স্বর্ণের দাম সৃষ্টি হওয়ার বহু যুগ আগে থেকে মানুষ স্বর্ণের মূল্য বুঝতে শিখে গিয়েছিল। এমনকি গুহামানবেরাও ব্যতিক্রম ছিল না। ৪০ হাজার বছর আগের প্যালিওলিথিক আমলের গুহাতেও স্বর্ণের গুঁড়ার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। প্রায় সব প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে স্বর্ণের অস্তিত্ব বিদ্যমান। মিসরীয় ও সুমেরুরীয় সভ্যতা থেকে দক্ষিণ আমেরিকার নাজকা সভ্যতা পর্যন্ত সব অঞ্চলে স্বর্ণালংকারের জয়জয়কার ছিল। আমেরিকায় বিখ্যাত গোল্ডরাশের ঘটনা তো মাত্র কয়েকশ বছর আগের কথা। 

মানুষের সেই সোনালি মোহ কখনো কখনো জীবদ্দশা ছাড়িয়ে পরকাল ছুঁয়েছে। ইতিহাসে এ মোহের প্রাচীনতম যে নজির পাওয়া গেছে তার বয়স প্রায় ৬৫০০ বছর। মিসরের পিরামিড তৈরি হওয়ারও দুই হাজার বছর আগে কৃষ্ণসাগরের তীরের সেই সভ্যতার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে মাত্র কয়েক দশক আগে।

১৯৭২ সালের অক্টোবর মাসের ঘটনা। বুলগেরিয়ার ভার্না এলাকার শহরতলিতে একটা কারখানার ইলেকট্রিকের লাইন টানার জন্য খননকাজ করতে গিয়ে ২২ বছর বয়সী খননকর্মী রেইচো ম্যারিনভ কিছু পুরনো ধাতব জিনিসপত্র কুড়িয়ে পান। মাটির নিচে তামা-পিতলের এমন জিনিসপাতি পাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। কুড়িয়ে পাওয়া টুকরোটাকরা জিনিসগুলো তিনি একটা জুতার বাক্সে করে বাড়িতে নিয়ে যান। কয়েকদিন পর তার মনে হলো জিনিসগুলো ঘরের কোণে পড়ে থাকার চেয়ে গ্রামের জাদুঘরে ঠাঁই পেলে ভালো হবে। গ্রামে একটি ছোটখাটো প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর আছে। স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক দিমিতার জ্লাতারস্কি (Dimitar Zlatarski) ব্যক্তিগত উদ্যোগে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দিমিতার ছিলেন ম্যারিনভের প্রাক্তন শিক্ষক। ডালকোপল হিস্ট্রিক্যাল মিউজিয়াম নামে পরিচিত জাদুঘরটি তিনি স্থানীয়ভাবে আবিষ্কৃত পুরনো জিনিসপত্র দিয়ে সাজিয়েছেন। ম্যারিনভের কাছ থেকে পাওয়া জিনিসগুলো নিয়ে দিমিতার ভালো করে পরখ করার পর নড়েচড়ে বসলেন। তিনি বুঝতে পারলেন মাটি কাদায় মাখামাখি জিনিসগুলো সাধারণ কিছু না। এগুলো খাঁটি স্বর্ণের তৈরি, তার চেয়ে বড় কথা হলো এগুলোর বয়স এত বেশি হতে পারে যে তার পক্ষে অনুমান করা অসাধ্য। এগুলোর ঐতিহাসিক মূল্য অনেক বেশি। এসব নিয়ে আরো উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা হওয়া দরকার।

তিনি দেরি না করে টেলিফোন করলেন নিকটস্থ শহরের ভার্না হিস্ট্রিক্যাল মিউজিয়ামে। জানালেন তার কাছে কিছু প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এসেছে। তার বিশ্বাস, জিনিসগুলো অনেক প্রাচীন কোনো সভ্যতার। ভার্না মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের উচিত সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা। কেউ একবার এসে দেখে যেতে পারবে কিনা?

ভার্না মিউজিয়ামে তখন যোগ দিয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সী তরুণ গবেষক আলেকজান্ডার মিনচেভ। সদ্য পিএইচডি করে নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। কথা শুনে মিনচেভের মনে তারুণ্যের কৌতূহল জেগে উঠল। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন ব্যাপারটা একবার দেখে আসবেন। কিন্তু মিনচেভ সেই সদ্য আবিষ্কৃত ‘গুপ্তধন’ দেখতে যাবেন শুনে তার বয়স্ক সহকর্মীরা চোখ গোল গোল করে তাকাতে লাগলেন। অভিজ্ঞতা থেকে তারা জানেন যে এ অঞ্চলে এ রকম গুপ্তধন ‘আবিষ্কার’ নতুন কিছু না। স্থানীয়রা প্রায়ই এমন গুপ্তধন আবিষ্কার করে এবং তাদের ডেকে পাঠায়। গিয়ে দেখা যায় সেগুলো বড়জোর শ দুয়েক বছর আগের তামার মুদ্রা কিংবা জং ধরা অলংকার। ওই সব তামাশা দেখার জন্য ছুটে যাওয়ার কোনো মানে নেই। তারা মিনচেভকে নিরুত্সাহিত করল।

কিন্তু মিনচেভের কৌতূহলী মন এসব বাধা কানে তুলল না। তিনি কারো কথায় কান না দিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন একবার গিয়ে দেখে আসবেন। কিছু পাওয়া না গেলেও একটা অভিজ্ঞতা তো হবে। একজন সহকর্মীকে নিয়ে মিনচেভ গাড়ি চালিয়ে সেই গ্রামে পৌঁছে গেলেন।

শহরতলির ছোট আকারের মিউজিয়ামটিতে ঢোকার পর মিনচেভ চারদিকে তাকিয়ে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু পেলেন না। তিনি সোজা এগিয়ে দিমিতারের টেবিলের দিকে গেলেন। সেখানে সাজানো কাদামাটিতে মাখানো প্রত্নদ্রব্যগুলো তার স্বল্প অভিজ্ঞ চোখেও নাড়া দিল। তিনি বুঝতে পারলেন এগুলো কুড়িয়ে পাওয়া ফালতু কোনো জিনিস না। টুকরোটাকরা জিনিসগুলোর ওজন খুব বেশি হবে না। সব মিলিয়ে ওজন এক পাউন্ডের কম। মিনচেভ কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে দেখে ওই জুতার বাক্সে করেই জিনিসগুলো নিয়ে ভার্না মিউজিয়ামে ফিরে এলেন।

ভার্না মিউজিয়ামে কয়েকদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর বোঝা গেল অনুমান যদি সত্যি হয় বুলগেরিয়ার প্রাচীন ইতিহাস নতুন করে লিখতে হবে। কদিন পরেই ভার্না লেকের ধারের সেই গ্রামে দুজন প্রত্নতাত্ত্বিকের নেতৃত্বে আবারো খননকাজ শুরু হলো। দেখা গেল সেটি আসলে একটি প্রাচীন কবর। অতি পুরনো একটি কঙ্কাল শায়িত আছে সঙ্গে সোনার তৈরি বিভিন্ন জিনিস। এখানে আরো কবর থাকতে পারে ভেবে পুরো এলাকাজুড়ে অনুসন্ধান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। তারপর একের পর এক কবর উন্মোচিত হতে থাকে। পরবর্তী দেড় দশকের অনুসন্ধানে মোট ৩১২টি কবর আবিষ্কৃত হয়েছিল ওই জায়গায়। প্রায় সব কবরেই স্বর্ণের তৈরি জিনিসপত্র ছিল।

সেই কবরস্থানটি ভার্না নেক্রপলিস নামে পরিচিত হলো বিশ্বব্যাপী। বুলগেরিয়ার মানব বসতির সবচেয়ে প্রাচীন নজিরটি আবিষ্কৃত হলো সেখানে। শুধু বুলগেরিয়া নয়, সমগ্র পৃথিবীতে এত প্রাচীন স্বর্ণসমৃদ্ধ কবরস্থান কোথাও পাওয়া যায়নি। ভার্না নেক্রপলিসকে বলা হয় ‘ওল্ডেস্ট গোল্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’। ২০০৬ সালে চূড়ান্তভাবে রেডিওকার্বন পদ্ধতির সাহায্যে বয়স নির্ণয় করে জানা গেল যে ভার্নার কবরখানায় প্রাপ্ত অলংকারের বয়স খ্রিস্টপূর্ব ৪৫৬০ থেকে ৪৪৫০-এর মধ্যে। মিসরের পিরামিড তৈরি হওয়ারও দুই হাজার বছর আগে! পৃথিবীর মানুষ তখন মাত্র ধাতুর ব্যবহার শিখতে শুরু করেছিল। তাম্রযুগের শেষভাগে এমন সমৃদ্ধ হস্তনির্মিত অলংকার তৈরির নজির সত্যি বিস্ময়কর।

দুই পর্যায়ে ভার্নার প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের তত্ত্বাবধান করেছিলেন মিহাইল লাজারভ (১৯৭২-১৯৭৬) এবং ইভান ইভানভ (১৯৭২-১৯৯১) ভার্না নেক্রপলিসের সেই প্রাচীন সমাধিস্থলে ২৮ ধরনের তিন হাজারটি স্বর্ণের তৈরি দ্রব্য পাওয়া গিয়েছিল। যার মোট ওজন দাঁড়ায় সাড়ে ছয় কেজির মতো। তবে সবগুলো কবরে একই রকমের জিনিস ছিল না। একেক কবরে একেক রকমের দ্রব্য। হয়তো ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ অনুসারে সম্পদের বণ্টন হতো, জীবদ্দশায় যার বেশি সম্পদ, তার মৃত্যুর সময় বেশি সম্পদ সঙ্গে দিয়ে কবর দেয়া হতো। কোনো কবরে একটা-দুটো পুঁতির মালা, কোনো কবরে একটি মাত্র ছুরি, আবার কোনো কবর স্বর্ণের অলংকারে পরিপূর্ণ।

এসব কবরের মধ্যে একটি কবর বিশিষ্ট বলে মনে করা হয়। ৪৩ নং কবর হিসেবে পরিচিত সমাধিটি ভার্না নিক্রপলিসের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত। এটি খনন করা হয় ১৯৭৪ সালে। এই কবরটি ৪০-৪৫ বছর বয়স্ক পুরুষের, যার আনুমানিক উচ্চতা ৫ ফুট ৬-৮ ইঞ্চি। এই একটি কবর থেকে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণের জিনিস পাওয়া যায়। যার ওজন দেড় কেজির মতো হবে। ভার্না মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ সূত্রে প্রাপ্ত এই কবরে প্রাপ্ত জিনিসের তালিকা এ রকম: The gold items include 10 large appliques, a high number of rings some which were on strings, two necklaces, an item believed to be a gold phallus, beads, golden decorations for a bow, a stone ax and a copper ax with gold decorations, a bow with gold applications. অনুমান করা হয় কবরস্থ ব্যক্তি গোত্রপ্রধান কিংবা রাজকীয় পদমর্যাদার কেউ। সে কারণেই কবরটি এত রত্নসম্ভারে সমৃদ্ধ।

কিছু কিছু কবরে কোনো মানুষের দেহাবশেষ কিংবা হাড়গোড় নেই। যেমন ৩৬ নং কবর। এই কবরটি সম্ভবত প্রতীকী। যার কবর তিনি হয়তো অন্য কোথাও মারা গিয়েছিল, দেহটা পাওয়া যায়নি। তবু তার কবরকে সম্মানিত করা হয়েছিল স্বর্ণের তৈরি নানান অলংকার ইত্যাদি দিয়ে। অথবা হতে পারে তিনি রাজরানী। তার কবরে প্রাপ্ত অলংকারপাতির ধরন দেখে মনে হয় তিনি একজন সম্ভ্রান্ত নারী ছিলেন। কিন্তু সেই নারী কিংবা রানীর দেহ কোথায় গেল সেটা রহস্যই থেকে গেছে। ৩৬ নং কবরে ৮৫০টি স্বর্ণের তৈরি অলংকার পাওয়া যায়। যার মধ্যে আছে কানের দুল, গলার মালা, মাথার টায়ারা, বেল্ট, স্বর্ণের হাতুড়িসহ আরো নানান ধরনের ছোট ছোট স্বর্ণনির্মিত বস্তু। এসব জিনিস একটি সোনালি লেসের কাপড়ে মোড়ানো ছিল। দেখেশুনে মনে হয়েছে এই কবরটি রাজকীয় শবশয্যা হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু শবটি কোথাও নেই। তবে প্রাচীনকালের এ ধরনের কবরকে সেনোটাফ (cenotaph) হিসেবেও দেখা হয়। পরকালীন উপহার হিসেবে কবরকে এমন মূল্যবান উপহার দিয়ে সজ্জিত করা হয়। এ রকম কবর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ভার্না নেক্রপলিসের ১, ৪ ও ৫ নম্বর সমাধিকে। 

কিছু কিছু কবর ছিল একেবারে মলিন চেহারার। কাদা মাখা মানুষের মুখশ্রী, যেখানে উপরের রাজকীয় জিনিসগুলো ছিল না। এদের কবরে কাদা নির্মিত কলসি, কাপ, সুই ইত্যাদি নগণ্য জিনিস আছে। কবরের জিনিসপত্র দেখে মনে হয় এরা দাস বা দরিদ্র শ্রেণীভুক্ত ছিল। 

খুব আশ্চর্যের বিষয় হলো যে সভ্যতার সময়কাল নির্ণয় করা হয়েছে, তাদের আর কোনো অস্তিত্ব নেই পরবর্তীকালে। ভার্না নিক্রপলিসে আবিষ্কৃত কঙ্কাল এবং সব বস্তুসামগ্রীর বয়স ৬২০০ থেকে ৬৫০০ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ওই পাঁচশ বছর সময়কালের পর সভ্যতাটা হঠাত্ করে যেন অস্তিত্বহীন হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মানব বসতির কোনো চিহ্নই নেই সেখানে। এর মানে সেখানে যে জাতির বসবাস ছিল তারা কোনো কারণে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল ওই সময়ের পর। একটা সম্পূর্ণ গোত্রের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার কারণ কী হতে পারে, সেটা নিয়ে নানান ধরনের অনুমান আছে। সেসব অনুমানের মধ্যে মহামারী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে প্রতিবেশী রাজ্যের পার্বত্য গোত্রের আক্রমণ পর্যন্ত সব রকমের সম্ভাবনা আছে। এর মাঝে কোনটা সঠিক বলা মুশকিল। 

প্রাচীন সভ্যতা বিষয়ে বিশ্বখ্যাত লিথুয়ানিয়ান-আমেরিকান গবেষক Marija Gimbutas সেই জাতির নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া সম্পর্কে বলেছেন, The discontinuity of the Varna, Karanovo, Vinca and Lengyel cultures in their main territories and the large scale population shifts to the north and northwest are indirect evidence of a catastrophe of such proportions that cannot be explained by possible climatic change, land exhaustion, or epidemics (for which there is no evidence in the second half of the 5th millennium B.C.). Direct evidence of the incursion of horse-riding warriors is found, not only in single burials of males under barrows, but in the emergence of a whole complex of Kurgan cultural traits.

কোনো সম্ভাবনাতেই নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই। তবে ইদানীং জলবায়ু পরিবর্তনকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি মাত্রায় দায়ী করা হয়। শত শত বছর ধরে অতিবৃষ্টি কিংবা পাহাড়ি ঢলের কারণে কৃষ্ণসাগরের উচ্চতা বেড়ে গেছে ২৫ ফুটের মতো। যেসব অঞ্চল থেকে স্বর্ণ আহরিত হতো তা হয়তো সমুদ্রের নিচে তলিয়ে গেছে। সে কারণে এখান থেকে সরে গিয়ে অন্য কোথাও বসতি গড়ে তুলেছিল প্রাচীন সেই জাতি বা গোত্রটি। কে জানে!

‘সোনালি অতীত’ কথাটি সবাই কথার কথা হিসেবে ব্যবহার করে। কিন্তু এ কেবল কথার কথা নয়। অজ্ঞাতনামা সেই প্রাচীন জাতি সম্পর্কে আর কোনো খোঁজখবর পাওয়া না গেলেও পৃথিবীর প্রাচীনতম স্বর্ণালংকার ব্যবহারকারী হিসেবে তাদের অবস্থান শীর্ষে অবস্থান করবে নিশ্চিতভাবে। ‘সোনালি অতীত’ কথাটি সেই জাতিটার জন্য আক্ষরিকভাবে প্রযোজ্য। 

তথ্যসূত্র:

1. Mystery of the Varna Gold: By Andrew Curry, SMITHSONIAN JOURNEYS QUARTERLY

APRIL 18, 2016

2. VARNA GOLD TREASURE AND VARNA CHALCOLITHIC NECROPOLIS – 

3. Varna Man and the Wealthiest Grave of the 5th Millennium BC- by April Holloway 


হারুন রশীদ: প্রাচীন সভ্যতা ও ইতিহাস অনুসন্ধানী লেখক