কথারম্ভ

একজন কৌতুকী এক নাপিতকে কৌতুক করিয়া কহিল, “ওরে তুই কখনো বানরকে ক্ষৌরী করেছিস?” নাপিত উত্তর করিল, “না মশায়! তাতো কখনো করি নাই, তবে কি না আজ যদি আপনি আমার কাছে খেউরী হন, তা হলে আর আমার এ দোষ টুকী থাকে না।”

 

একজন সুরসিক কবি গবর্ণমেন্টের নানা বিষয়ে ট্যাক্স গ্রহণে ব্যগ্রতা দেখিয়া যুবতীললনাদিগের সৌন্দর্য্যের উপর ট্যাক্স বসাইতে পরামর্শ দেন। তিনি আরো বলেন, যুবতীরা প্রত্যেক আপন২ রূপলাবণ্যের তারতম্য বিবেচনাপূর্ব্বক এই ট্যাক্স নিরূপণ করিয়া দিবে। আসেসরের প্রয়োজন নাই। এ উপায়ে অনেক ট্যাক্স আদায় হইতে পারে।

একজন গল্পীপুরুষ কহিতেছিল, এবার আমার পিতার আদ্যশ্রাদ্ধে আর কিছুই করিতে পারি নাই কেবল পায়স পিষ্টকের হ্রদ করিয়াছিলাম। এই কথা শুনিয়া আর একজন কহিল, গত সন ওলাওঠায় আমার পিতার মৃত্যু হয়, তাঁর আদ্যশ্রাদ্ধে কিছু পাকা খাওয়ান হয় নাই; কিন্তু তবুও কেবল শুক্তানীর ফোড়ন দেওয়ার জন্য জমিদারী হতে ৫০০ মণী পাঁচ নৌকা সর্ষা আসে।

একজন ডাক্তারের অপত্যস্নেহ এত প্রবল ছিল যে তিনি যখন সন্তানদিগকে প্রহার করিতেন তখন তাহাদিগকে “কোলেরাফারম” দিয়া অচৈতন্য করিয়া লইতেন।

কোন এক রসিক পুরুষের প্রতি তাঁহার স্ত্রীর অকারণে সন্দেহ জাগিয়াছিল! কোন কারণবশতঃ অধিক রাত্রিতে উপস্থিত হইলে, নায়ককে “এতক্ষণ কোথায় ছিলে?” “না এলেই হতো” ইত্যাদি ব্যঙ্গ শুনিতে হইত। কয়েকদিন পর তাঁহার স্ত্রী জিজ্ঞাসা করিল, “ওহে! তোমার সে কেমন, আমায় একবার দেখাতে পার?” নাগর কহিল, “কেমন তা আমি একমুখে বর্ণনা কত্তে পারিনে, আমার কাছে তার একখানি চিত্রপট আছে, দেখতে চাও ত দেখাতে পারি।” নাগরী ব্যগ্র হইয়া কহিল, “কই দেখি” নাগর অমনি তাহার সম্মুখে দর্পণ ধরিয়া কহিল, “এই দেখ।”

এক কুলীন ব্রাহ্মণের প্রতিবৎসর এক একটী করিয়া কন্যা জন্মিতে লাগিল। কুলীনের কন্যা ভারি গলগ্রহ। ব্রাহ্মণ তবুও প্রথম কন্যাকটীর আদুরে নাম রাখিলেন, যথা; সোহাগিনী, সৌদামিনী, রাজেশ্বরী, আদরিণী ইত্যাদি। তারপর খুদী, পাঁচী, ভুসী গোচেরও কটী নাম রাখা হইল। তবু মেয়েই হয়। ব্রাহ্মণ অবশেষে ক্ষেমঙ্করী নাম রাখিলেন, অভিপ্রায়, এতেও যদি মেয়ে হওয়া ক্ষান্ত হয়। তাহা হইল না, আবার এক মেয়ে জন্মিল। ব্রাহ্মণ এবারে বড় বিরক্ত হয়ে সেটীর নাম রাখিলেন “আর না”।

এক পেটুক গল্প করিতেছিল, আজ আমরা এক হাঁস কবাব করে খেয়েছি। তার স্বাদের কথা কি বোলেবা। একজন শ্রোতা কহিল “তোমরা কে কে?” পেটুক কহিল “আমি আর হাঁস।”

নব্য সম্প্রদায়েরা দুই ব্যক্তি এক ময়রাণীর দোকান হইতে সন্দেশ মিঠাই ইত্যাদি নানা প্রকার মিষ্টান্ন লইয়া উত্তমরূপে জলযোগ করিলেন। শেষে ময়রাণী মূল্য চাহিলে তাঁহারা কহিলেন, ময়রাণী! প্রলয় কাকে বলে জান?—জান না? সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি এই চারি যুগ, সত্য ত্রেতা দ্বাপর যুগ গিয়াছে, কলিযুগ মোটে ৪৩২০০০ হাজার বৎসর, এবছর তার ৪৯৬৩ বছর যাচ্ছে, আর ৪২৭০৩৭ বছর বাকী আছে। এই কবছর গেলেই প্রলয় হবে। তাবাদে আবার এসব ফিরে আসেব, তখন আবার আমরা তোমার দোকান হতে এম্নিধারা সন্দেশ মিঠাই নে খাবো। তা এখন আমাদিগে ধার দাওনা কেন, প্রলয় পরে যখন এম্নিধারা আবার খাবো তখন দাম দোবো। ময়রাণী কহিল “ক্ষেতি কি? গেছেবারের হিসাব চুকিয়ে দাও।”

একজন সরলমনার এক মুখসর্ব্বস্ব বন্ধু ছিল। সরলহূদয় বন্ধু কোন বিপদে পতিত হইয়া মুখসর্ব্বস্ব বন্ধুকে ব্যগ্রতাপূর্ব্বক কহিল, “বন্ধু! কাল প্রাতঃকালে আর কোন কাজে না যেয়ে আমার বাটীতে অবশ্য একবার আসেব।” মুখসর্ব্বস্ব কহিল, “কাল আমি শেষে থেকে ভুঁঞে পা না দিয়েই তোমার বাড়ীতে আস্ব।”

একজন অধ্যাপকের নিকট উদার নামে একজন শিষ্য অধ্যয়ন করিত। কিছু দিন পর উদার উপাধ্যায়ের আলয়ে থাকিয়া পিতৃবিয়োগের সংবাদ পাইয়া অত্যন্ত শোকাকুল হইল। উপাধ্যায় তাহাকে নানা প্রকার উপদেশ দিতে লাগিলেন, দেখ উদার! সংসার কিছুই নয়, সকলকেই এক দিন না এক দিন মৃত্যুমুখে পতিত হইতে হইবে, আর আক্ষেপ করিলেও মৃত মনুষ্যকে প্রাপ্ত হওয়া যায় না; এতএব মৃত ব্যক্তির নিমিত্তে আক্ষেপ করা বৃথা। শাস্ত্রকারেরা কহিয়াছেন—

কৃতস্য করণং নাস্তি মৃতস্য মরণং যথা। গতস্য শোচনা নাস্তি ইতি বেদাবেদাম্মত।।

উদারের মনে এই উপদেশটী বড় ধরিল। সে ক্রমে২ এই উপদেশটী স্মরণ করিয়া পিতৃশোক সিন্ধু হইতে উত্তীর্ণ হইল। কিছু দিন পর উপাধ্যায়ের এক শ্রাদ্ধের সভায় নিমন্ত্রণ হইলে উপাধ্যায় আপনার একটী অল্পবয়স্ক সন্তান এবং উদারের সহিত গমন করিলেন। পথিমধ্যে সন্ধ্যা উপস্থিত। তিনজনে এক পুষ্করিণীর তীরে জলপান করিয়া শয়ন করিলেন। পথশ্রান্তে উপাধ্যায় এবং তাহার পুত্রের নিদ্রা হইল। উদারের নিদ্রা হইল না। কিছু কাল পরে উপাধ্যায়ের সন্তানটী নিদ্রার ঘোরে গড়াইয়া গিয়া পুষ্করিণীর জলে পড়িল। পড়ামাত্র উদার মনে২ কহিল উপাধ্যায় কহিয়াছেন, “কৃতস্য করণং নাস্তি” কৃত কর্ম্মের করণ নাই, গুরুপুত্র যখন জলে পড়িয়া গিয়াছে তখন আর শোচনা কি? এই ভাবিয়া আর বালকটীকে জল হইতে উদ্ধার করিবার চেষ্টা পাইল না। বালকটী কিছু কাল হাবুডুবু খাইয়া প্রাণ পরিত্যাগ করতঃ জলের উপর ভাসিয়া উঠিল। উদার তাহা দেখিয়া মরিয়াছে নিশ্চয় বুঝিতে পারিয়া ভাবিল “মৃতস্য মরণং যথা” “মৃত                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                ব্যক্তির আর মরণ নাই” এতএব আমি নিদ্রা যাই। উদার নিদ্রা গেল। কতক্ষণ পর রজনী প্রভাত হইল। উপাধ্যায় জাগৃত হইয়া দেখেন পুত্রের শব পুষ্করিণীর জলে ভাসিতেছে। অমনি ক্রন্দন করিয়া উঠিলেন। উদার জাগৃত হইল। উপাধ্যায় তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন উদার! আমার সন্তানটী কেমন করিয়া মরিল? উদার আনুপূর্ব্বিক সমুদয় কহিল। উপাধ্যায় শুনিয়া কহিলেন, দূর নির্ব্বোধ! আমার উপদেশের ভাল মর্ম্ম গ্রহণ করিয়াছিস। উদার তখন ক্রুদ্ধ হইয়া কহিল, কেবল বুঝি আমার বেলাই “কৃতস্য করণং নাস্তি” আর আপনার বেলায় না?&dquote;&dquote;

কোন জমিদারের একজন মুখসর্ব্বস্ব মোহরের ছিল। মোহরের যে সকল হিসাব পত্র লিখিতেন তাহাতে অনেক ভ্রম প্রমাদ ঘটিত। জমিদার ঐ সকল ভ্রম জানিতে পারিয়া একদা মোহরেরকে তাম্বী করিয়া দিলেন, যদি ভবিষ্যতে তোমার এরূপ ভুল হয়, দণ্ড করিব। দৈবাৎ তাহার পরেই মোহরের কোন হিসাবে ভ্রম প্রমাদ ঘটে। জমিদার সেই হিসাব দেখিয়া মোহরেরকে তর্জ্জন গর্জ্জন করিলে মোহরের ম্লানবদনে কহিল, মহাশয়! আমরা ত মানুষ ভ্রম হইতে পারে, পরমেশ্বরেরও ভ্রম দেখা যায়। জমিদার কহিলেন, সে কেমন? মোহরের কহিল, কেন? হয় তিনি (পরমেশ্বরের) পুরুষ সৃষ্টি করিবেন নয় স্ত্রী সৃষ্টি করিবেন ক্লীব সৃষ্টি কেন? এটী পরমেশ্বরের নির্ম্মাণ বিষয়ে কি মস্ত ভ্রম নয়?

একজন খ্রীষ্টিয়ান কোন পূর্ণযৌবনা মিশকে চুম্বন করিলে মিশ প্রকুপিত হইয়া তাহাকে ভর্ত্সনা করিয়া কহিল, এরূপ দুর্ব্ব্যবহার খ্রীষ্টীয়ধর্ম্মের নিতান্ত বিরুদ্ধ।

খ্রীষ্টিয়ান। আমি বাইবেলের আজ্ঞামতই ব্যবহার করেছি।

মিশ। ছি! লজ্জা নাই, এ কেমন কথা!

খ্রীষ্টিয়ান। কেন? বাইবেলে যে এরূপ ব্যবহারের স্পষ্ট আজ্ঞা আছে।

মিশ। (সরাগে) কোন্স্থানে দেখাও দেখি।

খ্রীষ্টিয়ান। যেখানে এই আজ্ঞা আছে যে, “তুমি অপরের যেরূপ ব্যবহার লাভের প্রার্থনা কর তাহার সহিত সেইরূপ ব্যবহার কর।” তা আমি তোমার সহিত এখন যেরূপ ব্যবহার করেছি, তোমার নিকট আমার সেইরূপ ব্যবহার লাভইত প্রার্থনীয়।

একজন উকীলের একটী চক্ষু কোন গতিকে নষ্ট হইয়াছিল। তবুও তিনি চক্ষে চস্মা দিয়া লেখাপড়ার কর্ম্ম কাজ করিয়া অনেক টাকা উপার্জ্জন করিতেন। কিন্তু অত্যন্ত কষা ছিলেন, কাহাকেও একটী পয়সা দিতেন না। একদা একজন ব্রাহ্মণ তাঁহার নিকট কিছু যাচ্ঞা করিল। উকীল কহিলেন, “যাও যাও ঠাকুর! আমি একটী পয়সাও অপব্যয় করিনে।” ব্রাহ্মণ কহিল “বলেন কি মশায়! আমাকে কিছু দেওয়া অপেক্ষা দেখি আপনি কতমত অপব্যয় করছেন, মিথ্যা বলেন কেন?” উকীল এই কথায় অত্যন্ত রাগান্বিত হইয়া কহিলেন, “কই ঠাকুর! আমার অপব্যয় দেখাও দেখি নচেৎ নালিশ করিব।” ব্রাহ্মণ হাসিতে হাসিতে কহিলেন, “মশায়! আপনার কানা চক্ষের চস্মাই ত অপব্যয়ের প্রত্যক্ষ প্রমাণ।”

একজন অজাতশ্মশ্রু ইউরোপীয় বিচারক একটী মোকদ্দমার অবস্থা কিছুমাত্র বিবেচনা না করিয়া অন্যায়তঃ বিবাদীর বিরুদ্ধে নিষ্পত্তি করেন, তাহাতে তাহার (বিবাদীর) মোক্তার কহেন, “খোদা-ওয়ান্দ! এস্ মামেলামে বান্দাকা বহুত২ সওয়াল থা”। বিচারক কহিলেন, “সওয়াল থা কুচ্ পর্বা নেই, দোস্রা কইকা মোকদ্দমামে শোনা যাগা।”

কোন কৌতুকপ্রিয় রাজা এরূপ ঘোষণা করে ছিলেন যে, যে কোন ব্যক্তি আমার সভায় উপস্থিত হইয়া একটী হাস্যরসপূর্ণ কবিতা পাঠ করিয়া আমাকে এবং আমার সভাস্থ সকললোককে হাসাতে পারিবে, তাহাকে এক সহস্র মুদ্রা পারিতোষিক দেওয়া যাইবে। একদা এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ লোভে মুগ্ধ হইয়া সেই রাজসভায় যাইয়া কহিল, মহারাজ! শ্রবণ করুন, আমি এমন একটী কবিতা করিব, যে তাহা শ্রবণ করিয়া আপনি এবং সভাস্থ লোকসকল না হাসিয়া থাকিতে পারিবেন না। রাজা কহিলেন, ভাল কবিতা পাঠ করুন, অবহিতচিত্ত হইলাম।&dquote;&dquote;

ব্রাহ্মণ কবিতা পাঠ করিলেন।

“অনিত্যজীবন ভাই সদত চঞ্চল।

স্থিরনাহি হয় যেন পদ্মপত্রের জল।।”

এই কবিতা শ্রবণমাত্র  রাজা এবং রাজসভাস্থ সকলেই হাস্য করিয়া উঠিলেন। ব্রাহ্মণ অমনি রাজাকে সম্বোধন করিয়া কহিল, “কেমন মহারাজ! হাসিয়েছি কি না? এখন টাকা দেউন।”

একজন শিক্ষক কতকগুলি ছাত্রকে সমভিব্যাহারে লইয়া নদীতীরে পরিভ্রমণ করিতে ছিলেন, “বিশ্বাস কি?” বুঝাইতেছিলেন। ইতিমধ্যে একটী নৌকা বেগে আসিতেছে দেখিয়া শিক্ষক তাহাকে সম্বোধিয়া কহিলেন, “দেখ, ঐ যে নৌকা আসিতেছে উহার মধ্যে কি আছে তোমরা জান; কিন্তু আমি যদি বলি যে উহার মধ্যে বানর আছে, তোমরা তাহাই বিশ্বাস করিবা; এরই নাম বিশ্বাস!” ছাত্রেরা কহিল, “আজ্ঞে।” শিক্ষক পরদিবস পাঠশালায় উপস্থিত হওয়া ছাত্রদিগকে প্রশ্ন করিলেন, “বিশ্বাস কাহাকে বলে”। ছাত্রেরা উত্তর করিল, “নৌকার ভিতর বানর আছে।”

একজন দোকানীর স্ত্রী বড় উগ্রচণ্ডা ছিল। স্ত্রীর মৃত্যু হইলে দোকানী দাহ করিতে না গিয়া দোকানের কর্ম্মেই ব্যস্ত থাকিল। আত্মীয় কুটুম্বেরা জিজ্ঞাসা করিল, “তুমি যাবে না?” সে কহিল, “না ভাই, দোকানে অনেক কর্ম্ম আছে; কাজ আগে না আমোদ আগে?”

“হ্যা গো মা! বাবা বুঝি মামাও হয়?”

“দূর ছোড়া, ওকথা কি বলতে আছে।”

“কেনে সেদিন যে তুমি বাবাকে “যাও ভাই! আমি আর একলা ঘরকন্নার কাজ কত্তে পারি না বল্লে, তা মায়ের ভাইত মামাই হয়।”

একজন পণ্ডিত ব্রাক্ষণ একটী সুন্দরী স্ত্রীলোককে দৃষ্টিকরতঃ সে কোন্ জাতীয় জানিতে ইচ্ছুক হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “ওগা! তুমি কি লোক?” স্ত্রী— “স্ত্রীলোক”। ব্রাক্ষণ— “তা নয়, তুমি কোন্ জাতী?” স্ত্রী— “স্ত্রীজাতী”। ব্রাহ্মণ— “উহুঁ আমি তা জিজ্ঞাসা করি নাই, বলছি কি তুমি কোন্ বর্ণ?” স্ত্রী— “এই দেখ কেন্না উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ।”

হাঁ হে রমেশ! তুমি না বলেছিলে বাল্যবিবাহ করবে না, তা এখন যে বড় এক পাঁচ বছরের খুকীকে গতেল?

আমার ইচ্ছাত ছিলই না, তা বাবা অনেক অনুরোধ করেন, তাঁর খাতির ত ছাড়ানো যায় না। একে বাপ তায় বয়োজ্যেষ্ঠ।

একজন রসিক নায়ক আপনার স্ত্রীকে কহিল, দেখ! তুমি যে আমায় এত তুচ্ছ তাচ্ছল্য কর ভাল নয়, কেননা শাস্ত্রে বলে, (অন্নদাতা, ভয়ত্রাতা যস্য কন্যা বিবাহিতা) যিনি অন্নদাতা, যিনি ভয়ে ত্রাণ করেন, আর যাঁহার কন্যাকে বিবাহ করা যায় তাঁহাদিগে পিতৃ তুল্য মান্য করতে হয়। স্ত্রী কহিল, সত্যি তবেত তোমার উচিত যে আমাকেও বুনের মত দেখো, কেন্না শাসেতারে বলে, যার মেয়েকে বিয়ে করা যায় সেও পিতৃ তুল্যি।

একজন নামপাগলা আমলার মাতৃ বিয়োগ হইলে সে অত্যন্ত ব্যস্ত হইল, কেমন করিয়া ধূমধামে মাতৃশ্রাদ্ধ করিবে। পুরোহিত কহিলেন, বাবু! তোমার মাতৃশ্রাদ্ধ সোনার ষোড়শ চাই। আমলা কহিল, মশায়! হাতেত কিছুই নাই, কেমন কোরে কি করি? পুরোহিত কহিল, কেন ধারে কর্জ্জে। আমলা কহিল, শেষ কেমন হবে? পুরোহিত কহিল, এখনত কর, শেষ একটা যাহয় বলে দিব। আমলা ধারে কর্জ্জে মায়ের শ্রাদ্ধ ভারি ঘটা করিয়া নির্ব্বাহ করিল। কিছুদিন পর সকল পাওনাদারেরা