মায়ের ভাষা দুনিয়ার সব জাতির সব ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের প্রাণের বিষয়। এ বিষয় নিয়ে আমাদের অজস্র কবিতা ও গান যেমন আছে, তেমনি দুনিয়ার প্রায় প্রতিটি ভাষিক গোষ্ঠীরই রয়েছে গান ও কবিতা। এ রকমই কয়েকটি কবিতার তর্জমা নিয়ে এ সামান্য আয়োজন।

মায়ের ভাষা

জিদি মা’জা

যদিও মা লিখে রেখে যাননি কোনো কাব্য

তার মুখের বুলিতে দানা বেঁধেছে ভাষার নুন।

বালিকাবেলায় মা জ্ঞাতিগোষ্ঠীর জমায়েতে বসে শুষে নিতেন

আমাদের সেরা বক্তাদের কাছ থেকে বাকপটুতা।

 

এত এত সত্য, গাঢ়ভাবে যতটাই ধারণ করা হোক না কেন,

আমাদের চারদিকের জমিতে আওতায় রেখে এক দৃষ্টিকোণ,

তার প্রবাদতুল্য ভাষায় যোগ হতো

শ্রোতাদের ওপর ভোর হয়ে ফোটার জন্য, যেনবা আলোকচ্ছটা রাঙাবে বলে।

 

মা-ই আমাকে বুঝিয়েছেন ভাষার কারিকুরি,

এর মরমিয়া গভীরতা আর এর নিগূঢ় বিস্তার,

সারাটা জীবন যা আমার সঙ্গে থেকেছে।

 

আমি কবুল করি, শব্দের পরিব্রাজকদের একজন হিসেবে,

মা-ই ভাষার দরিয়ায় ডুব দিয়ে

সাগর সেচে মণি-মাণিক্য তুলে এনে আমাকে ঢেলে দিয়েছিলেন।

 

[জিদি মা’জা চীনের প্রখ্যাত কবি। তার জন্ম ১৯৬১ সালে, সি চুয়ান প্রদেশে। তিনি ঈ আদিবাসী সম্প্রদায়ের একজন মানুষ। ডেনিস মেয়ারের ইংরেজি অনুবাদ অবলম্বনে ]

ভাঙা গজল: আরবি বলো

জায়না হাশেম বেক

আমি ইংরেজিতে লিখি যেমনটা ঘুরে বেড়াই ভিনদেশী শহরের পথে পথে— স্ট্রিটলাইট আর

বেইমানির মধ্যে, যতক্ষণ না খুঁজে পাই কোনো কফিশপ, যার জবান আরবি।

 

যদি আমাদের জন্ম হতো সেই শহরে, যেখানে যাওয়ার জন্য আমরা ব্যাকুল, প্রেম— প্যারি, প্রাহা, নিউইয়র্ক—

আমাদের জবানের জন্য কোন ভাষা শেখাত তারা? আরবিতে বলে

 

ফেরিওয়ালারা হলো সেরা গায়ক। আর কোরআন শরিফ,

আরবি না বললে কি আমরা উজ্জীবিত হতাম না?

 

হ্যাঁ, কথা ঠিক, লেনন সবসময়ই আছে, কিন্তু আমি ঠিক জানি না,

আমরা কি শেখ ইমামকে পেতাম, যিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, ক্ষত এখনো জাগ্রত আর প্রেম আরবি বলে,

 

যিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, কেউই কোনো নদীকে শাসন করতে পারে না, আর জালিমের যত ভয়

কবিকে নিয়ে, বিশেষ করে সেই নারী যদি আরবি বলে।

 

লোকে বলে, যারা দুই ভাষায় বড় হয়, তাদের স্মৃতি

খুব গভীর, এবং তারা ব্যালকনিতে শুনতে পায় আরবি বলা পাখিদের,

 

এবং তারা জানে, কমলারঙা লাইফ জ্যাকেটের একটি পাহাড় দেখতে লাগে

বসন্তের মতো, যদিও এ পাহাড় মৃতদের আর ফিরিয়ে আনবে না, যাদের জবান আরবি

 

কিন্তু ভিসার আর কারবার নেই, কিংবা তর্জমা। আর তুমি, জাইনা, কি আর করতে পারো

এই ভাঙা পঙিক্তগুলোয় শিস দেয়া ছাড়া, বলো। আরবি বলো।

 

[জায়না হাশেম বেক লেবাননের কবি। লেখেন ইংরেজিতে। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম ‘লাউডার দ্যান হার্টস’।]

ভাষা বলে

আমির ওর

 

ভাষা বলে: ভাষার আগে

আছে এক ভাষা। ভাষা হলো চিহ্ন

ওখানে যার দাগ

ভাষা বলে: শোনো তাহলে।

তুমি শোনো: এখানে ছিল

            প্রতিধ্বনি।

 

নীরবতাকে নাও আর চুপ থাকো।

শব্দকে নাও আর বলার চেষ্টা করো:

ভাষাকে ছাড়িয়ে, ভাষা হলো এক ক্ষত

যা থেকে দুনিয়া বয়ে চলে আর চলে।

ভাষা বলে: হয়, হয় না, হয়,

হয় না। ভাষা বলে: আমি।

ভাষা বলে: এসো, চলো বলি তুমি,

চলো ছুঁই তুমি; এসো, বলো

তুমি বলেছ—

 

[আমির ওর ইসরায়েলের কবি। লেখেন হিব্রুতে। তার নিজের করা ইংরেজি অনুবাদ অবলম্বনে এ অনুবাদ।]