দ্য স্পাই ক্রনিকলস: র, আইএসআই অ্যান্ড দি ইল্যুশন অব পিস গ্রন্থে মুখোমুখি হয়েছেন দুনিয়ার দুই আলোচিত গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ ও ‘আইএসআই’-এর দুই সাবেক প্রধান। এ এস দুলাত ১৯৯৯-২০০০ মেয়াদে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র-এর সেক্রেটারি ছিলেন। অন্যদিকে জেনারেল আসাদ দুররানি ১৯৯০-৯১ মেয়াদে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ দুজনকে মুখোমুখি বসিয়েছিলেন ভারতীয় লেখক ও সাংবাদিক আদিত্য সিনহা। এ কথোপকথনের লিখিত রূপ ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার শব্দের। এর অর্ধেক শব্দ নিয়ে তৈরি হয়েছে বর্তমান গ্রন্থ। পুরো বইতে দুলাত ও দুররানি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, বিশ্ব রাজনীতি, দুনিয়ার বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, যুদ্ধের রাজনীতিসহ অনেক বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। উঠে এসেছে গুপ্তচরদের দুনিয়ার অনেক কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য। এখানে দুটি অধ্যায়ের নির্বাচিত অংশের অনুবাদ উপস্থাপন করা হলো—
সিআইএ এবং অন্যরা
আসাদ দুররানি: সিআইএকে আমি কখনো উচ্চমানের সংগঠন মনে করি না। কখনো না। তারা দক্ষ মূল্যায়নে বিশ্বাস করে না। কারণ যেকোনো ক্ষেত্রে তারা টার্গেট এলাকা বোমা মেরে মাটিতে মিশিয়ে দেয়।
তারা অতিমাত্রায় প্রযুক্তিনির্ভর। প্রযুক্তি কেবল কাজে সহায়তা করতে পারে কিন্তু শেষমেশ মূল্যায়নটি করতে হয় মানুষকেই। ভারতের পরমাণু বোমা পরীক্ষা বিষয়ে সিআইএ জানত না। অবশ্য এটা ইচ্ছাকৃত কিনা, তা আমি জানি না। তবে যা-ই হোক, তাদের ইন্টেলিজেন্স ব্যর্থ হয়েছিল।
১৯৯০ সালের মে মাসে রবার্ট গেটস তড়িঘড়ি করে ভারত ও পাকিস্তান সফর করেন। সে বছর কাশ্মীরে বিক্ষোভ-উত্থান ঘটলে ভারত তার পাকিস্তান সীমান্তে কিছু সেনা সমাবেশ ঘটায়। আইএসআইয়ের মূল্যায়ন ছিল, ভারত যুদ্ধে জড়াবে না। কারণ সীমান্তে সমাবেশিত ভারতীয় সেনারা অনেক জরুরি জিনিস ক্যান্টনমেন্টেই রেখে এসেছিল; ভারত সরকার মূলত তার জনগণের কাছে নিজেদের দায়িত্ববান হিসেবে তুলে ধরতে চাইছিল। তাই আমরা আমাদের বেশির ভাগ সেনা সমাবেশ শান্তিকালীন সময়ের মতোই রেখেছিলাম। আমাদের মূল্যায়ন সঠিক ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র ভারত এবং আমাদের সেনাদের নড়াচড়ার প্রতি দৃষ্টি রাখছিল। আমাদের ঘাঁটিতে কিছু ক্রেন ঢোকা ও বের হওয়া দেখে তাদের ধারণা হয়েছিল, এখানে নির্ঘাত মিসাইল প্রস্তুত করা হচ্ছে।
মূল কথা হচ্ছে, মনুষ্য বুদ্ধিমত্তা ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আমি সিআইএকে উচ্চমানের মনে করি না। দুটি উপসাগরীয় যুদ্ধেই তারা ভুল করেছিল। তারা শুধু মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য অজুহাত তৈরি করে দেয়।
আদিত্য সিনহা: আপনি উল্লেখ করেছেন, ব্রিটিশদের এমআইসিক্স বিশ্লেষণ করে না—
এ এস দুলাত: করে না। কিন্তু আমি মানুষের বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব সম্পর্কে বলছিলাম। আপনার জন্য কাজ করা লোক লাগবে। আপনি যদি প্রেক্ষাপট মাথায় না নিয়ে বা সংগঠনের লোক না ঢুকিয়ে কেবল হিজবুল মুজাহিদীনের কথা শোনেন, তাহলে মাঝে মাঝেই উল্টোপাল্টা তথ্য পাবেন। প্রযুক্তির সাহায্যে আপনি যে তথ্য পাবেন, তার একটা সীমা আছে। প্রযুক্তির সুবিধার কথা ফাঁস হয়ে গেলে প্রতিপক্ষ সতর্ক হয়ে যাবে এবং তখন সেটা আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারে।
কেজিবি, সিআইএ, মোসাদ— সবই বড় বড় নাম। কিন্তু জেনারেল সাহেবের সঙ্গে আমি একমত যে, সিআইএর মূল্যায়ন সবসময় সঠিক হয় না। তারা অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের খুশিমতো চিন্তা করে নেয়। আপনি একটা উপসংহার নির্দিষ্ট করলেন, তারপর ইচ্ছামতো প্রতিবেদন তৈরি করলেন। এভাবে ইন্টেলিজেন্স কাজ করে না। যেমন— ১৯৮০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমি নেপাল ছেড়ে আসছি, তখন ভারতে মাত্র নির্বাচন হয়েছে এবং শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী আবার ক্ষমতায় ফিরেছেন। নির্বাচনের আগে আমি নেপালে সিআইএর কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছিলাম ভারতের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী কে হতে যাচ্ছেন সে বিষয়ে। তাদের ধারণা ছিল, ক্ষমতায় আসবেন বাবু জগজীবন রাম। একজন তো আমার সঙ্গে এ নিয়ে বাজিও ধরেছিলেন। আমি বলেছিলাম, না, শ্রীমতি গান্ধীই আবার ক্ষমতায় আসছেন; আমি চার বছর ধরে ভারতের বাইরে কিন্তু তার পরও আমি বলতে পারি যে, তিনিই আসছেন। তারা মাঝে মাঝেই ভুল ঘোড়ার ওপর বাজি ধরে।
কেজিবি অনেক শক্ত কিন্তু তারা সূক্ষ্ম নয়। কেজিবির লোকজন বিভিন্ন দেশে সমস্যায় পড়েছিল।
সবাই বলে মোসাদ সবচেয়ে পেশাদার, কিন্তু আমি জানি না। তারা খুবই নিভৃতচারী এবং শুধু নিজেদের দরকারি বিষয়েই মাথা ঘামায়। তাই তাদের বিষয়ে কিছু বলা কঠিন। তবে এটা ঠিক, বেশ কয়েকজন মোসাদ প্রধান দুর্দান্ত ছিলেন।
আদিত্য সিনহা: মোসাদ এত দক্ষ হলে ইসরায়েলের সমস্যাগুলো কি এতদিনে সমাধান হয়ে যেত না?
দুলাত: সমস্যা কখনো সমাধান হয় না, যদি আপনি কিছু নিয়ে গো ধরে বসে থাকেন। আপনি আগেই ভেবে রেখেছেন এটা হচ্ছে এমন, এটা হচ্ছে সঠিক, এটা আমরা জানি এবং এটা হচ্ছে ভুল। তাহলে আপনার কাজ কী? কাজ তো হয়েই গেছে, আপনার অনুসন্ধানের জন্য তো কিছু বাকি নেই। আপনি সবই জানেন।
আপনাকে মন খুলেও দিতে হবে। এফরহিম হেলভি নামে একজন মোসাদ প্রধান ছিলেন ভিন্ন মেজাজের। আমার সমসাময়িক ছিলেন।
দুররানি: মোসাদের কয়েকজন গ্রহণযোগ্য প্রধান ছিলেন। এ রকম একজন বার্লিনের পাগওয়াশ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তার একজন পূর্বসূরিও ছিলেন। আমি দেখেছি অবসর নেয়ার পর তারা দুজনই মুক্তভাবে কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, ইসরায়েল সরকারের মনে ইরান আক্রমণের যে ধারণা আছে, সেটা একেবারে পাগলামি।
দুলাত: হ্যাঁ, সেটা ঠিকই।
দুররানি: গোয়েন্দা সংস্থার জন্য আমার যেসব চাহিদা, তাতে কেজিবি পাস করবে না। কেজিবিতে ভিন্ন মত বরদাশত করা হয় না।
দুলাত: স্যার, এটা তো আপনি সব এজেন্সিতেই পাবেন। এখানে কাজের ধরনটাই এমন। কেজিবির সমস্যা ছিল যে, তারা ছিল অভিজাতদের মধ্যেও অভিজাত। পুতিনও এভাবেই দুনিয়া শাসন করেন। তিনিও একই পালের সদস্য। স্নায়ুযুদ্ধের যোদ্ধা এ বুড়োরা রাশিয়ায় যে পরিবর্তন এসেছে তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি। এ কারণেই পুতিন রাশিয়াকে সময়ের পেছনে ঠেলে সেই ক্ষমতাধর সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো দেখতে চান।
দুররানি: আমি মনে করি, জার্মান বিএনডি পদ্ধতি মেনে কাজ করে, তারা সিরিয়াস। অবশ্য জার্মানরা এমনিতেই সিরিয়াস মানুষ। কিন্তু তাদের ফলাফল সবসময় সফলতা পায় না। নিখুঁত হওয়ার আকাঙ্ক্ষাই বিএনডির জন্য সমস্যা। সবকিছু নির্ভুল হতে হবে, একেবারে শেষ ডিটেইলটাও থাকতে হবে।
দুররানি: বিএনডি তথ্য দিয়ে ভারাক্রান্ত। বিশ্লেষণে ৩০ বছর পিছিয়ে।
দুলাত: সব ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিই বিশ্বাস করতে ভালোবাসে যে, তারা অন্য সবার চেয়ে বেশি জানে। পেশাদারিত্বের বিবেচনায় আমার মনে হয়, ব্রিটরা বেশ ভালো। তারা কথা বলে খুব কম, নীরবে কাজ করে যায়।
সিনহা: আর তাদের তো জেমস বন্ড আছে।
দুররানি: জেমস বন্ডের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। ৭/৭ আক্রমণের পর তাদের কাজের ধরন ছিল শান্ত।
সিনহা: এমনকি সাম্প্রতিক ওয়েস্টমিনস্টার আক্রমণের পরেও তারা সবকিছু শান্তভাবে, পদ্ধতি মেনে এগিয়েছে।
দুররানি: ব্রিটিশদের দক্ষতা ১০০ বছর এগিয়ে। এভাবেই আপনি কয়েক শতক ধরে দুনিয়ার একমাত্র সুপারপাওয়ার হয়ে ছিলেন। ১৯৯০-৯১-তে যুক্তরাষ্ট্র যখন দুনিয়ার একক সুপারপাওয়ার হয়ে ওঠে, তখন তারা কিন্তু ব্রিটদের ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ক্ষমতাধর। বেশি শিল্প, সামরিক শক্তি, মিত্র এবং বেশি হুমকি। কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। সবকিছুতেই তাদের ক্ষমতার জয়জয়কার।
কিন্তু ১০ বছর পরই তাদের ক্ষয় শুরু হয়ে গেল। আজকের দিনে কে তাদের পাত্তা দেয়? তারা প্রচুর বোমা ফেলতে পারে এবং এর বেশি কিছু করার সাধ্য তাদের নেই।
দুলাত: ব্রিটদের সুবিধা হলো, তাদের প্রতিদিন বিশ্লেষণ শেষ করতে হয় না। তারা কোনো বিষয়ে সময় নিয়ে কাজ করে। এমআইসিক্স ও এমআইফাইভের প্রধানরা যেকোনো সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন।
যুদ্ধের রাজনীতি
সিনহা: অনেক দার্শনিক বলেন, যুদ্ধ মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি।
দুররানি: যুদ্ধ শুরু করাটা খুব সহজ— যেকোনো নিষ্ঠুর নির্বোধ যুদ্ধ শুরু করতে পারে। এরা মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় শান্তি বজায় রাখা বা সে পরিবেশ তৈরির চেয়ে যুদ্ধ শুরু করে দেয়। তারপর একদল লোক আছে, যারা যুদ্ধ থেকে লাভবান হয়। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শিল্পের কথা জানি, তাছাড়া অন্যান্য দেশের যুদ্ধবাজরাও আছে। তারা সবসময় আমাদের বলতে থাকে, আমাদের প্রতিপক্ষরা কেবল অস্ত্রের ভাষা বোঝে। আমার মনে হয়, জাতীয়তাবাদ এবং জাতীয় স্বার্থ যা নেশন স্টেটের পরিণতি, সশস্ত্র সংঘাতগুলোয় জ্বালানি জোগায়। হয়তো এ কারণেই ইকবাল জাতীয়তাবাদকে নতুন ঈশ্বর বলে সম্বোধন করেছিলেন।
দুলাত: হ্যাঁ, জাতীয়তাবাদ একটা সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। ...করাচিতে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত ‘অমন কি আশা’ অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত ছিলাম। এখানে সবচেয়ে আগ্রহ-জাগানিয়া ছিল পাকিস্তানে নিযুক্ত জার্মান ও ফরাসি রাষ্ট্রদূতদের কথা। ফরাসি রাষ্ট্রদূত বললেন, যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া ও কীভাবে ইউরোপ একতাবদ্ধ হলো সে বিষয়ে। জার্মান রাষ্ট্রদূত ছিলেন অসাধারণ। কোনো রাখঢাক না করে তিনি বললেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জার্মানি সচেতনভাবে মনে করে যে, যুদ্ধ আর কোনো উপায় নয়। দেশটি যুদ্ধে এত বেশি ভুগেছে যে, সে আর যুদ্ধে যেতে চায় না।
দুনিয়া বদলে যাচ্ছে। ১০ বছর আগে দিল্লি সফরে এসে হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন, ইরান কথা না শুনলে তাদের বোমা মেরে দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হবে। ইরান এখনো টিকে আছে।
দুররানি: ন্যাটোর দূতরা আসেন এবং সাধারণত শান্তির কথা বলেন। অথচ এটি নিজেই একটি যুদ্ধ জোট।
দুলাত: একদম ঠিক।
দুররানি: এটা যুদ্ধ জোট। দুনিয়ায় যুদ্ধ না থাকলে তারা উদ্বিগ্ন হয়। ওয়ারশ প্যাক্ট বিলীন হওয়ার পর আশা করা হচ্ছিল, ন্যাটোও সে রকম করবে। কিন্তু না, তারা নতুন নতুন অভিযান খুঁজে বের করল তাদের উপস্থিতি জায়েজ করার জন্য। ন্যাটো এখন স্বস্তিতে আছে। কারণ তারা আফগানিস্তান ও অন্যান্য জায়গায় অনন্ত যুদ্ধে লিপ্ত আছে।
দুলাত: এমনকি কিসিঞ্জার দিল্লিতে আরো বলেছিলেন, ন্যাটো যদি আফগানিস্তানে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেটা হবে ন্যাটোর সমাপ্তি।
...
দুররানি: সেনাদের ব্যাপারে মানুষের একটা ভুল ধারণা আছে যে, তারা যুদ্ধ করছে মানে তারা একে অন্যের জানি দুশমন।
দুলাত: আমার বাড়ি উত্তর ভারতে। আমার পরিবার এবং স্বজনদের অনেকেই সেনাবাহিনীতে। তারুণ্যে যুদ্ধ নিয়ে উত্তেজনা কাজ করত কিন্তু কিছুদিন পরেই বুঝতে পারবেন, কেউই যুদ্ধ চায় না। যুদ্ধ একটা নোংরা খেলা।
আমার এক কাজিন ’৬৫-এর যুদ্ধে চাম্বে ছিল এবং সে ফিরে এসেছিল মানসিক ট্রমা নিয়ে। তার মাথার পাগড়ি ভেদ করে একটা গুলি চলে গিয়েছিল। অনেক জায়গায় হাতাহাতির লড়াই হয়েছিল। পাকিস্তানের এক তরুণ সেকেন্ড লেফটেন্যান্টের নিহত হওয়ার ঘটনা তাকে বহু রাত ঘুমাতে দেয়নি। সেই কাজিন গল্পটা বলেছিল, ‘আমি যখন তার পকেটে হাত দিই, তখন সেখানে তার প্রেমিকার লেখা একটা চিঠি পাই। ঘটনাটা তখনই আমাকে ভয়ানক আঘাত দেয়।’ যুদ্ধের পর সে কয়েক সপ্তাহ আমাদের বাড়িতে ছিল। রাতে সে দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠত।
সত্যি বলতে, জেনারেলরা যুদ্ধ চান না। তাই ভারত-পাকিস্তানের জেনারেল বা সেনাবাহিনীর মধ্যে সংলাপ হওয়া প্রয়োজন।
দুররানি: এটা ঠিক। এমনকি সেনবাহিনীর শিক্ষাও এখন এই অভিমুখী। কিন্তু যদি কাজে পটু হন, তাহলে বলপ্রয়োগ ছাড়াই আপনি নিজের কাজ শেষ করতে চাইবেন। যুদ্ধ এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ধ্বংসাত্মক। আগে কয়েকশ বা হাজার মানুষ মারা যেত, আর এখন আস্ত একটা শহরই ধ্বংস করে দেয়া যায়। সান জু’র আমল থেকেই যুদ্ধ ছাড়া জয়ী হওয়াই হচ্ছে আদর্শ সামরিক কৌশল।
দুলাত: ভালো জেনারেলরাও এমনটা ভাবেন।
দুররানি: পরিকল্পনা করা হয় যুদ্ধ এড়ানোর জন্য, বলপ্রয়োগ ন্যূনতম মাত্রায় রাখার জন্য। ফরাসিরা এটা বিশ্বাস করে। জার্মানরা বলে, সাধারণভাবে সেনাবাহিনী যুদ্ধ সৃষ্টি করে না। যুদ্ধ জয় রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক কারণে।
আমেরিকার সেনাবাহিনী ব্যতিক্রম। কোনো সমস্যায় তাদের বেসামরিক সমাধান দেয়া হলে তারা বলে, এত শক্তিশালী সেনাবাহিনী আমরা এমনি এমনি তৈরি করিনি। তাদের সংস্কৃতিতে— যা আপনার কাজিনকে রাতের পর রাত ঘুমাতে দেয়নি, সেটা তাদের কাছে মজা করার ব্যাপার। আফগানিস্তানে তারা একঘেয়ে হয়ে গেলে বাইরে গিয়ে বেসামরিক মানুষের ওপর গুলি চালায়। তাই আমেরিকান সেনাবাহিনী ও দুনিয়ার অন্য সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে ফারাক আছে।
কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের সেনাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আছে।






