নাদের শাহকে
একবার জানানো
হলো বেহেশতে
কোনো যুদ্ধ
নেই। নাদের
বললেন, তাহলে
সেখানে আনন্দ
আসবে কেমন
করে?
রচনাটি অভিনব
আগরওয়ালের ‘নাদের
শাহ: দ্য
রাইডার হু
র্যাভেজড দিল্লি’-র
অনুসৃতি হলেও
এর সঙ্গে
অন্যান্য উৎস
থেকে প্রাপ্ত
তথ্য ও
বিতরণী সংযুক্ত
করা হয়েছে।
দিল্লি বহিরাগতদের
হাতে যত
আক্রমণ ও
লুণ্ঠনের শিকার
হয়েছে, সবকিছু
ছাপিয়ে বৃহত্তম
ক্ষত হয়ে
ইতিহাসে ঠাঁই
নিয়েছে ২৮৩
বছর আগেকার—১৭৩৯
সালের আক্রমণ
ও লুণ্ঠন,
যার নেতৃত্ব
দিয়েছেন পারস্যের
অধিপতি নাদের
শাহ। যদিও
আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর
পর ১৭০৭
সাল থেকেই
মোগল সাম্রাজ্যের
ক্ষয় শুরু
হয়ে গিয়েছিল,
নাদের শাহর
আক্রমণ, লুণ্ঠন
ও সাফল্য
সবাইকে দেখিয়ে
দিল কত
ঠুনকো দিল্লির
সম্রাটের নিরাপত্তা
আয়োজন।
নাদের শাহ
পারস্যের অধিপতি
হয়ে দ্রুত
নিজের অবস্থান
সংহত ও
শক্তিশালী করেছেন।
তার সাম্রাজ্যের
পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর
নিরাপত্তা নিশ্চিত
করতে তিনি
লড়াই করে
কান্দাহার দখল
করেন। কান্দাহার
বিজয় করতে
গিয়ে সৈন্য
ও গোলাবারুদের
পেছনে যে
বিপুল অংকের
অর্থ ব্যয়
হলো তাতে
তার পয়সা-কড়িতে
ভীষণ টান
পড়ল। অথচ
তার পরিকল্পনায়
আসন্ন লড়াই
তুর্কিদের বিরুদ্ধে।
কিন্তু নগদের
ঘাটতিতে পুনরায়
আক্রমণ করা
কঠিন হয়ে
পড়ল।
নাদের শাহর
অর্থ চাই।
তার সাম্রাজ্যের
বিস্তার চাই,
খ্যাতিও চাই।
তার এ
তিন চাহিদা
মেটানোর মতো
অত্যন্ত উপযুক্ত
ক্ষেত্র হচ্ছে
মোগল সাম্রাজ্য।
কিন্তু মোগল
রাজত্বে আক্রমণ
চালাতে অজুহাত
তো লাগবে।
নাদের শাহ
অজুহাত পেয়ে
গেলেন। যেসব
আফগান বিদ্রোহী
পারস্য সাম্রাজ্যের
পূর্বাঞ্চলে অস্থিতিশীলতা
ও অরাজকতা
সৃষ্টি করছে,
মোগল সম্রাট
মোহাম্মদ শাহ
তাদের শরণার্থী
হিসেবে আশ্রয়
ও প্রশ্রয়
দিচ্ছেন। এটি
আংশিক সত্য—নাদের
শাহর মুখোমুখি
হ্যাঁ বা
না স্পষ্টভাবে
বলার মানসিক
দৃঢ়তা সম্রাট
মোহাম্মদ শাহর
নেই, কখনো
ছিল না।
নাদের শাহ
প্রথমে দিল্লিতে
দুজন প্রতিনিধি
আলী মর্দান
খান ও
মোহাম্মদ আলী
খানকে পাঠিয়ে
তাদের মাধ্যমে
দিল্লির সম্রাটের
কাছে প্রতিবাদ
জানালেন, ভবিষ্যতে
তাদের আশ্রয়
না দেয়ার
অনুরোধ তারা
করলেন। কিন্তু
নাদের শাহ
কোনো সুনির্দিষ্ট
প্রতিশ্রুতি পেলেন
না। এটা
ছিল এড়িয়ে
যাওয়া জবাব।
এরপর নাদের
শাহ মুহাম্মদ
খান নামের
একজন তুর্কিকে
তার প্রতিনিধি
হিসেবে দিল্লিতে
পাঠালেন। তার
ওপর নির্দেশ
ছিল তিনি
যেন কোনো
ক্রমেই ৪০
দিনের বেশি
ভারতে অবস্থান
না করেন।
এবারো নাদের
শাহ কোনো
সুনির্দিষ্ট জবাব
পেলেন না,
বরং পারস্যের
অধিপতিকে কেমন
করে সম্বোধন
করতে হবে
এ নিয়ে
দিল্লির সম্রাটের
উপদেষ্টারা বেশ
ক’দিন
কাটিয়ে দিলেন
(ভারতীয় আমলাতন্ত্রের
সিদ্ধান্তহীনতার সংস্কৃতি
নিশ্চয়ই আরো
গভীরে প্রোথিত)
বরং যে
দুজন পার্সি
এ তুর্কি
দূতের বার্তা
নিয়ে যাওয়ার
জন্য তার
সফরসঙ্গী হয়েছিলেন
মোহাম্মদ শাহর
দুর্জনেরা তাদের
হত্যা করেন।
নাদের শাহ
দিল্লি অভিযানের
অজুহাত খুঁজছিলেন।
দিল্লিই এ
হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে
তার হাতে
একটি শক্তিশালী
ও যুক্তিসংগত
অজুহাত তুলে
দিল। সশস্ত্র
বাহিনী নিয়ে
নির্মমতার স্বাক্ষর
রেখে নাদের
শাহ কান্দাহার
থেকে যাত্রা
করলেন।
তার যাত্রাপথ
নিম্নরূপ:
কান্দাহারà
গজনিà কাবুলà
জালালাবাদà
জমরুদà পেশোয়ারà
আটকà ওয়াজিরাবাদà
লাহোরà শিরহিন্দà
আম্বালাà
আজিমাবাদà
কর্ণালà
দিল্লি।
কান্দাহার ছেড়ে
এসে নাদের
শাহ প্রথমে
দখল করলেন
গজনি, তারপর
কাবুল। তিনি
যখন বিজয়
অব্যাহত রাখছেন,
মোগলদের জানিয়ে
চলেছেন যে
সাম্রাজ্যে বিস্তারের
কোনো বাসনা
তার নেই।
এ আশ্বাসের
কথা জানিয়ে
তিনি দিল্লির
দরবারে আরো
একজন দূত
পাঠালেন। কিন্তু
এ দূতও
জালালাবাদে হত্যাকাণ্ডের
শিকার হন।
তবে এর
পেছনে দিল্লির
কোনো ভূমিকা
নাও থাকতে
পরে। জালালাবাদের
ওপর প্রতিশোধ
নিতে নাদের
শাহ এলাকাটি
তছনছ করে
ফেললেন, লুণ্ঠন
চালালেন। নাদের
শাহর অগ্রসরমাণ
সশস্ত্র বাহিনীর
হাতে কাবুলের
পতনের পর
মোগলদের সম্বিত
ফিরল, তারা
দেরিতে হলেও
বুঝতে পারল
নাদের শাহর
সাম্রাজ্য বিস্তার
না করার
প্রতিশ্রুতি আর
বিশ্বাস করা
যায় না।
নাদের শাহর
বিরুদ্ধে সাহায্যের
জন্য রাজপুত
রাজপুত্রকে অনুরোধ
জানানো হলে
তার কাছ
থেকে কোনো
সাড়া পাওয়া
যায়নি। সম্রাট
মোহাম্মদ শাহ
অযোধ্যার বোরহান-উল-মুলক
সাদাত খানকে
নিয়ে যুদ্ধ
পরিষদের বৈঠক
করলেন। সিদ্ধান্ত
হলো সম্রাট
মোহাম্মদ শাহর
নেতৃত্বে দিল্লির
এলিট বাহিনী
হরিয়ানার কর্ণাল
পর্যন্ত এগিয়ে
শত্রুর জন্য
ওঁৎ পেতে
থাকবে।
এর মধ্যে
পেশোয়ার ও
কাবুলের গভর্নর
নাসির খান
সৈন্য পাঠিয়ে
তাদের বাহিনীকে
জোরদার করার
জন্য সম্রাটের
কাছে আবেদন
জানান। মোগল
দরবার এ
আবেদনকে ফাঁদে
ফেলার কৌশল
বলে বিবেচনা
করল এবং
কোনো ধরনের
সহায়তা থেকে
বিরত থাকল।
নাদের শাহর
সঙ্গে যুদ্ধে
নাসির খানের
বাহিনী পরাস্ত
হলো; নাসির
খানকে বন্দি
করা হলো।
নাদের শাহ
কৌশলে খাইবার
গিরিপথ এড়িয়ে
বাজার উপত্যকা
দিয়ে সরাসরি
জমরুদ উপস্থিত
হলেন। এখান
থেকে পেশোয়ার
খুব সহজেই
দখল করে
নিলেন এবং
পেশোয়ার ও
সিন্ধু নদের
মধ্যবর্তী অঞ্চলে
ত্রাসের রাজত্ব
চালিয়ে তা
তছনছ করে
ফেললেন।
নাদের শাহর
বাহিনী লাহোরের
কাছাকাছি আসতেই
মোগল গভর্নর
জাকারিয়া খান
বাস্তবতা আমলে
নিয়ে যুদ্ধ
করে মরার
চেয়ে আত্মসমর্পণ
করে বেঁচে
থাকার সিন্ধান্ত
নিলেন। তিনি
দিল্লির সক্ষমতা
সম্পর্কে অবহিত
ছিলেন। সেখান
থেকে সৈন্য
ও রসদ
পাওয়ার কোনো
সম্ভাবনা তিনি
দেখেননি। তিনি
নাদের শাহর
কাছে কেবল
আত্মসমর্পণই করেননি,
২০ লাখ
রুপি এবং
বহু সংখ্যক
হাতি তাকে
উপহার দিলেন।
১৬ ফেব্রুয়ারি
১৭৩৯ নাদের
শাহ শিরহিন্দ
পৌঁছলেন। তার
সৈন্যরা পার্বত্য
অঞ্চল থেকে
সমতলে এসে
নামল এবং
যুদ্ধ করে
এগোতে থাকল।
আম্বালায় নাদের
শাহ তার
লুণ্ঠিত সামগ্রী
প্রাপ্ত অর্থ
ও হারেম
সুরক্ষিত করে
শাহাবাদের দিকে
যাত্রা করলেন।
এখান থেকে
কর্ণালের দূরত্ব
৫০ কিলোমিটার।
কর্ণালের যুদ্ধ
অযোদ্ধা
থেকে আহুত
সাদাত খান
তার ক্লান্ত
বাহিনী নিয়ে
কর্ণাল পৌঁছলেন
এবং সম্রাটকে
তার শ্রদ্ধা
জানাতে গেলেন।
এ সময়
তিনি খবর
পেলেন পারস্যের
বাহিনী তাদের
সঙ্গে আনা
রসদ ও
অন্যান্য সামগ্রী
লুট করতে
শুরু করেছে।
নিজেদের ‘ব্যানোজ’
উদ্ধার করতে
তিনি ছুটে
এলেন। এটা
স্পষ্ট তার
বাহিনীর কোনো
পরিকল্পনা ও
কৌশল ছিল
না। নাদের
শাহর সৈন্যরা
যখন পুটপাট
করে পিছু
হটল, সাদাত
খান ধাওয়া
করতে করতে
তার মূল
বাহিনী থেকে
বিচ্ছিন্ন হয়ে
গেলেন। সৈন্য
প্ররণে পুনঃপুন
আকুল আবেদনের
পরিপ্রেক্ষিতে আট
থেকে নয়
হাজার অশ্বারোহী
সৈন্যের একটি
বহর পাঠানো
হলো। ২৪
ফেব্রুয়ারি ১৭৩৯
কর্ণালের যুদ্ধটি
সংঘটিত হয়।
মোগল বাহিনী
সমূলে রণক্ষেত্র
থেকে উত্খাত
হয়। আহত
সাদাত খানকে
বন্দি করে
নাদের শাহর
সামনে আনা
হয়। ধূর্ত
ও সম্পদশালী
সাদাত নাদের
শাহকে বিশ্বাস
করাতে সক্ষম
হন যে
সম্রাট মোহাম্মদ
শাহর সংরক্ষিত
বাহিনী তার
বিরুদ্ধে সমানতালে
যুদ্ধ চালিয়ে
যেতে পারবে।
তবে নাদের
শাহ তার
লাভের জন্য
সম্রাটের ‘নিজাম-উল-মুলক’-কে
জানাতে পারেন
তিনিই হচ্ছেন
সাম্রাজ্যের সম্পদের
