১.

আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করেছিলেন এবং ব্যর্থ হয়ে ফিরে গিয়েছিলেন—তথ্যটা যতটা সুবিদিত, সেই আক্রমণের সময় তিনি ভারতবর্ষের একাংশে যে গ্রিক সাম্রাজ্যের বীজ বপন করে গিয়েছিলেন, সেটা খুব বেশি প্রচারিত নয়। সেই বীজ থেকে পরবর্তী শতকগুলোয় উত্তর ভারত থেকে শুরু করে সমগ্র মধ্য এশিয়ার বিশাল এলাকাজুড়ে যে মহীরুহের সৃষ্টি হয়েছিল সেটাই ছিল ইন্দো-গ্রিক সাম্রাজ্য। স্বয়ং প্রখ্যাত ভারতীয় সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে গ্রিকদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। সেই সূত্রে তার উত্তরপুরুষ সম্রাট অশোকও আংশিকভাবে গ্রিক বংশোদ্ভূত বলে গবেষকরা ধারণা করেন। কিন্তু ইন্দো-গ্রিক সাম্রাজ্যকে উত্কর্ষের চূড়ান্তে নিয়ে গিয়েছিলেন যে গ্রিক শাসক, ইতিহাসে তিনি মেনান্দার বা মিলিন্দা নামে পরিচিত।

মেনান্দারের জন্ম হয়েছিল ‘ককেশাসের আলেকজান্দ্রিয়া’ বলে খ্যাত কালাসি নামক গ্রামের এক গ্রিক পরিবারে। জায়গাটি বর্তমানে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে। আবার প্রাচীন গ্রন্থ মিলিন্দা পানহার সূত্রে জানা যায় তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন পাকিস্তানের পাঞ্জাবের আধুনিক শিয়ালকোটের কাছে সাগালা নামক স্থানে। মেনান্দার প্রথমে ব্যাকট্রিয়ার রাজা ছিলেন। পাঞ্জাব জয় করার পর তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে পশ্চিমে কাবুল নদ উপত্যকা থেকে পূর্বে রবি নদী এবং উত্তরে সোয়াত নদী উপত্যকা থেকে আরাকোশিয়া (হেলমান্দ প্রদেশ) পর্যন্ত একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রাচীন ভারতীয় লেখকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি দক্ষিণে রাজস্থানে এবং গঙ্গা নদীর অববাহিকায় পাটালিপুত্রে (পাটনা) অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। তার দুর্দান্ত সাফল্যের ইঙ্গিত করতে গিয়ে গ্রিক ভূগোলবিদ Strabo বলেছিলেন—

The Greeks who caused Bactria to revolt grew so powerful on account of the fertility of the country that they became masters, not only of Ariana, but also of India, as Apollodorus of Artemita says: and more tribes were subdued by them than by Alexander— by Menander in particular (at least if he actually crossed the Hypanis towards the east and advanced as far as the Imaüs), for some were subdued by him personally and others by Demetrius, the son of Euthydemus the king of the Bactrians; and they took possession, not only of Patalena, but also, on the rest of the coast, of what is called the kingdom of Saraostus and Sigerdis. In short, Apollodorus says that Bactriana is the ornament of Ariana as a whole; and, more than that, they extended their empire even as far as the Seres and the Phryni.(?Strabo, Geographica)

২.

ইন্দো-গ্রিক রাজ্য বা গ্রিকো-ইন্ডিয়ান সাম্রাজ্য হলো এমন এক হেলেনীয় রাজ্য, যার বিস্তৃতি ছিল মধ্য এশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে। বর্তমান আফগানিস্তান আর ভারতীয় উপমহাদেশের পাঞ্জাবের সীমান্তবর্তী কিছু অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। খ্রিস্টপূর্বের শেষ দুই শতাব্দী সময়জুড়ে ত্রিশেরও অধিকসংখ্যক রাজার শাসনাধীন ছিল এ সাম্রাজ্য। একুশ শতকে এসে খ্রিস্টপূর্ব যুগের সেই ইন্দো-গ্রিক সাম্রাজ্যের কোনো চিহ্ন পাওয়া কষ্টকর। বিবর্তিত হতে হতে তা বহু জাতি রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে গেছে।

ইন্দো-গ্রিক রাজারা সম্ভবত হেলেনিক যুগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন, কিন্তু তাদের সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়। ইন্দো-গ্রিক রাজ্যগুলো গ্রিক ও ভারতীয় ঐতিহ্যের এক মিশ্রণে গড়ে উঠেছিল। সেই রাজ্যের সেনাবাহিনী হেলেনীয় যুগের সবচেয়ে বৃহত্তম ও শক্তিশালী ছিল। তাদের রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করত এবং বুদ্ধের শৈল্পিক চিত্রকে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল তার প্রত্নতাত্ত্বিক নজির বিদ্যমান মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে। দুই শতাব্দীব্যাপী শাসনামলে ইন্দো-গ্রিক রাজারা গ্রিক ভাষা ও প্রতীকের সঙ্গে ভারতীয় ভাষা ও প্রতীকগুলোকে সংযুক্ত করেন, যা তাদের মুদ্রাগুলোর মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। নির্মাতারা গ্রিক ও ভারতীয় বিভিন্ন কলাকৌশলের মধ্যে সমন্বয় ঘটান, যা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোয় দেখতে পাওয়া যায়।

মধ্য এশিয়া থেকে ভারতবর্ষ পর্যন্ত ইন্দো-গ্রিক সাম্রাজ্যের সূত্রপাত ঘটেছিল, যখন ব্যাকট্রিয়ার রাজা প্রথম দেমাত্রিয়াস তার ভাই অ্যাপোলোডোটাস ও মেনান্দার নামে এক সেনাপতিকে নিয়ে ভারত আক্রমণ করেছিলেন। এই মেনান্দার পরবর্তীকালে ইন্দো-গ্রিক রাজাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। দেমাত্রিয়াস ১৮৩ খ্রিস্টপূর্বে হিন্দুকুশ পর্বতমালা অতিক্রম করে গান্ধার ও তক্ষশীলা দখল করেন। অতঃপর সিন্ধু নদের পাড়ে দখল করে নেন পাতালা নগর, যা তিনি দেমাত্রিয়াস নামে নতুন নামকরণ করেন। অ্যাপোলোডোটাস আরো এগিয়ে গিয়ে ভারুকাচাসহ গুজরাটের বন্দরসমূহ দখল করেন। তারপর গোয়ালিয়রের দিকে অগ্রসর হয়ে উজ্জয়ন শহর অধিকার করেন। ওদিকে একই সময়ে সেনাপতি মেনান্দার গঙ্গা অববাহিকায় অভিযান চালিয়ে পাটালিপুত্র বিজয় করে ফেলতে সক্ষম হন। পাটালিপুত্রকে তিনি বেশি দিন দখলে রাখতে না পারলেও সেই স্বল্প সময়েই তিনি যে সামরিক প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা পরবর্তীকালে দক্ষিণ দিকে তার সাম্রাজ্য সম্প্রসারিত করতে সাহায্য করেছিল।


৩.

ইন্দো-গ্রিক রাজ্যগুলো হেলেনীয় ধরনের প্রশাসন চালু করেছিল। এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সেনাবাহিনী ও গ্রিক কলোনির ওপর নির্ভরতা। রাজা ছিলেন রাজ্যের সর্বোচ্চ শাসক। রাজাকে যখন দূরের কোনো অভিযানে যেতে হতো, তখন তিনি সাধারণত তার ভাই, পুত্র বা ঘনিষ্ট কোনো আত্মীয়কে রাজ্য শাসনের ভার দিয়ে যেতেন। তবে চূড়ান্ত ক্ষমতাধর হিসেবে রাজাকে বিদেশী আগ্রাসনের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য সেনাবাহিনীর ওপরই নির্ভর করতে হতো। সেনাবাহিনী গ্রিকদের জন্য নির্মিত কলোনিগুলোর নিরাপত্তা বিধান করত। সুদূর গ্রিসে নগরের সুরক্ষার জন্য যে ব্যবস্থা নেয়া হতো, এখানেও সেই একই কায়দায় ব্যবস্থা নেয়া হতো। এই টুকরো টুকরো কলোনিগুলো গ্রিক শাসকের স্বার্থ রক্ষার পিলার হিসেবে ব্যবহূত হতো। মেনান্দারই এ ধরনের নগরের ধারণাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এটা খুব আশ্চর্য ব্যাপার যে ইন্দো-গ্রিক রাজ্যগুলো অন্যান্য হেলেনীয় রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সুদূর ভারতবর্ষে থেকেও গ্রিক সংস্কৃতির মূল বৈশিষ্ট্যগুলো ধরে রেখেছিল। পাশাপাশি তারা ভারতীয় সংস্কৃতি দ্বারা এবং বিশেষত বৌদ্ধধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন, যা তাদের রাজারা পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। মেনান্দার, বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হন বা না হন, এটা নিশ্চিত প্রমাণিত যে তিনি বৌদ্ধধর্মকে সমর্থন ও সুরক্ষিত করেছিলেন। সেই সময়ে অনেক গ্রিকই এই ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল। গ্রিক উপস্থিতির আগে বুদ্ধকে মানব রূপ দিয়ে চিত্রিত করা হয়নি, বরং প্রতীকীভাবে দেখা হতো। ইন্দো-গ্রিকরাই এটি পরিবর্তন করেছিল এবং বুদ্ধকে মানব মূর্তিতে উপস্থাপন করতে শুরু করেছিল। তারা অ্যাপোলোডোটাস ও হারকিউলিসের মতো গ্রিক দেবদেবীদের মূর্তিগুলোকে এর অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করেছিল। সিনকিয়াঙের মাধ্যমে এই গ্রিকো-বৌদ্ধ শিল্পটি চীন, কোরিয়া ও জাপান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।

মেনান্দার ভারতবর্ষে বিখ্যাত হয়ে আছেন ‘মিলিন্দা পানহা’ নামক একটি বিখ্যাত গ্রন্থের কারণে। যেটি ইংরেজিতে Questions of Milinda নামে অনুবাদ করা হয়েছিল (মেনান্দারের ভারতীয় নাম মিলিন্দা)। সেই গ্রন্থের অন্যতম প্রতিপাদ্য বিষয় হলো মেনান্দার এবং বৌদ্ধ ভিক্ষু নাগসেনের মধ্যেকার সংলাপগুলো। গ্রন্থটি পাঠ করলে সক্রেটিসের সংলাপের কথা মনে পড়ে যায়, যেখানে অনেকগুলো রূপক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিল। গ্রন্থটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে ধর্মশাস্ত্রের মতো সম্মানিত। মেনান্দার তার ভারতীয় প্রজাদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিলেন এবং তার মৃত্যুর পর তার রাজ্যের শহরগুলোয় কাড়াকাড়ি পড়ে গিয়েছিল কোথায় তার শেষ শয্যা হবে সেই বিষয়ে। তার শেষ কৃত্যটি বুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পরে তার দেহাবশেষের ছাইগুলো তাদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়েছিল স্মৃতিসৌধে রাখার জন্য। অনেকের মতে, মেনান্দার যে সত্যিই বৌদ্ধ ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছিল এটি তার একটি প্রমাণ।

মিলিন্দা পানহা মূলত তার জীবনের নানা কীর্তি বিষয়ে লিখিত। সেখানে তার বহুমুখী গুণাবলির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয়েছে—

ভারতের সাগালা শহরের রাজা, মিলিন্দা নাম তার। তিনি সুসংগঠিত, জ্ঞানী, দক্ষ ও একজন বিশ্বস্ত পর্যবেক্ষক। তিনি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিক সময়ে তার নিজস্ব পবিত্র স্তবক দ্বারা নির্দেশ দিয়ে সব অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে সক্ষম। তিনি কলা ও বিজ্ঞান সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখেন। দর্শন, গণিত, আইন, সংগীত এবং চিকিৎসাবিদ্যাসহ অসংখ্য বিষয়ে পারদর্শী। এছাড়া তিনি যা পড়েছেন তার মধ্যে আছে চারটি বেদ, পুরাণ, ইতিহাস, জ্যোতির্বিজ্ঞান, যাদু, রণকৌশল ও কবিতা। এক কথায় পুরো উনিশ কলায় তিনি পারদর্শী ছিলেন। তার সমকক্ষ হওয়া কঠিন, তাকে অতিক্রম করা অসম্ভব। বিভিন্ন বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাতাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে স্বীকৃত তিনি। যেমন তার জ্ঞান, যেমন তার দেহ, যেমন তার গতি ও বীরত্ব, সমগ্র ভারতবর্ষে মিলিন্দার তুলনা করার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি। তিনি সম্পদ ও সমৃদ্ধিতে পরাক্রমশালী ছিলেন এবং তার সশস্ত্র বাহিনীর সংখ্যাও অপরিমেয়।

৪.

মেনান্দার খ্রিস্টপূর্ব ১৬৫ থেকে ১৩০ সাল পর্যন্ত রাজ্য শাসন করেছিলেন। মেনান্দারের মৃত্যুর পর ইন্দো-গ্রিক সাম্রাজ্যের একক সত্তাটি ভেঙে পড়েছিল। তার রাজ্যটি বেশ কয়েকটি ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। বিভক্ত রাজ্যগুলো পরস্পরের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুদ্ধ বিগ্রহে লিপ্ত হয়ে গেলে কয়েক প্রজন্ম পর তাদের অতীত শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। মেনান্দারের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী আগাথোক্লিয়া তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে স্ট্রোটোর প্রতিনিধি হিসেবে শাসন করেছিলেন কিছুকাল। তবে তিনি তার স্বামীর রাজ্যের একাংশ শাসন করতে পেরেছিলেন। বাকি অংশটা ভাগ হয়ে গিয়েছিল বিভিন্ন শাসকদের কাছে। স্বামীর মতো তিনি যতটা যোগ্য শাসক ছিলেন তার ছেলে ততটা যোগ্য ছিল না। মেনান্দারের পুত্র স্ট্রাটো যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়, তখন সে অযোগ্য প্রমাণিত হয় এবং পদচ্যুত হয়।

মেনান্দার রাজবংশের পরবর্তী উল্লেখযোগ্য সদস্য, দ্বিতীয় অ্যাপোলোডোটাস যিনি খ্রিস্টপূর্ব ৮৫ থেকে ৬৫ সাল পর্যন্ত শাসন করেছিলেন—তিনি একজন দক্ষ শাসক ছিলেন এবং তার রাজ্যে কিছুটা স্থিতিশীলতা ও কর্তৃত্ব পুনরুদ্ধার করেছিলেন। দ্বিতীয় অ্যাপোলোডোটাস সিথিয়ানদের কাছ থেকে তক্ষশিলা উদ্ধার করে প্রমাণ করেছিলেন যে তিনি একজন দক্ষ সেনাপতিও বটে। দ্বিতীয় অ্যাপোলোডোটাস ছিলেন সর্বশেষ শক্তিশালী ইন্দো-গ্রিক শাসক। তার শাসনামলের পরে ইন্দো-গ্রিক সাম্রাজ্যের শক্তি দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে।

উত্তর দিক থেকে আসা আক্রমণকারীদের (যার মধ্যে প্রধান ছিল সিথিয়ানরা) হাতে তার রাজ্য হাতছাড়া হতে থাকে। রাজা দ্বিতীয় জুইলো নিজেকে কোনোমতে রক্ষা করেন অ্যাপোলোডোটাসের রাজ্যের পূর্ব অংশে আশ্রয় নিয়ে। এভাবে মেনান্দারের হাতে নির্মিত ইন্দো-গ্রিক সাম্রাজ্যটি ১০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কোনোমতে টিকে ছিল। তারপর ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হয়ে যায়।

সবশেষে মেনান্দারের প্রতিরক্ষা কৌশলের ব্যাপারে একটি ছোট্ট উদাহরণ ‘মিলিন্দা পানহা’ থেকে উদ্ধৃত করা হলো। সংলাপটি ছিল সম্রাট মেনান্দার এবং বৌদ্ধ ভিক্ষু নাগাসেনার মধ্যে:

নাগাসেনা: হে রাজা, কখনো কি এমন ঘটেছে যে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজারা আপনার শত্রু ও প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে?

মেনান্দার: হ্যাঁ, অবশ্যই

নাগাসেনা: আমার ধারণা, আপনি তখন পরিখা খনন করান, প্রাচীর নির্মাণ করান, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বসান, দুর্গ তৈরি করান এবং খাদ্যশস্য মজুদ করতে শুরু করেন।

মেনান্দার: মোটেও না। এগুলো তো আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে আমার।

নাগাসেনা: তা না হলে আপনি নিশ্চয়ই তখন যুদ্ধের হাতি ও ঘোড়া চালনা শেখেন, যুদ্ধের রথের ব্যবহার এবং তীরন্দাজের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার কাজে নিয়োজিত হন?

মেনান্দার: একেবারেই না। আমি তো অনেক আগেই ওসব ব্যাপার শিখে নিয়েছি।

নাগাসেনা: কিন্তু কেন আপনার এতসব প্রস্তুতি?

মেনান্দার: ভবিষ্যতের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে।

নাগাসেনা: কিন্তু মহান রাজা, সাম্রাজ্যের যে অবস্থা বর্তমান, তাতে ভবিষ্যতের বিপদ বলে আর কিছু কি অবশিষ্ট আছে?

মেনান্দার: তা এখন একেবারেই নেই সম্মানিত মহাত্মন।

নাগাসেনা: তার মানে আপনি এতই চতুর যে অনাগত বিপদের সব সম্ভাবনাকে মুছে ফেলেছেন।

মেনান্দার: ভালো বলেছেন প্রিয় নাগাসেনা। আপনার সুরসিক জবাবের কোনো তুলনা হয় না।

(Milinda Panha, Book-III,Ch-7)

 

তথ্যসুত্র:

১. Indo-Greeks—The Greek Buddhist Kings by Christos Antoniadis

২. WHO WERE THE INDO-GREEKS? by Frank Lee Holt

৩.        The Questions of King Milinda- Translation by T. W. Rhys Davids

৪. Indo-Greek, Indo-Scythian and Indo-Parthian coins in the Smithsonian Institution by Osmund Bopearachchi

 

হারুন রশীদ: প্রাচীন সভ্যতা ও ইতিহাস অনুসন্ধানী লেখক