&dquote;&dquote;আমার মনে হচ্ছিল, আমি কয়েক হাজার বছর ধরে এই টানেলের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছি। এর বাইরে যেন আমার কোনো জীবন ছিল না, কোনো পৃথিবী ছিল না। আমার মাথা থেকে এমন কোনো ভরসা আমি জোগাড় করতে পারছিলাম না যে, আর কোনো দিন এখান থেকে বের হতে পারব। দুনিয়াটা যেন একটা ভিডিও গেমের টানেলে পরিণত হয়েছে আমার কাছে। রোলার কোস্টারে চেপে আমি ট্রাভেল করছি যুগের পর যুগ। অনেক করে ভাবার চেষ্টা করছিলাম, আমার এই অবস্থার কারণ। কতক্ষণ পর সাদাকালো কতগুলো বরফি আঁকা গোলক ধাঁধার মতো কিছু একটা চোখের সামনে ভেসে উঠল। ঠিক যেমন বমি করে পাকস্থলীর অস্বস্তিটুক ঝেড়ে ফেলতে ইচ্ছা করে, অনেক সময় তেমন করে এই জঘন্য অনুভূতিটুকু ঝেড়ে ফেলার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কেউ একজন এসে জানিয়ে গেল ঘণ্টাখানেক রেস্ট নেন, সব ঠিক হয়ে যাবে। অথচ আমার অসহ্য লাগছিল এমন সব অনুভূতি। আর কোনো দিনই আমি একে পেতে চাই না ভেবে শরীরের সঙ্গে বিদ্রোহ করে, জোর করে একটা ঝাঁকুনি দিলাম। অদ্ভুতভাবে আমি আসলেই নিজেকে ঝাঁকি দিতে পারলাম নাকি শুধু মনে মনেই এমনটা ভেবে নিলাম, তা বুঝতে পারলাম না। এতে অবশ্য কিছুটা কাজ হলো বলে মনে হয়। চোখটা খুলে আরো স্পষ্টভাবে সব দেখা ও বুঝতে পারা সম্ভব হচ্ছিল আমার পক্ষে। সাদাকালো বরফিকাটা মেঝের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা আমার স্বামীকে চোখে পড়ল। তাকে দেখে চোখ আপনাতেই বন্ধ হয়ে এল। পর পরই মাথার ওপর তার হাতের স্পর্শ টের পেলাম। অস্বস্তি ছাড়া আর কিছুই ফিল করতে পারলাম না সেই মুহূর্তে।

এর পর আমার সব মনে পড়তে শুরু হলো। অপারেশন রুমে ঢোকার আগে তার সঙ্গে আমার বাক্যালাপের সর্বশেষ যে কথা বলে আমি থেমে যাই, সেটা মনে পড়ল। পুরুষ মানুষের মহিলা এজেন্ডাদের আমি ঘৃণা করি। আর সে কারণেই আমি ঘৃণা করি আমার মা এবং তোমার মাকে। মনের মধ্যে দুনিয়ার সব বিদ্বেষ এসে ভর করেছিল তখন। হাতে ক্যানেলা লাগানোর পরই মেজাজটা বিষিয়ে গিয়েছিল। আর সেও আর একটা শব্দ বাড়ায়নি। আমার হাতব্যাগটা তুলে নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল।

আমাদের বিয়েটা হয়েছিল বেশ অদ্ভুত নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে। অবশ্য সেই গল্প খানিকটা সিনেমাটিক হয়ে যায়, তাই আমরা কখনই ঘটা করে কাউকে বলি না। সিনেমার গল্পের মতোই আমার বাবা ছিলেন রাজনীতিবিদ। আমার বিয়ের তারিখের মাসখানেক পরই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য বাবার ব্যস্ততাও কম ছিল না। কোনো প্রেম, দেখাদেখি, আলাপ বাদ দিয়েই আমাদের বিয়ে নির্বিঘ্নে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষ করে মাস্টার্স ভর্তি হব কেবলমাত্র। বাবা জানালেন বিয়ে করতে হবে। যেহেতু কোনো প্রেমের সম্পর্ক তখন ছিল না, তাই বিয়ে করতে কোনো আপত্তি দেখাইনি। তাছাড়া ঢাকায় থাকাথাকির একটা পার্মানেন্ট হিল্লে হয় বিয়ের কারণে। সেটাও আমার কাছে কম প্রয়োজনীয় ছিল না।

বিয়ে, সংসার এমন সব বিষয়ে সিরিয়াসলি ভাবনার মতো কিছু আমার মনে হয়নি। আমার বোঝাবুঝির মধ্যে ছিল— মানুষ বিয়ে করে, একসঙ্গে থাকে, খায়, ঘুমায় মোদ্দাকথা একটা জীবন কাটায়। এর বাইরে বিয়ে সম্পর্কিত আরো কোনো ব্যাপার যে থাকতে পারে পৃথিবীতে, তা আমার বুঝের দুনিয়ায় ছিল না।

বিয়ের আগে আগে আমি বাড়িতে চলে যাই। বেশ খুশিমনেই বিয়ের কেনাকাটা, সাজগোজে অংশগ্রহণ করি। প্রায় সপ্তাহদুয়েক আগে মন খারাপ হতে লাগল সবকিছুর জন্য। মামাবাড়ির কথা মনে পড়ে কেমন আকুলিবিকুলি লাগতে থাকে। মায়ের কাছে আর্জি তুলি, বিয়ের আগে অন্তত একবার মামাবাড়ি ঘুরে আসতে চাই। মা প্রথমে যেতে দিতে রাজি হচ্ছিলেন না। পরে আমার ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলের চাপে পড়ে তিনি আমাকে দুদিনের জন্য যেতে দিতে রাজি হন। তবে যেহেতু বিয়ের আগে একা কোথাও যাওয়ার নিয়ম নেই, তাই সঙ্গে আমার ছোট ভাইকে পাঠাতে চাইলেন তিনি। আমিও অরাজি হওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পেলাম না।

আমরা মামাবাড়ি যাওয়ার পরের দিনই মায়ের ফোন পাই। জানতে পারি, আব্বার প্রতিপক্ষ দল থেকে গুজব ছড়ানো হয়েছে, আমি নাকি আমার কোনো কথিত প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছি। আমি হেসে উড়িয়ে দিতে বললাম, তাই যদি হবে তাহলে রাকিবের বিষয়ে তারা কী এক্সপ্লেইনেশন দেবে? ও তো আর নিশ্চয়ই আমাদের সঙ্গে ভেগে যায়নি। মা খানিকটা স্বস্তি পেয়ে বললেন, তাই তো! নিশ্চয়ই কোনো ভাই তার বোন আর বোনের প্রেমিকের সঙ্গে ভাগতে পারে না। নিশ্চিন্তমনে মা ফোন রেখে দিলেন। তার ঘণ্টাখানেক পরই আবার ফোন করে জানালেন, গুজবের কাহিনী নাকি খানিকটা এমন ছিল যে, আমি রাকিবসহ মামাবাড়ি বেড়াতে এসে সেখান থেকে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাই। ফোনেই মা আমাকে বকাবকি শুরু করলেন। ‘আগেই কইছিলাম বিয়ার আগে বাড়িত্থেন বাইর হওন লাগে না। খুব শখ হইছিল না তোর? এইবার বোঝ, শখের ঠেলায় এহন তর বাপের মুখে চুনকালি তো দিলই আবার ইলেকশনে ভোটও আর পাইছে।’ রাগে গজগজ করতে করতে মা ফোন কেটে দিলেন। এদিকে মামার কাছে খবর পেলাম, আমার হবু শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে এসব বিষয় জানতে চাওয়া হচ্ছে আর কেমন করে মেয়ে মানুষ করলেন আমার বাবা, সেসব বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। আমিও খুব ক্ষেপে গিয়ে বললাম, মন-মানসিকতা যাদের এতই ছোট, ভালো হয়েছে যে আগেই টের পাওয়া গেছে। এমন বাজে মানসিকতার লোকের বাড়িতে আমি বিয়ে করতে চাই না।

সেদিন রাতের মধ্যেই বিয়েটা প্রায় ভেঙে যাবে এমন দশা হয়। এতে অবশ্য আমারও খানিক মন খারাপ হচ্ছিল। বিয়ের সব কেনাকাটা শেষ, আব্বাও গ্রামের সবাইকে দাওয়াত দিয়ে ফেলা শুরু করেছিলেন। কার্ড ছাপা হয়ে গেছে। মনের ভেতরটা কেমন যেন ভেঙে পড়ছিল। এসব ভেবে ভেবে রাতে ঘুম আসতে চাইছিল না। এমনিতে গ্রামের বাড়িতে সবাই তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পড়ে, কিন্তু মামার সঙ্গে গল্প করতে করতে একেবারে খারাপ দেরি হয়নি। রাত যখন প্রায় দেড়টার কাছাকাছি, তখন একটা ফোন এল। আননোন নাম্বার। রিসিভ করতেই একটা ছেলে-গলা কথা বলতে শুরু করল। আপনি ভালো আছেন? উত্তরে আপনি কে তেমন না জানতে চেয়ে বললাম, ভালো। আপনি ভালো? এ থেকেই আমার আর ইমনের কথা শুরু। প্রথমেই সে পারিবারিকভাবে আমার পরিবারকে যে অস্বস্তির মুখে ফেলে দেয়া হয়েছে, তার জন্য ক্ষমা চাইল। আমার কাছেও তার ফোন করার ব্যাপারটা খারাপ লাগল না। আসল ঘটনা কী আর তারা কেমনটা জানতে পেরেছে, সবকিছু মিলিয়ে সমস্যার সমাধান হয়ে গেল এমনটাই আমরা ধরে নিলাম। ইমনকে আমার খারাপ লাগেনি। সবচেয়ে ভালো লেগেছিল সত্যিটা জানতে সরাসরি আমাকেই ফোন করায়। বলা যায়, একরাতের আলাপেই আমাদের মধ্যে একটা প্রেমভাব চলে এসেছিল। সকালে আমি মাকে ফোন করে সব বললাম আর দুপুরেই খাওয়া সেরে মামা আমাদের বাসে উঠিয়ে দেবেন তাও জানালাম। সব শুনে মা বেশ অবাক হলেন, কারণ ইমনের বাসা থেকে নাকি অলরেডি বিয়ে ভেঙে দেয়ার কথা জানিয়েছে। আমি কিছু না বলে চুপ করে থাকলাম। কোনোভাবেই আমার মাথায় ঢুকছিল না রাতের কথার পর কীভাবে বিয়ে ভাঙার প্রসঙ্গ উঠল। একবার ভাবলাম ইমনকে ফোন করি। পরে অবশ্য নিজের ব্যক্তিত্বের দিকে তাকিয়ে চুপ করে থাকলাম। দুপুরের খাওয়ার পর মামা আমাদের বাসে তুলে দিলেন। ফিরতি পথে আবার ইমনের ফোন। সেও একই বিষয় তুলে জানাল বিয়ে ভাঙার বিষয়ে তার চাচার কনভেন্স বেশি কাজ করেছে। আরো এও জানাল, এই চাচা তার বাবার সত্ ভাই, ফলে সংসারে অশান্তিতে ওনার জুড়ি নেই। দ্রুতই সে এসব সমস্যা ঠিক করে ফেলবে। এই ঠিক করে ফেলবে বলার মধ্যেকার আবেগটুকু আমি টের পেলাম। হয়ে আসতে থাকা বিকালের ঠাণ্ডা বাতাসের সঙ্গে ইমনের আবেগটুকু আমার মধ্যে মিলেমিশে গেল।

মোটামুটি এমনই ছিল আমাদের বিয়ে আর প্রেমের কাহিনী। বিয়ের আগের কয়েক দিন আমরা বলতে গেলে সারা দিন-রাতই গল্প করে কাটিয়েছি। অ্যারেঞ্জ বিয়ে প্রেমের বিয়েতে টার্ন নিতে আমাদের সময় লাগেনি।

বিয়ের পর আমাদের হানিমুনে যাওয়ার কথা থাকলেও মাস্টার্সে ভর্তি শুরু হওয়ায় আমরা ঢাকায় চলে আসি। তার পর নতুন সংসারের কেনাকাটা আর ইমনের অফিসের ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় হানিমুনটা বাদ পড়ে যায়। এতে ইমনের আক্ষেপটা কম ছিল না। মাস্টার্সটা চাইলে আমি পরের সেমিস্টারে শুরু করতে পারতাম, এমনটাও মনে হলো তার। কিন্তু বিয়ে হয়ে যাওয়ায় পড়াশোনায় যে আমি গ্যাপ দিতে পারি, তাতে আমার মন সায় দিচ্ছিল না। আর এই দাবি সে কেন করতে পারে তাও আমার মাথায় কাজ করছিল না। আমার শাশুড়ি ফোনে আমাকে জানালেন, মেয়ে মানুষের এত পড়াশোনা না করলেও চলে। আমার মাও তাতে সায় দিয়ে বসলেন। এসব বিষয়ে শুরুতেই হঠাত্ আমাদের মধ্যে গ্যাপ তৈরি হতে শুরু করল। এটা বাড়তে শুরু হলো আমার ক্লাস শুরু হওয়ার পর থেকেই। ইমনকে দেখে আমার মনে হতো, নিজের হারটা যেন সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। এত ছোট ব্যাপারকে সে কেন হার-জিতের জায়গা থেকে দেখছে, তাও আমার মাথায় ঢুকল না। তার রিঅ্যাকশনে আমি হার্ট হচ্ছিলাম। একসময় আমার ভালো বন্ধু বলতে আমার মা ছিলেন। অথচ এখন মা কথায় কথায় বলে বসেন, মেয়েদের মানিয়ে চলতে হয়। এমন নয় যে, আমি খুব নারীবাদী মেয়ে। কিন্তু আমার নিজেরও যে একটা ব্যক্তিত্ব আছে, সেটা যেন হঠাত্ করেই সবাই ভুলে যেতে লাগল। মাকেও আমার শত্রু বলে মনে হচ্ছিল দিন দিন। এদিকে আমি আর ইমন চেষ্টা করতাম প্রতিনিয়তই এসব ব্যাপারকে ভুলে সুন্দর করে জীবনযাপন করতে। দেখা যেত সপ্তাহে কয়েক দিন আমরা ভালো থাকলেও বাকি দিনগুলোয় আমাদের মধ্যে কোনো না কোনো সমস্যা এসে দাঁড়িয়ে যেত। আমার মনে হয় না আমরা কেউ কাউকে ভালোবাসতাম না, কিন্তু নিজেদের ব্যক্তিত্বকে ছাপিয়েও আবার সহজ হতে পারতাম না। ইমন হয়তো চাইত আমি জাগতিক আর সব বিষয়কে তুচ্ছ করে তাকেই মনোযোগের কেন্দ্র করে তুলি। অবশ্য আমি এতে দোষের কিছু দেখতাম না, কারণ এতেও ভালোবাসা আছে বলে আমি মনে করতাম। কিন্তু আমার মনে হতো, আমি যদি ইমনের থেকে এমন কিছু দাবি করে বসতাম, যা আমার উচিত নয় তাহলে সে হয়তো রাজি হতো না। মানিয়ে সেই আমাকেই নিতে হতো। যতই দিন যাচ্ছিল আমার এক একটা দিন আগের দিনগুলোর চেয়েও বিষণ্ন হয়ে উঠতে শুরু করছিল। ইমনেরও হয়তো তাই হতো। তার পরও আমরা কেউ কারো কাছে আসতে পারিনি, যা বর্তমানে আমাদের এই পরিস্থিতিতে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এসব ভাবতে ভাবতেই আমার চোখের কোণে টলমল করছিল পানি। কিন্তু আমি কাউকে দেখাতে চাইনি সেসব। দূরে দেখলাম ইমন বসে আছে চুপচাপ। পরনে কালো হাফ হাতা শার্ট, খাকি প্যান্ট। তার পাশেই বসে আছে একজোড়া ছেলেমেয়ে। যদিও অ্যাপয়েনমেন্ট রুমে আমি তাদেরই কাপল ভেবেছিলাম, কিন্তু এখন বুঝতে পারলাম বিছানায় যে মেয়েটি শুয়ে আছে এ ছেলেটি তারই প্রেমিক বা স্বামী। হাসপাতালের একজন ক্লিনারকে কাছে দেখতে পেয়ে হাত তুলে ডাকলাম। কাপড় পরতে হেল্প করতে বলে উঠে বসতে চেষ্টা করতেই টের পেলাম গরম রক্তের ধারা, তলপেটে চিনচিনে একটা ব্যথা। বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠল। আপনাতেই পেটে হাত চলে গেল, মনে মনে শুধু ক্ষমা চাইলাম তার কাছে, যাকে কয়েক দিন ধরে নিজের ভেতরে ধারণ করে আসছি। এই সিদ্ধান্তটা আমরা দুজনের আলোচনাতেই নেয়া। হাসপাতালে আসতে আসতে আমার মনে হচ্ছিল, কত সামান্য সব ইগোর সমাধান হলেই আমরা সুখী হতে পারতাম। কী সামান্য এই চাহিদাটুকু। শেষের দিকে এসে আমরা বুঝতে পারছিলাম, আমরা আসলে আমাদের সঙ্গে কোনোভাবেই থাকতে পারছিলাম না। কেমন যেন আফসোস হচ্ছিল, মনে হচ্ছিল যদি আমাদের বিয়ের আগে কথা না হতো, যদি আমাদের মধ্যেকার সম্পর্ক শুরুতে যে অ্যারেঞ্জড হওয়ার কথা ছিল, তেমনই হতো তাহলে কি এসব চাহিদাগুলো তৈরি হতো?

আমাকে উঠে বসতে দেখে ইমন এগিয়ে আসতে লাগল। ওকে দেখে চেষ্টা করছিলাম নিজেকে খুব শক্ত করে ধরে রাখতে। আমার ভীষণ কান্না পেতে লাগল। হঠাত্ অন্য আর কিছুর জন্য কষ্ট হচ্ছিল না, শুধু মনে হচ্ছিল আমাদের বাড়িতে যেতে যে ওভারব্রিজটায় করে রাস্তা পার হতে হয়, সেটা আমাদের আর কখনই একসঙ্গে পার হওয়া হবে না। কখনই আর একা ফেরার সময় ইমন ফোন করে বলবে না— সাবধানে এসো, ওভারব্রিজে করে রাস্তা পার হয়ো।