তিনি বিদ্রোহী

পাওলো কোয়েলহো সেই শিশু ছিলেন না, যিনি প্রচলিত নিয়ম-কানুনকে প্রশ্ন বা বিরোধিতা ছাড়াই বিনা বাক্যে মেনে নেন। তিনি সবসময়ই প্রচলিত গণ্ডির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। দুনিয়া সম্পর্কে সবসময়ই তার নিজস্ব ভাবনা রয়েছে, যা সাধারণত মানুষের বোধগম্য নয়।

মা-বাবা তাকে প্রকৌশল পড়তে বলেছিলেন, কিন্তু তিনি বলেছিলেন যে, তিনি লেখক হতে চান। তার পরও তিনি কলেজে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছিলেন, কিন্তু নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে শিগরিই তিনি কলেজ ছাড়েন।

পাওলো কোয়েলহো বিভিন্ন বিষয়ে তার মা-বাবা ও সমাজের সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। দুনিয়া নিয়ে তার নিজের ভাবনা ছিল এবং তিনি সেগুলো বাস্তবে করে দেখিয়েছেন।

 

তাকে পাগল বিবেচনা করা হতো

বিদ্রোহী আচরণের কারণে পাওলো কোয়েলহোকে পাগল, উন্মাদ ভাবা হতো। সাধারণ অনেক প্রচলিত ধারণার বিরোধিতা করায় তার মা-বাবার ধারণা হয়েছিল, পাওলোর মানসিক সমস্যা আছে এবং এজন্য তারা তাকে মানসিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি করিয়েছিলেন। সেখান থেকে মুক্তি পাওয়ার আগে তিনি তিনবার পালাতে চেষ্টা করেছিলেন। এসব দেখে তার মা-বাবার ধারণা হয়েছিল যে, তাদের পুত্র সংশোধনের অযোগ্য। তাই তারা তাকে তার ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেন। এমনকি তারা এটাও বলেছিলেন যে, ‘তুমি তোমার এই অদ্ভুত পাগলামি ভরা আচরণের কারণে ঠিকভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে না।’

 

দুনিয়াজুড়ে ভ্রমণ

কলেজ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আনন্দ আর সত্যের খোঁজে পাওলো দুনিয়া ভ্রমণে বের হন। এ সময় তিনি হিপ্পিদের জীবনযাত্রার ধরনকে আপন করে নেন— টাকা ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ানো।

নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, নতুন কিছু শেখা। নিজেকে আবিষ্কারের রোমাঞ্চকর ও আধ্যাত্মিক যাত্রা।

১৯৮৬ সালে কোয়েলহো স্পেনের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে স্যান্তিয়াগো দে কমপোসতেলায় ৫০০ মাইল হেঁটেছিলেন। এটা ছিল তার জীবনের একটি সন্ধিক্ষণ। পথে পাওলো কোয়েলহোর মধ্যে এক আধ্যাত্মিক উন্মেষ ঘটে, যা তিনি তার আত্মজীবনীর মতো লেখা ‘পিলগ্রিমেজ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

 

তিনি ঝুঁকি নিয়েছেন

ঝুঁকি নিলে আমরা এমন সব জিনিস দেখতে পাই, যা নিরাপদ জীবনে বসে দেখা সম্ভব নয়। ঝুঁকি আমাদের মধ্যে থাকা সেরা জিনিসটা বের করে আনে।

পাওলো কোয়েলহো ঝুঁকি নেয়ার আগে কখানো দুবার ভাবেননি। সত্যি বলতে ঝুঁকি তার জীবনধারণের পদ্ধতি। কলেজ ছেড়ে দেয়া থেকে কপর্দকহীন অবস্থায় দুনিয়া চষে বেড়ানোর ঘটনা তার সাহস ও ঝুঁকি নেয়ার মানসিকতাকে প্রকাশ করে।

এমনকি তিনি সফল গীতিকার ক্যারিয়ার ছেড়ে দিয়েছেন সার্বক্ষণিক লেখালেখি করায় মনোযোগ দেয়ার জন্য।

 

তিনি বিশ্বাসী

জীবনে যে মৌলিক বিষয়টি থাকা দরকার, সেটা হলো আমাদের নিজের এবং নিয়তির ওপর ভরসা ও বিশ্বাস। বিশ্বাস করা জীবনের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্বাস আমাদের মধ্যে ইতিবাচক অনুভূতি এবং জীবনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়।

পাওলো কোয়েলহো একজন মহান বিশ্বাসী। তিনি সবসময় নিয়তিতে বিশ্বাস রাখেন। তিনি ভাগ্যে বিশ্বাস রাখেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, আপনি যখন কিছু চাইবেন, তখন পুরো দুনিয়া আপনাকে সে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।

 

 

 লেখাটি পাওলো কোয়েলহোর ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত