মহাবীর আলেকজান্ডার বিজিত রাজ্যে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেননি। সম্ভবত তিনি তা চানও নি, চেয়েছেন বীরত্ব প্রতিষ্ঠা করতে, বিজিত রাজ্য ফিরিয়ে নিয়ে মহত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে। তিনি সফল হয়েছেন, তার সাফল্য নিয়ে দুই হাজার বছর ধরে অভিসন্দর্ভ রচিত হয়ে চলেছে। আরিয়ান (দ্য ক্যাম্পেইনস অব আলেকজান্ডার ইন গ্রিক), প্লুটার্ক (লাইফ অব আলেক্সজান্ডার), ডিওডোরাস (লাইব্রেরি অব ওয়াল্ড হিস্ট্রি), কার্টিয়াস (হিস্টোরিয়া আলেকজান্দ্রি মাগনি) এবং জাস্টিন (দি এপিটোম অব দ্য ফিলিপ্পি হিস্ট্রি অব পোম্পিয়াস ট্রোগাস) পাঁচটি আকর গ্রন্থে আলেকজান্ডারকে বীরত্বে ও মহত্ত্বে অমরত্ব দেয়া হয়েছে। সিংহ দরজা ভেঙে তিনি ভারতে এসেছেন, বিজয় করেছেন, পারস্য থেকে রোকসানাকে সাম্রাজ্ঞী ও শাসক বানিয়েছেন। খ্রিস্ট জন্মের ৩২৬ বছর আগে ভারত অভিযান করেছেন। বিজয়ের আকাঙ্ক্ষা ফুরায়নি বলে তিনি স্থিতধি হতে পারেননি। তাকে ফিরে যেতে হয়। কারণ হিন্দুকুশ পেরিয়ে আসা গ্রিক বাহিনী একটি-দুটি করে রাজ্য জয় করতে করতে বিয়াশ নদীর তীরে পৌঁছে ক্লান্ত পরিবার পরিজনের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন সৈন্যরা অস্ত্র ত্যাগ করে। যবন উচ্ছেদে জীবন বাজি রাখা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটকের রানী ঐলবিলার অন্তরের হাহাকার ধ্বনিত হয় যবনরাজ আলেকজান্ডার তাকে ফেলে চলে যাচ্ছিল। অথচ ঐলবিলাই দেশীয় রাজকুমারদের সংঘবদ্ধ করে বলেছিলেন, ‘যে রাজকুমার যবনদিগের সহিত যুদ্ধে সর্বাপেক্ষা বীরত্ব প্রকাশ করবেন, আমি তারই পাণি গ্রহণ করব।’

গ্রিসের আলেকজান্ডার ভারতে এসে হয়ে গেলেন সেকান্দর শাহ, ঐলবিলার ‘সেকন্দর শা গ্রিকরা চিহ্নিত হলো যবন হিসেবে আর তাদের ইন্দো-গ্রিক কিংডমের নাম হলো যবন রাজ্য। যবন বাংলা অভিধানের বিবরণীতে প্রাচীন গ্রিক জাতি, যেকোনো অহিন্দু বা (ম্লেচ্ছ জাতি, বিধর্মী)। যবন জাতির লিপিগুলো তাই বেনামি।

ইন্দো-গ্রিক কিংডম বা যবন রাজ্যে যবনদের রাজত্বকাল প্রায় দুইশ দশ বছর। শুরুটা রাজা প্রথম ডেমেট্রিয়াসকে দিয়ে।

আলেকজান্ডারই প্রেমিকপ্রবর সেকান্দর শা

গ্রিক নৃপতি ভারত বিজয়ী আলেকজান্ডার যখন ৪০ হাজার সৈন্যের বিশাল বাহিনী নিয়ে হিন্দুকুশ পর্বত ডিঙিয়ে ভারতে আসেন এবং ক্ষুদ্র রাজ্যগুলোর বশ্যতা দাবি করেন অধিকাংশই শেষ পর্যন্ত বিনা যুদ্ধে বশ্যতা মেনে নেয়, কিন্তু বেঁকে বসেন পুরু।

রবীন্দ্রনাথ নন, ভারতের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ নিয়ে নাটক লিখেছেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর, তার ভাই, কাদম্বরীর স্বামী। সেই নাটকে আলেকজান্ডারকে প্রতিহত করতে রানি ঐলবিলা পাঞ্জাবের রাজকুমারদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন; ‘সেদিন গিয়ে আমি পাঞ্জাব প্রদেশস্থ সব রাজকুমারগণকে যবনদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে দিয়ে এসেছি। তারা সবাই বিতস্তা নদীর কূলে শিবির সন্নিবেশিত করে একত্রে সম্মিলিত হবেন, আমার নিকট অঙ্গীকার করেছেন। যতদিন না যবন আমাদের প্রিয় জন্মভূমি হতে একেবারে দূরীভূত হচ্ছে, ততদিন আমার আর আরাম নেই, বিশ্রাম নেই।’

রানি দেশপ্রেমে যতই আপ্লুত হোন না কেন, তিনি মহান বীর ‘সেকান্দর শা’ (আলেকজান্ডারের ভারতীয় নামায়ন সেকান্দর)-এর প্রেমেই পড়লেন। সেকান্দর যখন বিজিত রাজ্যের রাজা পুরুকে তার রাজত্ব ফিরিয়ে দিলেন, তার মহত্ত্ব ঐলবিলাকেও মোহিত করল। কিন্তু এই বীর তো ভারতবর্ষে থেকে যাওযার নন, স্বদেশ গ্রিস তাকে টানছে। তার জন্য এই বিরহী নারীর মুখে যে বিলাপ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর তুলে দিয়েছেন, তা যেমন স্মরণীয় তেমনি আলেকজান্ডার যে শুধু রাজ্যই জয় করেননি, নারীর মনও জয় করেছেন এই সত্যও তাতে প্রতিষ্ঠিত: ‘সেকন্দর শা, তোমার জন্য আমি দেশকে বলিদান দিলেম, বন্ধু-বান্ধবকে পরিত্যাগ করলেম, শেষে তুমি কিনা আমাকে এখানে ত্যাগ করে গেলে? আমার ভাই বন্ধু গেলে: মান গেল সম্ভ্রম গেল, তখন আমি শূন্য সিংহাসন নিয়ে কী করব? দেশ বিদেশে আমার কলঙ্ক রটে গেছে, এখন আমি কী করে ক্ষত্রিয়গণের নিকট, আমার প্রজাগণের নিকট মুখ দেখাব?’

আলেকজান্ডার যা পারেননি

আলেকজান্ডার জয় করেছেন, কিন্তু রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি, পেরেছেন ডেমেট্রিয়াস। অক্ষয় চৌহানের লেখার অনুস্মৃতি এই অধ্যায়টি:

খ্রিস্ট জন্মের ১৭০ বছর আগে তক্ষশীলা থেকে দুটি বিশাল সশস্ত্র বাহিনী বিখ্যাত শহর পাটালিপুত্র রওয়ানা হলো। একটি বাহিনী অনুসরণ করল পাঞ্জাব ও গাঙ্গেয় সমতলের পথ। অন্যটি সিন্ধু নদের পথ ধরে মালওয়া হয়ে এগোতে এগোতে দুই বাহিনী পাটালিপুত্রে মিলিত হলো। ভারতীয়দের কাছে তারা যবনরাজা দিমিতার সেনাবাহিনী। ব্যাকট্রিয়ান গ্রিক শাসক ডেমেট্রিয়াসকে ভারতীয়রা যবনরাজা দিমিতাই বলে থাকে।


মৌর্য সাম্রাজ্য ধসে পড়ল, শেষ মৌর্য শাসক বৃহদ্রথ মৌর্যকে হত্যা করে পুষ্যমিত্র সুংঘ ক্ষমতা দখল করলেন। রাজ্যে অরাজকতা চলছিল সুযোগ বুঝে ডেমেট্রিয়াস সেই সিদ্ধান্তই নিলেন, যা প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট—ভারতে একটি গ্রিক রাজত্ব স্থাপন করা।

ডেমেট্রিয়াসের সেনাবাহিনীর একটি অংশের নেতৃত্বে ছিলেন তার জেনারেল মেনান্দার, তিনি পাঞ্জাবের মধ্য দিয়ে এগিয়ে অযোধ্যা ও মথুরা তছনছ করে পাটালিপুত্র অধিকার করে নিলেন। জেনারেল অ্যাপোলোডোটাসের হাতে উজ্জয়ন আর ডেমেট্রিয়াসের হাতে তক্ষশীলা—ভারতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহর তখন গ্রিকদের হাতে।

কিছু সময়ের জন্য হলেও যবনরাজা দিমিতার স্বপ্ন পূরণ হলো। তিনি যে ভারতবর্ষের প্রভু হয়েছেন, তা দালিলিকভাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য হাতির পিঠে তার পাগড়ি পরা ছবি খোদাই করা মুদ্রা চালু করলেন—ভারতের জন্য এমন ছবিই ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার প্রতীক। ইতিহাসের এই বিস্মৃত অধ্যায়টি ইতিহাস গ্রন্থে ছিল না। তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে সংস্কৃত ব্যাকরণের পাঠ্যবই থেকে। সেই বই ঋষি পতঞ্জলির মহাভাষা, খ্রিস্ট জন্মের দুই শতক আগে প্রকাশিত।

যবন কারা? তারা কেমন করে ভারতের কেন্দ্রে পৌঁছে গেল?

আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট-এর ভারত আক্রমণ (খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭-৩২৫) সময় থেকে গ্রিসের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ বলে সাধারণভাবে বিশ্বাস করা হয়। ভারতীয় ঐতিহাসিক ও মুদ্রাতত্ত্ববিদ এ কে নারায়ণ ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত ইন্দো গ্রিকস গ্রন্থে বলেছেন, ইন্দো গ্রিক শাসকদের সম্পর্কে আমরা যা জানি বলে মনে করি তা মূলত তাদের মুদ্রার মাধ্যমে কিন্তু তিনি দেখিয়েছেন আলেকজান্ডারের আগমনের আগেই মধ্য এশিয়ায় গ্রিক বসতির সন্ধান মিলেছে। নারায়ণ মনে করেন পারস্যের শাসকরা গ্রিকদের তাদের সাম্রাজ্যের পূর্ব দিকের প্রান্তে নির্বাসিত করেছিলেন। তারা ছিলেন ব্যাকট্রিয়ান গ্রিক, ভারতীয়রা তাদের বলতেন যবন। হিন্দুকুশ পর্বতমালা ও আমু দরিয়ার মধ্যবর্তী অংশ আজকের আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের অংশই ব্যাকট্রিয়া নামে পরিচিত ছিল। আলেকজান্ডারের সঙ্গে যারা এসেছেন তারা হেলেনিস্টিক গ্রিক, তারা ব্যাকট্রিয়ানদের চেয়ে ভিন্ন।

লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে গ্রিকদের ভারত বিজয় গ্রিক পুরাণে ঠাঁই করে নিয়েছে। প্রাচীন গ্রিকদের বিশ্বাস ছিল মদের গ্রিক দেবতা দিওনিসাস পৃথিবী ঘুরে বেড়াতেন এবং মানুষকে মদ বানানো শেখাতেন। তার অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হচ্ছে ভারত সফর এবং অনেক বছর সেখানে অবস্থান। এ বিশ্বাসটি এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে বিজয়ী আলেকজান্ডার যখন সিন্ধু নদের তীরে নিশ্রা নামের একটি বসতিতে পৌঁছলেন, স্থানীয় অধিবাসীরা তার কাছে এগিয়ে এলেন এবং বললেন দিওনিসাসের সঙ্গে যারা ভারতবর্ষে এসেছিলেন তারা তাদেরই বংশধর।

আরো একটি গ্রিক পুরাণে ভারত জড়িয়ে আছে। তাতে বলা হয়েছে দেবতা জিওসের পুত্র হারকিউলিস ভারত জয় করেছিলেন। খ্রিস্ট জন্মের পর প্রথম শতকের গ্রিক ঐতিহাসিক স্ট্যাবো তার গ্রন্থ জিওগ্রাফিকাতে লিখেছেন, ভারতীয়রা এখনো বিদেশী শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়নি কিংবা কখনো ভারত আক্রান্ত বা বহিঃশত্রুর কাছে পরাস্ত হয়নি ব্যতিক্রম কেবল হারকিউলিস, দিওনিসাস ও জেনিডোনিয়ানরা। সম্ভবত এই পুরাণই আলেকজান্ডারকে ভারতের দিকে টেনে আনে। খ্রিস্ট জন্মের ৩২৩ বছর আগে আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর তার বিশাল সাম্রাজ্য তার জেনারেলদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়ে যায়। ভারত, মধ্য এশিয়া ও পারস্য সেলুকাস নিকাটরের দখলে চলে আসে। ৩০৫-৩০২ অব্দে সেলুকাস ভারত আক্রমণ করেন, উদ্দেশ্য চন্দ্রগুপ্তের দখলে চলে যাওয়া আলেকজান্ডারের দখলকৃত এলাকা ও সম্পদ উদ্ধার। তাদের যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ নেই, তবে যেহেতু হিন্দুকুশ, পাঞ্জাব ও আফগানিস্তানের অংশবিশেষ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যকে ছেড়ে দিতে হয়েছে, এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে সেলুকাস যুদ্ধে হেরে যান। শুধু তাই নয় সমঝোতায় বাধ্য হয়েছেন বলেই তার বোন হেলেনাকে চন্দ্রগুপ্তের কাছে বিয়ে দেন এবং মেগাস্থিনিসকে মৌর্য দরবারে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেন। ভারত নিয়ে রচিত গ্রন্থ ইন্ডিকার জন্য মেগাস্থিনিস খ্যাত হন এবং তখনকার ভারতের মনোমুগ্ধকর বর্ণনা তার গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন।

খ্রিস্ট জন্মের ২৫০ বছর আগে ব্যাকট্রিয়ার স্থানীয় গভর্নর ডিওডোটাস সেলুসিড রাজত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং স্বাধীনতা দাবি করেন। এ রাজত্বের প্রতিষ্ঠাতা সেলুকাস নিকাটর। ডিওডোটাস গ্রেকো-ব্যাকট্রিয়ান রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন করেন। একালের মানচিত্রে ব্যাকট্রিয়ার কোনো হদিস মিলবে না, তবে জায়গাটি মোটামুটিভাবে উত্তর আফগানিস্তানও তাজিকিস্তান মিলিয়ে হিন্দুকুশ ও পামির ঘেরাও অঞ্চল।

গ্রেকো ব্যাকট্রিয়ান রাজত্ব অত্যন্ত ধনী ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছিল, কারণ তাদের বাণিজ্য সফলতা ও আমুদরিয়ার অববাহিকার কৃষি জমির উর্বরতা। আফগান অভিজাত খান গোলাম সারওয়ার নাসের ১৯৬০-এর দশকে আবিষ্কার করেন—যবন রাজত্বে প্রতিষ্ঠিত শহর আল খানুম (চাঁদ বিবি), আলেকজান্দ্রিয়াকে এ নামে চিহ্নিত করা হতো—খনন থেকে প্রাপ্ত মুদ্রা একটি অবিশ্বাস্য ফিউশন চিত্র তুলে ধরেছে গ্রিসের সঙ্গে ভারতের মেলবন্ধনের। রাজা আগাথোক্লেসের টাকশাঁলে নির্মিত মুদ্রা (খ্রিস্টপূর্ব ১৯০-১৮০) পুরো ভারতীয় চৌকোণ শৈলীর এবং মুদ্রায় দেবদেবীর মূর্তি করা, মুদ্রাতত্ত্ববিদরা বের করেছেন মুদ্রায় খোদিত হয়েছে বিষ্ণু, শিব, বলরাম ও লক্ষ্মী। অশোকের মৃত্যুর পর একের পর এক দুর্বল শাসক ক্ষমতাসীন হয়ে মৌর্যদের পতন ডেকে আনলেন। খ্রিস্টপূর্ব ১৮০ অব্দে রাজা বৃহদ্রতা মৌর্য একটি সামরিক কুচকাওয়াজের সময় তারই জেনারেল পুষ্যমিত্র সুঙ্গর হাতে নিহত হন। এ অরাজকতার সুযোগ নিয়েই গ্রেকো ব্যাকট্রিয়ান শাসক ডেমেট্রিয়াস ভারত আক্রমণ করেন এবং মথুরা ও পাটালিপুত্রের মতো শহর অধিকার করে নেন। নিজের রাজত্ব প্রসার করতে করতে ডেমেট্রিয়াস ভারতের অনেক গভীরে ঢুকে পড়েন এবং রাজধানী তক্ষশীলার (তখনকার পেশোয়ারের নিকটবর্তী) উল্টোদিকে নদীর তীরে সিরকাপে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন এবং গ্রিক নগরের আদলে পরিকল্পিতভাবে নগর প্রতিষ্ঠা করেন। হিপ্পোডেমিয়ান ‘গ্রিড প্লান’ অনুসরণ করে একটি প্রধান অ্যাভিনিউ ও ১৪টি সমান্তরাল সড়কে শহরটি বিস্মৃত করেন। যবনদের হাত ধরেই ভারত প্রবেশ করে আধুনিক নগরীতে।

পারস্যের সাক্যদের আক্রমণে ইন্দো-গ্রিক যবন রাজত্বের সমাপ্তি ঘটে, তবে ততদিনে ভারত ও পারস্যের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে হলেও গ্রিকরা স্থায়ী বসতি স্থাপন করেছে।

ভারতে গ্রিক শাসনের অবসান ঘটলেও গ্রিক সভ্যতা পৃথিবীকে যেমন সমৃদ্ধ করেছে, অনপনেয় ছাপ রেখে গেছে সারা পৃথিবীতে, ভারতেও তার প্রভাব স্পষ্ট। শিল্প, স্থাপত্য, সাহিত্য, ক্রীড়া, মুদ্রা, নগর পরিকল্পনা, সরকার গঠন এবং গণতন্ত্র—আধুনিকতার সবগুলো উপাদানেই গ্রিক প্রভাব স্পষ্ট। ভারতবর্ষে ঘটেছে গ্রহণ ও প্রদান দুটোই।

 

এমএ মোমেন: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা