নিউইয়র্কের ব্রুকলিন ও কুইন্সের দেয়াল বিলি মোডের দখলে। তার আধিপত্য বিমূর্ত গ্রাফিতি। ১০ জুন, ২০১৪ ক্রিস স্টেইনের সঙ্গে তার কথোপকথন:

আপনি কবে, কোথায় প্রথম জেগে উঠলেন?

১৯৮৪-৮৫তে বাল্টিমোরে, আমার বয়স তখন ১১ কি ১২ বছর।

কে কিংবা কী আপনাকে এদিকটাকে অনুপ্রাণিত করল?

আমার অধিকাংশ বন্ধুই বয়সে আমার চেয়ে বড়। হাইল্যান্ডটাউনের গ্র্যান্ড থিয়েটারে যখন বিট স্ট্রিট প্রথম প্রদর্শিত হচ্ছে, আমার বন্ধু এরিক মিক আর আমি দেখতে যাই। ভেতরে যখন সিনেমা চলছে, আমরা থিয়েটারের বাইরের দেয়ালে আঁকতে শুরু করি। এর পর এরিক শিগগিরই মার্থা কুপার ও হেনরি শালফ্যান্টের লেখা ‘সাবওয়ে আর্ট’ বইটি পেয়ে যায়; সেই থেকে এ আন্দোলনের সঙ্গে আমার পরিচিতি।

আঁকার জন্য কোন জায়গা পছন্দ ছিল?

যখন শুরু করি, সেটা অলিগলিতে, পাইলট মার্কার আর স্প্রে পেইন্ট দিয়ে, কিন্তু শিগগিরই আমি ছাদে চলে গেলাম। কাজটা মজার, আমি দ্রুত আমার এ অভিযানে আসক্ত হয়ে পড়ি।

আপনি কখনো গ্রেফতার হয়েছেন?

আমি একটি বাসে রঙের বোমা মারার সময় ধরা পড়ি, তেমন কিছু হয়নি, আমাকে কমিউনিটি সার্ভিস করার পর ছেড়ে দেয়া হয়।

আপনি যা করছেন, এ নিয়ে পরিবার কিংবা বন্ধুদের অনুভূতি কী?

আমার প্রিয়জনরা দারুণ। তাছাড়া আমি তো মূলত একটি ‘ভালো ছেলে’।

গ্রাফিতি ও স্ট্রিট আর্টের মধ্যে একটা ফারাক আছে, আপনি কী মনে করেন?

একটা ফারাক আছে, কিন্তু আমি তা নিয়ে ভাবি না। যদি কাজটা ভালো হয়, তাহলে বেশ। এটা গ্রাফিতি না স্ট্রিট আর্ট, তাতে কিছু এসে যায় না।

রাস্তায় শিল্প আন্দোলনকে গ্যালারিতে নিয়ে আসা নিয়ে কী বলতে চান?

আমি তো নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে গ্যালারিতে প্রদর্শনী করছি। গ্যালারি শিল্পীদেরকে তাদের কাজ শেয়ার করার অন্য পথ খুলে দেয়।

আপনি কেন মনে করেন, গ্রাফিতি আর্ট আমেরিকার চেয়ে ইউরোপে বেশি মর্যাদা পায়?

সাধারণভাবে শিল্পের সমাদর ইউরোপে বেশি। ইউরোপ হিপ-হপ সংস্কৃতিকে ভিন্নভাবে ধারণ করেছে, সেখানে দৃষ্টিভঙ্গি আরো ধনাত্মক।

আপনি একা কাজ করতে পছন্দ করেন, না সহশিল্পী নিয়ে?

আমি দুটোই উপভোগ করি। যতক্ষণ না আমাকে বেশি দূর আপস করতে হয়, সে পর্যন্ত একসঙ্গে কাজ ঠিক আছে— যাতে আমার শিল্পধারণা ছবিতে লুপ্ত হয়ে না যায়। জোর করে একসঙ্গে কাজ করা যায় না।

ক্রিস স্টেইনের সঙ্গে আপনার কাজ আমাদের প্রিয়। এমন আরো কোনো শিল্পীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চান?

জো জুরাতো ও রুবিনের সঙ্গে কাজ করার কথা ভেবেছি। তবে আমার প্রিয় বন্ধু প্যাট ভোকের সঙ্গে কাজ আমার জন্য অনেক আনন্দের। প্যাট চায়, আমি আমার সীমা অতিক্রম করে বেরিয়ে আসি এবং কাজ এগোতে থাকলে ছবিতে গভীর অর্থ অন্বেষণ করে। আমি আবারো তার সঙ্গে কাজ করতে চাই।

এ কাজে প্রেরণা কোথায় পান?

অক্ষর এবং সাধারণভাবে কাঠামো আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি যখন কাজে বসি, আমি যা করতে চাই তাই করি এবং তা আরো সম্প্রসারিত করি। এ সম্প্রসারণের ঘটনা ঘটতেই থাকে। আমার গ্রাফিতি আঁকার প্রেক্ষাপট আমার বাসনাকে আবিষ্কার করতে এবং আন্দোলনে অবদান রাখতে প্রভাবিত করে।

কোনো বিশেষ সংস্কৃতি কি আপনার নন্দনতাত্ত্বিক অভিরুচিকে প্রভাবিত করে?

এটা ঠিক সংস্কৃতি নয়, গণিত ও বিজ্ঞানের পারস্পরিক মিশ্রণ আমাকে ক্রমান্বয়ে প্রভাবিত করে চলেছে।

আপনি কি হাতে স্কেচ নিয়ে কাজ করেন, না এমনিই ব্রাশকে চলতে দেন?

আজকাল আমি হাতে স্কেচ রাখছি, এতে লে-আউটের সুবিধা হয়। যখন সনাতন গ্রাফিতি-শৈলী অনুসরণ করি, তখন ব্রাশ মুক্তভাবে চলতে থাকে।

আপনি কি আপনার করা কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট?

শতকরা ৮০ ভাগ সময়! আমি সবসময়ই আরো ভালো করতে চাই।

আপনার এসব শিল্পকর্মে ইন্টারনেটের ভূমিকা কী?

আমরা ভবিষ্যতে বাস করি। তথ্য আগের চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে ভ্রমণ করছে, আর এর বিস্তার অস্বাভাবিক। আমি প্রতিদিনই শিল্পের নতুন করে হয়ে ওঠা দেখতে চাই। আমি লক্ষ করেছি, গ্রাফিতির আঞ্চলিক শৈলী মিলিয়ে যাচ্ছে। গ্রাফিতি সংস্কৃতি একেবারে মাঠপর্যায় থেকে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে, কাজেই এর আচরণের বিধি দরকার।

আর কিসে আপনার আগ্রহ?

ঘুম, আর যদি জখম না হই স্কেটিং।

সামনে কী?

গাণিতিক দর্শনের বাস্তব প্রয়োগে আরো ম্যুরাল সৃষ্টি করা।

 

****

অ্যালান কেট, বিখ্যাত গ্রাফিতি শিল্পী, শিক্ষক এবং বৈশ্বিক পরামর্শক। ভিনসেন্ট মর্গান তার সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন।

শুরু থেকে আপনার গ্রাফিতি আবিষ্কার পর্যন্ত কিছু বলুন।

আমার জন্ম জ্যাকসন হাইটসের কুইন্সে, ১৯৭৮ পর্যন্ত আমি সেখানে বসবাস করি। সেখান থেকে ফ্লোরিডার মিয়ামি হয়ে ১৯৮২তে আবার নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে। এই ফিরে আসাটা দারুণ ব্যাপার। তখন ফ্লোরিডায় হিপ-হপ শুরু হয়নি, কিন্তু ব্রুকলিনে শুরু হয়ে গেছে... আমি সপ্তম গ্রেডের ছাত্র, নতুন ধারা আমাকে আগ্রহী করে তুলেছে। ব্রুকলিনের উলিয়ামসবার্গে আমি পুয়ের্টরিকান রক দলের সঙ্গে মিলে যাই। আমি আঁকতে শুরু করি...।

গ্রাফিতিতে কী আপনার পছন্দ? আর গ্রাফিতিই বা কেন?

গ্রাফিতিই। গ্রাফিতির মধ্যেই দেখা শহরে জীবন এবং মানুষ সাহসী হয়ে জনতার মধ্যে নিজেদের প্রকাশ করার শক্তি দেখি।

আপনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন শহরে গ্রাফিতি এঁকেছেন? আপনার শ্রেষ্ঠ গ্রাফিতি স্মৃতি কোনটি?

শ্রেষ্ঠ স্মৃতির সঙ্গে ভালো বন্ধু জড়িয়ে থাকে। সম্প্রতি কোপেনহেগেনে রঙ-বোমাক্রান্ত অনেক ট্রেন সেখানে দেখে এসেছি। শত শত গাড়ি রঙের প্যানেলে ঢাকা, ছুড়ে মারা রঙে রঙিন— এটা আমাকে আনন্দ দিয়েছে। ট্রেন গ্রাফিতির গুরুত্ব অন্য স্তরের, এদের দারুণ দেখায়।

আপনি সক্রিয় লেখকের চেয়েও বেশি, আপনি মেধাবী প্রকাশক, কয়েদি অধিকার আন্দোলনের নেতা এবং পুলিশের নির্মমতার বিরুদ্ধাচারী। আপনি রিকার্স আইল্যান্ড প্রিজন কর্মসূচির প্রণেতা, ব্ল্যাক অগাস্ট আন্দোলনের স্রষ্টা, আমরা যারা এতসব জানি না, তাদের জন্য একটু ব্যাখ্যা করবেন?

নব্বইয়ের দশকে এক দল বন্ধুর সঙ্গে আমি স্ট্রেস ম্যাগাজিনে কাজ করেছি— আমাদের সবার লক্ষ্য সামাজিক ন্যায়বিচার। আমাদের আত্মাকে তুষ্ট করার বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচিতে আমরা জড়িয়ে পড়ায় আমাদের সম্প্রদায় ও মানুষের কাছে ফিরে যাই। রিকার্স আইল্যান্ডে আমাদের স্ট্রেস পরিবারের কয়েদি বন্ধু ছিল, কারাগারে সহিংসতা কমাতে আমরা কাজ করি। এভাবেই ব্ল্যাক আগস্ট; স্কুল-কলেজের বন্ধুরা ম্যালকম এক্স গ্রাসরুট আন্দোলনের সদস্য ছিল। তারা চাঁদা তুলে বিদেশে রাজনৈতিক কয়েদিদের জন্য টাকা পাঠিয়েছে।

২০০৬ সালে আপনি গ্রেফতার হলেন কেন? পুলিশ কেন আপনার আঁকা ছবি ও বইয়ের পাণ্ডুলিপি বাজেয়াপ্ত করল?

আমার বিরুদ্ধে ১৪টি ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে আমি তিনটিতে দোষ স্বীকার করি কেবল তিনজন প্রসিকিউটরের প্রত্যেককে খুশি করতে এবং জরিমানা হ্র্রাস করতে।

আপনার প্রিয় উদ্ধৃতি?

এমিলিয়ানো জাপাতার কথা ‘হাঁটুতে ভর দিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে পায়ের পাতায় ভর দিয়ে মরে যাওয়া উত্তম’।

গ্রাফিতি কি আপনাকে মুক্তির স্বাদ এনে দেয়?

হ্যাঁ, সবসময়ই।

আঁকাআঁকির জন্য প্রিয় সময়?

যেকোনো সময়, যখন আশপাশে মানুষ থাকবে না।

প্রিয় রঙ?

কালো।

[সংক্ষেপিত]