আমার পিতামাতা... তারা এতটাই একগুঁয়ে ছিলেন যে, আমি লেখক হতে চেয়েছিলাম বলে তারা আমাকে তিনবার একটি মানসিক ইনস্টিটিউটে আটকে রেখেছিলেন। এ অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ৩৫ বছর পর আমি একটি বই লিখেছিলাম (ভেরোনিকা ডিসাইডস টু ডাই)।
যে বাড়িতে বেড়ে উঠেছি... এখন আর নেই, কিন্তু আমার শৈশব কখনো হারিয়ে যাবে না।
শৈশবে যা হতে চেয়েছি... ক্যামেরাম্যান
অন্যরা জানে না, কিন্তু যা আমি ভালোভাবে করতে পারি... তীর ছোড়া। তীর ছোড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে টান টান উত্তেজনা থাকে আর কয়েক সেকেন্ড পরই মন শিথিল হয়ে যায়। এই পুরো পরিস্থিতিই দুনিয়ার সঙ্গে আমার যোগাযোগ স্থাপনের পদ্ধতি।
সবাই জানে না, কিন্তু আমি আরো যা ভালো পারি... গান গাইতে পারি। আমার আশপাশে কোনো গিটার থাকলে আমি অবশ্যই গান শুরু করে দিই। আমার প্রকৃত বন্ধুরা সেই গান সহ্য করে।
রাতে যে স্বপ্ন দেখি... আমি আমার ব্লগ, টুইটার আর ফেসবুকে পোস্ট দিতে যাচ্ছি।
যে পোশাক পরেছি, কিন্তু কখনো পরতে চাই না... একটা পুরনো হিপ্পি জ্যাকেট। জ্যাকেটে তাপ্পি আর ধাতব স্টার লাগানো ছিল।
আয়নায় তাকালে যা দেখি... দেখি আমার ঘরের টিউবলাইট বদলাতে হবে কারণ লাইটের আলোর ঔজ্জ্বল্য কমে গেছে। (দুই বছর ধরে লাইটটি জ্বলছে)
পছন্দের পোশাক... জাপানি কিমোনো
ব্যাপারটা ফ্যাশনেবল নয়, কিন্তু আমি পছন্দ করি... নগ্ন হয়ে ঘুমাতে।
পছন্দের শিল্পকর্ম... ভ্যান আইকের দ্য অরনলফিনি পোর্ট্রেট, আমার মতে এটা দুনিয়ার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ চিত্রকর্ম। যথাযথ সম্মান রেখেই বলছি মোনালিসা অতিমূল্যায়িত শিল্পকর্ম।
আমার পছন্দের স্থাপত্য... ফ্রান্সের চার্টরেজ ক্যাথেড্রাল। রঙিন কাচের জানালা আর গোলকধাঁধা আমাকে জীবন থেকে মৃত্যুর যাত্রাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
যে বই আমাকে বদলে দিয়েছে... হেনরি মিলারের ‘ট্রপিক অব ক্যান্সার’। এই বই পড়তে গিয়ে আবিষ্কার করি প্রতিটি পাতা লেখার জন্য আপনাকে রক্ত খরচ করতে হয়।
পছন্দের সিনেমা... ‘ওয়ানস আপন আ টাইম ইন দ্য ওয়েস্ট’ এবং ‘লরেন্স অব অ্যারাবিয়া’।
শেষ কেনা মিউজিক অ্যালবাম... বিটলসের সার্জেন্ট পেপের’স লোনলি হার্টস ক্লাব ব্যান্ড। এটা আমার আইপডে ছিল না।
সবচেয়ে বড় আফসোস... কোনো আফসোস নেই। আমি যা করতে চেয়েছি, তার সবই করেছি, এমনকি যদি আমাকে তার জন্য অনেক উচ্চমূল্য পরিশোধ করতে হয় তাহলেও এবং আমার বেশির ভাগ কাজের ক্ষেত্রে এমনটাই হয়েছে।
গোপন প্রেম... অদ্রে হেপবার্ন
বাস্তব জীবনে আমার শত্রু... মৌলবাদীরা এবং আপনি দুনিয়ার সব ধর্মেই এদের খুঁজে পাবেন।
শেষবার কেঁদেছি... আমি অল্পতেই কেঁদে ফেলি। সিনেমা, ফোনের কথোপকথন, সূর্যাস্তের দৃশ্য— এ রকম কিছুতেই আমি কেঁদে ফেলি। চোখের পানি হচ্ছে শব্দ যা লেখার অপেক্ষায়।
আগামী ৫ বছরের পরিকল্পনা... শ্বাস-প্রশ্বাস অব্যাহত রাখা।
ছয় শব্দে আমার জীবন... পবিত্র, তীর্থযাত্রী, তীরন্দাজ, লেখক, ইন্টারনেট নেশাগ্রস্ত।
পাওলো কোয়েলহোর এই একান্ত কথামালা প্রকাশিত হয়েছিল ২০১২ সালে






