষিপ্ত অনুবাদ নিচে দেয়া হলো:
ছবিটা এ রকম— পরিবারের সব পুরুষ সদস্য নিউইয়র্কের টেরিটাউন রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। সেই ট্রেনে পরিবারের পিতাসহ জন ডি রকফেলারের শীতকালীন নিবাস ফ্লোরিডার অরমন্ড বিচ থেকে তার শববাহী কাসকেট আসছে। ২৩ মে ১৯৩৭, ৯৭ বছর বয়সে তিনি ঘুমের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর দাপ্তরিক কারণ স্ক্লেরোটিক মাইয়োকার্ডাইটিস, আমি সহজ করে বলব তার মৃত্যুর কারণটি বার্ধক্যজনিত। তিনি আমার কাছে কেবল দাদাই ছিলেন, টাকার কুমির কিংবা ইতিহাস বইয়ে লেখা মহান মানবহিতৈষী নন। আমার শৈশবে তার উপস্থিতি ছিল নিত্য নিষ্কলুষ প্রশ্রয়দাতা, আমার বাবা জন ডি রকফেলার জুনিয়র ও পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে অসীম শ্রদ্ধার মানুষ। তার ছবিটির দিকে তাকিয়ে মনে হয় এটি জীবদ্দশায় আমাদের সম্পর্ক স্মরণীয় করে রেখেছে, যদিও আমাদের সবাইকেই চলে যেতে হবে।
২৫ বছর আগে আমার দাদা ও বাবার তৈরি করা পোকানটিকো হিলে তার কাসকেট আনা হয়। পরদিন পরিবারের সদস্য এবং অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ক’জনকে নিয়ে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। আমার মনে আছে বসন্তের সে দিনটা ছিল চমত্কার, নিচের দিকে হাডসন নদীর নীল পানি ঝলমল করছিল। তার প্রিয় অরগান বাদক ডক্টর আর্চার গিবসন মেইন হলে বৃহদাকার পাইপ অরগান বাজালেন। শেষকৃত্যের সার্ভিস শেষ হয়ে যাওয়ার পর সবাই যখন হতবুদ্ধি হয়ে এদিক ওদিক ঘুরঘুর করছিলেন, আমার দাদার ৩০ বছরের সার্বক্ষণিক সাথী নিপাট সুইস ভদ্রলোক মিস্টার জর্ডি ইশারায় আমাকে ডাকলেন। আমি এগিয়ে যেতে হাত ধরে হলের নির্জন করিডোরে নিয়ে এসে বললেন, ‘মিস্টার ডেভিড (প্রথম নাম ধরে ডাকার রীতি ভিন্ন হলেও কর্মচারীরা এভাবেই রকফেলার পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সম্বোধন করতেন।) আপনার দাদা মনে করতেন ভাইদের মধ্যে আপনিই অনেকটা তার মতো।’
আমাকে নিশ্চয়ই তখন খুব বিস্মিত দেখাচ্ছিল। তিনি এমন কথা বলবেন, এটা আমি কখনো আশাই করিনি।
‘হ্যাঁ, তিনি বলেছেন, আপনি তার খুব প্রিয়। ভাবলাম এটা আপনার জানা দরকার।’
এর পর আমাকে কী করতে হবে বুঝতে পারলাম না। আমি ধরে নিয়েছিলাম তার পছন্দের হচ্ছে, আমার ভাই নেলসন রকফেলার। কিন্তু তার কথা শুনে আমি খুশি হইনি, এই ভানটা করতে পারলাম না।
আমার দাদা জন ডেভিসন রকফেলার সিনিয়র (জন্ম ৮ জুলাই ১৮৩৯—মৃত্যু ২৩ মে ১৯৩৭, ৯৭ বছর বয়সে) ক্লিভল্যান্ডের একটি দোকানে সপ্তাহে ৫ ডলার বেতনে কেরানির চাকরিতে ঢোকেন (দোকানের নাম হেইউইট অ্যান্ড টাটল, পদের নাম বুককিপার, বয়স তখন ১৬ বছর। তার জীবনীকার অবশ্য বলেছেন, বেতন আরো কম ছিল, দৈনিক ৫০ সেন্ট, পুরো তিন মাসে তার বেতন হয়েছিল ৫০ ডলার)। সেখান থেকে বেরিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানি, এ থেকেই প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি শিল্পের যাত্রা। দীর্ঘ ও তিক্ত মামলা-মোকদ্দমার পর যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ১৯১১ সালে স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানি ভেঙে দেয়। এখান থেকে বেরিয়ে আসা বেশকিছু কোম্পানি এখনো ব্যবসা করে যাচ্ছে— এক্সনমবিল, শেভরন, এমোকো এবং আরো ৩০টি। (ফেডারেল অ্যান্টি-ট্রাস্ট ল’— এ আইন অমান্য করার অপরাধে মূল প্রতিষ্ঠানটি ভেঙে ৩৪টি কোম্পানি গঠনের আদেশ দেয়া হয়।)
স্ট্যান্ডার্ড অয়েল আমার দাদাকে ‘আমেরিকার সবচেয়ে ধনী মানুষ’-এ পরিণত করেছিল। (তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ২০১৬ সালের হিসাবে ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার)। তিনি তার জীবনের অধিকাংশ সময় সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ট্যাবলয়েডগুলো স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের ব্যবসায়িক পদ্ধতিকে আক্রমণ করেছে। খুনসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে এর প্রতিষ্ঠাতাকে। বলা হয়েছে, স্ট্যান্ডার্ড অয়েল ব্যবসায়ে পূর্ণ একচেটিয়াবাদ প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য সব প্রতিযোগীকে অপসারণ করেছে। সমাজতন্ত্রী প্রগতিশীল এবং সস্তা জনপ্রিয় সব ধারার প্রবক্তাসহ যারা নিউ আমেরিকান ক্যাপিটালিস্ট অর্ডার অপছন্দ করতেন, তারা সবাই তার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে থাকেন। উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের শক্তিশালী গভর্নর রবার্ট লা ফলেট দাবি করলেন, জন রকফেলার তার যুগের সবচেয়ে দাগী অপরাধী। বিভিন্ন শিল্পের একচেটিয়া বাজার রোধ করতে (প্রেসিডেন্ট থিওডোর) রুজভেল্ট তাকে ব্যবহার করেছেন ‘সুইপিং বয়’ হিসেবে— যে-ই অপরাধ করুক, দোষ তার। আইডা টারবেল নামের এক লেখিকা আমার দাদার লোভী ও হিংস্র ‘রবার ব্যারন’ ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে উঠেপড়ে লাগেন। তিনি এমনও লিখেছেন, ‘মিস্টার রকফেলার যে গলফ খেলেন, কোনো সন্দেহ নেই তার মূল কারণ আরো বেশি টাকা কামাই করার জন্য আরো বেশি দিন বেঁচে থাকা।’
এখনকার ঐতিহাসিকরা স্বীকার করেন, সে সময় স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের বিরুদ্ধে যা করা হয়েছে, তা ছিল অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট এবং অভিযোগগুলো ছিল অসত্য। একালের ব্যবসায়ে যেসব নীতি অনুসরণ করা হয়, সেগুলোর অস্তিত্বই তখন ছিল না। আর দাদার কোম্পানি কাজ করত অর্থনীতির সীমান্তবর্তী এলাকায়, যা ছিল অনাবিষ্কৃত অনেকটা ‘ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’-এর মতো।
আমাদের জনহিতৈষী কাজের প্রথম প্রধান পুরুষই জন ডি রকফেলার। ১৮৯০-এর দশকে তার হাতেই সৃষ্টি হয় শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯০১ সালে রকফেলার ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল রিসার্চ, ১৯১৩ সালে স্থাপন করেন রকফেলার ফাউন্ডেশন। ৯ অক্টোবর ১৯০১ যখন রকফেলারের উত্তরাধিকারী আমার বাবা জন ডি রকফেলার জুনিয়র এবং আমার মা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠদের নেতা নেলসন অল্ডরিচের কন্যার বিয়ে হয়, তখন সংবাদপত্রগুলো খবরের শিরোনাম করেছিল: যুক্তরাষ্ট্রের দুই শক্তিশালী পরিবারের বিয়ে।
সে আসরে পোশাক-পরিচ্ছদ ছিল খুব আনুষ্ঠানিক। শীতের প্রতি রাতে ডিনারে বাবার পরনে থাকত কালো টাই আর মায়ের লম্বা জামা। তারা যখন একা একা খেতেন, তখনো আনুষ্ঠানিক পোশাক। কোথাও গেলে তারা যত পোশাক সঙ্গে নিতেন, তা অবাক হওয়ার মতো। পাছে আবহাওয়া শীতল হয়ে যায় এজন্য কোট না পরে বাবা কোথাও বেরোতেন না, হ্যাট তো মাথায় থাকতই।
আমার কোনো সন্দেহ নেই বাবা আমাদের সবাইকে খুব ভালোবাসতেন কিন্তু কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে নিজের বেড়ে ওঠা বাবা হিসেবে তাকে অনমনীয় করে রাখে। তিনি ঠিক শীতল ছিলেন না, ছিলেন আনুষ্ঠানিক, কদাচিত্ তার অপত্যস্নেহের প্রকাশ ঘটত। তার পরও আমার শৈশবে তার উপস্থিতি ছিল প্রবল।
আমার দাদা ছিলেন স্বনির্মিত একজন মানুষ, শূন্য থেকে বিশাল ঐশ্বর্যশালী হয়েছিলেন তিনি। আমার বাবা ছিলেন জটিল মানুষ। দাদা যেভাবে নিজেকে গড়েছেন, সে রকম করার সুযোগ বাবার ছিল না। তার রেকর্ড করা বাণিজ্যিক কৃতিত্বের পরও বাবা অপর্যাপ্ততার যন্ত্রণায় ভুগতেন। স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের ভাইস প্রেসিডেন্টদের একজন হিসেবে তিনি মনে করতেন, নিজের বিবেকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছেন। তিনি সারা জীবনই মনে করেছেন তার নাম এবং উত্তরাধিকারের যোগ্য হয়ে ওঠার জন্যই তার এ প্রতিযোগিতা।
১৯৩০ দশকের গোড়ার দিকে তিনি নার্ভাস কলাপসে ভুগছিলেন, এটাকেই আমরা এখন বলি ডিপ্রেশন। স্বাস্থ্য উদ্ধারের জন্য আমার মা আমার এক বছর বয়সী বোন অ্যাবিকে নিয়ে দক্ষিণ ফ্রান্সে চলে গেলেন। সেখানে ছয় মাস কাটিয়ে যখন ফিরলেন, তখন বেশির ভাগ সময় ঘরেই থাকতেন। বের হতেন কদাচিত্। তার অফিসে ফিরতে এক বছর লেগে যায়।
১২ জুন ১৯১৫ আমার জন্ম হয় নিউইয়র্কের ১০ ওয়েস্ট ফিফটি ফোর্থ স্ট্রিটে, আমাদের ৯ তলা বাড়িতে— এটাই সেই সময়ে সবচেয়ে উঁচু এবং সবচেয়ে বড় বাড়ি।
বাড়িতে প্রাচীন থেকে শুরু করে আধুনিক চিত্রকলার সমাহার ছিল। সবই আমার মায়ের পছন্দে সংগৃহীত।
বাবা মডার্ন আর্ট খুব অপছন্দ করতেন। তিনি মনে করতেন এসবের সঙ্গে জীবনের কোনো মিল নেই। এগুলো কুিসত এবং বিচলিত করার মতো। বাড়ির যেসব অংশে বাবার আনাগোনা ছিল, সেসব জায়গায় সমকালীন কোনো পেইন্টিং বা অন্য কোনো শিল্পকর্ম টাঙানো থেকে তিনি মাকে নিরুত্সাহিত করেছেন।
আমাদের নিত্যকার রুটিনে সামান্য হেরফের হওয়ার উপায় ছিল না। খুব সকালে আমাদের ঘুম থেকে তুলে নাশতা খেয়ে বাবার পড়ার ঘরে প্রাতকালীন প্রার্থনার জন্য সমবেত হতে হতো। বাবার চাওয়া অনুযায়ী তার নির্ধারিত বাইবেলের কোনো অংশ আমাদের শিখে আসতে হতো। পড়ে শোনানোর জন্য তিনি আমাদের ডাকতেন।
কোনো স্তোত্র বা বাইবেলের অংশ পাঠ করার দায়িত্ব পালাক্রমে নির্ধারিত হতো। প্রার্থনা দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হতো। যা পাঠ করা হতো, বাবা তার অর্থ ব্যাখ্যা করে শোনাতেন। কোনো ধরনের কৌতুক কিংবা ফাজলামো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। ১০ থেকে ১৫ মিনিট প্রার্থনা চলত। মা ও আমার বোন অ্যাবি, আমরা যাকে ডাকতাম ব্যাবস, কখনো আমাদের সকালের উপাসনায় যোগ দেয়নি।
আমার ভাইবোনরা আমাকে তাদের সঙ্গে খেলার উপযুক্ত মনে করত না। সবার বড় অ্যাবি, বয়স ১২ বছর, আমি সবার ছোট। অ্যাবি তখনই ফ্যাশনদুরস্ত হয়ে উঠেছে। বেশ রাত করে বাড়ি ফিরত। তার চেয়ে আড়াই বছরে ছোট জন তখন ফুলপ্যান্ট পড়তে শুরু করেছে। আমি ভাবতাম ওরা বয়স্ক পৃথিবীর অংশ। নেলসন ও লরেন্সও বড়, ৭ বছর আর ৫ বছর। আমার সবচেয়ে কাছাকাছি উইন, তাও তিন বছরের বড়। ১৯২০ দশকের শেষ দিকে মা মেক্সিকোর চিত্রশিল্পী ও ম্যুরাল নির্মাতা দিয়েগো রিভেরার ভক্ত হয়ে উঠে। দিয়েগো প্যারিসে পড়াশোনা করেছেন এবং প্রথম মহাযুদ্ধের সময় মাতিসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শিল্পীগোষ্ঠীর অংশ হয়ে ওঠেন। তার প্রজন্মের অনেকের মতো তিনিও রাজনৈতিক দীক্ষার দিক থেকে বামপন্থী হয়ে উঠেন। কিছু সময়ের জন্য তিনি মেক্সিকান কমিউনিস্ট পার্টিরও সদস্য ছিলেন। মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্টের (মোমা) পরিচালক আলফ্রেড বার দিয়েগোর প্রতি আমার মা দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং ১৯৩১ সালে মোমাতে তার একক প্রদর্শনীর প্রস্তাব করেন। মা ও নেলসন এতে খুব উত্সাহী ছিলেন। মা দিয়েগোকে একটি ছবি আঁকার দায়িত্ব দেন এবং ১৯২৭ সালে মস্কোতে আঁকা তার বেশকিছু জলরঙ ছবি কিনে নেন, সেই টাকায় দিয়েগো প্রথমবারের মতো নিউইয়র্ক সফরে আসেন।
দিয়েগো রিভেরা আমার মা-বাবার বাড়িতে প্রায়ই আসতেন, সেখানে তার সঙ্গে আমার অনেকবার দেখা হয়েছে। তিনি খুবই প্রভাব বিস্তারকারী এবং ক্যারিশমেটিক ব্যক্তিত্ব, বেশ লম্বা, ওজন ৩০০ পাউন্ড। তিনি খুব কম ইংরেজি বলতে পারতেন, স্প্যানিশের বাইরে ফরাসি ভাষায় তিনি দক্ষ ছিলেন। এক-দুবার তিনি তার স্ত্রী ও চিত্রশিল্পী ফ্রিদা কাহালোকেও নিয়ে এসেছিলেন। এখন তো ফ্রিদার আঁকা ছবি দিয়েগোর ছবির চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়।
১৯৩১ সালের ডিসেম্বরে রকফেলার প্লাজার আরসিল বিল্ডিংয়ের সামনের লবিতে একটি মুরাল স্থাপনের প্রশ্ন উঠে, মা ও নেলসন জোর দিয়ে কাজটা দিয়েগো রিভেরাকে দিতে বলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রে দিয়েগোর সুখ্যাতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দিয়েগোর দেয়া স্কেচ অনুমোদিত হয় এবং ২১ হাজার ৫০০ ডলার সম্মানীর বিনিময়ে তিনি কাজটিতে হাত দেন এবং তিন মাসের মধ্যে কাজটি শেষ করেন।
রকফেলারের শিক্ষা: জীবন থেকে নেয়া
ব্যবসায় ও জীবনে লাভটাই গুরুত্বপূর্ণ
তালাক ও রাজনীতি দুই-ই ব্যয়বহুল।
দুজন বসের চেয়ে একজন বস ভালো
এগোও, বন্ধুদের সঙ্গে ব্যবসা করো
ধনতন্ত্রে সরকার ও বাজারকে একসাথে কাজ করতে হয়।
এমন কিছু সৃষ্টি করুন, যা টিকে থাকবে।
নিজের সামর্থ্যের মধ্যে জীবন ধারণ করুন।
চামড়াটা মোটা করুন, আঘাত কম লাগবে।






