বাপ-দাদার
গড়া সাম্রাজ্যের
উত্তরাধিকার পেতে
দৃঢ় চরিত্র
জরুরি নয়।
কিন্তু নিজের
যোগ্যতায় নিজেকে
বড় করতে
হলে সেটা
প্রয়োজন হয়।
একটি সাম্রাজ্য
গড়ে তুলতে
বা বহু
অভিযানে বিজয়ী
ব্যক্তিদের মধ্যে
নানা গুণ
দেখা যায়।
সঠিক সময়ে
সঠিক সিদ্ধান্ত
নেয়া, যুদ্ধনীতি
ও অস্ত্র
সম্পর্কে জ্ঞান,
ভবিষ্যৎ সংকট
ও সম্ভাবনা
সম্পর্কে দূরদৃষ্টি
একজন দক্ষ
শাসক ও
বিজেতার থাকা
প্রয়োজন। পারস্যের
নাদের শাহর
মধ্যে এগুলোর
সবই ছিল।
পাশপাশি একজন
সমর নেতা
ও গোত্রপতির
ক্রোধ, প্রতিহিংসা,
প্রতিশোধপরায়ণতাও কম
ছিল না।
সব মিলিয়ে
নাদের শাহ
হয়ে উঠেছিলেন
একটি বর্ণময়
চরিত্র। অবশ্য
নাদের শাহর
চরিত্রের নানামুখী
দিক নিয়ে
আলোচনা তুলনামূলক
কমই হয়।
বারবার ঘুরেফিরে
আসে তার
অভিযান, লুণ্ঠন
ও ধ্বংসের
কথা।
নাদেরের চরিত্র
নিয়ে কথা
বলার আগে
তার বাহ্যিক
রূপের দিকে
খানিকটা নজর
দেয়া যায়।
ফ্রেজারের লেখা
থেকে নাদেরের
যে বর্ণনা
পাওয়া যায়
সেখানে তাকে
লম্বা দৈহিক
গড়ন ও
সুদর্শন বলা
হয়েছে। তারুণ্যে
নাদের শাহ
পেশিশক্তি ও
দ্যুতির অধিকারী
ছিলেন। নাদেরের
পছন্দ ছিল
অদ্ভুত। মির্জা
মাহাদির মতে,
জীবনে নাদেরের
কেবল দুটো
শখ ছিল—হেরাতের
তরমুজ ও
একটি তেজী
ঘোড়া। পোশাকের
কোনো আড়ম্বর
ছিল না,
তবে রত্নপাথরের
প্রতি নাদেরের
ভালো লাগা
ছিল। ভারত
অভিযানের পর
সেটা পূর্ণ
করা সম্ভব
হয়েছিল। নাদেরের
হারেম সম্পর্কে
নানা কথা
প্রচলিত। এসব
গল্প ও
কানকথা তাকে
নারীলোলুপ হিসেবে
উপস্থাপন করার
উদ্দেশে প্রচারিত।
হ্যানওয়ে এসব
গুজব অস্বীকার
করেছেন। নাদেরের
শেষ জীবনে
তার হারেমে
৩৩ জন
নারী (দাসী
বাদে) ছিলেন।
যুদ্ধবাজ এ
পারসিক রসিকও
ছিলেন। আব্দুল
কালাম কাশ্মীরি
নাদের শাহর
রসিকতার একটি
গল্প জানান।
তাহমাস্প খান
জালাইর নামে
তার এক
কর্মচারী ছিলেন।
লোকটি ছিল
খাটো, কৃষ্ণবর্ণের।
সাহসের কমতি
ছিল না
কোনো। একটি
বুনো শূকর
তাকে আক্রমণ
করেছিল। মরতে
মরতে বেঁচে
যান তিনি।
নাদেরের কাছে
খবর পৌঁছলে
তিনি বলেন,
‘ছোট
ভাই একটু
বড় ভাইয়ের
সঙ্গে মজা
করতে গিয়েছিল,
তবে একটু
বেশিই খারাপ
ব্যবহার করে
ফেলেছে।’ অন্যদিকে
নাদের যখন
ভারত অভিযানের
দিকে এগোচ্ছিলেন,
তার এক
সেনাপতি কামরুদ্দীন
খানের হারেমে
তখন ৮৫০
জন নারী
ছিলেন। নাদের
সেখানে আরো
১৫০ জনকে
যুক্ত করার
হুকুম দেন,
যেন কামরুদ্দীনকে
‘এক
হাজার ব্যক্তিগত
সৈন্যের দলপতি’
বলা যায়।
নাদের শাহ
তার তারুণ্যে
সুস্থ সবল
ছিলেন। কিন্তু
বয়স বৃদ্ধি
ও ক্রমাগত
অভিযানের কারণে
তার শরীর
ভেঙে পড়তে
থাকে। তিনি
নানা সময়ে
হজমের সমস্যায়
ভুগতেন। বয়সের
কারণে পেষক
দাঁত পড়ে
যাওয়া, এ
সমস্যার পেছনে
কাজ করেছে
বলেও অনেকে
মনে করেন।
ক্রোধ নাদেরের
সহজাত একটি
প্রবৃত্তি ছিল।
এ কারণে
তার শারীরিক
ক্ষতি হতে
শুরু করে।
নাদের তার
দেশীয় চিকিৎসকের
দ্বারা উপকার
না পেয়ে
ভারতীয় চিকিৎসক
নিয়োগ করেন।
আলাভী খান
নামের এ
চিকিৎসক নাদেরকে
সুশৃঙ্খল ও
নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের
পরামর্শ দিয়েছিলেন।
নাদের শাহ
সে পরামর্শ
অনুসারে জীবন
যাপন করতেন
এবং উপকৃত
হয়েছিলেন।
নাদেরের ওপর
আলাভী খানের
প্রভাব থেকে
নাদেরের চরিত্রের
দুটো দিক
বোঝা যায়।
প্রথমত, তিনি
গুণীর কদর
করতেন। দ্বিতীয়ত,
তিনি শুভবুদ্ধির
প্রতি সম্মান
প্রদর্শন করতেন।
আলাভী খানের
অন্যতম একটি
দর্শন ছিল
ক্রোধ পরিত্যাগ
করা। আলাভীর
চিকিৎসাধীন থাকা
অবস্থায় নাদের
রীতিমতো কম
সহিংস আচরণ
করতেন। তিনি
এ সময়ে
মারাত্মক কোনো
অপরাধ ছাড়া
কাউকে হত্যাদেশ
দেননি। নাদের
শাহ সময়
নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ
করে কোনো
দণ্ড দিতেন।
এমনকি মাজেন্দ্রানে
তার ওপর
হামলা হলেও
তিনি ক্রোধের
বশে কোনো
আদেশ না
দিয়ে বিষয়টি
উপযুক্ত তদন্ত
হওয়া পর্যন্ত
অপেক্ষা করে
দণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন।
নাদের শাহ
যুক্তিবাদী ছিলেন,
বিচার-বিশ্লেষণ
করতেন। কিন্তু
জনপ্রিয় ধারায়
তাকে কেবল
লুটেরা বলেই
বেশি পরিচয়
করানো হয়।
এর মধ্যে
দিল্লি অভিযান
সবচেয়ে বড়
কারণ। কিন্তু
লুটেরা পরিচিতির
আড়ালে থেকে
গেছে তার
সামরিক দক্ষতার
কথা।
নাদেরের জীবন
ও কর্ম
বিশ্লেষণ করে
বলা যায়,
তিনি একজন
দক্ষ সামরিক
ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
সমরনীতি, সৈন্য
চালনায় নাদের
শাহর দক্ষতা
প্রশ্নাতীত। সাফাভি
শাসনের পতনের
২০ বছরের
মধ্যে পারস্যকে
পুনরায় সংগঠিত
করা এবং
মধ্য এশিয়ায়
নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
করা তার
সামরিক দক্ষতার
কারণেই সম্ভব
হয়েছিল। নাদের
শাহর অভিযানের
একটি অন্যতম
কৌশল ছিল
দ্রুত পদাতিক
সৈন্য চালনা।
সম্মুখ সমরের
জন্য নাদের
তার সৈন্যদের
উপযুক্তভাবে গড়ে
তুলেছিলেন। এটি
সম্ভব হয়েছিল
নাদেরের নেতৃত্বের
কারণে। তিনি
ছিলেন তার
বৃহৎ দলের
অবিসংবাদিত নেতা।
বড় মাপের
বিজয়ী বা
সম্রাটদের ক্ষেত্রে
একটি কথা
বলা হয়,
তার জন্মই
হয়েছিল শাসন
করার জন্য।
এ ধরনের
নেতারা সাধারণত
জীবনের শুরুর
পর্যায় থেকেই
নেতা হিসেবে
দক্ষতা প্রদর্শন
করেন। ইতিহাস
বিশ্লেষকরা নাদের
শাহর চরিত্রে
নেতৃত্বের সেই
সহজাত গুণটি
দেখেছেন। তিনি
কেবল সমরনীতিই
জানতেন না,
মানুষকে প্রভাবিত
ও চালিত
করার ক্ষেত্রেও
ছিলেন দক্ষ।
তিনি ছিলেন
একজন সংগঠক।
নাদেরের চরিত্রে
মানুষকে বোঝার
মনোভাব ছিল।
তিনি তত্কালীন
ইরানের অবস্থা
পর্যবেক্ষণ করে
সে অনুসারে
নিজের বাহিনী
তৈরির চেষ্টা
করেছেন। তার
সেনাবাহিনীতে তিনি
আফগান ও
উজবেক সৈন্য
যুক্ত করার
পাশাপাশি তাদের
উচ্চপদ প্রদান
করেছিলেন। এতে
আফগান-উজবেক
সমর্থন ও
সহযোগিতা লাভ
করেছিলেন নাদের
শাহ।
এসব সৈন্যর
ওপর নির্দেশ
দেয়া ও
তাদের কাজে
বাধ্য করতে
পারতেন নাদের
শাহ। তার
সমসাময়িকদের দেয়া
তথ্য অনুসারে
নাদেরের ভরাট
ও উচ্চকণ্ঠস্বর
আদেশ দেয়ার
ক্ষেত্রে কার্যকর
ভূমিকা পালন
করত। নেতৃত্বের
এ গুণের
পাশাপাশি নাদের
শাহর স্মরণশক্তি
ছিল প্রখর।
একজন নেতার
জন্য এটি
বিশেষ গুণ।
ককেলের বয়ানে
ফ্রেজার জানাচ্ছেন,
‘নাদের
শাহ তার
বিশাল বাহিনীর
অসংখ্য দলনেতার
নাম মনে
রাখতে পারতেন
এবং তাদের
নাম ধরে
ডাকতেন। তার
বাহিনীতে গুপ্তচর,
তার ব্যক্তিগত
ও বিশেষ
কাজ নির্বাহ
করা কর্মীদের
নাম মনে
রাখার পাশাপাশি
কাকে কেন
শাস্তি দিয়েছিলেন
বা পুরস্কৃত
করেছিলেন তা
অনুপুঙ্খুভাবে মনে
রাখার মতো
স্মরণশক্তি ছিল
নাদের শাহর।’
সামরিক ক্ষেত্রে
নাদেরের সফলতার
কারণ তার
বিশেষ গোলন্দাজ
বাহিনী গড়ে
তোলা। পূর্বসূরিদের
তুলনায় তিনি
একটি কার্যকর
গোলন্দাজ বাহিনী
গঠনে গুরুত্ব
দিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে
নাদের সমসাময়িক
পৃথিবীর সমর
বিষয়ে খেঁজখবর
রাখতেন। কেননা
তিনি গোলন্দাজ
বাহিনী গঠনে
ফরাসি সামরিক
অধিকর্তাদের সহায়তা
নিয়েছিলেন। এছাড়া
প্রতিটি অভিযানের
আগে নাদের
শাহ অভিযানের
নানা দিক
সম্পর্কে পরীক্ষা-নিরীক্ষা
করতেন। প্রতিটি
বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে
বিশ্লেষণ না
করে তিনি
কোনো সামরিক
পরিকল্পনা বা
অভিযান শুরু
করতেন না।
এ বিষয়গুলো
নাদের শাহ
সময়ের সঙ্গে
সঙ্গে জীবন
থেকে শিখেছিলেন।
ওসমান পাশার
বিপক্ষে প্রথম
অভিযানে হেরেছিলেন
তিনি। কেননা
সে সময়
খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে
অভিযানের পরিকল্পনা
করেননি নাদের
শাহ।
অনেক ক্ষেত্রেই
সমরনায়করা রাষ্ট্রনায়ক
হয়ে উঠতে
পারেন না।
নাদেরও মূলত
একজন যোদ্ধা
ছিলেন। জনতা
বা রাষ্ট্রের
জন্য কাজ
করার বিষয়টি
নাদের শাহর
মধ্যে পুরোপুরি
কাজ করেনি।
তবে সীমানা
প্রতিরক্ষায় তিনি
ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
এটি সম্ভব
হয়েছে সময়ের
অভিজ্ঞতা থেকে
শিক্ষা গ্রহণ
করে চলার
গুণের কারণে।
তিনি প্রথমত,
একনায়কতান্ত্রিক শাসন
কায়েম করেছিলেন
পুরো ইরানে।
কিন্তু পররাষ্ট্র
নীতিতে মনোযোগ
দিয়েছিলেন। প্রথমে
তিনি তার
পূর্বসূরি সাফাভিদের
মতো উত্তর-পূর্ব
সীমান্ত রক্ষায়
ব্যবস্থা নেন।
তুর্কমান ও
উজবেকদের কাছ
থেকে এ
অংশ রক্ষা
করা অন্যতম
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
ছিল। এ
নীতি ইরানকে
কুর্দি ও
বখতিয়ারী গোত্রগুলোর
মারমুখী আক্রমণ
থেকেও ইরানকে
নিরাপদ রাখে।
অর্থাৎ নাদের
প্রথমেই দেশের
নিরাপত্তায় নজর
দিয়েছিলেন, যা
একজন রাষ্ট্রপ্রধানের
অন্যতম যোগ্যতা
হিসেবে বিবেচিত।
নাদেরের পুরোটাই যে ভালো বা ইতিবাচক ছিল এমন নয়। শিয়াদের প্রতি তার মনোভাব ছিল বিরূপ। অন্যদিকে কর বাড়িয়ে দেয়ার কারণে দেশের জনতার সিংহভাগের কাছে তিনি অপছন্দনীয় হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ইরানের জনগণের উন্নতির জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ করেননি। শাসনের শুরুর দিকে কর বাড়িয়ে দিলেও দিল্লি অভিযান থেকে প্রাপ্ত সম্পদের মাধ্যমে করের বোঝা কমানো সম্ভব ছিল। কিন্তু নাদের তা না করে কর আরো বাড়িয়ে দেন। বিশেষত ব্যবসায়ীদের কর এত বাড়ানো হয়েছিল যে তার পরিমাণ ছিল ব্যবসায়ীদের সামর্থ্যের বাইরে। কিন্তু লুট করা সম্পদ কাজে লাগিয়ে কৃষি ও ব্যবসার উন্নতি করলে তা শাসন ও রাষ্ট্রের জন্যই ভালো হতো। নাদের এ সময় বুঝতে পারেননি যে তিনি মূলত সোনার ডিম পাড়া হাঁসকে নিজ হাতে জবাই করছেন।
নাদেরের শাসক
চরিত্রের আরেকটি
বৈশিষ্ট্য বা
উল্লেখযোগ্য দিক
হলো তিনি
নিজের শাসন
সাফাভিদের প্রভাব
থেকে দূরে
রাখতে চাইতেন।
এ কারণে
ইসফাহানের বদলে
তিনি মাশাদে
রাজধানী স্থাপন
করেন। নাদেরের
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ
সিদ্ধান্ত ছিল
শাহজাদাদের বিষয়ে।
সাফাভিদের শসনামলে
শাহজাদাদের কোনো
রাজ্য বা
অঞ্চলে শাসনাধিকার
দেয়ার আগ
পর্যন্ত তাদের
অন্দরমহলে রাখা
হতো। নাদের
এ নিয়ম
বাতিল করে
তার পুত্রদের
অল্প বয়সেই
সেনাবাহিনীর নানা
পদে অধিষ্ঠিত
করেন। তিনি
তার পুত্রদের
এবং রাজপরিবারের
পুরুষদের অল্প
বয়স থেকে
যুদ্ধ ও
শাসনের নানা
বিষয়ে যুক্ত
করার পক্ষে
ছিলেন।
নাদের শাহর
শাসনামলে তার
বিরুদ্ধে অভিযোগ
উঠেছিল, তিনি
ইরানের সংস্কৃতি
বদলাতে চান।
তুর্কিদের পোশাক
প্রবর্তন করবেন
এমন অভিযোগ
থাকলেও এসব
ছিল মূলত
গুজব। তবে
তিনি শিয়াদের
প্রতি বিরূপ
ছিলেন। নিজে
জন্মগতভাবে সুন্নি
হলেও তার
চরিত্র ও
কাজে ধর্মের
প্রভাব ততটা
দেখা যায়
না। বাজিন
লিখেছেন, ‘তিনি
কোন ধর্মের
অনুসারী ছিলেন
তা বলা
মুশকিল। তাকে
সবচেয়ে ভালো
জানে বলে
তারা দাবি
করা কয়েকজন
জানিয়েছেন, তিনি
(নাদের) কোনো
ধর্মে বিশ্বাসী
ছিলেন না।’
নাদের শাহ
একজন যোদ্ধা
হিসেবে নিজেকে
ভাবতে ও
প্রকাশ করতে
পছন্দ করতেন।
সেখানে ধর্ম
তার জন্য
একটি গৌণ
বিষয়ই ছিল।
কিন্তু তিনি
আবার ভিন্ন
ধর্মের প্রতি
সহানুভূতিও দেখিয়েছেন।
নাদের শাহ
তার শাসনাধীনে
থাকা খ্রিস্টানদের
প্রতি উদারতা
দেখিয়েছেন। আর্মেনিয়ান
ক্যাথলিকস আব্রাহামের
মাধ্যমে তার
উদারতার দৃষ্টান্ত
পাওয়া যায়।
মোগল ভারতে
আকবরের সময়
থেকেই খ্রিস্টানরা
নানা সুযোগ-সুবিধা
পেয়েছে। নাদের
শাহ সে
রকম ধারাতেই
খ্রিস্টানদের পৃষ্ঠপোষকতা
করেন। নাদের
শাহ ইরানে
মিশনারিদের কাজ
করার সুযোগ
দিয়েছিলেন। তাদের
অনেকেই ইসফাহান
এবং অন্যরা
গিলানে খ্রিস্টধর্ম
প্রচার করেছেন।
ইরানের রাজদরবার
থেকে মিশনারিদের
নিয়মিত অনুদান
দেয়া হতো।
জীবনের শেষ
সময় নাদের
শাহ পিয়ের
বাজিনকে নিজের
চিকিৎসক নিযুক্ত
করেন। এছাড়া
জেসুইট মিশনারি
পিয়ের দেসভিগনেসের
তথ্য অনুসারে
জুলফায় ২২টি
আর্মেনিয়ান অর্থোডক্স
গির্জা ছিল।
কিছু ভুল
বোঝাবুঝি ও
ধর্মীয় উগ্রতা
থাকলেও মুসলিম,
খ্রিস্টান ও
ইহুদি ধর্মাবলম্বীরা
ইরানে সহাবস্থান
করত।
নাদের শাহ
শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা
করতে পারেননি
বা করেননি।
সময়টা এমন
ছিল যে
তখন কলমের
চেয়ে তলোয়ারের
প্রয়োজন ও
জনপ্রিয়তা ছিল
বেশি। তার
সময়ে মীর্জা
মাহাদি ও
শেখ হাজী
নামে দুজন
সাহিত্যিকের নাম
পাওয়া যায়।
নাদের নিজে
সাহিত্য বা
কবিতা খুব
একটা পছন্দ
করতেন না।
কেবল হাফিজের
প্রতি তার
ভালো লাগা
প্রকাশ পেয়েছে।
হাফিজকে তিনি
রীতিমতো সম্মান
করতেন। তবে
আশ্চর্যের বিষয়
হলো মাশাদের
লাইব্রেরিতে সবচেয়ে
বড় দুই
দাতার একজন
ছিলেন নাদের
শাহ। তিনি
এখানে প্রায়
৪০০ পাণ্ডুলিপি
প্রদান করেছেন।
এছাড়া তারিখ-ই-নাদেরি
লেখার ব্যাপারেও
নাদের শাহ
জোর দিয়েছিলেন।
তবে অবকাঠামো
নির্মাণে নাদের
শাহর আগ্রহ
দেখা গিয়েছে।
নতুন শামাখি,
নাদেরাবাদ, খিভাকাবাদ
নতুন করে
নির্মাণ করেছিলেন
তিনি। ক্বালাতে
তিনি বেশকিছু
দালান নির্মাণ
করেন, যার
মধ্যে তার
কোষাগার অন্যতম।
এটি ‘মকবরা-ই-নাদেরা’
নামে পরিচিত।
নাদের শাহ
সিরাজের উন্নতি
করতে চেয়েছিলেন,
কিন্তু তকী
খানের বিদ্রোহের
সময় এ
কাজ ব্যাহত
হতো। ইসফাহানের
দিকে কোনো
নজর দেননি
নাদের শাহ।
তবে কাঝভিনে
একটি প্রাসাদ
তৈরি করেছিলেন।
নাদেরের চরিত্রে
কিছুটা ‘নার্সিসিস্ট’
ভাব ছিল।
কেননা ভারতে
অভিযানকালে ভারতীয়
শিল্পীদের দিয়ে
তিনি নিজের
একাধিক পোর্ট্রেট
তৈরি করিয়েছেন।
মাহমুদুর রহমান: লেখক





