রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প ‘কাবুলিওয়ালা’ প্রকাশের ১২৫ বছর পূর্তি হলো। আলোচিত এ গল্পটি জনপ্রিয় হিন্দি ও বাংলা সিনেমায় জায়গা করে নিয়েছে। আচ্ছা কলকাতায় বসবাস করা আজকের কাবুলিওয়ালারা কেমন আছেন? ভারতীয় সাংবাদিক পৌলমী ব্যানার্জি হিন্দুস্তান টাইমসে কাবুলিওয়ালাদের নিয়ে একটি বিস্তারিত ফিচার করেছেন। এটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন সাবিদিন ইব্রাহিম
কাবুলিওয়ালাদের খোঁজে আমরা যখন মধ্য কলকাতায় ঘুরছিলাম, তখন আমাদেরকে পুরনো মহল্লার একটি রঙচটা গলিতে নিয়ে আসা হলো। নিচতলার দুটি ফ্ল্যাটের একটা থেকে এক তরুণ এসে আমাকে ইশারা করলেন কাবুলিওয়ালাদের বাসার দিকে। তাদের পাশের একটি বাসাতেই বসবাস করেন কাবুলিওয়ালারা।
যে বাসাটি দেখালেন, তার দরজায় লেখা— ‘খান’। পাঠানি স্যুট পরিহিত একজন দরজা খুললেন। কিন্তু তাকে যখন কাবুলিওয়ালাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন গোমড়া মুখ করে জানালেন সেখানে এ রকম কেউ নেই। তার ফ্ল্যাটের অন্য আরেক বাসিন্দা এগিয়ে বললেন, ‘এখান থেকে ভাগেন। জ্বালাতন করবেন না তো! এখানে কোনো কাবুলিওয়ালা নেই।’ তার গলার স্বরে স্পষ্ট আফগান ছাপ!
বিশ বা একুশ শতকে তালেবান সংকট শুরু হওয়ার অনেক আগেই উনিশ শতকে আফগান ব্যবসায়ীরা ভারতে আসতেন। ব্রিটিশ বেঙ্গলে তারা কাবুলিওয়ালা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বেশির ভাগই হিং বা শুকনো ফল বিক্রি করতেন আর মহাজনি করতেন। ঔপনিবেশিক ভারতের রাজধানী কলকাতা ছিল তাদের পরম কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য।
১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ তার ছোটগল্প ‘কাবুলিওয়ালা’ প্রকাশ করেন। তাই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কাবুলিওয়ালারা বেশ আগে থেকেই ভারতবর্ষে আসা শুরু করেছিলেন। বিশিষ্ট লেখক ও ফটোগ্রাফার নাযেস আফরোজ বলেন, ‘স্পষ্ট কোনো রেকর্ড নেই কখন কাবুলিওয়ালারা ভারতে আসা শুরু করেছিলেন। কাবুলিওয়ালাদের নিয়ে যে ওস্তাদির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ গল্পটি লিখলেন, তাতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকেই শহরে কাবুলিওয়ালাদের উপস্থিতি ছিল।’ ২০১৫ সালে মসকা নাজিবের সঙ্গে মিলে কলকাতার কাবুলিওয়ালাদের নিয়ে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন লেখক ও ফটোগ্রাফার নাযেস আফরোজ।
রবীন্দ্রনাথের গল্পটি কাবুলিওয়ালাদের বাঙালি মনস্তত্ত্বের একটি জনপ্রিয় চরিত্র বানিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক ও ঐতিহাসিক জওহার সরকার। দাদগুল খান নামে এক বয়স্ক কাবুলিওয়ালা এ কথায় একমত পোষণ করেন। ১৯৬৭ সালে কলকাতায় আসার পর ৫০ বছর ধরে এখানেই বসবাস করে আসছেন তিনি। এমনকি স্থানীয় একজনকে বিয়েও করেছেন। চোস্ত পশতু বলেন তবে হিন্দি এখনো বেশ নড়বড়ে! আর কাবুলিওয়ালাদের প্রকৃত মতোই চোখের পলকে মাথায় পাগড়ি লাগিয়ে ফেলতে পারেন। দাদগুল রবীন্দ্রনাথের কাবুলিওয়ালার চরিত্রে বেশ মানিয়ে নিতে পারবেন বলেই মনে হবে।
দাদগুল বলেন, ‘আমি যখন এসেছিলাম তখন স্থানীয়রা আমাদের ভয় পেত। কাবুলিওয়ালা দেখলেই তারা দৌড়ে পালাত। কিন্তু হিন্দি ও বাংলায় কাবুলিওয়ালা ফিল্ম বানানোর পর স্থানীয়রা ধীরে ধীরে বন্ধুত্বপরায়ণ হতে লাগল।’
মজার ব্যাপার হলো, রবীন্দ্রনাথের গল্পটি প্রকাশের ১২৫ বছর পর এই কাবুলিওয়ালারাই মানুষের দৃষ্টি এড়াতে চান।
ঐতিহ্য আঁকড়ে ধরে রাখা শিরাজ, জিশান ও সাবির নামে কলকাতার তিনটি রেস্টুরেন্টে কাবুলিওয়ালাদের বেশি দেখা মেলে।
বিশেষ করে নাশতার সময় তারা ভিড় জমান। আমরা যখন রেস্টুরেন্ট ম্যানেজারের কাছে জানতে চাইলাম কাবুলিওয়ালাদের কথা, তিনি একটি টেবিলের দিকে ইঙ্গিত করলেন। কাবুলিওয়ালাদের শহরে খান নামে ডাকা হয়। কিন্তু তাদের কথা জিজ্ঞেস করা হলে, তাদের ফটোগ্রাফ নেয়ার চেষ্টা করা হলে খানরা খুবই সন্দেহের চোখে দেখেন। বিশেষ করে মিডিয়ার ব্যাপারে তারা খুবই সন্দেহ বাতিকগ্রস্ত।
‘যদিও স্থানীয়রা তাদেরকে কাবুলিওয়ালা বলে, তবে কলকাতার এই খানরা নিজেদেরকে আফগান-পাখতুন হিসেবে পরিচয় দেন। এবং বর্তমানে পাকিস্তানসংলগ্ন পাখতুনিস্তান অংশটা আফগানিস্তানের সঙ্গে যুক্ত দেখতে চান’— বলছিলেন অল ইন্ডিয়া পাখতুন জিরগা-ই হিন্দের সভাপতি ইয়াসমিন নিগার খান। তিনি হচ্ছেন সীমান্ত গান্ধী হিসেবে পরিচিত খান আবদুল গাফফার খানের প্রপৌত্রী।
পাখতুনরা প্রায়ই ইয়াসমিন নিগার খানের দপ্তরে বসে পাখতুনিস্তান নিয়ে আলোচনা করেন। তাদের দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, এমনকি যেসব শিশু ভারতে জন্ম নিয়েছে, বড় হচ্ছে, তাদের কাছেও।
৪২ বছর বয়সী মুসা খান আমাদের বলেন, ‘বাচ্চারা দিনের বেলা স্থানীয়দের সঙ্গে খেলে, তাদের ভাষায় কথা বলে, হোক সেটা হিন্দি, বাংলা বা ইংরেজি, কিন্তু বাসায় আমরা আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতি শেখাই। আফগানিস্তানে বসবাস করা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিই।’
এ প্রজন্মের আরো অনেক কাবুলিওয়ালার মতো মুসা খানও জিন্স, টি-শার্ট পরেন। কিন্তু বাসায় কী পরিধান করেন, সেটা জানিয়ে বলেন, ‘আমরা কিন্তু বাসায় শুধু পাঠানি স্যুট পরি। এবং নিজেদের মধ্যে কেবল পশতুতেই কথা বলি।’
মুসা কখনো আফগানিস্তানে যাননি, কিন্তু তার কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার বাড়িটি একেবারে ঐতিহ্যবাহী খান কুঠির মতো। কাবুলিওয়ালারা কলকাতায় খান হিসেবে পরিচিত। কলকাতায় অন্তত ১৫০টি খান কুঠি রয়েছে, যেখানে ব্যাচেলর পাঠানরা তাদের সম্প্রদায়ের লোকদের সঙ্গে বসবাস করে আসছেন।
তবে কিছু কাবুলিওয়ালা তাদের পরিবারের সঙ্গেও থাকেন। সাধারণত তারা তাদের পরিবারকে গ্রামে রেখে আসেন। কারণ হিসেবে মুসা জানান, ‘শহরে খরচ অনেক বেশি।’ অন্য চার কাবুলিওয়ালার সঙ্গে বসবাস করে আসছেন মুসা।
তাদের ফ্ল্যাট পুরো কার্পেটে ঢাকা, তবে আসবাব নেই বললেই চলে। দেয়ালঘেঁষে কুশন ও বালিশ বিছিয়ে রাখা হয়েছে। ঘরের প্রবেশপথের কোনাটিতে ক্রিকেট ব্যাট রাখা, আর তাদের টেলিভিশনে ইএসপিএন চালু করা। মুসা বলেন, ‘খানরা খেলাধুলা পছন্দ করেন। রোববারে ময়দানে এলে দেখবেন ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেই কাবুলিওয়ালারা ক্রিকেট খেলছেন।’ অবশ্য সেই ময়দানেই আফগান ঐতিহ্য মেনে ঈদের নামাজ পড়েন খানরা।
খানদের বাসায় খানাপিনায় খানদানি প্রথা মেনে চলা হয়। বাসার সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য একটি পানির জগ ও পাত্র নিয়ে আসেন, যেখানে বড়রা হাত ধুয়ে নেন। কার্পেটের ওপর দস্তরখানা বিছিয়ে দেয়া হয়। তারপর প্রত্যেকের সামনে বড় বড় রুটি রাখা হয়। দুই বোল গোশত রাখা হয়, যেখানে রুটি চুবিয়ে চুবিয়ে খাওয়া হয়।
খাবারের শেষের দিকে শরবা নামে সেই গোশতে দই ঢালা হয়। সব শেষে সবুজ চা হাতে চলে যায়। মুসার ফ্ল্যাটের বাসিন্দা এফ রহমান বলেন, ‘বিহারি ও বাঙালি কাজের লোক তাদের খাবার তৈরি করে থাকে। সেসব কাজের লোক খানদের পরিবারে বছরের পর বছর কাজ করে। এদের মধ্যে কেউ কেউ তো আবার ভালো পশতু বলতে পারে।’
আর্থিক লেনাদেনার বিষয়টা
বেশির ভাগ কাবুলিওয়ালার মতোই খান সাহেব একজন মহাজন, মানে যিনি সুদে টাকা ধার দেন। তিনি লাইসেন্সধারী মহাজন, যদিও সবার লাইসেন্স নেই। স্বাধীনতার পর দুই দেশের মধ্যে যখন মুক্ত বাণিজ্য শুরু হয়, তখন কাবুলিওয়ালারা দেখলেন তাদের শুকনো ফলের ব্যবসা মার খেতে শুরু করেছে। আগে তো ব্যবসার পাশাপাশি কিছু কাবুলিওয়ালা সুদে অর্থ দিতেন। এখন অবশ্য তাদের ৬০ থেকে ৮০ ভাগই মহাজনিকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন।
১০-১২ বছর এ পেশায় থাকা রেহমান জানান, ‘এটি এমন একটি পেশা, যেখানে আসলে তারা আসতে চাননি।’ দাদগুল খান এমন একটা কারণ বলতে গিয়ে জানান, সুদ নিয়ে আয়-উপার্জন করা ইসলামে ‘হারাম’। তিনি এ পেশায় ২৫ বছর ধরে ছিলেন। ২০১২ সালে হজ পালন করে দেশে ফিরে সে পেশা থেকে ইস্তফা দেন। আর এই মহাজনি পেশা তাদের ভালো না লাগার কারণ বেশির ভাগ খদ্দেরই প্রতারণা করেন।
কাবুলিওয়ালাদের জীবনেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। অবশ্য মহাজনি পেশা এখনো বহাল রয়েছে। এটা কেন এখনো জনপ্রিয়, তা নিয়ে বলতে গিয়ে গুল খান নামে ৩৬ বছর বয়সী এক কাবুলিওয়ালা জানান (যিনি নিজেও মহাজনি ব্যবসা করেন), ‘এসব ব্যাংক ও এটিএম কার্ডের প্রচলন আসলে মহাজনদের মধ্যে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি। কারণ এখনো ভারতের অনেক মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। তাছাড়া দিনের ২৪ ঘণ্টাই তো ব্যাংক লোন পাওয়া যায় না। আচ্ছা মধ্যরাতে যদি জরুরি প্রয়োজন লাগে তাহলে কী করবেন?
‘আপনি যদি কোনো কাবুলিওয়ালার কাছে রাত ২টায়ও আসেন, টাকা পাবেন। কিন্তু এখন অনেকেই, যারা আমাদের কাছ থেকে ঋণ নেন, তারা সুদ দেন না বা অর্থ ফেরত দেন না। কাবুলিওয়ালারা যখন পাওনা টাকা চাইতে তাদের বাড়িতে যান, তখন তারা পুলিশ বা রাজনৈতিক দলের লোকদের কাছে অভিযোগ করেন।’
এর ফলে অনেকেই অন্য ব্যবসায় চলে গেছেন। দাদগুল খানের মতো যারা পর্যাপ্ত অর্থকড়ি কামাতে পেরেছেন, তাদের ছেলেরা রিয়াল এস্টেটের মতো ব্যবসায় চলে গেছেন। অন্যরা চলে গেছেন কাপড়ের ব্যবসায়। কলকাতার নাখোদা মসজিদের সামনে বেশির ভাগ কাপড়ের দোকান কাবুলিওয়ালাদের। তারা রেশম ও মখমলের কাজ করা কাপড় বিক্রি করেন। পাঠানি স্যুট ও পাগড়ির সঙ্গে সেগুলো ব্যবহার করা হয়। আবার ভারতে বোনা কাপড় আফগানিস্তানে বিক্রি করা হয়।
ইয়াসমিন নিগারও স্বীকার করেন, ‘আফগানিস্তানে বেনারসি সিল্ক অনেক জনপ্রিয়, বিশেষ করে বিয়ের মৌসুমে।’ নাখোদা মসজিদ এলাকার এমন সাত-আটটি দোকান কাবুলিওয়ালাদের। এ রকম একটি দোকানের মালিক হচ্ছেন শের খান। ব্যবসা কেমন চলে জানতে চাওয়া হলে বলেন, ‘আসলে ততটা আয় উপার্জন হয় না। যতটুকু হয় তাতে কোনোমতে পরিবার চলে আর কি।’ দুই সন্তানসহ আফগানিস্তানে রয়েছে তার স্ত্রী।
‘হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোথা, অন্য কোনখানে’
বেশির ভাগ কাবুলিওয়ালার, এমনকি যারা ভারতে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বছরের পর বছর ধরে বসবাস করে আসছেন, তাদের এখনো ভারতীয় নাগরিকত্ব নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আফগান পরিচয় ত্যাগের অনিচ্ছা থেকে এমনটা করেন বলে জানান লেখক ও ফটোগ্রাফার নাযেশ আফরোজ। অথবা সেটা স্রেফ অজ্ঞতার বশবর্তী হয়েই করা হয়। বেশির ভাগ কাবুলিওয়ালাই বিশেষ করে মধ্যবয়সীরা, যাদের শিক্ষাদীক্ষা কম, তারা তাদের জন্মনিবন্ধন করাননি। অনেকেই লম্বা সময় অবস্থানের অনুমতিপত্র নিয়েই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সমস্যা অন্য দিক থেকেও রয়েছে। যাদের ভারতীয় জন্ম নিবন্ধনপত্র ও আধার কার্ড রয়েছে, তার পরও তাদের পাসপোর্ট পাওয়া খুবই কঠিন। এ বিষয়ে মুসা তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, যখনই আমরা এজন্য যাই, তখন কর্মকর্তারা বলেন, ‘তুমি তো একজন খান। তুমি তো ভারতীয় পাসপোর্ট পেতে পারো না।’
এদিকে সেলফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ফলে দূরবর্তী আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা খুব সহজ হয়ে গেছে। দাদগুল খান বেশ কয়েক বছর আগের অবস্থা নিয়ে বলতে গিয়ে বলেন, ‘আগে তো ধর্মতলার ফোন বুথগুলোয় খানদের লম্বা লাইন লেগে যেত। এখন সবার পকেটেই ফোন আছে।’ আর আফগানিস্তানে থাকা আত্মীয়স্বজনরা চিকিত্সার জন্য মাঝে মাঝে কলকাতায় আসেন। এর মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের দেশ ও মানুষের সঙ্গে তাদের ভঙ্গুর সম্পর্ক জোড়াতালি দেয়ার চেষ্টা করেন। খুব কম কাবুলিওয়ালাই আছেন, যারা আফগানিস্তানে ফেরত যেতে চান। তারা সেখানে কয়েক দিনের জন্য যেতে চান, আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান আর হয়তোবা কোনো আফগান মেয়েকে বিয়ে করে আসতে চান। কিন্তু এর বাইরে কলকাতাই তাদের দেশ। যেমন গুল খান নামে এক তরুণ সুন্দর করে বলে দিয়েছেন, ‘আফগানিস্তান আমার মাতৃভূমি (ওয়াতান), কিন্তু ভারত আমার দেশ (মুলক)। আমি তো কোনোটাই ভুলতে পারি না।’ তাই কাবুলিওয়ালাদের ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে স্থানীয় মসলা। আর তাদের বাসার কার্পেটগুলো শুধু আফগানিস্তান থেকে আনা নয়, বরং স্থানীয় বাজার থেকেও সংগ্রহ করা। রাবাব (এক ধরনের আফগান বাদ্যযন্ত্র) ও আফগানি ঢোলকের জায়গা করে নিচ্ছে ইলেকট্রনিক কি-বোর্ড, যার মাধ্যমে তারা তাদের পশতু লোকগাথাও গেয়ে থাকেন। আর তাদের কথাবার্তায় হিন্দি, বাংলা শব্দের মিশেল তো রয়েছেই।






