আত্মজীবনীধর্মী বই ‘‌সেভেন ইয়ার্স ইন টিবেট’ লিখেছিলেন হেইনরিখ হারের। ১৯৯৭ সালে এর ওপর ভিত্তি করে একই নামে নির্মিত হয় হলিউড সিনেমা। কিন্তু চীন নিয়ে গল্প বলতে গেলে চীনের সঙ্গে সমঝোতা করেই যেন চলতে হবে। প্রাথমিকভাবে তিব্বতে শুটিং চলতে দেয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে দক্ষিণ আমেরিকায় তৈরি করা হয় তিব্বতের প্রতিরূপ। তার পরও শেষ রক্ষা হলো না। সিনেমা মুক্তি দেয়ার প্রসঙ্গে বেঁকে বসল চীনের সেন্সর বোর্ড। প্রতিক্রিয়া হিসেবে কেবল সনির পরবর্তী সিনেমা নয়, প্রযোজক জিন-জ্যাক আনাউদ ও অভিনেতা ব্র্যাড পিটকে নিষিদ্ধ করা হলো চীনে। নিজেদের ব্যবসার ক্ষতি চিন্তা করে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয় সনি পিকচার্স। এত বড় বাজার হাতছাড়া করা যে কারো জন্য বোকামি। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তারা সমঝোতায় পৌঁছতে সক্ষম হয় চীনের সঙ্গে। প্রায় কাছাকাছি ঘটনা ঘটে কুন্দুন নির্মাণের পর। নিষিদ্ধ হয় পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ডিজনি, পরিচালক মার্টিন স্করসেসি ও সংশ্লিষ্টরা। দুটি সিনেমার পরিণতি হলিউডের চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রযোজকদের পরবর্তী সিদ্ধান্তকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে।

গত তিন দশকে যথেষ্ট বিতর্ক হয়েছে হলিউড ও চীনের সম্পর্ক নিয়ে। হাল আমলে চীন হলিউডের জন্য বৃহত্তম বাজার। একদিকে কুন্দুন ও সেভেন ইয়ার্স ইন টিবেটের বাণিজ্যিক সংকট ও অন্যদিকে কুংফু পান্ডার সফলতা ভাবতে বাধ্য করেছে হলিউডের স্টুডিওগুলোকে। চীনের বাজারে প্রবেশাধিকার সুরক্ষিত করতে তারা এখন নিজেরাই বিশেষ ধরনের সেন্সরশিপ প্রকল্পের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। চীনা কর্মকর্তা ও চলচ্চিত্র নির্মাতারাও হলিউডের দিকে ঝুঁকছেন। এটা এক ধরনের সূক্ষ্ম যুদ্ধ মূলত। সাংস্কৃতিক আধিপত্যের জন্য বৈশ্বিক যুদ্ধ। আর এ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্রের গতিপথ। নব্বইয়ের দশকে ডিজনি ও সনি পিকচার্স যা করেছে, এখন তারা নিজেরাই তা থেকে দূরে থাকতে চায়। কোনো প্রকার আপত্তি ছাড়াই তারা চীনের নীতিমালাকে অনুসরণ করেছে। দালাই লামা, তিব্বত, ধর্ম ও অন্যান্য বিষয়ের চিত্রায়ণে চীনকে বিবেচনায় রাখতে বাধ্য হয়েছে। 

দেড় দশক আগে থেকেই হলিউডের বাজার সংকুচিত হতে থাকে। ২০০৩ সালে কেবল ‘‌ফাইন্ডিং নিমো’ সিনেমার আট কোটি ডিভিডি কপিই বিক্রি করেছে ডিজনি। অথচ ২০০৮ সালের মধ্যে ডিভিডি ব্যবসা সংকুচিত হয়েছে ৩৩ শতাংশ। তাদের আয়ের অর্ধেকই উধাও হয়ে যায় অভ্যন্তরীণ ভোক্তা হারানোর জন্য। অথচ ঠিক এ সময়েই মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছিল চীন। হলিউডের জন্য যেন নতুন ফ্রন্ট হিসেবে দেখা দেয় চীন। ২০০৮ সালের পর থেকেই চীনের বক্স অফিস খুব দ্রুত বড় হতে থাকে। স্টুডিওগুলো চীনকে মাথায় রেখে সিনেমা নির্মাণের প্রবণতা বাড়ে। পাশাপাশি সিনেমা নিয়ে বাড়তে থাকে বাজেট। বড় সুপারহিরো সিনেমাগুলো এ সময়ের প্রকৃষ্ট নমুনা। চীনের বাজার তো আর বিদেশের আট-দশটা বাজারের মতো নয়। সেখানকার রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও সেন্সর বোর্ড নিজেদের সংস্কৃতির জন্য উপযোগী কিনা, সেটা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিটি সিনেমা দেখার পরেই মুক্তির অনুমোদন দেন। এর পরিণাম হিসেবেই ‘‌মিশন ইম্পসিবল থ্রি’ থেকে কিছু দৃশ্য সরিয়ে দেয়া হয়, ‘‌ওয়ার্ল্ড ওয়ার জেড’ সিনেমার স্ক্রিপ্ট পুনরায় লেখা হয় এবং ‘‌স্কাইফল’ থেকে কিছু অংশ বাদ দেয়া হয়। তার চেয়ে বড় কথা ‘‌রেড ডন’ সিনেমার কিছু অংশ চীনে মুক্তি পাওয়ার জন্য পুনরায় নির্মাণ করতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই প্রযোজকরা তাদের ব্যবসা বাড়াতে সিনেমায় চীনা উপাদান যুক্ত করার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। তারা চীনের আপত্তি মেনে নিয়েছেন। চীনকে সন্তুষ্ট রাখতে দেশটির কোনো একটা শহর, কোনো একটা রেস্তোরাঁ অথবা কোনো একটা ব্যক্তিকে হাজির করেছেন সিনেমায়। ‘‌ট্রান্সফরমার: এজ অব এক্সটিংকশন’ সিনেমায় যে হংকংকে দেখা যায়, তা এ দীর্ঘ অভিযোজন প্রক্রিয়ারই দলিল। এভাবে চীন তার ক্রমবর্ধমান বক্স অফিসের মাধ্যমে যে অর্থনৈতিক পাটাতন দাঁড় করিয়েছে, তা দ্রুত রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের শর্তে রূপান্তরিত হয়। তারা তাদের নীতিমালা নিয়ে সবসময়ই কঠোর। যে স্টুডিওগুলো চীনের বাজারে প্রবেশ করতে চায়, তাদের অবশ্যই নিয়ম মেনে প্রবেশ করতে হবে।

হলিউড দীর্ঘদিন ধরেই তাদের আদর্শ রফতানি করে যাচ্ছে সিনেমার মাধ্যমে। বিক্রি করেছে আমেরিকার ধাঁচে গণতান্ত্রিক চেতনা ও পশ্চিমা ব্যাকরণ মানা স্বাধীনতা ও উদারনৈতিকতা। সুযোগ পেলেই চিত্রিত হয়েছে আমেরিকানদের বীরত্ব এবং সামরিক শক্তির দালালি। চীন কিন্তু খুব বেশি পিছিয়ে নেই। সেখানকার সরকারও রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি রফতানির প্রচেষ্টায়। তার জন্য হলিউড শ্রেষ্ঠ রাস্তাই বটে। বিশ শতকের সফল অস্ত্রগুলোর একটি হচ্ছে আমেরিকান সফট পাওয়ার। সেটা তাকে আধিপত্য বিস্তারে সহযোগিতা করেছে। চীন কেবল তাকেই অনুকরণ করার চেষ্টা করেছে। এখন চীনের সরকার যেমনটা, আমেরিকার সরকারও সেটা করেছে ও করে। মার্কিন ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বৈশ্বিকভাবে প্রচারিত চলচ্চিত্রগুলোয় সরকারের বেশ শক্ত হাত রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্শাল প্ল্যানের সময় থেকেই চলচ্চিত্রগুলো সরকারের নিয়োজিত সরঞ্জামে পরিণত। তার মানে যে রাজনৈতিক প্রচারণা কম থাকা সিনেমা তৈরি হয়নি, এমন না। কিন্তু সেগুলোও দিনশেষে আমেরিকান সংস্কৃতিকেই সর্বজনীন করার প্রচেষ্টার অংশ। ‘‌ডার্টি ড্যান্সিং’ ও ‘‌ব্যাক টু দ্য ফিউচার’-এর মতো মুভিগুলো আমেরিকান সিনেমার তারকাদের আন্তর্জাতিক তারকায় পরিণত করেছে। তবে বর্তমান ক্ষেত্রে চীনের প্রচেষ্টা দ্বিমুখী। প্রথমত, প্রোপাগান্ডা মুভি বা মেইন মেলোডি"তৈরি, যেখানে সরকার বেশ ভালোভাবেই নাক গলায়। এর বাইরে রয়েছে সত্যিকার প্রচেষ্টা, যা বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র তৈরি করছে। চীনের সংস্কৃতিকে তুলে ধরছে বিশ্বের দরবারে। যেভাবে আমেরিকার জীবন সম্পর্কে চলচ্চিত্রগুলো আমেরিকাকে তুলে ধরে।  

চলচ্চিত্র জাতীয় পরিচয়কে প্রভাবিত করে। হলিউড ও চীনের এ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে বিবর্তিত হয়েছে চলচ্চিত্রের ইতিহাস। নিখাদ ইতিহাস নিয়েও ব্লকবাস্টার সিনেমা তৈরি হচ্ছে চীনে। কোরিয়া যুদ্ধ নিয়ে তৈরি সিনেমা বিশ্বমঞ্চে চীনের শক্তির একটি প্রতিফলন হয়েই থাকে। গর্বিত পাঠের বাইরে গিয়েও কিছু চলচ্চিত্র তৈরি হয়েছে ইতিহাসের পুনঃপাঠ আকারে। রয়েছে বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রও। আশির দশকে আমেরিকান সিনেমায় আমেরিকান হওয়াটাকে গৌরবের সঙ্গে দেখানো হতো। কমিউনিস্ট না হওয়া কিংবা সোভিয়েতপন্থী না হওয়া নিয়েw গর্ব। চীন সেটাও করছে। ‘‌উলফ ওয়ারিয়র’-এর মতো ব্লকবাস্টার সিনেমার প্রভাব চলচ্চিত্রের জগতে দীর্ঘ। যদিও কিছু অংশে এমন একটি ধারণা রয়েছে যে উলফ ওয়ারিয়রের মতো চলচ্চিত্রের কারণে বিশ্বমঞ্চে চীনের নেতিবাচক চিত্রই তৈরি হবে। গৃহীত হবে এক ধরনের প্রোপাগান্ডা চলচ্চিত্র হিসেবে। চীনের বক্স অফিসে সরকার প্রযোজিত সিনেমা চলে। খুব সম্ভবত সরকার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একটা নতুন দিকে নেয়ার চেষ্টা করছে। সরকারের ভেতরে এমনও অংশ আছে, যারা ‘‌উলফ ওয়ারিয়র টু’ পছন্দ করে না। একজন সৈনিক যে রাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, এটা তাদের বার্তা নয়। 

চলচ্চিত্র নির্মাণ দীর্ঘকাল ধরেই ব্যক্তিগত অভিব্যক্তির বাহন। চীন ও হলিউডের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য বিড়ম্বনা হলো চীনা রাষ্ট্র দ্বারা নির্ধারিত সীমারেখা। বলা হয়েছে, কতিপয় বিষয়গুলোকে এড়িয়ে গেলে গল্প বলার জন্য যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।"চীনের ব্যবস্থা ও মূল্যবোধের সঙ্গে বোঝাপড়া করাটা বিদেশী চলচ্চিত্রের জন্য অনিবার্য। তার জন্যই তারা বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করেছে। সমাজে শিল্পের ভূমিকা নিয়ে পশ্চিমা প্রত্যাশার সঙ্গে সংঘর্ষ তাই স্বাভাবিক। কেউ কেউ অবশ্য শিল্পের সীমাবদ্ধতাকে মেনেই এগিয়ে যেতে চান। তাদের কাছে কার্যকর শিল্প সীমাবদ্ধতা থেকে আসে। সেক্ষেত্রে চীনের সাংস্কৃতিক সেন্সরশিপ তার বৈশ্বিক আবেদনের ওপর সীমাবদ্ধতা নয়। তাদের চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিকতা পায় না এ সেন্সরশিপের কারণে, এমনটা ভাবলে ভুল হবে। যদি সবকিছু মেনেই নির্মিত চলচ্চিত্র লাখো চীনা নাগরিকের কাছে আবেদন তৈরি করতে পারে, তা কেন অন্য দর্শকদের কাছে আবেদন রাখতে পারবে না?

কোনো চলচ্চিত্রকে নিষিদ্ধ করা হলে বেইজিং তার কারণ ব্যাখ্যা করে। তার পরও চীনের জন্য একটা বিষয় বেশ ব্যতিক্রম। দেখা যায় সেখানে একটি নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারপর হঠাৎ নতুন কোনো নীতি এসে পূর্ববর্তী নীতিকে সম্পূর্ণরূপে বাতিল করে দেয়। ফলে সিনেমা তৈরির সময় চীনের বাজার নিয়ে আগে থেকে ভাবা অনেক সময়ই অনিশ্চয়তায় পর্যবসিত হয়। হলিউডও এ ব্যাপারে সতর্ক। চলমান তাইওয়ান সংকট নিয়ে হলিউড অভিনেতার মন্তব্য কিংবা অবস্থান তাদের পরবর্তী চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রভাবিত করবে। তারা আগে মাথায় রাখতে চায় চীনের বাজারকে। অর্থাৎ এমন কোনো সিদ্ধান্তের আগে সবাইকে পুনরায় মূল্যায়ন করতে হবে সম্পর্ক। প্রয়োজনে স্ক্রিপ্ট পুনরায় পড়া হবে, যেন চীন থেকে নেতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত না আসে। এর মধ্য দিয়েই জন্ম নিয়েছে স্বয়ংক্রিয় সেন্সরশিপের সংস্কৃতি। স্টুডিওর নির্বাহীরা বেইজিং কী চায় ও কী চায় না, এ বিষয়ে রীতিমতো বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন সাম্প্রতিক দিনগুলোয়। স্টুডিও প্রধানরা এমনভাবে স্ক্রিপ্ট পড়েন, যেন তারা বেইজিংয়ের সেন্সর বোর্ড। সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা আছে, এমন যেকোনো কিছু নিয়ে তারা সতর্ক। খুব সম্ভবত একেই বলে ঝিকে মেরে বউকে শেখানো। মাত্র দুইটা উদাহরণ তৈরি করতে হয়েছে চীনকে। তারা ‘‌কুন্দুন’ ও ‘‌সেভেন ইয়ার্স ইন টিবেট’-এর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতেই অবস্থান স্পষ্ট হয়ে গেছে, দালাই লামা নিয়ে কথা বলা যাবে না। কেবল টিভিতে হাজির করা না, তাকে সবার সামনে সমর্থনও দেয়া যাবে না। পরবর্তী হলিউড সিনেমায় তা পালন করা হয়েছে। 

ইতিহাস ঘাঁটলে সেন্সরশিপের বহু নজির পাওয়া যাবে। সমসাময়িক কিছু দেশেও অনুরূপ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। গত শতকের হিটলারের আমলে হলিউড নিজেই সেন্সরশিপ চালু করেছিল। হিটলারের প্রতিনিধিরা লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিনেতাদের হেনস্তা করত। চীনা সেন্সরশিপ বর্তমান হলিউডকে নতুন করে সেই সময়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। হিটলারের আমলের ঘটনা ইতিহাসে পরিচিত হেইস কোড নামে। তবে হেইস কোডের সঙ্গে চীন-হলিউড সম্পর্কের একটা মৌলিক পার্থক্য আছে। হেইস কোড ছিল ধর্মীয়ভাবে অনুপ্রাণিত প্রতিক্রিয়া। বিপরীতে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক। চীনের সেন্সর আরোপ করাটা মূলত মানুষকে খুশি রাখা বা নৈতিকতা বজায় রাখা নয়, দেশের অভ্যন্তরে শাসনকার্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। ফলে হলিউড-চীন সম্পর্কে পরিবর্তন আনতে হলে খোদ রাজনৈতিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়েই বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থ বিবেচনা করে এর মধ্যেই নয়া প্রবণতা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যৌথ প্রযোজনার প্রবণতা বাড়ছে। কারণ যৌথ প্রযোজনায় চীনের বক্স অফিসেও ভালো করার সুযোগ তৈরি হয় হলিউডের জন্য। কিন্তু একটা অনিশ্চয়তা সবসময়ই থেকে যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে চীনের বক্স অফিস ও চীনের বাজারে প্রবেশ করার জন্য হলিউডের জন্য এখনো লাভজনক। স্টুডিওগুলো চীনের তারকা করতে নিতে অথবা চীনা গল্পে জড়িত হতে ইচ্ছুক। সাম্প্রতিক দিনগুলোয় মার্ভেলের সিনেমা ‘‌শাংচি’ এবং ‘‌এটারনালস’-এ দেখা যায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করছে চীন। এটা চীনের বাজারে প্রভাব ফেলার প্রতি একটা আগ্রহকেই তুলে ধরে। তার পরও হলিউডের জন্য বাণিজ্যিক দিক বিবেচনায় এ জায়গাটা আসলে পুঁতে রাখা মাইনের মতো। যেখানেই পা পড়বে, বিস্ফোরণের আশঙ্কা থাকবে। কিন্তু সে ভয়েই কে চীনের বাজারতে ভুলে যেতে পারবে?

গত কয়েক বছরে আমেরিকার জনসাধারণ দেশটির চলচ্চিত্র নির্মাণ ও থিয়েটার ব্যবসায় চীনা প্রভাব সম্পর্কে আরো সচেতন হয়েছে। চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। চীনের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল অনেকটাই চরমপন্থী ধরনের। সময়টা এতটাই তিক্ত ছিল যে উদারপন্থী এবং বামরাও তখন চীনের সমালোচনা করতে বিব্রত বোধ করত। তারা  নিজেদের জেনোফোবিক হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইতেন না। নিজেদের ট্রাম্পের দলে বা তার সমর্থকদের দলে ফেলতে চাননি। কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে। ডেমোক্র্যাট ও প্রগতিশীলরা আরো বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। আরো সম্প্রসারণ হচ্ছে সমালোচনার জায়গা। তাছাড়া পশ্চিমা কোম্পানিগুলো চীনা বাজারে প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে কতটুকু করতে পারবে, সেটাও বিবেচ্য। চীনে প্রবেশাধিকার বজায় রাখার জন্য অনেক ক্ষেত্রে ছাড় দিচ্ছে চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এজন্য দেশের অভ্যন্তরে যে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে না, তা কিন্তু না। তার পরও খোদ হলিউডের এখনো চীনকে প্রয়োজন। ঠিক তার পরিণাম হিসেবেই হলিউডে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে নিয়েছে চীন। চীনকে জড়িয়ে কিছু বলতে গেলে অবশ্যই চীনের রাজনৈতিক ইচ্ছাকে মেনেই বলতে হবে। হলিউড ও চীনের এ পারস্পরিক পরিবর্তন চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় ঘটনা হয়ে থাকবে।

আহমেদ দীন রুমি: লেখক