‘আশ্চর্য!’ পত্রিকার সম্পাদক অদ্রীশ বর্ধনের নেয়া সত্যজিৎ রায়ের এ সাক্ষাৎকার দুটি প্রথম প্রকাশ হয়েছিল ১৯৬৭ সালের ‘আশ্চর্য!’ পত্রিকার পাতায়। সেই সময় সত্যজিৎ রায় ‘অবতার’ নামে একটি সায়েন্স ফিকশন ছবি তৈরির কথা ভেবেছিলেন। চিত্রনাট্য তৈরি থেকে কাস্টিং ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন অনেকটাই। যে সময়ে হলিউডের তৈরি সায়েন্স ফিকশন ছবিগুলোয় ভিনগ্রহের প্রাণীদের কেবল পৃথিবীর ওপর আক্রমণকারী হিসেবেই দেখা হতো, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে সত্যজিৎ কল্পনা করেছিলেন এমন এলিয়েনের, যে সাম্রাজ্য বিস্তারের ইচ্ছা নিয়ে পৃথিবীতে আসেনি। এ প্রসঙ্গে সত্যজিতের ছোটগল্প ‘বঙ্কুবাবুর বন্ধু’র সেই ‘অ্যাং’ নামের ই.টির কথা নিশ্চয়ই মনে পড়বে সবার। কোনো সন্দেহ নেই, স্পিলবার্গের ‘ই.টি’ ছবির অনেক আগেই এক মানববন্ধু এলিয়েনের কল্পনা করেছিলেন সত্যজিৎ। কিন্তু বিশ্বের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের দুর্ভাগ্য, শেষ পর্যন্ত ছবিটি হয়নি। সত্যজিৎ তার সেই স্বপ্নের কথা আড্ডার মেজাজে জানিয়েছিলেন একান্ত স্নেহধন্য অদ্রীশ বর্ধনকে
প্রথম সাক্ষাৎকার
লন্ডনে গিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়। তার সায়েন্স ফিকশন ছবির এক বিশেষ ভূমিকায় প্রখ্যাত অভিনেতা পিটার সেলার্সকে চুক্তিবদ্ধ করিয়ে ফিরে এলেন। এসএফ (সায়েন্স ফিকশন) সিনে ক্লাবের প্রেসিডেন্ট তিনি। তার প্রথম সায়েন্স ফিকশন ছবি সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য ‘আশ্চর্য!’-তে পরিবেশন করা উপলক্ষে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারের আয়োজন হলো অদ্রীশ বর্ধনের সঙ্গে।
পিটার সেলার্সকে চুক্তিবদ্ধ করালেন কোন ভূমিকার জন্য?
মাড়োয়ারি ভূমিকার জন্য।
পিটার সেলার্স কোন দেশবাসী?
ইংলিশ। যুদ্ধের সময়ে পুরো এক বছর তিনি কলকাতায় ছিলেন।
কিন্তু তিনি বাংলা বলবেন তো?
আমার কাহিনীতে তার বাংলা বলার দরকার নেই। আগাগোড়াই তিনি কথা বলবেন এক আমেরিকানের সঙ্গে ইংরেজিতে। কিন্তু তার বাংলা বলার খুব ইচ্ছে। আমাকে খুব ধরেছিলেন। আমি কথা দিয়েছি, ছবিতে বাংলা বলার সুযোগ করে দেব!
পিটার সেলার্স তো ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ লাভ’-এ ছিলেন?
হ্যাঁ।
আমেরিকান চরিত্রে তাহলে মার্লোন ব্রান্ডো থাকছেন?
ব্রান্ডোর থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। কেননা প্রথমত. আমার কাহিনীর চরিত্রের সঙ্গে ব্রান্ডো তেমন খাপ খায় না। দ্বিতীয়ত. বিলেতে গিয়ে শুনে এলাম, ব্রান্ডো একটু টেম্পারামেন্টের মানুষ। সোজা কথায় মেজাজি। ওর সঙ্গে কাজ করা মুশকিলের ব্যাপার।
কিন্তু ব্রান্ডো তো ইচ্ছুক?
তা ঠিক। হঠাৎ কলকাতায় উনি এলেন, যোগাযোগটাও হয়ে গেল। তাছাড়া আমার ছবি দেখতে উনি খুবই ভালোবাসতেন এবং প্রতিটি ছবি খুঁজে খুঁজে দেখেন।
কিন্তু ব্যবসায়িক দিক থেকে সাধারণ দর্শকের কাছে ব্রান্ডোর আবেদন বেশি নয় কি?
বেশি তো বটেই। ব্রান্ডোর নাম তো আছে। কিন্তু আমি ভাবছি স্টিভ ম্যাকুইনের কথা। স্টিভ এক কথায় অসাধারণ অভিনেতা। বছর চার-পাঁচ হলো, তিনি খুব নাম করেছেন। আমার কাহিনীর চরিত্রে তিনি খাপ খেয়ে যাবেন।
তা অবশ্য সত্যি। ‘গ্রেট এসকেপ’ যারা দেখেছেন, তারা স্টিভ ম্যাকুইনকে ভুলতে পারেন না। তার ব্যক্তিত্ব ‘ক্যাসাব্ল্যাংকা’র হামফ্রি বোগার্টের কথা মনে করিয়ে দেয়।
ঠিক কথা।
কিন্তু ম্যাকুইন তো ব্যস্ত মানুষ। যদি পাওয়া না যায়?
সেক্ষেত্রে পল নিউম্যানকে নেব (পল নিউম্যানের সাম্প্রতিক ছবি ‘দ্য মুভিং টার্গেট’। এ ছবিতে তাকে বেসরকারি গোয়েন্দা হিসেবে দেখা যাবে)।
কাহিনীর নামকরণ হয়ে গেছে?
হ্যাঁ। ইংরেজিতে ‘দি এলিয়েন’। বাংলায় সম্ভবত ‘অবতার’। তবে ও দেশে ও নাম কী রকম নেবে, তার ওপর নাম পাল্টানো নির্ভর করছে।
কাহিনীটা কী?
(সত্যজিৎ বাবু তখন পুরো কাহিনীটা শোনালেন। শূন্যে আঙুল দিয়ে একে একে বর্ণনা দিতে লাগলেন। নিমীলিত চোখে গল্প বলতে লাগলেন। মনে হলো যেন পুরো দৃশ্যটা তিনি চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছেন। খুঁটিনাটিসহ সেই বর্ণনা শুনতে শুনতে অদ্রীশ বর্ধনও যেন স্পষ্ট দেখতে পেলেন, বাংলাদেশের এক অজপাড়াগাঁয়ে এসে নেমেছে এক বিচিত্র গ্রহযান। তাদের অ্যাডভেঞ্চার, পৃথিবীর ছোট ছোট প্রাণী দেখে তাদের বিস্ময়, মানুষের ওপর তাদের সহানুভূতি, আমেরিকানের আবির্ভাব ইত্যাদি গভীর দাগ কেটে গেল তার মনে।)
গল্প শেষ হলে অদ্রীশ বাবু প্রশ্ন করলেন, ছবিতে গ্রহান্তরের আগন্তুকদের দেখাবেন?
‘নিশ্চয়’ বলে সত্যজিৎ বাবু ভিনগ্রহের সেই অতি উন্নত বাসিন্দাদের যে বর্ণনা দিলেন, তা যেমনই বিস্ময়কর, তেমনই অভিনব। ফ্যান্টাস্টিক মনে হলেও তা পুরোপুরি বিজ্ঞানসম্মত। সত্যজিৎ বাবুর ইচ্ছায় এ বর্ণনা এখন গোপন থাকবে, জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা চলবে না। গল্পের ক্ষেত্রেও তিনি গোপনীয়তা অবলম্বন করতে চেয়েছেন, তাই লেখা হলো না।
অদ্রীশ বাবু জিজ্ঞেস করেছিলেন, এসব তথ্য এখন প্রকাশ করা যাবে কি?
না। মাইক উইলসন খুবই হুঁশিয়ার মানুষ। যখন সময় হবে, তখন তিনি পাবলিসিটি শুরু করবেন। (এ প্রসঙ্গে ‘২০০১: আ স্পেস অডিসি’ সম্পর্কেও আলোচনা হলো। এ ছবিটি সম্পর্কেও দারুণ গোপনীয়তা অবলম্বন করেছেন প্রযোজক। একটি স্থিরচিত্রও বাইরে প্রকাশ পায়নি। সেটের মধ্যে অনুমতি ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। কাহিনীও কোথাও প্রকাশ পায়নি। গল্পটা অবশ্য লন্ডনে গিয়ে কাহিনীকার আর্থার সি ক্লার্কের মুখে সত্যজিৎ বাবু শুনে এসেছেন, ছবি এবং সেটও দেখেছেন। প্রসঙ্গত, আর্থার সি ক্লার্ক এসএফ সিনে ক্লাবের অন্যতম শুভানুধ্যায়ী।)
মি. ক্লার্ক তাহলে আপনার সঙ্গে কীভাবে আছেন?
