সাধারণভাবে সবার
কাছে টয়
ট্রেন নামেই
পরিচিত এটি।
তাই বলে
সেটিকে সত্যিকারের
খেলনা গাড়ি
ভেবে বসলে
নির্ঘাত ভুল
করবেন। ‘মেরে
স্বপ্নো কি
রানী’ বললে
পরের লাইনটা
গুনগুন করে
না গাইলেও
ট্রেনে বসে
থাকা বলিউড
অভিনেত্রী শর্মিলা
ঠাকুরের দৃশ্যটা
ঠিক সবার
মনে গেঁথে
যায়। আর
সেখানেই দেখা
হয়ে যায়
টয় ট্রেনের
সঙ্গেও। দার্জিলিংয়ের
সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে
জড়িয়ে আছে
এ ট্রেনটার
নাম।
টয় ট্রেনের
মূল নাম
দার্জিলিং হিমালয়ান
ট্রেন বা
ডিএইচআর। এতে
শুধু যে
মানুষ পরিবহন
করা হয়,
তাই নয়।
তাতে আনা-নেয়া
করা হয়
নানা পণ্যও।
তাও আবার
সেই হিমালয়ের
উচ্চতায়। শুধু
১৯১০ সালের
হিসাবটা জেনে
নিন। সেবার
এ টয়
ট্রেনে বহন
করা হয়
১ লাখ
৭৪ হাজার
যাত্রী আর
৪৭ হাজার
টন পণ্য।
পরবর্তী সময়ে
যদিও স্বল্প
সময়ের বাসযাত্রার
সুযোগ এলে
প্রতিযোগিতার মুখে
পড়ে টয়
ট্রেন। তার
পরও এ
ট্রেনের আকর্ষণ
এড়ানোর নয়।
সে সময়
শুধু কলকাতা
থেকে হিমালয়ের
বেজ শিলিগুড়ি
পর্যন্ত চলাচল
করত ট্রেন।
তার পরের
দার্জিলিংয়ের পথটা
যেন ছিল
এক বিভীষিকা।
যেটা উঠে
এসেছিল ১৯৪৬
সালে হিমানীশ
গোস্বামীর লেখা
দার্জিলিং
সঙ্গী
বইতে। বইতে
উঠে এসেছে
এ ট্রেনের
ফলে যাত্রা
কতটা সহজ
হয়েছে সে
গল্প। হিমানীশ
বলেছেন, শিলিগুড়ির
৩৯২ ফুট
থেকে এবার
দার্জিলিংয়ের ৬
হাজার ৮১২
ফুট যাত্রা।
দার্জিলিং হিমালয়ান
রেলওয়েকে রেল
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি
আশ্চর্য বিষয়
বলেই সরকারি
হোক বা
বেসরকারি বইতে
পড়েছি। অনেকের
ধারণা, এত
উঁচুতে রেলপথ
নাকি আর
কোথাও চলে
না। তবে
এ রেলপথ
তৈরিতে দুই
রকমের খরচ
হয়েছিল। একটি
হচ্ছে রাস্তা
বানানোর, তাতে
মাইলপ্রতি খরচ
হয়েছিল ৯০
হাজার টাকা
বা ৬
হাজার পাউন্ড।
তারপর সে
রাস্তার ওপরে
রেলপথ বসানোর
খরচ পড়েছিল
মাইলপ্রতি ৫২
হাজার টাকা
বা সাড়ে
৩ হাজার
পাউন্ড।
টয় ট্রেনকে রেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশ্চর্য বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, উঁচুতে ওঠার সময় বাঁকের জায়গাগুলোয় দেখতে হয়েছিল তা ট্রেন চলাচলের উপযোগী কিনা। সেখানে একটু দক্ষতার দরকার ছিল ঠিক। কিন্তু একটা সুড়ঙ্গও করতে হয়নি। প্রায় ১০০ বছর হয়ে গেল, এখনো ওই একই লাইনে রেল চলছে।
নিজের লেখা
বইতে এ
টয় ট্রেনে
ভ্রমণের সময়
বাম দিকের
সিটে বসতেই
উৎসাহিত করেন
হিমানীশ। তাতে
যেমন সকালের
রোদটা গায়ে
এসে লাগবে
না, তেমনি
ঘুরে ঘুরে
উঁচু পাহাড়ে
ওঠার সময়
মাথা ঘোরাটাও
কম ভোগাবে।
১৮৭৮ সালে
ইস্টার্ন বেঙ্গল
রেলওয়ের একজন
এজেন্ট ফ্রাঙ্কলিন
প্রেসটেজ প্রথম
বাষ্পচালিত ট্রামওয়ের
মাধ্যমে শিলিগুড়িকে
দার্জিলিংয়ের সঙ্গে
যুক্ত করা
একটি পরিকল্পনা
জানান। যেখানে
বলা হয়,
দুই ফুট
গেজের রেলপথে
চলাচল করা
যাবে নিউ
জলপাইগুড়ি থেকে
শিলিগুড়ি, শুকনা
ও ঘুম
হয়ে দার্জিলিং
পর্যন্ত। পরে
সে পরিকল্পনা
পাসও হয়।
গিলেন্ডারস আরবাথনট অ্যান্ড কোম্পানি এ রেলপথ নির্মাণ করে। ১৮৮০ সালের ২৩ আগস্ট শিলিগুড়ি-কার্শিয়াং অংশটি চালু হয়। দার্জিলিং পর্যন্ত লাইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় ১৮৮১ সালের ৪ জুলাই। সে সময়েই এ রেলপথের নাম পরিবর্তন করে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলপথ রাখা হয়।
পরে ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্প এবং ১৮৯৯ সালের একটি বড় ঘূর্ণিঝড় সত্ত্বেও যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের পরিমাণ বাড়ায় দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণের কাজ চলে। ধীরে
ধীরে এ
পথ উন্নত
করার জন্য
তাতে নতুন
অনেক সংস্কারও
করা হয়।
প্রায় ৮৮
কিলোমিটার দীর্ঘ
এ পথে
সর্বোচ্চ উচ্চতায়
পৌঁছাতে টয়
ট্রেনগুলো ছয়টি
জিগজ্যাগ ও
পাঁচটি লুপ
ব্যবহার করে।
রেলপথটির সদর
দপ্তর কার্শিয়াংয়ে।
১৯৯৯ সালের
৫ ডিসেম্বর
এ ট্রেনকে
বিশ্ব ঐতিহ্য
হিসেবে ঘোষণা
করে ইউনেস্কো।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে
৩২৪ ফুট
ওপরে অবস্থিত
নিউ জলপাইগুড়ি।
সেখান থেকে
এ ট্রেন
উঠে যায়
৭ হাজার
২১৮ ফুট
উপরে। সবুজের
বুকে দাগ
কেটে ধীরে
ধীরে ওপরে
উঠে যাওয়ার
এ সৌন্দর্য
বিমোহিত করে
সারা বিশ্বের
সৌন্দর্যপিপাসুদের।
শর্মিলা সিনড্রেলা: সাংবাদিক





