বিখ্যাত নর্তকী, কথিত গুপ্তচর মাতা হারিকে নিয়ে লেখা পাওলো কোয়েলহোর উপন্যাস ‘দ্য স্পাই’ প্রকাশিত হয় গত বছরের অক্টোবরে। উপন্যাসটি প্রকাশের মাসখানেক পর দ্য সানডে টাইমস পত্রিকাকে উপন্যাসটি লেখার প্রেক্ষাপট এবং মাতা হারি সম্পর্কে তার মূল্যায়ন নিয়ে একটি সাক্ষাত্কার দেন লেখক। পাওলো কোয়েলহোর সেই সাক্ষাত্কারের অনুবাদ—

আপনার নতুন উপন্যাসের জন্য মাতা হারিকে কেন বেছে নিলেন?

মাতা হারি ছিলেন হিপ্পি প্রজন্মের একজন আইকন— বাজে মেয়ে, ভিন্ন, অদ্ভুত, ফ্যান্সি পোশাক— আমরা সবাই তাকে নিয়ে কম-বেশি মুগ্ধ। একদিন আমার আইনজীবীর সঙ্গে রাতের খাবার খাচ্ছিলাম। কথায় কথায় তিনি জানালেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড হয়েছে এমন অনেকেই ছিলেন নির্দোষ। এ ধরনের কিছু ঘটনারও বর্ণনা দিলেন। তিনি আরো জানালেন এসব ঘটনা মাত্র প্রকাশ হতে শুরু করেছে, কারণ যুদ্ধকালীন গোপন দলিলপত্র উন্মুক্ত করা হচ্ছে। মাতা হারি এই নির্দোষদের একজন। মাতা হারিকে নিয়ে আগে থেকেই আমার আগ্রহ ছিল, তাই দ্রুত তাকে নিয়ে কিছু গবেষণা করে ফেললাম। পরের দিন আমি কিছু বই কিনলাম। ছুটির দিনগুলোয় মাতা হারিকে নিয়ে বিশদ পড়াশোনা শুরু করি। তখনো জানতাম না যে, আমি আসলে মাতাকে নিয়ে একটি বই লেখার জন্য গবেষণা করছি। তার পর একদিন নিজেকে মাতা হারির জায়গায় কল্পনা করতে থাকলাম, তখনই আসলে এই বই লেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

 

মাতা হারির জীবন ও সে সময় নিয়ে কীভাবে গবেষণা করলেন? তার জীবনে সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক কোনটি মনে হয়েছে?

সবচেয়ে বিস্ময়কর হচ্ছে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত নিগৃহীত হওয়া এক তরুণীর ঘুরে দাঁড়ানো। মাতা হারি ২০ বছর পর্যন্ত নানা নিগ্রহ সহ্য করে ঘুরে দাঁড়ান এবং আমরা আজ তাকে যেভাবে চিনি, সে পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হন। সে সময়ে প্যারিসে ‘সবকিছুই সম্ভব’ ছিল। আমি এটা নিয়ে কৌতূহলী হয়ে পড়ি। আমি বইটিকে তার মূল চরিত্রে কেন্দ্রীভূত করতে চেষ্টা করি। লেখকদের স্বভাব হলো বেশি বেশি বর্ণনা করা। আমি মাতা হারির সময় সম্পর্কে একটা ধারণা দিতে চেয়েছি। একই সঙ্গে পাঠক যাতে তথ্যের ভারে ভারাক্রান্ত বোধ না করেন, সেটাও চেষ্টা করেছি।

 

আপনি কি উপন্যাসের কোনো কোনো অংশে ঐতিহাসিক তথ্য থেকে দূরে সরেছেন? কেন?

আমার বইয়ে ব্যবহার করা তথ্যগুলো সঠিক ও ঐতিহাসিক। ইতিহাসের বর্ণনাও সঠিক। কিন্তু আমি আরেকজনের মনে নিজেকে প্রবেশ করিয়েছি। আমার বিশ্বাস মাতা হারি যেভাবে ভাবতেন, আমি অনেকটা সেভাবেই চিন্তা করতে পেরেছি। মাস দুয়েক আগে নেদারল্যান্ডসের একটি জাদুঘরে মাতা হারির কয়েকটি চিঠি উন্মুক্ত করা হয়েছে। এক পাঠক বলে বসেছেন, ব্যাপারটা এমন যে মনে হচ্ছে, আমি মাতা হারির সঙ্গে কোনোভাবে যোগাযোগ করতে পেরেছি।

 

নিজেকে মাতা হারির চরিত্রে বসিয়ে লিখতে কেমন লেগেছে?

আমি যখন তার সম্পর্কে পড়ছিলাম, তখন দিন-রাত তিনি আমার সঙ্গী হয়ে গিয়েছিলেন। আমি বুঝতে শুরু করেছিলাম, তিনি কীভাবে মাতা হারি হয়ে উঠেছিলেন এবং কীভাবে তার চরিত্রকে গড়ে তুলেছিলেন।

 

এই জটিল চরিত্রের নারীর কাছ থেকে আমরা কী শিখতে পারি?

১. সব স্বপ্নের একটা মূল্য আছে। ২. যখন আপনি ভিন্ন কিছু করবেন, তখন আক্রমণের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত থাকতে হবে। ৩. প্রতিকূল (পুরুষতান্ত্রিক) পরিবেশেও আপনি বিপক্ষকে বোকা বানানোর রাস্তা খুঁজে পাবেন।

 

আপনি কি তার জীবনের কোনো ভিন্ন পরিণতি কল্পনা করতে পারেন?

তিনি তার লক্ষ্যকে অর্জন করেছিলেন। এবং এটাই দুনিয়া গণ্য করে।