খুব সম্ভব তিনি আমার সঙ্গে থাকছেন না। কেননা, গল্পটা তার সাহায্য ছাড়াই আমার লেখা হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে আমার লিবার্টি আছে, তবে উপন্যাস আকারে প্রকাশের সময় ক্লার্ক থাকবেন।
গ্রহযানের খুঁটিনাটি দেখাবেন?
নিশ্চয়।
(সত্যজিৎ বাবু অতি উন্নত এক গ্রহের মহাকাশযানের যে বর্ণনা শোনালেন, তা শুনলে কল্পনাকেও থমকে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু পরে প্রেমেন্দ্র মিত্রও স্বীকার করেছেন, এ রকম মহাকাশযান সম্ভব। বিজ্ঞান প্রগতির মূল লক্ষ্যই হলো তাই। আমরা এখনো যা কল্পনাতেও আনতে পারিনি, অতিদূর গ্রহের বাসিন্দারা সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছে। সত্যজিৎ বাবুর ইচ্ছায়, গ্রহযানের ভেতর এবং বাইরের বর্ণনা আপাতত প্রকাশ করা হবে না।)
অদ্রীশ বাবু আবার প্রশ্ন করেছেন, ‘অবতার’ তো বাংলায় লেখা হচ্ছে?
হ্যাঁ। কিন্তু এই কাহিনীকে অবলম্বন করে আর্থার সি ক্লার্ক উপন্যাস লিখবেন এবং সে উপন্যাস বিলেত থেকে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেয়া হবে। কাহিনীকার হিসেবে আমাদের দুজনের নাম থাকবে।
ভারতের সর্বপ্রথম ৭০ এমএমের ছবি তাহলে আপনিই তুলছেন এবং সে ছবিও ভারতের সর্বপ্রথম সায়েন্স ফিকশন ফিল্ম?
হ্যাঁ। এজন্য ক্যামেরা আনা হবে বাইরে থেকে। মেকআপ ম্যানও আসবে বাইরে থেকে। স্পেসশিপ এক্সপার্টও বাইরে থেকে আসবেন।
সে তো অনেক খরচের ব্যাপার?
মাইক উইলসন তা দিতে রাজি। তিনি সিলন থেকে চার-পাঁচটি ছবি তুলেছেন। প্রতিটি ছবিতে শতকরা ৫০০ ভাগ লাভ করেছেন। তিনি বলছেন, টাকার জন্য ভাববেন না। টাকা আমেরিকা থেকে আসবে। মনে হচ্ছে এদের সঙ্গে কাজ করে আমি আনন্দ পাব। এত ভালো সেটআপ এর আগে আমি কখনো পাইনি। টাকাকড়ির কথা তো ছেড়েই দিলাম, ইফিশিয়েন্সিও প্রচুর।
ছবি কবে শুরু হবে?
মাইক উইলসনের ইচ্ছা এ বছরের সেপ্টেম্বরে। এতগুলো যোগাযোগ যখন হয়ে গেল, ব্রান্ডোর সঙ্গে কথাবার্তা হয়ে গেল, তখন শুভস্য শীঘ্রম। কিন্তু বলেছিলাম, ‘অশনিসংকেত’ আর ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ না তুলে সায়েন্স ফিকশনে হাত দেব না। কারণ এ ছবি তোলার পর আমার ছবি তোলার ধারাটাই পাল্টে যাবে। মাইক উইলসনেরও তাই মত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্থির হয়েছে, সামনের বছরের (১৯৬৮) জানুয়ারিতে কাজ শুরু হবে। তা না হলে কতকগুলো অসুবিধার সম্মুখীন হতে হবে।
অশনিসংকেত?
তার আগেই তোলা হয়ে যাবে।
গুপী গাইন?
সামনের বছরের অক্টোবরে তুলব।
আচ্ছা, মাইক উইলসন কি আমেরিকান?
তার জন্ম ইংল্যান্ডে। মার্চেন্ট নেভিতে যোগদান করে অনেক দেশ তিনি ঘোরেন। কানাডাতেও অনেককাল ছিলেন।
অবতারকে কি তাহলে আমেরিকান প্রডাকশন বলা যাবে?
সেটা এখন ঠিক বলা যাবে না।
(সাক্ষাৎকার সেদিনের মতো স্থগিত রইল। জানা গেল, সত্যজিৎ বাবু ‘চিড়িয়াখানা’ ছবির শুটিং নিয়ে ৫ মে পর্যন্ত ব্যস্ত থাকবেন।)
দ্বিতীয় সাক্ষাৎকার
‘দি এলিয়েন’ সম্পর্কে কথাবার্তা পাকা করার জন্য সত্যজিৎ রায় গিয়েছিলেন হলিউডে। ছিলেন বহুদিন। সম্প্রতি তিনি কলকাতায় ফিরেছেন। ফিরেই ‘আশ্চর্য!’ পত্রিকার জন্য এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অদ্রীশ বর্ধনকে তিনি বহু তথ্য জানান।
অবতার সম্পর্কে সব ব্যবস্থাই কি সম্পূর্ণ করে এলেন?
মোটামুটি। তবে ছবি তোলার আগে আরেকবার হলিউডে যেতে হবে টেকনিশিয়ানদের নিয়ে।
ছবি কবে উঠছে?
১৯৬৮ সালের অক্টোবরে শুরু হবে। তার আগে মাস তিন-চারের প্রস্তুতি প্রয়োজন।
মাঝে কি ছবি তুলবেন?
২১ জুলাই থেকে উত্তমের বাকি শুটিংগুলো শেষ হলেই ‘চিড়িয়াখানা’ শেষ হবে। অক্টোবরে হাত দেব ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ ছবিতে। রঙিন ফিল্ম। ফ্যান্ট্যাসি। ‘অশনিসংকেত’ বোধহয় পিছিয়ে গেল।
ইংরেজ অভিনেতাদের মধ্যে পিটার সেলার্স তো চুক্তিপত্রে সই করেছেন। আমেরিকান অভিনেতাদের মধ্যে মার্লোন ব্রান্ডোকে নিচ্ছেন না?
না। কারণটা আগেই বলেছি। প্রথমত, এ চরিত্রে তিনি খাপ খান না। দ্বিতীয়ত, ব্রান্ডোর টেম্পারামেন্ট আলাদা। ডিরেক্টরদের সঙ্গে হামেশাই গোলমাল হয়। আমাকে অবশ্য কলকাতায় উনি বলেছেন, বাজে ডিরেক্টরদের সঙ্গে ও রকম আমি করেই থাকি। তা হলেও তাকে নিচ্ছি না আরো একটা কারণে। একটা ছবিতে দুজন টপ স্টার থাকলে অনেক অসুবিধা হয়।
তাহলে কি স্টিভ ম্যাকুইন আসছেন?
না। দুই বছরের মধ্যে তাকে ধরা যাবে না। তাই একজন উদীয়মান অভিনেতাকে নেব। হলিউডে তিনি নাম করতে শুরু করেছেন। খবরটা পাব সাতদিনের মধ্যেই। এতে তার পক্ষে একটা ভালো ‘ব্রেক’ হবে। আমাদেরও সুবিধা হবে।
পিটার সেলার্স নিঃসন্দেহে শক্তিমান ও খ্যাতিমান অভিনেতা। বিদেশী বাজারে এবং যারা ইংরেজি ছবি দেখেন, তাদের কাছে অবতার বা এলিয়েনের আকর্ষণ এজন্য নিশ্চয় বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু যারা বাংলা ছবি দেখেন, তারা পিটার সেলার্সের নাম শোনেননি বললেই চলে।
তারা তো সত্যজিৎ রায়ের নাম শুনেছেন।
টেকনিশিয়ানদের মধ্যে কাদের আপনি নিচ্ছেন?
ক্যামেরাম্যান সুব্রত মিত্র, আর্ট ডিরেক্টর বংশী চন্দ্রগুপ্ত। এদের নিয়ে হলিউড যেতে হবে ছবি তোলার আগেই।
ছবি কি ৭০ মিলিমিটারের বড় ক্যামেরায় উঠবে?
না। উঠবে ৩৫ মিলিমিটারের ছোট ক্যামেরায়। তাতে সুবিধা দুটো। প্রথমত, বড় ক্যামেরা নাড়াচাড়া করার হাঙ্গামা থাকছে না। দ্বিতীয়ত, ৭০ মিলিমিটারের ছবি দেখানোর সিনেমা হল পৃথিবীতে খুব বেশি নেই। তাই ছবি ৩৫ মিলিমিটারে উঠবে, তা থেকে খুব সহজেই প্রয়োজনমতো ৭০ মিলিমিটারের প্রিন্ট তৈরি করে নেয়া যাবে। সবাই তাই করে।
অনেকেই আশা করছিল, আপনি বিদেশী ক্যামেরাম্যান নেবেন।
সে অফার অবশ্য আমি পেয়েছি। এই তো সেই চিঠি। টাইপ করা নয়, নিজের হাতে চিঠি লিখেছেন হলিউডের টপ ক্যামেরাম্যান হ্যাসকেল ওয়েসলার। আমার যেকোনো ছবিতে তিনি কাজ করতে প্রস্তুত। এজন্য কানাকড়িও গ্রহণ করবেন না।
এ তো মস্ত খবর। আমাদের গর্বের বিষয়। আমার মনে হয় চিঠিখানা ফটোস্ট্যাট কপি করে ‘আশ্চর্য!’-তে ছেপে দেয়া দরকার।
সেটা নিজের বড় পাবলিসিটি হয়ে যায়।
তাহলে মাইক উইলসন আপনাকে সর্বপ্রথম যে প্রস্তাব জানিয়েছিলেন, সেটি প্রকাশ করার অনুমতি দিন।
কোথায় আছে সে চিঠি খুঁজে দেখতে হবে। তুমি পরে এসে নিয়ে যেয়ো।
অবতার ছবিতে টাকা ঢালছে কে?
কলম্বিয়া পিকচার্স। সারা পৃথিবীতে পরিবেশনার ভারও ওদের। আমি আর মাইক উইলসন একটা কোম্পানি করেছি অবতার তোলার জন্য। এ ব্যবস্থা এশিয়ায় এই প্রথম।
বাঙালি দর্শকদের জন্য আপনি তাহলে নামি অভিনেতা নিচ্ছেন না?
আমার সে রকম কোনো ডগমা নেই। যে চরিত্রে যাকে মানাবে, আমি তাকেই নেব। সে নতুনই হোক কি পুরনো। আমার প্রথম ছবি ‘পথের পাঁচালী’তে আমি মনে করেছিলাম নতুন মুখের দরকার। তাই করেছি। সেই কারণে পুরো সিরিজটাতেই ব্যবস্থা রাখতে হয়েছে। দ্বিতীয় ছবি ‘জলসাঘর’-এ তো ছবি বিশ্বাসকে নিয়েছি। ওই চরিত্রে তিনিই ছিলেন উপযুক্ত অভিনেতা। আবার ‘নায়ক’ ছবিতে উত্তমের দরকার হয়েছিল।
আবার কিছু ব্যক্তি প্রায়ই বলেন, শেষ পর্যন্ত সত্যজিৎ বাবুকে উত্তম কুমারকেও নিতে হলো?
এখন আর তারা তা নিশ্চয় বলবেন না। তাছাড়া পাত্র-পাত্রী নির্বাচন সম্পর্কে আমার পদ্ধতি আমি আগেও জানিয়েছি। বাংলাদেশের দু-একটি পত্রিকা ছাড়া সব কাগজেই তা বেরিয়েছিল।
বিলেত টেলিভিশনে সায়েন্স ফিকশন এসেছে?
এসেছে। গোটা দু-তিন রঙিন সিরিজ নিয়মিত চলছে।
সায়েন্স ফিকশন বই?
একটা দোকান দেখলাম শুধু সায়েন্স ফিকশন বই আর ম্যাগাজিনের জন্য।
কিছু নিয়ে এলেন?
ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে আনতে পারিনি। হালকা বলে কয়েকটা পেপারব্যাক কিনেছি। তার মধ্যে আছে ‘অ্যালফাভিল’ ছবির চিত্রনাট্য। অনেকগুলো ফুল পেজ ফটোগ্রাফও আছে। পরে তুমি এর অনুবাদ ‘আশ্চর্য!’-তে বের করতে পারো। যদিও বিষয়টি খুবই কঠিন, তাহলেও কিছু পাঠকের ভালো লাগবে।
[প্রথম সাক্ষাৎকারটি ‘আশ্চর্য!’ পত্রিকার মে, ১৯৬৭ সংখ্যায় এবং দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারটি একই পত্রিকার সেপ্টেম্বর, ১৯৬৭ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।]






