উর্দু সাহিত্যের ফল্গুধারায় আঁড়ি পাতলে ‘উমরাও জান আদা’ নামে একটি উপন্যাসের গুঞ্জন শোনা যায়। অনেক সমালোচকের রায়, এটিই উর্দু সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস। ঔপন্যাসিক মির্জা হাদি রুসওয়া কর্তৃক লিখিত ও ১৮৯৯ সালে প্রকাশিত উপন্যাসটি ভারতের লক্ষ্ণৌ নগরের একজন তাওয়ায়েফকে উপজীব্য করে রচিত। প্রখ্যাত হায়দরাবাদী গবেষক সাজ্জাদ শাহিদের অভিমত তাওয়ায়েফটি আর কেউ নন বরং আঠারো শতকে তার নিজের শহরে জন্ম নেয়া ও বেড়ে ওঠা একজন উর্দু মহিলা কবি যার নাম ছিল মাহ লাকা বাই চান্দা।

উপমহাদেশের নবীন সাহিত্য সমাজের অনেকের কাছেই মাহ লাকা বাই চান্দা নামটি অশ্রুতপূর্ব মনে হবে। কিন্তু বহুমুখী সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এবং যুগের সন্ধিক্ষণে জন্ম নেয়া তার ব্যক্তিত্বের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সমাজের সর্বোচ্চ সুবিধা অর্জন, সে অনুপাতে নিজেকে গড়ে তোলা, অর্জিত জ্ঞানকে সমসাময়িক সমাজের হিতার্থে ব্যবহার করা, সর্বোপরি শিল্প-সাহিত্যে অবদান রাখা আর এসব কিছু তাও একজন নারী হয়ে করতে পারার ঘটনা আমাদের আজকের সমাজেও বিরল। কিন্তু মাহ লাকা বাইর জীবনে এমন বহু বিরল ঘটনার সমাবেশ ঘটেছিল। তার প্রকৃত নাম ছিল চান্দা বিবি। ১৭৬৮ সালের ৪ এপ্রিল হায়দরাবাদে এ মহীয়সী রমণীর জন্ম। তার পিতার নাম বাহাদুর খাঁ ও মাতার নাম রাজ কুয়াঁর বাই। তার মাতা রূপ-লাবণ্য, সংগীত ও নৃত্যকুশলতার কারণে মেয়দা বাই নামে মুয়াশরায় সুপরিচিত মুখ ছিলেন। চান্দা বিবির দাদা ছিলেন মির্জা সুলতান নজর। নানা ছিলেন খোয়াজা মুহাম্মদ হুসেইন।

মাহ লাকা চান্দার জীবনকাহিনী বুঝতে পাঠককে একটু ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে নিয়ে যাওয়া আবশ্যক মনে করছি। সতেরো শতকের বিভিন্ন সময়ে সম্রাট আওরঙ্গজেব দক্কন অঞ্চলের বিভিন্ন অংশ অধিকার করেন। এসব বিজয়ের মাধ্যমে মোগলদের অধীনে নিজাম দক্কন অঞ্চলের শাসক নিযুক্ত হন। ১৭২৪ সাল থেকে প্রথম আসাফ জাহা হায়দরাবাদের কার্যত স্বাধীন শাসক হন। ১৭৪৮ সালে তার মৃত্যুর পর ব্রিটিশ ও ফরাসিরা বিদ্রোহী দলগুলোকে সমর্থন প্রদান করে। এ সময় ক্ষমতার দ্বন্দ্বে অবিরাম লড়াই চলে। ফলে বিশাল ভূখণ্ড প্রথমে ফরাসিদের দখলে আসে এবং পরে তা ইংরেজদের দখলে চলে যায়। ১৭৬২ সালে দ্বিতীয় আসাফ জাহা ক্ষমতায় আরোহণ করে। এ নিজামের সঙ্গেই মাহ লাকা বাই তিনটি যুদ্ধে পুরুষ সেনার যুদ্ধসাজে অংশ নিয়েছিলেন।

যা-ই হোক, প্রথম আসাফ জাহার সময়কালে যখন মোগল সম্রাট নাসিরুদ্দীন মুহম্মদ শাহ শাহজাহানাবাদ তথা দিল্লির তখ্‌তনশিন তখন মাহ লাকার নানা খোয়াজা হুসেইন আওয়ারা বেশে গুজরাতের আহমদাবাদে এসে উপস্থিত হন। স্বীয় পরিশ্রমে তিনি সেখানকার সরকারি কোষাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। সুপুরুষ, প্রেমিকমন ও ধনাঢ্য খোয়াজা মুহাম্মদ হুসেইন মাহপৈকর চান্দা বিবি নামে গুজরাতি এক মহিলাকে বিয়ে করেন। অর্থাৎ মাহ লাকা চান্দার নানি ছিলেন তার সমনামী। আয়েশি মনোভাব ও অবিমৃষ্যকারিতার জন্য তার পরিচালনায় রাজকোষে টান পড়ে। গুজরাতের নাজিম তাফতিশ করে যখন ঘটনার সত্যতা প্রমাণ পেলেন তখন তাকে গ্রেফতার করার হুকুম দিলেন। অগত্যা খোয়াজা মুহাম্মদ হুসেইন স্বীয় বালবাচ্চাকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রেখে অন্তর্ধান করেন। কিছুকাল চান্দা বিবি স্বীয় জেবর ও আসবাব বিক্রি করে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করেন। যখন সঙ্গে থাকা সবকিছু বিক্রি করে পথে বসার উপক্রম হয়, তখন তিনি সপরিবারে পালাতে উদ্যমী হন। কারণ স্বামীর পালিয়ে যাওয়ার কারণে তিনি নাজিরের নজরবন্দিতে ছিলেন। পদব্রজে এ সময় তিনি কসবা দিবালিয়ায় পৌঁছে ভগবতীদের পাড়ায় অবস্থান করেন। নাচগান এ ভগবতীদের পেশা ছিল। বিভিন্ন স্থানে বিচরণ করে তারা নৃত্যগীত সহকারে রামায়ণ পরিবেশন করত। চান্দা বিবির দুই কন্যা নূর বিবি ও বুলন বিবির মন এসব নৃত্য-সংগীতের তালে মজে যায়। তারা এসব কলায় পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং ধীরে ধীরে নৃত্য-গীতে বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। এদিকে চান্দা বিবির অন্য কন্যা মেয়দা বিবির সৌন্দর্য চারদিকে চাউর হতে থাকে। দিবালিয়ার রাজা সলিম সিং প্রেমে অন্ধ হয়ে মেয়দা বিবির সৌন্দর্যে মহলের শোভা বর্ধিতকরণের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু দিবালিয়ার রানীর তা পছন্দ না হওয়ায় তিনি জাদুটোনা করে চান্দা বিবির পরিবারকে ভীতসন্ত্রস্ত করেন। এতে মেয়দা বিবি কিছুকাল বেহুঁশ ও নিশ্চল হয়ে পড়েন। মেয়ে সুস্থ হয়ে উঠলেও মা ঘটনার আকস্মিকতা সহ্য করতে না পেরে খোদার আহ্বানে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি দেন। চান্দা বিবির মৃত্যুর পরে তার মেয়েরা দিবালিয়া ছেড়ে মালওয়ার রাস্তা ধরে নর্মদা নদী পেরিয়ে দক্কনে এসে পৌঁছেন। এতদিনে মাহতাব নামে এক মেয়ে মেয়দা বিবির কোল আলো করে আসে। মাহতাব বিবি মূলত সলিম সিং ও মেয়দা বিবির কন্যা। তারা কিছু সময় বোরহানপুরে অবস্থান করে আওরঙ্গাবাদ চলে আসেন। এখানে তারা বাইয়ের পেশা বেছে নেন। রাজা সলিম সিঙের ভয়ে তারা তিন বোনই নাম পরিবর্তন করেন। নূর বিবি নাম বদলে বুর্জ কুয়াঁর বাই, বুলন বিবি নাম বদলে বুলন কুয়াঁর বাই এবং মেয়দা বিবি নাম বদলে রাজ কুয়াঁর বাই হন। মাহতাব বিবিও নাম বদলে হয়ে যান মাহতাব কুয়াঁর বাই। এ শহরে বুলন কুয়াঁর বাই ও বুর্জ কুয়াঁর বাই মুজরা করতেন এবং রাজ কুয়াঁর বাই ও মাহতাব কুয়াঁর বাই ঘর সামলাতেন। বয়ঃপ্রাপ্ত হলে মাহতাব কুয়াঁর বাইয়ের সৌন্দর্য খোলতাই হতে থাকে। ফলে অল্প সময়ে তাদের নামডাক চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজা-অমাত্যদের সঙ্গে কুয়াঁর বিবিদের ওঠাবসা শুরু হয়।

এদিকে আসাফিয়া রাজ্যের ওয়াজির-এ-আজম নওয়াব এহতেশাম জঙ রুকন-উদ-দৌলা মাহতাব কুয়াঁর বাইয়ের প্রেমে পাগল হয়ে তাকে বিয়ে করেন। বিয়ে করে তিনি তাকে ‘সাহেব জি সাহেবা’ উপাধি প্রদান করেন। ওয়াজির-এ-আজম নিজ শাশুড়িকে ‘বাই সাহেবা জি’ বলে সম্বোধন করতেন। মেয়ে মাহতাব বাইর বিবাহের পরে মা রাজ কুয়াঁর বাই আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দক্কনের আমির-ওমরা তখনো তার জন্য জান-কোরবান ছিলেন। এজন্য তিনি মির্জা সুলতান নজরের বড় পুত্র নওয়াব বাসালত খানকে বিয়ে করেন। এদের দুজনের মেয়ে হিসেবে ৭ এপ্রিল ১৭৬৮ সালে মাহ লাকা চান্দা বিবির জন্ম। অবশ্য প্রথমে তার নাম চান্দা বিবি রাখা হয়। এদিকে তার বড় বোন মাহতাব কুয়াঁর বাই ও বোনাই রুকন-উদ-দৌলার কোনো সন্তান না থাকায় তারা চান্দা বিবিকে প্রতিপালনের দায়িত্ব পান। রুকন-উদ-দৌলা হায়দরাবাদের দ্বিতীয় নিজাম নিজাম আলী খানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সুতরাং ভাগ্যক্রমে এমন উচ্চবংশীয় পরিবারে মাহ লাকা পারবারিশ পান। ফলে প্রচলিত শিক্ষার বাইরে তিনি ঘরদারি, নানাবিধ কলা, অস্ত্রচালনা ও যুদ্ধবিদ্যার জ্ঞান অর্জন করেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাহ লাকার অর্জিত কলাবিদ্যা লোকচক্ষুর গোচরে আসতে থাকে। কোনো আসরে তার মৌজুদগি উপস্থিত সম্ভ্রান্ত লোকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখত। অনেক সভাসদের সঙ্গে তার অন্তরঙ্গতা ছিল। উস্তাদ তানসেনের প্রপৌত্র খুশহাল খান তাকে সংগীতের কলাকৌশল শিখিয়েছিলেন। মূলত কলাকার হিসেবে তার গড়ে ওঠার পেছনে এর অবদান অনস্বীকার্য। ব্রজভাষায় গান গাওয়া, উত্তর ভারতের রাগসংগীত, গজল লেখা প্রভৃতি তিনি এর কাছে শিখেছিলেন। এছাড়া তিনি উর্দু, হিন্দি, আরবি, ফারসি, ভোজপুরি ভাষায় সুদক্ষ ছিলেন। একজন নারীর এমন শিক্ষা অর্জন সত্যিই সে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে অবিশ্বাস্য। মাহ লাকা বাই হাসি-খুশি, বুদ্ধিমতী, ঠাট্টাপ্রিয় ও আমুদে প্রকৃতির ছিলেন। ধারণা করা হয়, আট বছর বয়স থেকে মাহ লাকা বাই গজল লিখতে শুরু করেন। বছর পনেরোতে এসে নর্তকী হিসেবে বিভিন্ন সভায় তিনি অংশ নেন অর্থাৎ এ সময়েই তিনি নিজামের দরবারে অন্তর্ভুক্ত হন। আরস্তু জাহা ও মীর আলম নামে পর পর দুজন প্রধানমন্ত্রীর পৃষ্ঠপোষকতাও লাভ করেন তিনি। নিজাম দ্বিতীয় আসাফ জাহা তার হাতে বিপুল পরিমাণ জমির জায়গিরদারি অর্পণ করেন। নিজামের সঙ্গে তিনি নিজস্ব চিতা নিয়ে মৃগয়ায় গমন করতেন। তার দরবারে তিনি ‘উমরাহ’ পদবিতে ভূষিত হন। এ থেকে বোঝা যায়, নিজামের দরবারে কেবল তার গমনাগমই ছিল না, বরং তিনি দরবারের সলাপরামর্শেও অংশ নিতেন। শোনা যায়, পুরুষ যোদ্ধার বেশধারণ করে তিনি নিজামের সঙ্গে তিনটি যুদ্ধে শত্রুপক্ষের সঙ্গে লড়াই করেন। তাঁবু গাড়া, তিরন্দাজি, ঘোড়সওয়ারি প্রভৃতি কাজেও তিনি অসামান্য ছিলেন।

মাহ লাকা বাইর অধিকাংশ কবিতাই ফারসি ও প্রথম দিককার উর্দুতে রচিত। এসব ফারসি গজলের অনেকই হারিয়ে গেছে। তার রচিত দিওয়ানটির নাম গুলজার-এ-মাহ লাকা। এটি ১৭৯৮ সালে প্রকাশিত হয় এবং এতে তার স্বহস্তে কৃত খুশনবিশির নমুনা পাওয়া যায়। এরই একটি নুসখা লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত, যা তিনি দক্কনে আসা একজন ব্রিটিশ অফিসারকে উপহারস্বরূপ প্রদান করেছিলেন। মিউজিয়ামের নোটে লিখিত আছে: The Diwan of Chanda, the celebrated Malaka of Hyderabad. This book was presented as a nazr from this extraordinary woman to Captain Malcolm in the midst of a dance in which she was the chief performer on the 18 October 1799 at the House of Meer Allum Bahadur.

মাহ লাকা চান্দা এমন এক সময়ের কবি যখন দক্কনি ফারসি উর্দুতে পরিবর্তিত হচ্ছিল। তার লিখিত গজলগুলোয় এ পরিবর্তনের সুর শোনা যায়। উল্লেখ্য, ১৩৯৮ সালের দিকে তৈমুর লঙের আক্রমণে দিল্লি থেকে দরবেশ বন্দে নেওয়াজ দক্কনে চলে আসেন। দক্কনি ভাষায় প্রভাবিত হয়ে এ ভাষায় তিনি পদ রচনা করেন এবং ধীরে ধীরে তা জনপ্রিয় হতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে গোলকোন্দার শাসক মুহম্মদ কুলি কুতুব শাহ এ ভাষা ব্যবহার করে প্রথম দিওয়ান রচনা করেন। মাহ লাকা চান্দার সময়ে রাজভাষা ফারসি বহাল থাকলেও দক্কনি ভাষা উৎকর্ষে পৌঁছে। ১৭০০ সালের দিকে একজন উর্দু কবি ওয়ালি দক্কনি দিল্লি গমন করে সুরেলা ভাষায় দক্কনি কবিতা শুনিয়ে সেখানকার সবাইকে মাত করেছিলেন। দিল্লির সম্ভ্রান্ত ফারসিভাষী সমাজে এর প্রভাব এমনভাবে পড়েছিল যে তারা দিল্লির স্থানীয় ভাষায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। এ ভাষাই রেখতা নামে অভিহিত হয়।

বিভিন্ন ব্যক্তি কর্তৃক লিখিত ইতিহাসে মাহ লাকা চান্দার জীবনেতিহাসের এসব অস্পষ্ট ইশারা পাওয়া যায়। মুনশি গুলাম হোসেইন খাঁ বাইদারী কর্তৃক রচিত দক্কনের বিখ্যাত ইতিহাসগ্রন্থ ‘মাহনামা’, শেহনাওয়াজ খাঁ কর্তৃক রচিত ‘মায়াসিরুল উমারা’, গুলাম সামদানী গওহর কর্তৃক রচিত ‘হায়াত-এ-মাহ লাকা’ প্রভৃতি গ্রন্থ এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য। প্রথমোক্ত গ্রন্থটি আজও অপ্রকাশিত এবং এর পাণ্ডুলিপি হায়দরাবাদের ‘ইদারা-এ-আদাবিয়াত-এ-উর্দু’, লন্ডনের ‘ব্রিটিশ মিউজিয়াম’ ও করাচির ‘আঞ্জুমান-এ-তারাক্কী-এ-উর্দু’র কুতুবখানায় রয়েছে। তিনটি স্থানে পাণ্ডুলিপিটি যথাক্রমে ‘মাহনামা’, ‘তারিখ-এ-দিল আফরুজ’ ও ‘তাজাল্লিয়াত-এ-মাহ লাকা’ নামে সংরক্ষিত। সম্প্রতি চান্দা-সম্পর্কিত আরো যে প্রকাশিত বই যেমন ড. সামিনা শওকত রচিত ‘মাহ লাকা’, প্রফেসর শাফকাত রিজভী রচিত ‘দিওয়ানে মাহ লাকা বাই চান্দা’ এবং রাহাত আজমী রচিত ‘মাহ লাকা হালাত-এ-জিন্দেগি মাআ দিওয়ান’ ব্যতীত মাহ লাকা নিয়ে আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

মাহ লাকা চান্দা গজল কবিতার রসিক ও সমঝদার ছিলেন। তিনি ৩৪ পৃষ্ঠার একটি কাব্যসংগ্রহ রেখে গেছেন, যাতে ১২৫টি গজল পাওয়া যায়। প্রতিটি গজলে কমপক্ষে পাঁচটি শের রয়েছে। ১১৮টি গজলের মাকতায় হজরত আলীর (রা.) প্রতি তার বিশ্বাসের কথা প্রকাশিত হয়েছে। তার অধিকাংশ গজল স্মৃতিভিত্তিক যাতে তার উস্তাদ হিসেবে শের মোহাম্মদ খাঁয়ের কথা পাওয়া যায়। কিন্তু তার জীবনী লেখক গুলাম সামদানি খাঁ গওহর স্বীয় গ্রন্থে দক্কনের ওয়াজির-এ-আজম মীর আলম বাহাদুরকে তার উস্তাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এক মারাঠা যোদ্ধার সঙ্গে মাহ লাকা বাইর প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলেও শোনা যায়। এ মারাঠা যোদ্ধার নাম ছিল রাজা রাওরম্ভা জয়বন্ত বাহাদুর। মাহ লাকা বাইর কিছু কিছু গজলে তার কথা পাওয়া যায়। রাজা রাওরম্ভা মারাঠাদের বিপক্ষে লড়েছিলেন এবং তিনি দ্বিতীয় নিজামের সেনাপতি ছিলেন। তিনি ব্রিটিশ ও নিজামের সৈন্যদের নিয়ে টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন।

মাহ লাকার কীর্তি কেবল সাহিত্য, যুদ্ধ ও নৃত্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি নারীহিতৈষীও ছিলেন। নারীদের শিক্ষার জন্য তিনি সে সময়ে এক কোটি রুপি দান করেছেন বলে শোনা যায়। একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও তিনি নির্মাণ করেছিলেন, যাতে উত্তম কিছু শিক্ষকের অধীনে ৩০০ ছাত্রী অধ্যয়ন করত। মাহ লাকা চান্দা মৃত্যুবরণ করেন ১৮২৪ সালে। মৃত্যুর সময়ে স্বীয় ধনসম্পদ তিনি অকাতরে মেয়েদের কল্যাণে দান করে গেছেন।

ইসফানদিয়র আরিওন: লেখক ও অনুবাদক