প্রধান রক্ষক,
শান্তির শর্তাবলি
নিয়ে তার
সঙ্গে আলোচনা
করাই লাভজনক
হবে।
যুদ্ধবিরতির সমঝোতা
হলো—ক্ষতিপূরণ,
ভবিষ্যৎ আক্রমণ
থেকে বিরত
থাকা বাবদ
নাদের শাহকে
৫০ লাখ
রুপি দেয়া
হবে, ২০
লাখ রুপি
তাত্ক্ষণিক, ১০
লাখ লাহোরে
ফেরার পর,
১০ লাখ
আটক-এ
পৌঁছার পর
এবং অবশিষ্ট
অর্থ কাবুল
পৌঁছার পর
পাবেন।
নাদের শাহ
প্রতিশ্রুতি দিলেন
তিনি সসৈন্য
আর দিল্লির
দিকে অগ্রসর
হবেন না।
সেখানেই বৈরিতার
অবসান ঘটতে
পারত। কিন্তু
ঈর্ষা ও
বিশ্বাসঘাতকতা এখানে
মাথাচাড়া দিয়ে
উঠল। কর্ণালের
যুদ্ধে সাদাত
খানকে সহায়তা
করার জন্য
যে খান-ই-দাওরান
মির বকশি
অশ্বারোহী বাহিনী
নিয়ে এসেছিলেন,
তিনি নিহত
হন। নিজাম-উল-মুলককে
তখন মির
বকশির পদ
ও খেতাব
দেয়া হয়।
এ পদের
জন্য লালায়িত
ছিলেন বোরহান-উল-মুলক
সাদাত খান
নিজেই। তিনি
ষড়যন্ত্রে মেতে
ওঠেন। তিনি
নাদের শাহকে
বোঝাতে সক্ষম
হন যে
নিজাম-উল-মুলককে
ধরে আনতে
পারলে তার
কাছ থেকে
আরো বেশি
অর্থ আদায়
করা সম্ভব।
শুধু তাই
নয়, তিনি
পরামর্শ দিলেন
সম্রাট মোহাম্মদ
শাহ নিজাম-উল-মুলক
ও বিশিষ্ট
অন্যদের গ্রেফতার
করে এখনই
তার দিল্লি
যাত্রা করা
উচিত—সেখানে
পৌঁছে তিনি
নিজেকে শাহি
ভাণ্ডারের সব
সম্পদের মালিক
ঘোষণা করতে
পারবেন। উল্লেখ্য,
এর ৪০০
বছর আগে
চিতোরের রাঘব
চেতনের প্ররোচণায়
আলাউদ্দিন খিলজি
চিতোর দখল
করে নিয়েছিলেন।
নাদের শাহ
দিল্লি যেতে
দ্বিতীয় আমন্ত্রণের
জন্য অপেক্ষা
করেননি। তিনি
নিজাম-উল-মূলকের
কাছে ২০
কোটি রুপি
চাইলেন, জবাবে
তিনি তার
অসামর্থ্যের কথা
শুনলেন। সুতরাং
তাকে নজরবন্দি
করে সম্রাট
ও তার
হারেম ঘেরাও
করে বন্দিশালা
বানিয়ে ফেললেন।
দিল্লির পথে
নাদের শাহ:
হত্যা ও
লুণ্ঠন
নাদের
শাহ দিল্লি
রওনা হলেন।
কার্যত বন্দি
সম্রাট মোহাম্মদ
শাহ তাকে
অনুসরণ করবেন।
দুজন সম্রাটকে
একসঙ্গে দেখা
যাবে—একজন
বিজয়ী, অন্যজন
কারাবাসী। রাজকীয়
সংবর্ধনা পেয়ে
২০ মার্চ
১৭৩৯ নাদের
শাহ দিল্লিতে
প্রবেশ করলেন।
দিনের শেষে
এক আকস্মিক
গুজব রটল
যে নাদের
শাহ হয়
মৃত্যুবরণ করেছেন
কিংবা সম্রাটের
নির্দেশে তাকে
কারাগারে নিক্ষেপ
করা হয়েছে।
গুজবে পারস্যের
বাহিনী হতবাক
হয়ে গেল
এবং আক্রমণকারী
সেনাবাহিনীর ওপর
ক্ষুব্ধ জনতা
ঝাঁপিয়ে পড়ল,
তাদের হাতে
নিহত হয়
তিন হাজার
সৈন্য।
২১ মার্চ
সকালে অশ্বারোহী
নাদের শাহ
চাদনি চকের
সুনেহরি মসজিদের
