আইজ্যাক আসিমভঃ

‘শিল্পবিপ্লব লিপিবদ্ধকারীদের সবচেয়ে কাছের মানুষ হিসেবে আমরা আইজ্যাক আসিমভকে ধরে নিতে পারি’—ইয়াং রিডার্স রিভিউয়ে প্রফেসর আইজ্যাক আসিমভের বই সম্পর্কে ছোট-বড় শিক্ষার্থীদের কাছে এভাবেই বলা হয়েছে। একজন মানুষ কী করে এত অসম্ভব কিছু তথ্য জোগাড় করে, নতুন করে সাজিয়ে পাঠকের কাছে উপস্থাপন করতে পারেন, এটা একেবারে অবাস্তব। গ্রিকদের বিষয়ে তার বই সেই মাইসেইনিয়ান সময় থেকে শুরু করে আজকের দিন পর্যন্ত পুরো সময়টাকে ধরতে পেরেছে—বলা যেতে পারে চার হাজার বছরের ইতিহাস। অবশ্য এটা বলা যেতেই পারে যে এত লম্বা একটা সময়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা করা সম্ভব নয়, তাই কেবল বিশেষ ব্যাপারগুলোই তুলে ধরা হয়েছে। তবে ইতিহাসের সত্যতা অটুট রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে আর গ্রিক সংস্কৃতির যে মর্যাদা, তা অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। 

এ বইয়ের মূল সুবিধা হলো গ্রিস সম্পর্কে যত বই আছে, তার মধ্যে তরুণ পাঠকদের কাছে বইটি অন্য অনেক বইয়ের চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারে, কারণ একটি মাত্র বইয়ে এর বিপুল তথ্যের সমাহারের জন্য। এখানে ‘বিশাল রোমাঞ্চ’ বলতে যা বোঝানো হয়েছে, তা হলো মানুষের মনস্তত্ত্বের রোমাঞ্চ। গ্রিক সভ্যতা শুরু থেকেই আমাদের জীবনের নানা দিকে আলোকপাত করেছে। পশ্চিমা সভ্যতার কাছে গ্রিক সংস্কৃতির বিজয়, গ্রিক জাতির পরাজয়ের পরেও অর্থাৎ তাদের রাজনৈতিক ও সেনাবাহিনীর হারের পরেও, বিভিন্ন অবস্থা দর্শনে, মানুষের মাহাত্ম্যে এবং ঘটনা পর্যালোচনা করলেই আন্দাজ করা যায় গ্রিকদের ভয়ানক কৃতিত্ব। আসিমভের চমকপ্রদ বর্ণনা—বিজ্ঞান, ইতিহাস সম্পর্কিত বিজ্ঞান ও ইতিহাসের কিংবদন্তি সম্পর্কে এবং কল্পকাহিনী লেখক ও একই সঙ্গে শিক্ষক হিসেবে তার অভিজ্ঞতা—দুয়ে মিলে তাকে চমত্কার অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে; তিনি জানেন কী করে একজন পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে হয় আর এটাও জানেন কী উপায়ে সেই মনোযোগ ধরে রাখা যায়।

আইজ্যাক আসিমভ চিকিৎসা এবং প্রাপ্তবয়স্ক পাঠকদের জন্য বিজ্ঞানবিষয়ক বইসহ ষাটের বেশি বই রচনা করেছেন। ডক্টর আসিমভ বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা বিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন।

‘রোমান প্রজাতন্ত্র’ বই সম্পর্কে

পশ্চিমা সভ্যতা দর্শন ও নন্দনতত্ত্বে প্রেরণা পাওয়ার জন্য গ্রিসের দিকে তাকিয়ে থাকে। সত্যি বলতে কি, এখনো সেখানে রোমানদেরই আধিপত্য, যারা চিরকালের জন্য আমাদের জীবনযাপন বদলে দিয়েছে, ন্যায়ের আদর্শ তৈরি করেছে, সরকার গঠন থেকে শুরু করে শান্তি ও সুবিচারের প্রতি সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে কাজ করছে।

