বেহুলা বাংলা
এক.
নীরবে নদীতীরে দাঁড়ালে এসে
প্রতিদানে চাওনি কিছুই
শুধু প্রিয়জনের প্রাণ ছাড়া
আর তাইতেই
দেবতাদের জীবন-মৃত্যুর পাশাখেলায়
ঘটালে বিপর্যয়
সৃষ্টির মূলাধারে টান
প্রেমময়ী নারী ছাড়া আর কে ঘটাবে?
রয়ে গেলে নিশ্চুপ পেলে পরিচয়
পুরুষেরা স্বর্গে ও মর্ত্যে ক্ষমতায় নির্মম হয়
সরব নারীর কথা তারা কাটে কাটে জিহ্বাও
তাই কি নির্বাক সয়ে গেলে সব
শত শতাব্দীর নিস্তব্ধতায়;
আমি ভাষাহারা কবি এক গাঙ্গুরের পারে
আজো শুনি আত্মার নির্জন গভীরে
সজল বাতাসে আর শাপলাভেজা জলের তলায়
কালে অকালে বিলাপের সুরে
কারা যেন বেহুলার গান গায়
দুই.
ভ্রমণার্থী চকিতে যেমন ঘন কুয়াশায়
দেখে ফেলে শুভ্ররূপ কাঞ্চনজঙ্ঘার
তেমনই কোনো কনে দেখা বিকেল বেলায়
রূপসার বাঁকে দেখেছি ওই হেমন্তলক্ষ্মী মুখ;
সেই থেকে অর্জুনের মাছের চোখ
তুমি ছাড়া আর কিছু দেখি না বেহুলা;
গাঁয়ের আলপথে তোমাকে দেখি
দেখি লাজুক ঘাসফুলে প্রাচীন বটমূলে
শিমুল লালফুলে আর বাতাসী পদ্মবিলে
দেখি সূর্যাস্তে নবগঙ্গার ঝিলিমিলি জলে
আর দেখি উঠানে বিছানো মায়ের নীলাভ শাড়ির আঁচলে;
বিশ্বদর্শন হো’ল না আমার
তবু দেখা তো হো’ল বেহুলার সুখদ রূপ
তিন.
প্রাচীন জ্ঞানী বটবৃক্ষ থেকে
সদ্য ফোটা কিশোরী ঘাসফুল
গাঁয়ের সকলে নিভৃতে বলে
অনন্ত সে রহস্যকথা;
কেবল আমি মন্ত্রহীন কবি এক
বুঝি না সন্ধ্যাভাষা
আপন মনে শুধু বুনে চলি
এক অচিন নক্সীকাঁথা;
আর দাঁড়িয়ে জলের কোণে প্রার্থনা করি
যদি জন্মাই ফের যেন বাংলার ঘাসফুল হই
আর পরম মমতায় জড়িয়ে তোমার পায়
নাচতে পারি অমরায়
জীবনদায়ী সবল সার্থকতায়






