ভূমিকা
সুফিবাদ,
সুফিতত্ত্ব, সুফি
দর্শন, সুফি
দার্শনিক এবং
লেখক, বিশেষ
করে কবি—শব্দগুলো
কানের ভেতরে
রিনিঝিনি ঝঙ্কার
তুললেই আমাদের
মানসপটে ভেসে
ওঠে শ্রদ্ধায়
নত হওয়ার
মতো কয়েকজন
মানুষের ছবি,
যেমন ফরিদ
আল-দীন
আত্তার (আসল
নাম আবু
হামিদ বিন
আবু বকর
ইব্রাহীম, ১১৪৫-১২২১),
জালাল আল-দীন
(জালালুদ্দীন) রুমী
(১২০৭-১২৭৩),
শেখ সাদী
সিরাজী (১২১০-১২৯১),
আমির খসরু
(১২৯৩-১৩২৫),
খাজা শামস-উদ-দীন
মুহাম্মদ হাফিজ-এ
সিরাজী (সংক্ষেপে
সিরাজী, ১৩১৫-১৩৯০)
প্রমুখ ।
অথচ ফার্সি
ভাষার অন্যতম
সুফি কবি
ও রহস্যবাদী
লেখক আবু
সাঈদ আবুল
খায়েরের (৯৬৭-১০৪৯)
নাম আমরা
কয়জন জানি?
উল্লেখ্য, তিনিই
প্রথম সুফিবাদের
ওপর রুবাইয়াত
(কোয়াট্রেন) রচনা
করেন, যা
পরবর্তী সময়
ওমর খৈয়ামের
হাত ধরে
বিশ্ব পরিচিতি
লাভ করে।
কেউ কেউ
আবু সাঈদ
আবুল খায়েরকে
ফার্সি সুফি
কবিতার জনক
হিসেবে বিবেচনা
করেন।
বাংলা ভাষাভাষী
সুফি সাহিত্যের
বিশেষ করে
কবিতার, উৎসাহী
পাঠক ও
পাঠিকাদের কাছে
ফার্সি কবি
আবু সাঈদ
আবুল খায়েরকে
সীমিত আকারে
পরিচয় করানো
এবং তার
দর্শন সম্পর্কে
কিঞ্চিত ধারণা
দেয়াই বর্তমান
লেখার মূল
উদ্দেশ্য।
কে ছিলেন আবু
সাঈদ আবুল
খায়ের ও
কী তার
পরিচয়?
আবু
সাঈদ আবুল
খায়েরের পুরো
নাম আবু
সাঈদ ফজলুল্লাহ্
ইবনে আবু
আল-খায়ের
আহমদ ইবনে
মুহাম্মদ ইবনে
ইব্রাহীম। তবে
তার জনপ্রিয়
নাম ছিল
‘মিয়ানা বাবা’।
তার জন্ম
৯৬৭ সালের
৭ ডিসেম্বর
(হিজরি ১
মহররম ৩৫৭),
তুর্কমেনিস্তানের আখাল
প্রদেশের বৃহত্তর
খোরাসানের মেহানেহ্
গ্রামে। তার
পিতা সুফিবাদের
প্রতি আগ্রহী
একজন ভেষজবিদ
ও চিকিৎসক
ছিলেন।
শৈশব-কৈশোরে
আবু সাঈদ
আবুল খায়ের
নিশাপুর শহরে
বসবাস করেন
এবং পরে
মেহানেহতে ফিরে
যান। সেখানে
তিনি ইসলামী
বৃত্তি ও
আরবি সাহিত্য
নিয়ে আনুষ্ঠানিক
শিক্ষাগ্রহণের সময়
এক পর্যায়ে
সুফিবাদ শেখার
জন্য প্রাতিষ্ঠানিক
লেখাপড়া ইস্তফা
দেন। তখন
তার বয়স
ছিল ২৩
বছর। তারপর
তিনি অন্যান্য
সুফি সাধক
ও একাধিক
শিক্ষকদের সঙ্গে
সাক্ষাৎ করেন
এবং বিভিন্ন
জায়গা ভ্রমণ
করে সুফিবাদের
ওপর জ্ঞান
অর্জন করেন।
আবু সাঈদ
আবুল খায়ের
১০৪৯ সালের
১২ জানুয়ারি
(হিজরি ৪৪০)
মৃত্যুবরণ করেন।
তাকে মেহানেহতে
সমাহিত করা
হয়।
আবু সাঈদ
আবুল খায়ের
ও সুফিবাদ বা রহস্যবাদ
সুফি
দর্শনের আসল
বুনিয়াদ ব্যক্তি
মানুষের ধ্যানস্থ
কল্পনা। তাই
সুফি সাধকরা
বিশ্বাস করেন
যে একজন
সুফি ‘নিজের
থেকে অনুপস্থিত
এবং ঈশ্বরের
কাছে উপস্থিত’।
আত্মা থেকে
অনুপস্থিতির অর্থ
হলো সুফিরা
মানুষের গুণাবলি
থেকে সম্পূর্ণ
বিচ্ছিন্নতা লাভ
করেন, যাতে
তিনি তার
অন্তরে ঐশ্বরিক
উপস্থিতি উপলব্ধি
করতে পারেন।
মোদ্দাকথা, সুফিরা
হূদয়ে পরম
সত্তাকে গভীরভাবে
অনুভব করেন।
আবু সাঈদ
আবুল খায়েরের
চিন্তার নিরবচ্ছিন্ন
বিষয় বা
থিম ছিল
অহংকার থেকে
মুক্ত থাকা।
তিনি সুফিবাদ
বা রহস্যবাদে
ছিলেন প্রবল
বিশ্বাসী ও
মগ্ন। একজন
সুফি বা
রহস্যময়ী হচ্ছেন
তিনি, যিনি
সব কামনা-বাসনা
থেকে দূরে
থাকেন এবং
তার ভেতরে
কোনো ক্ষত
নেই। তিনি
কখনই অজ্ঞতা
প্রকাশ করবেন
না, অর্থহীন
কথা বলবেন
না এবং
পরচর্চ্চা বা
গীবত করবেন
না। বরং
তিনি জগৎ
সংসারে কিছুই
দেখেন না
এবং কেবল
ঈশ্বরের দিকে
তাকিয়ে থাকেন।
আবু সাঈদ
আবুল খায়ের
নিজেকে ‘কেউ
না, কারো
পুত্র’ বলে
উল্লেখ করতেন।
তিনি মনে
করতেন, তাতে
এক ধরনের
রহস্যের অনুভূতি
প্রকাশ পেত।
অন্যভাবে বলা
যায়, তিনি
পুরোপুরি সত্তার
মিশে গেছেন,
অথবা ঈশ্বরের
মধ্যে অদৃশ্য
হয়ে গেছেন,
ফলে তার
মধ্যে অহংকারের
কোনো চিহ্ন
পাওয়া যায়নি।
তার বিশ্বাস,
প্রকৃত মানবিক
সুখ সব
মানুষের প্রতি
সহিষ্ণুতা, সহানুভূতি
ও সদিচ্ছার
মধ্যে অন্তর্নিহিত।
তিনি প্রখ্যাত
সুফি বায়েজিদ
বোস্তামী (৮০৪-৮৭৪)
ও মনসুর
আল-হাল্লাজের
(৮৫৮-৯২২)
ভক্ত ছিলেন।
আবু সাঈদ
আবুল খায়েরের
জীবদ্দশায়ই তার
খ্যাতি ইসলামী
বিশ্বে, এমনকি
স্পেনেও ছড়িয়ে
পড়েছিল। যদিও
তিনি মৌলানা
জালালউদ্দিন রুমির
দুই শতাব্দীরও
বেশি সময়
আগে বেঁচে
ছিলেন, কিন্তু
রুমির মতো
তার রহস্যবাদের
অনেকটাই ঐশ্বরিক
প্রেমে ধ্বংসের
বিশেষ একটি
পথ অনুসরণ
করে।
পরবর্তী সময়
আবু সাঈদ
আবুল খায়েরের
দর্শনকে অন্য
সুফি কবিরা,
যেমন শেখ
শিহাব আল-দিন
সুহরাওয়ার্দি (১১৫৪-১১৯১),
সাইফ আল-দিন
বাখারজি (১১৯০-১২৬০),
রহস্যময় শৃঙ্খলাকে
রূপান্তর করার
জন্য একটি
গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
নিয়েছিলেন, যা
ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক
মুক্তির মধ্যে
সীমাবদ্ধ ছিল
এবং গণ-আধ্যাত্মিক
সংস্কৃতির আন্দোলনে
পরিণত হয়েছিল।
উল্লেখ্য, প্রখ্যাত
সুফি কবি
ফরিদ আল-দীন
আত্তার তাকে
আধ্যাত্মিক গুরু
বা শিক্ষক
বলে সম্বোধন
করতেন।
আবু সাঈদ
আবুল খায়ের
ভারতীয় সুফিদের
মনের ওপর
শক্তিশালী প্রভাব
রাখতে সক্ষম
হয়েছেন। বলা
হয়, তার
সাতটি উদ্ভূত
নৈতিকতার নীতির
ওপর ভিত্তি
করে ভারতীয়
সুফিদের আবির্ভাব
ঘটে। সেগুলো
হলো:
১. রহস্যময়
নৈতিকতার সর্বোচ্চ
বিকাশে মানুষের
কল্যাণের জন্য
উদ্বেগ
২. ব্যক্তিগত
ও সমষ্টিগত
সুখের ভিত্তি
হিসেবে সামাজিক
সম্পর্কের মধ্যে
সম্প্রীতি
৩. মানুষের
আচরণ সংস্কারের
লক্ষ্যে জ্ঞান,
অনুভূতি ও
ইচ্ছা মোকাবেলা
করার উপায়
৪. সব
জীবিত প্রাণীর
(মানুষ ও
পশু) প্রতি
সমানভাবে স্নেহের
সঙ্গে আচরণ
করা
৫. বৌদ্ধিক
সাধনার পরিবর্তে
মহাজাগতিক আবেগের
ওপর জোর
দেয়া
৬. একাডেমিক
সাফল্যের ওপর
নৈতিক জীবনের
শ্রেষ্ঠত্ব ও
৭. দৃঢ়তা
এবং স্বাধীন
ইচ্ছার ব্যাপ্তি
ও প্রভাব
আবু
সাঈদ আবুল
খায়েরের মানব
প্রেম ও
সহানুভূতির আবেগে
ভারতীয় সুফিদের
কল্পনাকে ধারণ
করার উজ্জ্বল
উদাহরণ শেখ
নিজাম আল-দীন
আউলিয়া (১২৩৮-১৩২৫)।
তিনি আবু
সাঈদ আবুল
খায়েরের কাছ
থেকে রহস্যময়
ধারণা ও
সামাজিক নৈতিকতা
অর্জন করেন।
কথিত আছে,
আবু সাঈদ
আবুল খায়েরের
শিক্ষা থেকে
অনুপ্রাণিত হয়ে
শেখ নিজাম
আল-দিন
আউলিয়া তার
অনুসারীদের জ্ঞানের
পর্যায়ে মানবিক
প্রতিক্রিয়া সংস্কারের
পরামর্শ দিয়েছেন।
কেননা তিনি
মনে করেছেন,
সেটিই ছিল
মানুষের চরিত্রের
পরিবর্তন আনার
নিশ্চিত উপায়।
তিনি আরো
বিশ্বাস করতেন,
মানুষের প্রতি
সহানুভূতিশীল একজন
মানুষ একাই
জীবনের ঐশ্বরিক
উদ্দেশ্য বুঝতে
পারেন। তিনি
সব জীবিত
প্রাণীর প্রতি
আবু সাইদ
আবুল খায়েরের
দয়ালু মনোভাবের
প্রশংসা করেন।
আবু সাইদ
আবুল খায়ের
একবার একজন
লোককে তার
নিজের ষাঁড়কে
মারতে দেখে
যন্ত্রণায় এমনভাবে
চিত্কার করে
উঠেছিলেন, যেন
তিনি নিজেই
আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছেন।
বলা হয়,
রহস্যময় আধ্যাত্মিক
যাত্রার মাত্রা
চল্লিশ ধাপে
বর্ণিত, অর্থাৎ
সেই যাত্রাপথে
চলার জন্য
চল্লিশটি অবস্থান
মেনে চলতে
হয়। এ
প্রসঙ্গে আবু
সাইদ আল-খায়ের
বলেছেন, একজন
সুফিকে চল্লিশটি
পদক্ষেপ নিতে
হয়, যাতে
সে দুনিয়ার
কানা গলিতে
তার যাত্রা
সঠিক করে
নিতে পারে।
তার মতে
এগুলো হলো:
সদিচ্ছা, অনুতাপ,
তওবা, ভক্তি,
চেষ্টা, ধ্যান,
ধৈর্য, স্মরণ,
সন্তুষ্টি, আত্ম
বিরোধ, অনুমোদন,
আত্মসমর্পণ, বিশ্বাস,
ধার্মিকতা, উপাসনা,
অনুপস্থিতি, আন্তরিকতা,
সত্য, ভয়,
আশা, মৃত্যু,
অমরত্ব, কিছু
জ্ঞান, সৎ
জ্ঞান, ঈশ্বরের
জ্ঞান, প্রচেষ্টা,
দয়া, ভালোবাসা,
আবেগ, ঘনিষ্ঠতা,
চিন্তা, যোগদান,
আবিষ্কার, সেবা,
বিমূর্ততা, একাকিত্ব,
সম্প্রসারণ, উপলব্ধি,
চূড়ান্ততা ও
রহস্যবাদ। যদিও
সংক্ষেপে বলা
যায়, সুফিবাদ
হলো ইসলাম
ধর্মের কাঠামোয়
মর্মবাদ বা
মরমী ভাবধারা,
কিংবা আল্লাহর
নৈকট্য লাভের
বিশেষ উপায়।
তবে আবু
সাঈদ আবুল
খায়েরের কথার
অন্তরালে সুফিবাদের
ওপর বেশকিছু
সংজ্ঞা খুঁজে
পাওয়া যায়।
যেমন
১. মাথায়
যা আছে
তা আলাদা
করা, হাতে
যা আছে
তা দিয়ে
দেয়া এবং
যা কিছু
ঘটে, তা
থেকে পিছু
হটতে না
দেয়া
২. সুফিবাদের
দুটি বিষয়:
একদিকে তাকানো
ও একদিক
থেকে বেঁচে
থাকা
৩. সুফিবাদ
হচ্ছে কোনো
বস্তুর সঙ্গে
সংযুক্ত একটি
নাম; যখন
চূড়ান্ত পূর্ণতা
লাভ করে,
তখন তা
ইশ্বর (অর্থাৎ
সুফিবাদের সমাপ্তি
এই যে
সুফিদের কাছে
আল্লাহ ছাড়া
আর কিছুই
থাকা উচিত
নয়)
৪. এটা
গৌরবের যখন
কেউ খারাপ
অবস্থায় থাকে,
দারিদ্র্যের মধ্যে
সুখী থাকে,
ক্ষুধার মধ্যে
তৃপ্ত থাকে,
বস্ত্রহীন অবস্থায়
লজ্জিত না
হয়, দাসত্বের
মধ্যে স্বাধীন
থাকে, মরণের
মধ্যে জীবন
অনুভব করে
ও তিক্ততার
ভেতর মিষ্টতা
খুঁজে পায়
৫. সুফি
তারাই, যারা
আল্লাহপাক যা
করেন, তাতেই
তারা সন্তুষ্ট
থাকেন
৬. সুফিবাদ
হলো আল্লাহর
হুকুম ও
নিষেধের অধীনে
ধৈর্যধারণ করা
৭. সুফিবাদ
হলো যখন
কোনো প্রাণীর
অস্তিত্ব থাকে
না, তখন
প্রাণী সম্পর্কে
স্রষ্টার ইচ্ছা
৮. সুফি
হওয়া হচ্ছে
ঝামেলা সৃষ্টি
করা থেকে
বিরত থাকা।
কারণ যখন
কেউ নিজের
সঙ্গে ব্যস্ত
থাকবে, তখন
সে সৃষ্টিকর্তার
নৈকট্য থেকে
দূরে থাকবে
এবং
৯. সুফিবাদ
হলো সৃষ্টিকর্তা
ছাড়া অন্য
যা আছে,
তা থেকে
আত্মাকে রক্ষা
করা; আর
বিশ্বাস করা
যে সৃষ্টিকর্তা
ছাড়া আর
কিছুই নেই।
আবু সাঈদ
আবুল খায়ের
ও সুফি
কবিতা
আবু
সাঈদ আবুল
খায়ের ছিলেন
সুফি বা
আধ্যাত্মিক কবিদের
মধ্যে সবচেয়ে
উল্লেখযোগ্য এবং
মৌলিক ধারার
কবি। তিনিই
প্রথম সুফি
কবি, যিনি
সাধারণ প্রেমের
কবিতাকে রহস্যপ্রকাশ
ও আলোকিত
করার উপায়
হিসেবে ব্যাপকভাবে
ব্যবহার করেন
এবং তিনি
ফার্সি সুফি
কবিতার ভিত্তি
গঠনে প্রধান
ভূমিকা পালন
করেন। বলাবাহুল্য,
ফার্সি কবিতার
জগতে তিনি
নিজেকে উঁচু
স্থানে প্রতিষ্ঠিত
করতে পেরেছিলেন।
কবিতার মাধ্যমে
তিনি ইসলামী
সুফিবাদ প্রচার
করেন। পরবর্তী
সুফি কবিদের
ওপর তার
কবিতার ব্যাপক
প্রভাব দেখা
যায়। এ
কথা সত্যি
যে সুফি
কবিতার আবেদন
সর্বজনীন। উদাহরণ
হিসেবে বলা
যায়, রুমি,
হাফিজ এবং
ওমর খৈয়ামের
মতো মহান
সুফি কবিদের
কবিতা সুফি
ও সাধারণ
মানুষের কাছে
সমানভাবে প্রশংসিত।
কারণ তাদের
কবিতা আধ্যাত্মিক
সাধকদের সর্বজনীন
আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ
করে।
সুফিরা সত্যের
প্রেমিক। ভালোবাসা
ও ভক্তির
মাধ্যমে তারা
তাদের প্রিয়জনের
সঙ্গে এক
হতে চান।
কবিতার মাধ্যমে
অনেক মহান
সুফি রহস্যময়ী
তাদের আধ্যাত্মিক
অভিজ্ঞতা তুলে
ধরতে সক্ষম
হয়েছেন। আবু
সাঈদ আবুল
খায়ের এর
ব্যতিক্রম নন।
তিনি এমন
কিছু কবিতা
রচনা করেছেন,
যা সুফিবাদ
অনুসন্ধানকারীদের জন্য
এক ধরনের
সঙ্কেত বা
ইঙ্গিত। এছাড়া
তার এমন
আরো কিছু
কবিতা আছে,
যেগুলো ভালোবাসার
গোলকধাঁধায় হারিয়ে
যাওয়া ভ্রষ্ট
পথিকদের জন্য
ইশারা হিসেবে
কাজ করে।
উদাহরণ হিসেবে
তার দুটি
বিখ্যাত রুবাইয়াত
তুলে ধরা
হলো:
এক.
ফিরে এসো,
ফিরে এসো,
তুমি যেই
হও না
কেন
ফিরে এসো,
এমনকি যদি
তুমি অবিশ্বাসী
হও, অথবা
ইহুদি বা
মুশরিক
এই আমাদের
(আমার) আদালত,
যা হতাশার
আদালত নয়
(এমনকি),
যদিও তুমি
শত গুণ
অঙ্গীকার ভঙ্গ
করো, ফিরে
এসো।
দুই.
আমি বললাম,
আমার চোখ,
তিনি বললেন,
তাদের পথে
রাখুন
আমি বললাম,
আমার ফুসফুস,
সে বলল,
দীর্ঘশ্বাস দিয়ে
ভর্তি থাকো
আমি বলেছি
যে আমার
হূদয়, তিনি
বলেন, আপনার
হূদয়ে কী
আছে
আমি বললাম,
তোমার শোক
(তোমার থেকে
বিচ্ছিন্ন হয়ে
যাওয়ার কারণে
আমার শোক),
তিনি বললেন,
এটা দেখাশোনা
করো।
ইবনে সিনার
সঙ্গে তার
সম্পর্ক
আবু
সাঈদ আবুল
খায়ের এবং
বিখ্যাত পণ্ডিত,
চিকিৎসক ও
দার্শনিক ইবনে
সিনা (৯৮০-১০৩৭)
সমসাময়িক ছিলেন।
তাদের দুজনের
মধ্যে সুসম্পর্ক
ছিল এবং
একে-অন্যের
সঙ্গে শ্রদ্ধাশীল
ছিলেন। তাদের
মধ্যে কয়েক
দফায় কথাবার্তা
হয়েছে, যা
আবু সাঈদ
আবুল খায়ের
তার জীবনীতে
লিপিবদ্ধ করেছেন।
সেখানে তাদের
প্রথম সাক্ষাৎ
তিনদিনের ব্যক্তিগত
কথোপকথন হিসেবে
বর্ণনা করা
হয়েছে এবং
সেই সাক্ষাৎ
হয়েছিল গোপন
পরিবেশে।
কথিত আছে,
বৈঠক শেষে
ছাত্ররা সরাসরি
শিক্ষক ইবনে
সিনাকে জিজ্ঞেস
করেছিল, তিনি
আবু সাঈদ
আবুল খায়েরের
কাছ থেকে
কী পেয়েছেন।
ছাত্রদের প্রশ্নের
জবাবে ইবনে
সিনা বলেছিলেন,
‘আমি যা
জানি, তিনি
তা দেখতে
পান।’ অন্যদিকে
আবু সাঈদ
আবুল খায়েরের
অনুসারীরা তাকে
জিজ্ঞাসা করেছিল,
তিনি ইবনে
সিনার কাছ
থেকে কী
পেয়েছেন। তিনি
জবাব দিয়েছিলেন,
‘আমি যা
দেখতে পাচ্ছি,
তিনি তা
জানেন।’
শেষ কথা
আবু
সাঈদ আবুল
খায়ের ছিলেন
মধ্য এশিয়ার
অন্যতম শ্রেষ্ঠ
এবং প্রভাবশালী
মধ্যযুগীয় সুফি
সাধক, ফার্সি
ভাষার অন্যতম
সুফি কবি
ও একজন
দারবিশ। এ
কথা স্বীকার্য
যে তিনি
সুফি ঐতিহ্যের
বিবর্তনে ব্যাপক
অবদান রেখেছেন।
অথচ পরিতাপের
বিষয়, তার
সম্পর্কে খুব
কমই গবেষণা
হয়েছে, ফলে
তিনি কম
পরিচিতি পেয়েছেন।
কৃতজ্ঞতা স্বীকার: এই
লেখায় ব্যবহূত
সব তথ্য
ইন্টারনেটের বিভিন্ন
সাইট, জার্নালে
প্রকাশিত একাধিক
গবেষণা পত্র
ও উইকিপিডিয়া
থেকে সংগৃহীত।
ফজল হাসান: লেখক
ও অনুবাদক