রোমান প্রজাতন্ত্র তার সৎ জীবনযাপন, সাহস, নৈতিকতা আর উপযুক্ত বিচার ইত্যাদি গুণের কারণে নিজ নিজ প্রজাতন্ত্রের আদর্শ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। আর রোমান প্রজাতন্ত্রের সাহসী জনগণ তথা সৈনিক (শেষের দিকের রোমান ঐতিহাসিকরা যে মনীষীদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে গেছেন) আমাদের পথিকৃৎ জ্ঞানীদের জ্ঞান বিকাশের উৎস ছিলেন।

এ বইয়ে আইজ্যাক আসিমভ ছোট্ট এক উদীয়মান সভ্য জাতির কথা বলেছেন, যাদের স্বপ্নের পাশাপাশি অর্জনটাও ছিল অসামান্য। উদ্ধত, নির্ভীক আর ভয়ানকভাবে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি, রোমানরা ইতালীয় উপদ্বীপ অঞ্চলের ৫০০ বছরের ইতিহাসে ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী ও অদম্য জাতি। আদিকাল থেকে মানুষের ইতিহাসে রোমান সাম্রাজ্যের সময়টাই ছিল একমাত্র সময়, যখন কিনা পশ্চিমারা সুখে-শান্তিতে ছিল।

সাম্রাজ্য বৃদ্ধির তীব্র আকুতি পর্বতে ও দূরবর্তী সমতল ভূমিতে অসংখ্য যুদ্ধের জন্ম দিয়েছে, সৃষ্টি করেছে অসাধারণ বীরোচিত সব কাহিনী। এমনকি রোমান সিনেট কিংবা সেনাবাহিনীতেও প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নাটকীয় পরিবর্তন, কৌতূহল উদ্রেগকারী রাজনীতিও ছিল রোমান প্রজাতন্ত্রের শক্তিশালী দিক।

ডক্টর আসিমভের গ্রিসের ইতিহাস বই সম্পর্কে বলতে গিয়ে হর্ন বুক বলেছিলেন, ‘আসিমভ এমন একজন লেখক, যিনি যেকোনো বিষয় তুলে নিয়ে লেখা শুরু করলেই তাতে প্রাণসঞ্চার করতে পারেন আর লেখায় জ্ঞানগর্ভ বিষয়ের অবতারণা করার জন্য তার লেখার প্রতি বরাবরই মানুষের আগ্রহ দেখতে পাওয়া যায়। সেইভাবে চিন্তা করলে এ বইয়ের গুরুত্ব তার অন্য যেকোনো বইয়ের তুলনায় কম নয়, আর এর সাবলীলতা ও স্পষ্টতা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য।’

এ বইয়ের পরেও তিনি রোমের ইতিহাস উদ্ঘাটনে যেসব কাজ করে গেছেন, তা-ও যথেষ্ট প্রশংসার দাবিদার। এ বইয়ের কাহিনী রোমের সবচেয়ে বিজয়োন্মুখ সময়ে গিয়ে শেষ হয়। বিশাল সাম্রাজ্যে এর পরের চমকপ্রদ সব কাহিনী এখনো না বলাই রয়ে গেছে।     

‘রোমান প্রজাতন্ত্র’ বই থেকে একটি অংশের অনুবাদ :   

রোমের পত্তন

রোমের পত্তন এবং এরও আগের আনুষঙ্গিক ইতিহাস রহস্যের আড়ালে এমনভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে আছে যে তা হয়তো কখনই প্রকাশিত হবে না।

যা-ই হোক, পরের বছরগুলোয় রোম যখন পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, রোমের ইতিহাসবিদরা রোমের পত্তনের ব্যাপারে মজার মজার সব কাহিনী নিয়ে হাজির হলেন, রোমের শুরুর দিনগুলোর আকর্ষণীয় সব ঘটনার বর্ণনা থাকল তাতে। এখন পর্যন্ত সেই ইতিহাসবিদরা এতটাই বিখ্যাত যে আমি তাদের প্রতি পদে পদে স্মরণ করি, করতে থাকব, যদিও আমি নিশ্চিত যে সেসব কাহিনীর বেশির ভাগই পৌরাণিক কল্পকাহিনী।

রোমানরা যখন তাদের কল্পকাহিনীগুলো বাড়িয়ে চড়িয়ে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চেষ্টায় ব্যস্ত ছিল, গ্রিক সভ্যতার স্বর্ণযুগ ততদিনে গত হয়েছে, কিন্তু তখনো গ্রিক সভ্যতার অতীত গৌরবের কথা প্রতি মুহূর্তে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা হতো। গ্রিক সভ্যতার পথে গৌরবের প্রাচীন ইতিহাস হলো ট্রোজান যুদ্ধ, আর সেই যুদ্ধ এমন একটা সময়, যেখান থেকে রোমান ইতিহাসবিদরা নিজেদের ইতিহাস শুরুর প্রয়াস পায়।

ট্রোজান যুদ্ধের সময়ে গ্রিক সেনাবাহিনী এশিয়া মাইনরের এইগান সাগরের উত্তর-পশ্চিম সৈকত পেরিয়ে চলে গেল, যেখানে তখন ছিল বিখ্যাত শহর ট্রয়। বহুদিন ধরে সেই শহর দখলের প্রচেষ্টায় থাকা গ্রিকরা একবার সত্যিকার অর্থেই দখল নিয়ে নিল আর পুরো শহরটা পুড়িয়ে দিল।

সেই পুড়তে থাকা শহর (যেমনটা বিভিন্ন কাহিনীতে বর্ণিত হয়েছে) থেকে পালিয়ে বাঁচা ছিল সবচেয়ে সাহসী ট্রোজান কিংবদন্তি এইনিয়াসের সবচেয়ে সাহসী পদক্ষেপ এবং বড় সাফল্য। আরো কিছু উদ্বাস্তু নিয়ে তিনি ২০টি জাহাজে করে সমুদ্রে যাত্রা করলেন, বেরিয়ে পড়লেন নতুন শহরের পত্তন করার উদ্দেশ্যে, যেখানে গ্রিকরা তাদের তাণ্ডব চালিয়ে আগেই ধ্বংস করেছে, সেসব জায়গার কোথাও।

বহু নতুন জায়গা ঘুরে তিনি আফ্রিকার উত্তর সমুদ্রসৈকতের এক শহরে গিয়ে উপস্থিত হলেন, যেখানে তখন সবে কার্থেজের পত্তন হয়েছে, রানী ডিডো তখন সেই শহরের নেতৃস্থানীয়। রানী ডিডো সুপুরুষ এইনিয়াসের প্রেমে পড়ে যান। কিছুদিনের জন্য ট্রোজানরা আফ্রিকায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, ডিডোকে বিয়ে করে এইনিয়াস কার্থেজের রাজা হিসেবে দিন কাটানোকেই তখন শ্রেয় মনে করেন।

যদিও পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, দেবতারা জানতেন যে এই ইচ্ছা তার ভাগ্যে লেখা ছিল না। দেবতারা তাকে একজন প্রতিনিধি পাঠান, প্রতিনিধি এ নির্দেশ নিয়ে আসে যে এইনিয়াস যেন জায়গাটা দ্রুত ছেড়ে দেন। এইনিয়াস বরাবর দেবতাদের মেনে চলতেন, তাই রানী ডিডোকে না জানিয়েই তাড়াহুড়ো করে কার্থেজ ত্যাগ করেন। বেচারা রানী নিজেকে পরিত্যক্ত মনে করেন, তারপর বেদনায় নিজেকে হত্যাও করেন।

এইনিয়াসের কাহিনীর এ পর্যায়টা সবচেয়ে আবেগের আর রোমের লোকরাও সেই আবেগে হাবুডুবু খেয়েছে, কারণ রোমের প্রাথমিক ইতিহাসের সঙ্গে কার্থেজের যোগসূত্র স্থাপন করা হয়েছে সেখানে। ডিডোর সময়ের এক শতাব্দী পরে রোম আর কার্থেজের মধ্যে তুমুল লড়াই লেগে যায়। সেই যুদ্ধে কার্থেজ হার স্বীকার করে, তাই এসব দেখেশুনে মনে হয় কার্থেজের শাসক যেন রোমের মানুষের প্রেমে প্রাণ দিয়েছিল। কার্থেজ রোমের কাছে কি ভালোবাসায়, কি যুদ্ধে—দুটোতেই হেরে গেল।

যা-ই হোক, এর কোনোটাই আদতে পৃথিবীতে হয়েছে বলে মনে হয় না, এমনকি কার্থেজ ও এইনিয়াসের কোনো দিন কোনো অস্তিত্ব থাকলেও। বাস্তব হলো ট্রোজান যুদ্ধ খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ সালে সংঘটিত হয়েছিল এবং কার্থেজ শহরের পত্তন সম্ভবত এর প্রায় ৪০০ বছর পরে। সত্যিকার অর্থে ভাবলে এ গল্পটি এমন যে কলম্বাস আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়ার জন্য রওনা দিলেন আর মাঝপথে ইংল্যান্ডে বিশ্রাম নেয়ার জন্য দাঁড়ালে রানী ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়ে গেল।

এসব পৌরাণিক কাহিনী নিয়ে আলাপ বন্ধ থাক। এইনিয়াস কার্থেজ শহর ছেড়ে আসার পরে সোজা দক্ষিণ-পূর্ব সৈকত বরাবর রওনা দেন, যেখানে ল্যাটিনাস নামে একজন রাজার রাজত্ব ছিল। রাজার নামেই সে রাজ্য, রাজ্যের মানুষ ও ভাষার নাম দেয়া হয়েছিল।

এইনিয়াস ল্যাটিনাসের কন্যাকে বিয়ে করলেন (তিনি তার প্রথম স্ত্রীকে ট্রয় শহরে হারিয়ে ছিলেন) এবং আশপাশের ছোটখাটো শহরগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক কিছু যুদ্ধের পরে এইনিয়াস লাইশিয়াম রাজ্যের শাসক হিসেবে আবির্ভূত হলেন। এইনিয়াসের পুত্র অ্যাসকেইনিয়াস এর ৩০ বছর পরে অ্যালবা লঙ্গা রাজ্যের পত্তন করেছিলেন। আর তার উত্তরসূরিরাই রাজা হিসেবে সেই রাজ্য শাসন করেছিলেন।

কাহিনী সেখানেই শেষ হয়নি। অ্যালবা লঙ্গার পরের রাজা হয়েছিলেন তার বড় ভাই, ছোট ভাই তাকে সিংহাসনে বসিয়েছিলেন বলে জানা যায়। প্রকৃত রাজার কন্যার কোলে দুই যমজ শিশু পুত্রের জন্ম হয়েছিল। আততায়ীরা তাদের খুঁজে বের করে মেরে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছিল যেন তারা বড় হতে না পারে আর রাজ্যের শাসকের আসনেও বসতে না পারে। তাই তারা শিশু দুটিকে বাক্সের মধ্যে করে টিবার নদীর পানিতে ভাসিয়ে দিল। সন্ত্রাসীর দল ভাবল, তাদের মেরে না ফেলে ওভাবে পাঠিয়ে দিলে এমনিতেই তারা মরে যাবে।

কিন্তু নদীতে ১৪ মাইল ভেসে যেতে না যেতেই বাক্স দুটি তীরে এক জায়গায় আটকে যায়। আটকে যায় একটা পাহাড়ের গায়ে, যেটাকে পরে প্যালেটাইন পাহাড় নাম দেয়া হয়েছিল। একটা মা নেকড়ে শিশু দুটিকে পায় আর আদরযত্ন করে রাখে। (এটাই হয়তো ওই গল্পের সবচেয়ে গাঁজাখুরি অংশ, আবার একই সঙ্গে সবচেয়ে জনপ্রিয়ও। এই কাহিনী রোমানদের এমনভাবে গর্বিত করে যে তারা মনে করে তাদের পূর্বপুরুষ শৈশবেও নেকড়ের মতো সাহসী আর শক্তিশালী ছিল)

পরে এক রাখাল তাদের নেকড়ের সঙ্গে দেখতে পায়। কোনোভাবে নেকড়ের কাছ থেকে তাদের নিয়ে নিজের বাড়িতে চলে যায়। নিজের সন্তানের মতো করে তাদের মানুষ করে সে। তাদের নাম রাখে রোমুলাস ও রেমুস।

ছেলে দুটি যখন বড় হয়, তখন অ্যালবা লঙ্গায় ফিরে যায়। সিংহাসনের অবৈধ দখলদারের সঙ্গে যুদ্ধ করে তারা সিংহাসন দখল করে আবার সসম্মানে নিজেদের নানার হাতে তুলে দেয়, যে কিনা অ্যালবা লঙ্গার সত্যিকারের রাজা। তারপর যমজ দুই ভাই টিবার নদীর তীরে নিজেদের জন্য নিজস্ব শহর তৈরির চিন্তাভাবনা করে। রোমুলাস চাচ্ছিল যে শহরটা হোক সেই প্যালেটাইন পাহাড়ের গা ঘেঁষে, যেখানে নেকড়ে তাদের কুড়িয়ে পেয়েছিল। কিন্তু রেমুস বলেছিল তার থেকে দক্ষিণ দিকে আধা মাইল দূরত্বে অ্যাভেনটাইন পাহাড়ের কথা।

মতের মিল না হওয়ায় তারা দুজনে দেবতাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে পরামর্শের কথা ভাবল। এক রাতে তারা যে যার পছন্দের জায়গায় গিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল, ভাবল দেখা যাক ভোরবেলা কার ভাগ্যে কী ঘটে। ভোর হতেই যেই আকাশে আলো দেখা গেল, রেমুস দেখল আকাশে ছয়টি ঈগল (মতান্তরে শকুন) উড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সূর্য উঠতে না উঠতেই রেমুলাস দেখতে পেল ১২টি ঈগল।

রেমুস বলল যে সে জিতে গেছে, কারণ সেখানে সে-ই প্রথম পাখি দেখেছে। ওদিকে রেমুলাস বলল সে দেখেছে বেশি সংখ্যক পাখি, সুতরাং জিতেছে সে। এই বিতর্কে দুজনের মধ্যে এমন মারামারি লেগে গেল যে রেমুলাস রেমুসকে হত্যা করে বসল। তারপর প্যালেটাইন, যেখানে সে নতুন শহর চেয়েছিল, সেখানেই শহরের সীমানা ধরে পাঁচিল ওঠাতে লাগল। সেই শহরের শাসনকর্তা হলো সে নিজে আর নামও রাখল নিজেরই নামে, রোম। (বলা যেতে পারে, এখানে রেমুলাসের পরিবর্তে রোমুলাস নামটাই হয়তো ইতিহাস বর্ণনার সুবিধায় পরে কল্পিত। কারণ রোমুলাস শব্দের অর্থ হলো ছোট রোম। রোমের পত্তনের কাহিনীকে বিশ্বাসযোগ্য করতেই এ নামের আবির্ভাব।)

সবখানে যে তারিখের উল্লেখ পাওয়া যায়, সেই হিসাবে রোমের পত্তন হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে।

 

আফসানা বেগম: কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক