নিশি ডাকে।

নিশি কি ভূত?

ভূত না প্রেত না, নিশি হলো নিশি।

আছে সেই কোনকাল থেকে।

প্রথম কাকে ডেকে নিয়েছিল?

আলতামিরা গুহার এক নামহীন মানুষকে।

সেটা ছিল এক চাঁদঅলা রাত।

যখন গেছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ, নিশির ডাক শুনে কোথায়, কোন দিকে চলে গিয়েছিল মানুষটা।

তারপর আর কত মানুষ গেছে। যায়, যাবে। এই যদি হয় নিশিবৃত্তান্ত, আজব নিশি তাহলে কী? উল্লেখ আছে প্রাচীন পুরান, পুঁথিতে।

নিশি না, আজব নিশি।

সেটা কি অহিদ বলতে পারবে না। কেউ পারে না।

নিশির মতো এই আজব নিশিও ডাকে। একবার ডাকে। এর ডাকেও সাড়া দিতে হয় না।

সাড়া দিলে কী হয়?

দেখা যাক একটু।

যাই যাই দুপুরের রোদ দেখছিল অহিদ। কার্তিক মাসের কমলা রঙের রোদ। এমন এক দুপুরে সুতপা এইখানে ছিল একদিন। কমলা রঙের রোদ তার আশ্চর্য চোখের মণিতে পড়েছিল। চোখের মণি রিমঝিম করছিল সুতপার। রিমঝিম। অহিদের আর কোনো শব্দ মনে পড়ে না এখনো। এমন চোখের মণি দেখেনি সে আর।

সুতপা দূরতমা হয়ে গেছে এখন। উইসকনসিনে থাকে এবং সিঙ্গেল মাদার হয়েছে। এবাদুর বলেছে। ফেসবুক, টুইটারে সুতপার সঙ্গে আছে এবাদুর। সুতপা এবং সুতপার মেয়ে শারির ছবিও অহিদকে দেখিয়েছে সে। শারি রাশান ছবি ‘লিটল মারমেইড’-এর লিটল মারমেইডের মতো হয়েছে দেখতে।

অহিদ ফেসবুক, টুইটারে নেই। ওয়েবে লগ ইন করে না কখনো। হিমশিম খায় এক মোবাইল ফোন নিয়েই। টাচফোনও না, সাধারণ সেট। বন্ধ থাকে চব্বিশ ঘণ্টার আঠারো ঘণ্টাই। ব্যাপার আছে। মোবাইল ফোনে কথা বলতে জনাব অহিদের ভালো লাগে না। কখনই। টেক্সট করতেও ভালো লাগে না।

ইস্! এই জিনিস ছাড়া থাকা যেত! অহিদ একটা রাফ হিসাব করে দেখেছে, আট কোটি টাকা পেয়ে গেলে আর কিছু না করে সে তার বাকি জীবনটা পার করে দিতে পারত। তখন আর কিছুতেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করত না সে। দরকারও পড়ত না। কিন্তু তার কি আট কোটি টাকা হবে কোনো দিন? অসম্ভব না, ‘বেসম্ভব’ এটা।

উনত্রিশ বছর বয়স এখন অহিদের। থাকে ফকিরের পুল পানির ট্যাংকির গলিতে। বিখ্যাত হাজী দানেশ মিয়ার মেসে। ছয়তলা বিল্ডিংয়ের পাঁচতলায়। দশ ফুট বাই দশ ফুট, সিঙ্গেল রুম। তিন হাজার টাকা দিতে হয় মাসান্তে। মিল বাবদ তিন হাজার টাকা। চা-সিগারেট রিকশা বাস ভাড়া ধরে আরো তিন-সাড়ে তিন হাজার টাকার হিসাব। তার মানে মাস খরচা বাবদ পাক্কা দশ হাজার টাকা। হয়ে যায়।

অহিদ কাজ করে চার পৃষ্ঠার ‘দৈনিক সকাল-সংবাদ’ পত্রিকায়। এটা আসলে একটা দেয়াল পত্রিকা। ঢাকা শহরের কিছু দেয়ালেই দেখা যায় শুধু। সরকারের গত টার্মে পত্রিকার ডিক্লেয়ারেশন নিয়েছেন বিল্লা ভাই। পরিবহন শ্রমিক নেতা হাজী মোহাম্মদ তসদ্দক আলী বিল্লা। অতএব বিজ্ঞাপন পায় দেয়াল-দৈনিক। কর্মী বলতে একা অহিদ।

বিল্লা ভাইয়ের দ্যাশের পোলা বলে বিল্লা ভাই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। না হলে বিল্লা ভাইয়ের ভাষায় কত ‘সম্বাদিক’ দায়িত্ব নিতে চায় ‘সকাল সংবাদ’-এর। কথা মিথ্যা না।

ফকিরের পুল আজব জায়গা। মেকআপ করা পত্রিকার ট্রেসিং বিক্রি হয়। বিজ্ঞাপনও তারা সেট করে দেয়। ডিমাই সাইজের এক পৃষ্ঠা নেয় বারোশ’-তেরোশ’ টাকা।

‘দৈনিক সকাল সংবাদ’ পাঁচশ’ কপি ছাপা হয়। পঞ্চাশ কপি ছাপলেই চলত। ছাপতে হয় প্রেসের পোষায় না বলে। মাসের শেষে কেজি দরে পত্রিকার বান্ডিল বিক্রি হয়। পাইপয়সার হিসাব রাখেন বিল্লা ভাই। দশ কথা বিবেচনা করে বাইশ হাজার টাকা বেতন দেন অহিদকে। মাসের এক তারিখ বন্ধের দিন হলেও এক তারিখেই টাকাটা পেয়ে যায় অহিদ। বিল্লা ভাইয়ের ম্যানেজার জয়নাল মেসে দিয়ে যায়। জয়নাল অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ একজন মানুষ। মেসের বুয়াদের নিয়ে আকথা-কুকথা বলে। নানা রকম ইঙ্গিত করে অহিদকে। অস্বস্তি লাগে অহিদের। গোপনে সে একজন কবি। ডিসিসিএনের কবিচারণভূমি শাহবাগ এলাকায় নিয়মিত দেখা যায় তাকে। অহিদুজ্জামান আলম টিপু না অবশ্য, চারণভূমিতে সে কবি অআ রুদ্র। অহিদুজ্জামান আলম সংক্ষেপ করে অআ, সঙ্গে রুদ্র জুড়ে দিয়েছে। কবি হিসাবে এই রাইট তার আছে।

সুতপা কবিনি না। আর্টিস্টের মেয়ে। হাজী দানেশ মিয়ার মেসে এসেছিল তিনবার। একবার এমন এক কার্তিকের দুপুরে। পিংক বোরখা পরে এসেছিল, বুয়ারা যে রকম পরে। বুদ্ধিমতী। বুয়া ছাড়া সব নারীজাতির প্রবেশ নিষেধ মেসে। সুতপার বুদ্ধি দেখে টাসকি খেয়ে গিয়েছিল অআ রুদ্র। সুতপা কী বলেছিল?

‘তুমি একজন অদ্ভুত মানুষ, অআ। আমার মনে হয় তুমি আরো পঞ্চাশ বছর আগে জন্ম নিলে পারতে। নাহ্! পঞ্চাশ না একশ’। একশ বছর হলে ঠিক হতো।’

‘আমি আরো আগে জন্মেছি, সুতপা।’

‘তাই নাকি? কবে? মিউটিনির সময়? আঠারশ’ সাতান্ন?’

‘আরো আগে।’

‘তুমি বাবা পাঁচ হাজার বছর আগে জন্মেছো। হলো?’

‘আরো কিছু আগে। অন্ধ কবি হোমারকে আমি ইলিয়াড রচনা করতে দেখেছি। আমি ছিলাম একজন হরবোলা। পাখির ডাক শোনাতাম অন্ধ কবিকে। ম্যাকাওয়ের ডাক, হট্টিটির ডাক, উটপাখির ডাক, দাঁড়কাকের ডাক। আমার নাম ছিল ইকারাস।’

‘ইকারাস! হি-হি-হি! কোন ইকারাস? গ্রিক মিথের ডানাঅলা ইকারাস! ডানা বানিয়ে উড়তে চেয়েছিল যে?’

‘না সুতপা, আমি সে না। আমি ছিলাম গরিব হরবোলা ইকারাস।’

‘গরিব হরবোলা ইকারাস এখন অআ রুদ্র হয়ে গেছে! বাহ্! তুমি কেন গল্প লেখ না, অআ? গল্প না অটোবায়োগ্রাফি... আত্মজীবনী। অটোবায়োগ্রাফি অব আ হরবোলা: ইকারাস টু অআ। হি-হি-হি!’

অহিদের কথা অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্য না এবং সুতপা কখনই বিশ্বাস করেনি। কে বিশ্বাস করবে?

কোন কোন সময়ে ছিল অহিদ?

নেফারতেতের সময়ে। সক্রেটিসের সময়ে। হারুন-অর-রশীদের সময়ে। অশোকের সময়ে। আরো কত সময় পার হয়ে গেছে পৃথিবীর। কতজন হয়েছে অহিদ। নিকটবর্তী অতীতের কথা যদি বলতে হয়, মহীপালের সময়ে, লেনিনের সময়ে। ভিনসেন্টের সময়ে। মিলুর সময়ে। মিলু কে? মিলু হলো জীবনানন্দ দাশের ডাকনাম। মিলুর ছোট ভাই ছিল ভ্যাবলু। অশোকানন্দ দাশ। সে সময় অহিদ তো আর অহিদুজ্জামান আলম টিপু ছিল না, অআ রুদ্র ছিল না, ছিল সহিদুল আসলাম পল্টু। বরিশাল বিএম কলেজের ছাত্র। ছোট্ট মিলু, ভ্যাবলুকে দেখেছে। মিলুটা বড়ো একা একা থাকত। একা একা ঘুরত। আনালে-বিনালে দেখা হয়েছে কয়েকবার।

‘কে? মিলু?’

‘উঁ।’

‘কী করিস?’

‘কিছু না। কিছু না (কিছু না)।’

‘কী দেখিস?’

‘নদী।’

‘নদী! এখানে নদী কোথায়?’

‘ধানসিদ্ধি নদীটা কত দূরে, পল্টু দাদা? হেঁটে যাওয়া যায়?’

ধানসিদ্ধি নদী। কখনই দেখেনি মিলু। না দেখেই লিখে ধানসিদ্ধিকে ধানসিঁড়ি করে দিয়ে গেছে। বড় ম্রিয়মাণ একজন ছিল ছেলেটা। বালকের চপলতা তার মধ্যে ছিল না।

মিলু আর ভিনসেন্ট, দুই সময়ের দুজন মানুষ, অন্তর্গতভাবে এত এক রকম দুজন। ভিনসেন্ট তাও গোঁয়ার অনেকটা। ছবি আঁকত আর্লের মিস্ত্রালে দাঁড়িয়ে। মিস্ত্রাল তারা বলে লু হাওয়াকে। ঝড়োগতির লু হাওয়া। উড়িয়ে নিয়ে যায় এমন। মানুষজন ভিনসেন্টকে মনে করত পাগলা। থিও ছাড়া আর যে দু-একজন মনে করত না, তাদের একজন ছিল ভিত্তোরিও (বর্তমান অহিদ, অআ রুদ্র বা অহিদুজ্জামান আলম টিপু), বিশ্বাস করবে দীপান্বিতা?

কাল দেখা হবে দীপান্বিতার সঙ্গে। সুতপার মতো পাগলা না, পিংক বোরখা পরে কখনই মেসের বুয়া হবে না দীপান্বিতা। তার সঙ্গে দেখা করতে হবে পৃথিবীর অদ্ভুত একটা জায়গায়। ঢাকা মেডিকেলের মরচুয়ারির সামনে।

কাকতালীয় বলে কিছু নেই, সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত। দীপান্বিতার সঙ্গে দেখা হতোই অহিদের। এবং হচ্ছে। না হলে এসব কিছু ঘটার কথা না।

সাত-আট মাস আগের ঘটনা। ঝুম বৃষ্টির একটা রাত ছিল। রাত একটায় মোবাইল ফোন খুলে আজব একটা টেক্সট পেয়েছিল অহিদ।

: তুমি একটা ক্যাসানোভা।

আমি তোমাকে

হেইট করি। তুমি

আর আমাকে

কল করবে না

টেক্সট করবে না।

আই হেইট ইউ।

আই রিপিট।

আই মিন ইট...।

আননোন একটা নাম্বার। তাকে এমন একটা টেক্সট পাঠাতে পারে, তেমন কাউকে কিছুতেই মনে করতে পারল না অহিদ। কাসানোভা না সে মোটেও। একমাত্র সুতপার সঙ্গে তার কিছু বোঝাপড়া হয়েছিল। কবি অআ রুদ্র হিসেবেও এর তার সঙ্গে তার মিলঝিল হয় না। আড়ষ্ট বোধ করে সে কেমন। টেক্সট পড়ে বা বৃষ্টি হচ্ছিল বলে কি অদ্ভুত টেক্সটার রিপ্লাই করেছিল সে?

হবে হয়তো।

রিপ্লাই, ‘তুই কে রে’?

সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই। টেক্সট না, কল।

বৃষ্টি হচ্ছিল বলে রিসিভ করেছিল অহিদ।

‘হ্যালো?’

‘হ্যালো মানে? হু আর ইউ? এ রকম বিচ্ছিরি টেক্সট কেন করেছেন? আমি কি আপনার পরিচিত কেউ?’

‘মনে হয় না। আপনি কে আমি জানি না। আমি কি আপনার পরিচিত কেউ? আপনি আগে টেক্সট করেছেন আমাকে।’

‘আমি! না-আ। আমি আপনাকে টেক্সট করতে যাব কেন? কী টেক্সট করেছি বলেন তো?’

‘তুমি একটা ক্যাসানোভা।’

‘ওএমজি। এ টেক্সট আপনার কাছে গেছে? স্যরি! স্যরি! আমি এক্সট্রিমলি স্যরি! আমি দীপান্বিতা। আপনি কে?’

‘আমি রুদ্র। অআ রুদ্র।’

‘দ্য পোয়েট! সত্যি সত্যি আপনি কবি অআ রুদ্র? আমি তো আপনার কবিতা পড়ি।’

‘কী বলেন? আমার কবিতা কেউ পড়ে?’

‘দীপান্বিতা পড়ে। হি! হি! হি!’

মোবাইল ফোনে কখনো আর এত কথা বলেনি অহিদ। তার এখন ভালো লাগে দিনে একবার দুবার তিনবার দীপান্বিতার সঙ্গে কথা বলতে। ভালো লাগে টেক্সট লিখতেও। এই করে করে সাত-আট মাস। বৃষ্টির দিন গিয়ে কার্তিকের হিম পড়ার দিন এসে গেছে। পত্রিকায় দুদিন আগে ভোরের শিশিরের ছবি ছাপা হয়েছে। রংপুরের দিকের।

দীপান্বিতা ফোন করেছিল কাল সন্ধ্যায়।

‘আমি আপনার সঙ্গে ডেট করব, অআ।’

‘কবে।’

‘কাল।’

‘কখন? কোথায়?’

‘ঢাকা মেডিকেলে আসেন।’

‘ঢাকা মেডিকেল! হসপিটাল! কত নম্বর ওয়ার্ডে?’

‘ওয়ার্ড না, কেবিন না, মরচুয়ারির সামনে। ঠিক চারটায় আমি থাকব।’

‘মরচুয়ারি!’

‘বাংলা, মর্গ। হি হি হি!’

‘মর্গের সামনে ডেট!’

আজ তবে দীপান্বিতার সঙ্গে দেখা হবে তার। আর একটু পর বের হয়ে যাবে সে। কার্তিকের গোধূলিবেলায় একটা মরচুয়ারির সামনে থাকবে। কখনো চিন্তা করেছিল নাকি?

সুতপাকে বলেছিল। সুতপা বিশ্বাস করেনি। দীপান্বিতা বিশ্বাস করবে, অহিদ গুহার দিনে ছিল মানুষের, মহাজাগতিক দিনেও থাকবে? কেউ না কেউ হয়ে থেকে যাবে কোথাও না কোথাও। দীপান্বিতা বিশ্বাস করবে এটা সম্ভব? বিশ্বাস না করলে ভালো। বিশ্বাস করলে? মুশকিল হয়ে যাবে। কী মুশকিল?

অহিদের ঘরে কিছু টিকটিকি থাকেন। তাদের একজন টিক টিক করলেন।

আচ্ছা, এই যে অহিদুজ্জামান আলম টিপু বা অআ রুদ্র বা অহিদ, যে কিনা অনেক সময়ে ছিল, অনেক মানুষ ছিল, সে এ রকম ম্রিয়মাণ একজন অহিদুজ্জামান আলম টিপু হতে গেল কোন দুঃখে?

দুঃখে না, এমনি।

কত রকম জীবন মানুষের। অহিদুজ্জামান আলম টিপু পরে কী হবে? সে দেখা যাবে যথাসময়ে।

আচ্ছা, অহিদ এখন উঠবে। দেখা করতে যাবে দীপান্বিতার সঙ্গে। ডেট। হাওয়া দিল হঠাৎ। দূর বুড়িগঙ্গার ঘ্রাণ বাহিত হাওয়া। বুকভরে গেল অহিদের। এ সময় আজব নিশি ডাক দিল, ‘অহিদ।’

একবার ডাকল।

নিশির মতো আজব নিশিও একবার ডাকে।

অহিদ জানে তবু অহিদ শুনল।

রহস্যময় অহিদ। আর কেউ তাকে কখনো দেখেনি।

দীপান্বিতা তবে কাকে দেখল?

মিনিট বিশেক পরের ঘটনা। ঢাকা মেডিকেলের মরচুয়ারির সামনে দাঁড়িয়ে দীপান্বিতা এক অহিদকে বলল, ‘উইশ ইউ আ গুড ডেট, অআ।’

অহিদ হাসল।

‘হাসেন কেন আপনি? ডেট করা কি হাসির কথা নাকি? আম্মুকে আমি বলেছি।’

‘কী?’

‘এই যে আপনার সঙ্গে ডেট করব। শুনে আম্মু সেন্সলেস হয়ে আমার ওপর পড়ে গিয়েছিল। আমার পায়ের আঙুল মচকে গেছে জানেন?’

‘কী করে?’

‘আরে! আমার আম্মু তো একটা হেভিওয়েট মহিলা না? তিন মণ ওজন। আঙুল যে ফ্র্যাকচার হয়ে যায়নি!’

অহিদ দেখল। সুতপার মতো না, আরেক রকম, চোখের মণি রিমঝিম দীপান্বিতারও। রিমঝিম দুই চোখের মণিতে কার্তিকের সন্ধ্যার ছায়া পড়েছে।

‘আপনি আমাকে কোথায় নিয়ে যাবেন, অআ?’

দীপান্বিতা বলল। নাকি আর কেউ? সেই গুহার দিনের আর কেউ? রোম, ট্রয় কি মিসরের আর কেউ? বিম্বিসার, ব্রিটিশ যুগের কেউ? মাচ্চুপিচু, মেক্সিকোর কেউ?

অযুত নিযুত বছর পর একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ার মতো অহিদের চোখের মণিও রিমঝিম করে উঠল। অহিদ কিংবা কবি অআ রুদ্রর। সে বলল, ‘তুমি কে দীপান্বিতা?’

দীপান্বিতা হাসল, ‘আপনি কে, বদমাশ অআ?’

এই দীপান্বিতা এবং অহিদকে এখন মরচুয়ারির সামনে আর কেউ কি দেখছে?

না মনে হয়।

এ সময়ের কেউ আর কখনো তাদের দেখেনি।

রহস্যময়ী দীপান্বিতাকেও আজব নিশি ডাক দিয়েছিল।