(গোল্ডেন মস্ক)
দিকে আসার
সময় একটি
বুলেট তাকে
বিদ্ধ না
করে একজন
সৈনিককে বিদ্ধ
করে এবং
তার মৃত্যু
হয়। ক্ষুব্ধ
নাদের শাহ
মসজিদের ছাদে
উঠে তার
বাহিনীকে হুকুম
দিলেন এখনই
গণহত্যা শুরু
করতে। পৃথিবীর
ইতিহাসে এমন
ভয়াবহ ঘটনা
কমই ঘটেছে।
২০ হাজার
নিহত মানুষের
রক্তে দিল্লির
মাটি রঞ্জিত
হয়। সৈন্যদের
হাত থেকে
রক্ষা পেতে
দলে দলে
নারীরা আত্মহত্যা
করে। শহরজুড়ে
কেবল মরদেহ
আর মরদেহ।
বাড়িঘর সমানে
লুট হচ্ছে।
ভাঙা ঘরের
কাঠ জ্বালিয়ে
দাহ করা
হচ্ছে। শত
শত মরদেহ
গঙ্গায় নিক্ষেপ
করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর
পারস্যের সৈন্যবাহিনী
দিল্লির প্রতিটি
ঘরে লুটপাট
চালায়, ভাংচুর
ও তছনছ
করতে থাকে।
মরদেহ সত্কারের
সময় কে
হিন্দু কে
মুসলমান এসব
বিবেচনা করার
সুযোগ ছিল
না।
নাদের শাহ
লুটের ৭০
লাখ টাকা,
ময়ূরসিংহাসন, কোহিনুর
হীরকসহ অমূল্য
সব সম্পদ
নিয়ে যান।
যাওয়ার আগে
নিজের পুত্র
নসরুল্লাহর সঙ্গে
সম্রাট আওরঙ্গজেবের
প্রপৌত্রী, সম্রাটের
কন্যার বিয়ের
আয়োজন করেন।
দিল্লি শহর
আলোকিত করা
হয়, আতশবাজিতে
ভরে ওঠে
দিল্লির আকাশ
আর শাহি
খাবারের ঘ্রাণে
মাতোয়ারা হয়
শহর। তখনো
চারদিক থেকে
ভেসে আসে
পোড়া ও
গলিত দিল্লিবাসীর
মরদেহের গন্ধ।
এ অনবদ্য
উদযাপনের পর
১২ মে
১৭৩৯ নাদের
শাহ দরবার
আহ্বান করলেন।
ক্ষমতাহারা মোহাম্মদ
শাহকে দরবারে
আমন্ত্রণ জানালেন
এবং তার
মাথায় দয়া
করে সম্রাটের
মুকুট পরিয়ে
দিয়ে বললেন—আপনিই
ভারতেশ্বর।
১৬ মে
১৭৩৯ নাদের
শাহ দিল্লি
ছেড়ে পারস্য
যাত্রা করলেন।
তিনি কথা
রেখেছেন, পরাজিত
ভারতকে তার
সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত
করার ঘোষণা
দেননি।
অষ্টাদশ শতাব্দীতে
প্রকাশিত জেমস
ফ্রেজারের ‘দ্য
হিস্ট্রি অব
নাদের শাহ’
ভারত থেকে
তার লুণ্ঠিত
দৌলতের পরিমাণ
৭০ কোটি
রুপি বলে
উল্লেখ করা
হয়েছে।
নাদের শাহর
সেই পুত্রবধূর
নাম জাহান
আফরোজ বানু
বেগম। ২০
জুন ১৭৪৭
খোরাসানে অভ্যন্তরীণ
দ্বন্দ্বে নাদের
শাহ হত্যাকাণ্ডের
শিকার হন।
চেঙ্গিস, তৈমুর
প্রমুখের সঙ্গে
উচ্চারিত হয়
নাদের শাহের
নাম—বলা
হয় তিনিই
বিশ্ব ইতিহাসের
দ্বিতীয় আলেকজান্ডার।
নাদের শাহ
দেখিয়ে দেন
দিল্লি আদৌ
সুরক্ষিত নয়,
ইংরেজরা চাইলেই
দখলে নিয়ে
নিতে পারে।
এমএ মোমেন: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা





