১০, ২০, ৫০— এখন অবধি চলচ্চিত্রে গল্পের প্রয়োজনে অনেকবার যত ইচ্ছে দূরের ভবিষ্যৎ দেখিয়েছে মানুষ। চলচ্চিত্রের গল্পে ভবিষ্যৎ সবসময়ই উন্নত, আধুনিক ও ধ্বংসপ্রায় হয়েই ধরা দিয়েছে। আর সে অনুযায়ী আমরা মানুষেরাও ভেবে নিয়েছি যেন এটাই বাস্তব, এমনটাই হবে। চলচ্চিত্রের সঙ্গে ধারণায় মিলে গেছে এমন কিছু যে ভবিষ্যতের পৃথিবীতে আসেনি তা নয়। তবে তাই বলে রোবোটে এখনো ভরে যায়নি পৃথিবী, ভাংচুর হয়ে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়নি। মানুষ মহাকাশে নিজের দ্বিতীয় বাসস্থান খোঁজার চেষ্টা করছে বটে, তবে সে বাসস্থান কবে মিলবে, কিংবা আদৌ মিলবে কিনা, তা নিয়ে আছে সন্দেহ। তবু ভাবনা থামেনি মানুষের। এক যুগ আগে যেমন বর্তমানের গল্প তৈরি করেছে মানুষ চলচ্চিত্রের পর্দায়, ঠিক তেমনি এখনো আমাদের ভবিষ্যতের গল্প শোনাচ্ছে ও দেখাচ্ছে আমাদেরই তৈরি চলচ্চিত্র। আজ এমনই কিছু চলচ্চিত্র সম্পর্কে বলব, যেগুলো ভবিষ্যতের পৃথিবীকে দেখিয়েছিল সম্পূর্ণ ভুলভাবে। চলুন না এক নজর দেখে আসি রুপালি পর্দার অবিশ্বাস্য ও কাল্পনিক সেই পৃথিবী এবং তার ভবিষ্যৎকে।

ব্লেড রানার

আশির দশকের বিখ্যাত ব্লেড রানার দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল যথেষ্ট। সেই সঙ্গে কুড়িয়েছিল সবার প্রশংসা। ব্লেড রানারের গল্প গড়ে উঠেছিল ২০১৯ সালকে ঘিরে। এখন আপনার মনে হতেই পারে যে, ২০১৯ সাল হতে তো এখনো এক বছর দেরি। কিন্তু আপনার কী মনে হয়? আর এক বছরের মধ্যেই পৃথিবীতে এমন রোবটমানব তৈরি হবে, যাদের আসল মানুষের চেয়ে আলাদা করে চেনার উপায় থাকবে না? আগামী বছরেই আকাশে গাড়ি চলতে শুরু করবে? তৈরি হবে নতুন পৃথিবী? সোফিয়া নির্মিত হয়েছে কিছুদিন আগে, তা মানছি। তবে ব্লেড রানারকে ছুঁতে গেলে এখনো অনেকগুলো বছর পার করতে হবে আমাদের। আর যতই উন্নতি হোক না কেন প্রযুক্তিতে, সেটাও কি ব্লেড রানারের মতো কিছু হবে? বলাটা মুশকিল। সামনে আসছে চলচ্চিত্রটির দ্বিতীয় কিস্তি। এবারের গল্প আরো এগিয়ে। ২০৪৯ সাল। প্রথম চলচ্চিত্রে বর্ণিত ভবিষ্যৎ এখনো ধরা দেয়নি মানুষের হাতে। পরের চলচ্চিত্রটি কি পারবে ২০৪৯কে ফুটিয়ে তুলতে? জানতে হলে অপেক্ষা করতে হবে আরো ৩০ বছর।

২০০১: আ স্পেস ওডিসি

সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্রের মধ্যে যদি কোনো মুভিকে এগিয়ে রাখা হয়, তাহলে প্রথমেই থাকবে ২০০১: আ স্পেস ওডিসির নাম। চলচ্চিত্রটিতে এমন অনেক কথা বলা হয়েছে, এমন অনেক কিছু কল্পনা করা হয়েছে ভবিষ্যতের অঙ্গ হিসেবে, যেগুলো সে সময় কেবল কল্পনা থাকলেও বর্তমানে সত্যি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তাই বলে বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যায়নি, এমন ব্যাপারও কিন্তু খুব একটা কম বর্ণিত হয়নি চলচ্চিত্রটিতে। এই যেমন মহাকাশ ভ্রমণের ব্যাপারটা। ২০০১ সালে মঙ্গল, জুপিটার পার হয়েও অন্য কোথাও মহাকাশের এদিকে-ওদিকে ঘুরে বেড়ানোর ব্যাপারটা এত সহজ ছিল না। আর হ্যাঁ, সেটা ঠিক সহজ হয়ে ওঠেনি এখনো। আর এইচএএল ৯০০০ কম্পিউটারের মতো কোনো কম্পিউটার যে ২০০১ সালে আবিষ্কৃত হয়নি, সেটা তো বলার অপেক্ষাই রাখে না। স্ট্যানলি কুবরিক ও তার সহকারীরা মুভিটি নির্মাণের সময় নাসাকে নিয়ে গভীরভাবে গবেষণা করেন। ফলে বাস্তবসম্মত অনেক তথ্য চলচ্চিত্রে প্রদর্শন করতে সক্ষম হন তারা। বিজ্ঞানীদের সঙ্গেও আলাপ চালাতে হয় এ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য। তবে অনেক কিছু বাস্তবধর্মী হলেও ছবিতে দেখানো ব্রিফকেসের মতো একটি বস্তু এবং তাতে লেগে থাকা একটি ফোন বেশ চোখে পড়ে সবার। অনেকটা যেন ল্যাপটপ আর কারেন্ট ফোনের মতো। তবে ২০০১ সালে অবশ্যই এমন কোনো কিছু সেভাবে আসেনি।

২০১০

২০০১: আ স্পেস ওডিসির পরের কিস্তি ২০১০। নয় বছর পরের পৃথিবীতে কী হবে, সেটাও আগে থেকেই কল্পনা করেছেন নির্মাতা এ চলচ্চিত্রে। দেখানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন একসঙ্গে একটি মিশনে বৃহস্পতি গ্রহে গেছে। বৃহস্পতি গ্রহ আরো পরের ব্যাপার, সোভিয়েত ইউনিয়নই এখন আর নেই। সুতরাং বাকিটা আর বলার দরকারই থাকে না।

২০১২

মনে আছে, সেই যে একবার খুব হইচই উঠেছিল ২০১২ সালে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে এমন খবরে! ২০০৯ সালে প্রাচীন এ মায়ান ভবিষ্যদ্বাণীকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয় চলচ্চিত্র ২০১২। চারদিকে বেশ ঝড় তুলেছিল চলচ্চিত্রটি। সবার মনে প্রশ্ন উঠেছিল, সত্যিই কি পৃথিবী ২০১২ সালে ধ্বংস হয়ে যাবে? যেহেতু ২০১৮ সালে বসে লেখাটি আপনি পড়ছেন, সুতরাং খুব স্বাভাবিক ব্যাপার যে, চলচ্চিত্রটির  ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়নি। তবে তাতে কি! মুভিতে প্রচণ্ড রকম সুনামি, ভূগর্ভে প্লেটের স্থানচ্যুতি, ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত— এমন অনেক ভয়ানক প্রাকৃতিক দুর্যোগে পৃথিবী তোলপাড় হয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখা যায়। যার প্রত্যেকটিই কিছুটা করে সত্যি হলেও একসঙ্গে সব ঘটে গিয়ে পৃথিবী ধ্বংস করে ফেলার মতো কোনো ব্যাপার এখনো ঘটেনি।

নানাজনে পৃথিবী ধ্বংসের ব্যাপারটিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছিল অনেক আগেই। তবে মানুষের মনে ভয় লেগেছিল। আর তার কারণও যথেষ্ট ছিল। পৃথিবীকে কম তো ব্যবহার করেনি মানুষ। একটু একটু করে নিজের বদলে যাওয়া, নষ্ট হয়ে যাওয়াকে তো জানান দিচ্ছে পৃথিবী। তাহলে ধ্বংস হতেই বা আর কতদিন? মনে করা হয়, একটি দিনপঞ্জিকা শেষ হলে যেমন আরেকটি দিনপঞ্জিকার শুরু হয়, তেমনি মায়ানদের ক্ষেত্রেও হয়েছিল। তাদের দিনপঞ্জিকা শেষ হয়ে গেছে, তার মানে এই নয় যে, পৃথিবীর সময়সীমা সমাপ্ত হয়ে গেছে। তবে পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত একটি অজানা গ্রহ পৃথিবীকে আঘাত করবে এই দিনে আর ধ্বংস করে দেবে, এমনটাই ধারণা করা হয়েছিল।

ব্যাক টু দ্য ফিউচার টু

চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। তখন থেকে প্রায় ৩০ বছর পর ২০১৫-এর ভবিষ্যৎ কল্পনা করে নির্মিত হয়েছিল মুভিটি। ২০১৫ তো অনেক আগেই পার করে এসেছি আমরা। চলুন তো দেখি ঠিক কতটা মিল দেখা গেছে ব্যাক টু দ্য ফিউচার টুর ২০১৫ ও বাস্তবের ২০১৫-এর মধ্যে। উড়ন্ত গাড়ির কথা বলা হয়েছে চলচ্চিত্রে। তেমনটা এখনো চলছে না পৃথিবীর আকাশে। সঙ্গে ছিল সেলফ-লেসিং নাইকস, যেগুলো মুভিটির প্রতি সম্মান জানিয়ে তৈরি করা হলেও বাস্তবে তেমন প্রচলিত না। মুভিটির একটি অংশে দেখানো হয় যে, মানুষ ২০১৫ সালে একে অন্যের সঙ্গে ভিডিওতে কথাবার্তা বলছে। ১৯৮৯ সালে এমনটা ভাবা ছিল কষ্টকর ও নতুন। ২০১৫-এর সঙ্গে এই একটি ব্যাপারই পুরোপুরি মিলে গেছে। আর বাকিগুলো? বলুন তো, এখনো এমন খাবারের প্যাকেট আবিষ্কৃত হয়েছে কিনা, যেটার ভেতরে পানি দিলেই তা ফুলেফেঁপে সত্যিকারের বিশাল খাবারে পরিণত হয়? সত্যিই, কল্পনার লাগাম একটু বেশিই যেন টেনে ফেলেছিলেন পরিচালকরা। তবে তাই বলে বোল নুডলসের কথাটা যেন ভুলবেন না! ঠিক চলচ্চিত্র দেখানো খাবার নয়, তাতে কী? ধারে-কাছের কিছু একটা তো বটে। অবশ্য সেটাও ২০১৫ সালের আবিষ্কার নয়।

দ্য টার্মিনেটর

টার্মিনেটরের প্রথম কিস্তিতে দেখানো হয় যে, টার্মিনেটর ২০২৯ সাল থেকে ফিরে গেছে ১৯৮৪ সালে। টার্মিনেটর ও উন্নত রকমের মেশিনের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এখন কথা হলো, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে এসেও আপনার কি কোনোভাবে মনে হচ্ছে যে, টার্মিনেটরের মতো কিছু বা ওই উন্নত মেশিনগুলোর মতো কিছু কি সত্যিই তৈরি করা সম্ভব? আমরা এখনো সেই পথে হাঁটছি। রাস্তাটা অনেক লম্বা। গন্তব্য অনেক দূরে। তবে আদতেও এমন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তৈরি হবে কিনা, হলেও কবে হবে এবং তারা সত্যিই কি মানুষের ওপর হামলা করে বসবে— এ প্রসঙ্গগুলোর উত্তর দেয়াটা বেশ কষ্টকর।

টাইমকপ

টাইমকপে এমন একজন পুলিশ অফিসারকে দেখানো হয়, যে কিনা শহর থেকে শহরে নয়, বরং সময় থেকে সময়ে ঘুরে বেড়ান অপরাধীদের ধরতে। না, এখন অবধি ১৯৯৪ সালের চলচ্চিত্রটির সেই সময় পরিভ্রমণের ব্যাপারটি ২০০৪ সালে সত্যি হয়ে ওঠেনি। কবে যে এমন কিছু হবে, অদূরভবিষ্যতে এমন কিছু একটা হবে, সেটাও ঠিক করে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আর মুভিতে দেখানো কণ্ঠের সাহায্যে চলতে পারা গাড়ি এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। নিজে নিজে চলতে পারা গাড়ি কিছুটা হলেও হয়তো সত্যি হতে চলেছে, তবে তার পরিমাণটাও কম।

রোলারবল

২০১৮ সালকে মাথায় রেখে নির্মিত এ চলচ্চিত্র যথেষ্ট ভাবনার খোরাক দেবে আপনাকে। আর সব চলচ্চিত্রের মতো কেবল প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়। ভবিষ্যতের আরো অনেক ব্যাপার দেখিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে এটি। এখানে এমন এক পৃথিবীকে দেখানো হয়েছে, যেখানে রোলার ডার্বি-এস্কু গেম নামের একটি ভয়ানক খেলা বাদে মানুষের আর কোনো বিনোদনের উপায় নেই বলেই ধরে নেয়া হয়েছে। সেটা অবশ্যই এখনো হয়ে ওঠেনি। সবচেয়ে মজার ছিল, পুরো পৃথিবীকে একটি করপোরেশন হিসেবে ধরার চিন্তাটি। সেখানে কোনো জাতিসংঘ বা একটি দেশের চিন্তা নেই। বরং এমন একটি করপোরেশন হিসেবে ধরা হয়েছে পৃথিবীকে, যার অনেকগুলো শেয়ারহোল্ডার বা অংশীদার আছে। প্রত্যেকেই একটু করে অংশের মালিক। কোনো রকম ক্ষতি হলে সেটা করপোরেশনের দায়। এর অংশীদারদের নয়। আর ইচ্ছে করলেই পুরো ব্যাপারটিকে ছিন্নবিচ্ছিন্নও করে দেয়া যেতে পারে শুধু অংশীদারদের সরে যাওয়ার মাধ্যমেই!

ম্যাড ম্যাক্স

পরিচালক জর্জ মিলারের কথানুসারে ম্যাড ম্যাক্সের সময়কাল নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে ২০১৮ সাল অবধি। তেমনটাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে একেবারে ভেঙেচুরে শেষ হয়ে যাওয়া পৃথিবী, ম্যাড ম্যাক্সে দেখানো পৃথিবী একেবারেই আমাদের বর্তমানের পৃথিবীর সঙ্গে মেলে না। পারমাণবিক বিস্ফোরণ ও জলবায়ু পরিবর্তন— এ দুটোর বেশ বড় অবদান ছিল ম্যাড ম্যাক্সের পৃথিবীর পেছনে। এখন পর্যন্ত তেমন হয়নি বটে, তবে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক যেদিকে এগোচ্ছে, তেমনটা চলতে থাকলে খুব দ্রুতই ম্যাড ম্যাক্সের গল্পটা সত্যি হতে সময় নেবে না।

ডেথ রেস ২০০০

অনেকটা রোলারবলের মতো এ চলচ্চিত্রে দেখানো হয় ভবিষ্যতের প্রধান আকর্ষণ এবং একমাত্র বিনোদন হলো ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এক ডেথ রেস। ১৯৭৫ সালে নির্মিত এ চলচ্চিত্রে ২০০০ সালের কথা বলা হয়, যেখানে ডেথ রেস অর্থ এমন একটি প্রতিযোগিতা, যেখানে গাড়িচালকরা পথের মানুষের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যায়। আর এসবের প্রধান কারণ জনসংখ্যা কমানো। হ্যাঁ, প্রথিবীর জনসংখ্যা দিনকে দিন বেড়ে চলেছে এবং বিভিন্ন দেশ সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমরা সবাই সেটা নিয়ে চিন্তিত। তবে কথা হলো, ১৯৭৫ সালে এ সমস্যা এত প্রকট ছিল না। আর ২০০০ সালে এমন কোনো বাড়াবাড়ি জনসংখ্যা কিংবা তাদের কমাতে ডেথ রেসের মতো প্রতিযোগিতা— কিছুই করা হয়নি। সুতরাং ভবিষ্যৎ বলতে গিয়ে পিছিয়ে পড়েছে এ মুভিটিও।

এসকেপ ফ্রম নিউইয়র্ক

মোট দুবার এ মুভি নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে। একবার সেটা ম্যানহাটন নিয়ে, আরেকবার লস অ্যাঞ্জেলেসকে নিয়ে। ১৯৯৭ সালে বলা হয়, ম্যানহাটন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সিকিউরিটি প্রিজন। ধারণাটি অন্য রকম হলেও একেবারে অবাস্তব হওয়ায় সেটা ধোপে টেকেনি। দর্শক টানেনি মুভিটি। তবে তাই বলে থেমে থাকেননি নির্মাতা। লস অ্যাঞ্জেলেস সন্ত্রাসীদের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হয়ে গেছে, এসকেপ ফ্রম নিউইয়র্কে এমনটাই দেখানো হয়। আর এর সময় ধরা হয় ২০১৩ সাল। আমরা ২০১৩ সাল পার করে এসেছি। এমন কিছুই হয়নি। তাই প্রথমবার যেমন দর্শক টানতে পারেনি, তেমনি দ্বিতীয়বারও বিফল হতে হয়েছে নির্মাতাকে।

আই অ্যাম লেজেন্ড

এবার কোনো প্রযুক্তিগত ব্যাপার নয়, চলচ্চিত্র ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, এমন একটি ব্যাপারে যেটি আদতেও বাস্তবে আছে কিনা, তা নিয়েই সন্দেহ আছে। বলছিলাম জোম্বিদের কথা। আই অ্যাম লেজেন্ড চলচ্চিত্রে দেখানো হয় ২০০৯ সালে পুরো পৃথিবীতে জোম্বিরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। একে একে সবাইকে জোম্বি করে তুলছে তারা। সত্যি নাকি? নয় বছর পার হয়ে গেছে ২০০৯-এর পর। এখনো গল্প গল্পই রয়ে গেছে।