কৌতুকটি অখণ্ড সোভিয়েত ইউনিয়ন আমলের। এক মার্কিনি ও এক রুশ নিজ দেশের লেখালেখির স্বাধীনতা নিয়ে বড়াই করছে।

মার্কিন নাগরিক বলছে, আমাদের কোনো লেখক যদি প্রেসিডেন্ট কেনেডি ও মেরিলিন মনরোর অবৈধ সম্পর্ক নিয়ে একটি বই লিখে হোয়াইট হাউজের সামনে দাঁড়িয়ে লেখক সে বই থেকে পাতার পর পাতা পড়ে যান, পড়তে পড়তে তিনি ক্লান্ত হয়ে যাবেন। কেউ বলবে না আপনি কেনেডিকে নিয়ে কেন কলঙ্ক রটাচ্ছেন। এমনকি কেনেডিও অসন্তুষ্ট হবেন না, উপভোগ করবেন। অন্য দেশে হলে বই তো বাজেয়াপ্ত হতোই, লেখক থাকতেন জেলখানায়। রুশ তেতো হাসি দিয়ে বললেন, এর নাম স্বাধীনতা। আমাদের কোনো লেখক যদি কেনেডি আর মনরোর কেলেঙ্কারি নিয়ে বই লিখে হোয়াইট হাউজের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে আসতেন, আমাদের ক্রশ্চেভ মোটেও রাগ করতেন না। খুশিই হতেন এবং লেখককে ‘অর্ডার অব লেনিন’ খেতাব দিতেন।

বই নিষিদ্ধ হওয়া ও লেখককে কারাবরণ করার প্রধান কারণটি হচ্ছে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে লেখা। ক্ষমতার পালাবদল ঘটলে এ বইয়ের বিক্রি বেড়ে যায়। লেখকও শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকের পুরস্কার পান। দ্বিতীয় প্রধান কারণটি হচ্ছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে মানুষকে চটিয়ে দেয়া।

তৃতীয় কারণ অশ্লীলতা। আজকাল অশ্লীলতা ও যৌনতার বাড়াবাড়িতে বই বাজেয়াপ্ত হয় না। লেখক এটাকে পুঁজি করে খেয়ে-পড়ে বেশ টিকে থাকতে পারেন।

এ রচনায় অপ্রথাগত কারণে বই নিষিদ্ধ ও বাজেয়াপ্ত হওয়ার কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হবে।

* লুই ক্যারলের ‘এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’ কি নিষিদ্ধ হওয়ার মতো বই? অবশ্যই নয়। ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত বইটির পুরো নাম ‘‘এলিসে’স অ্যাডভেঞ্চার্স ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’’। বইটি প্রকাশনার ৬৬ বছর পর ১৯৩১ সালে চীনের হুনান প্রদেশে নিষিদ্ধ হয়ে গেল। লুই ক্যারলের এ বইয়ে জন্তুরা এলিসের সঙ্গে মানুষের ভাষায় কথা বলে। বেশ মজার মজার  কথা। হুনানের সেন্সর জেনারেল হো চিন বিশ্বাস করলেন জন্তুর কণ্ঠে মানুষের আওয়াজ তুলে দেয়া মানবতার জন্য চরম অবমাননা। এ বই যদি শিশুদের হাতে পড়ে (পড়বেই, কারণ এটি শিশুতোষ সাহিত্যকর্ম), তাহলে হো চিনের দৃঢ়বিশ্বাস জন্তুদের মানুষের মতো কথা বলতে দেখে শিশুরা জন্তু ও মানুষকে একই পাল্লায় মাপবে, একইভাবে বিচার করবে, উভয়কে ভাববে পরস্পরের সমান; আর এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। তিনি আর দেরি না করে বইটি নিষিদ্ধ করে দিলেন।

নোবেল সাহিত্য পুরস্কারজয়ী সিনক্লেয়ার লুইসের ‘এলমার গ্যান্ট্রি’ ১৯২৭ সালে প্রকাশিত উপন্যাস; এটি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস, কানসাস সিটি, মিসৌরি, ক্যামডেন, নিউ জার্সিসহ আরো কয়েকটি শহরে স্থানীয় আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রেভারেন্ড এলমার গ্যান্ট্রি একদিকে ধর্মযাজক, অন্যদিকে যাপন করছেন ভোগের জীবন। তিনি মেয়েদের আত্ম-পরিশুদ্ধ করার জন্য প্রলুব্ধ করেন, অতঃপর তারা রেভারেন্ড ও তার সহযোগীদের ভোগে ব্যবহূত হয়। রেভারেন্ড উত্তম ধর্মপ্রচারক এটা যেমন সত্য; তেমনি অর্থ ও মদের প্রতি তার ঐশ্বরিক আকর্ষণ। ১৯২০ দশকের আমেরিকান সমাজের ভণ্ডামির মুখোশটুকু সরিয়ে ছিলেন সিনক্লেয়ার লুইস। রেভারেন্ড তার সফরে সফরকালীন তাঁবুকে চার্চ ঘোষণা করেন এবং তা অধিক লাভজনক হয়ে ওঠে। বইটি অনেককেই চটিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্য ও শহরে তারা নিষেধাজ্ঞা আদায় করতে সমর্থ হয়েছেন।

এডনা ও’ব্রিয়েনের ‘দ্য-লোনলি গার্ল’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। এটি বেশ পাঠক নন্দিতও হয়। আর্চবিশপ চার্লস ম্যাককোয়াইডও এটি পড়েন। তারপর ব্যক্তিগতভাবে জাস্টিস মিনিস্টার চার্লস হগির সঙ্গে দেখা করে বলেন, বইটি ‘পার্টিকুলারলি ব্যাড’। আর্চবিশপের কথা তো আর বেঠিক হতে পারে না। সুতরাং উপন্যাসটি আয়ারল্যান্ডে নিষিদ্ধ হয়ে গেল।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশোবন্ত সিংয়ের লেখা ‘জিন্নাহ: ইন্ডিয়া পাকিস্তান বাংলাদেশ’ উপমহাদেশে সাদরে গৃহীত একটি বই। কিন্তু গুজরাট এটি সাদরে গ্রহণ করেনি। নিষিদ্ধ করার জন্য মামলা ঠুকে দেয়। বলা হয়, এতে সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি, ছোট করে দেখা হয়েছে। ১৯ আগস্ট ২০০৯ যশোবন্ত সিংয়ের বই নিষিদ্ধ হয়ে গেল। এমনকি বই লেখার অপরাধে যশোবন্তকে তার রাজনৈতিক দল বিজেপি পার্টি থেকে বহিষ্কার করল। প্রকাশকের আপিলে গুজরাট হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়।

* জোসেফ লেলিভেল্ডের বই ‘গ্রেট সৌল: মহাত্মা গান্ধী: অ্যান্ড হিজ স্ট্রাগল উইথ ইন্ডিয়া’। জীবনীমূলক এ গ্রন্থে গান্ধীকে উভকামী (বিষমকাম ও সমকাম) বলা হয়েছে। এতে সমকামীরা উত্ফুল্ল হলেও গুজরাটের পিউরিটানরা বইটির নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে মামলা করে দিল। এটি গান্ধীর জীবনের সত্য, না এটি লেখকের অপপ্রচার, সে পর্যালোচনায় না গিয়ে কোর্ট সরাসরি নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করল ৩১ মার্চ ২০১১ সালে; ওদিকে গান্ধীর তিন দৌহিত্র তুষার গান্ধী, রাজমোহন গান্ধী ও গোপালকৃষ্ণ গান্ধী বইটি নিষিদ্ধকরণ উদ্যোগের বিরোধিতা করলেন। মাত্র চারদিনের ব্যবধানে উচ্চ আদালত বইটির ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ খারিজ করে দিলেন। বলা আবশ্যক সমকাম ভারতে আদালতের রায়ে এখন বৈধ; ব্যক্তি বিষমকামী হবে, না সমকামী হবে, না উভকামী হবে— সে সিদ্ধান্ত তারই, এটা এখন সাংবিধানিক অধিকার।&dquote;&dquote;

* নিষিদ্ধ অভিধান। মিলোস মাস্কোভ্লেমিক লিখেছেন ‘ডিকশনারি অব সার্বো ক্রোয়েশিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ’। আপত্তি উঠল জাতিগত কয়েকটি ‘ডেফিনিশন’ নিয়ে। মনে করা হলো এ অভিধানের ‘সংজ্ঞা’ ভবিষ্যতে সংকট সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং ১৯৬৬ সালে যুগোস্লাভিয়ার একটি আদালত অভিধানটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

* আর্থার মাইলমের ‘দ্য ল্যান্ড অব লিঙ্গাম’ ভারতে স্থল, আকাশ বা জলপথে আমদানি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বইটি ভারতীয় হিন্দুত্ব, জাতিপ্রথা ও লিঙ্গপূজা নিয়ে। নিজেদের স্বরূপ ভারতীয় গোঁড়াদের ক্ষুব্ধ করেছে। তাই এ নিষেধাজ্ঞা।

* ডেসমন্ড স্টুয়ার্টের ‘আর্লি ইসলাম’ ভারতে আমদানি করা নিষিদ্ধ। কারণ এতে অনেক তথ্যগত ত্রুটি রয়েছে।

* সুনন্দা কে দত্ত-রায় লিখেছেন ‘স্ম্যাশ অ্যান্ড গ্র্যাব: অ্যানেক্সেশন অব সিকিম’। ভারত যেভাবে সিকিমকে নিজ দেশের অংশ করে নিল, বইটি তা নিয়েই। বইটি প্রকাশের আগেই গ্যাংকটকে কর্মরত একজন অফিসারের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশনাই স্থগিত রাখা হয়। পরে উচ্চ আদালতের রায়ে বইটি প্রকাশের অনুমতি পায়।

* স্ট্যানলে ওলপার্টের ১৯৬২ সালের ‘নাইন আওয়ার্স টু-রামা’ বইটি এবং সিনেমাটি ভারতে আনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। নাথুরাম গডসে যে গান্ধীকে হত্যা করেছে, এ গ্রন্থে তা যৌক্তিকীকরণ করা হয়েছে।

* সালমান রুশদির ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ নিষিদ্ধ হওয়ার কারণটি মূলত ধর্মীয়। কিন্তু তার ‘‘দ্য মুর’স লাস্ট সাই’’ নিষিদ্ধ (অনানুষ্ঠানিকভাবে) হওয়ার কারণটি ভিন্ন। এ বইয়ে একটি চরিত্র রয়েছে, যা চরম ডানপন্থী নেতা বালাসাহেব থ্যাকারেরই বলে মনে করা হচ্ছে। এ উপন্যাসে একটি কুকুর আছে, লেখক কুকুরটির নাম রেখেছেন জওহরলাল। প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও অনানুষ্ঠানিকভাবে বইটি নিষিদ্ধ করার কথা বলেছেন। প্রকাশক রুপা অ্যান্ড কোম্পানি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে আদালত রায় দেন নিষেধাজ্ঞাটি অসাংবিধানিক। তার পরও প্রকাশক শিবসেনাদের ভয়ে মহারাষ্ট্রসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে বই তুলে নিয়েছে।&dquote;&dquote;

* যোগেশ মাস্টারের লেখা কন্নড় ভাষার উপন্যাস ‘ধুণ্ডি’ নিষেধাজ্ঞার হুমকিতে পড়েছে। লেখক এ বইয়ে দেবতা গণেশকে নিয়ে আপত্তিকর কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলা দায়ের হয়েছে ভারতীয় দণ্ডবিধি ২৯৫/এ ও ২৯৮ ধারায়।

সেইমুর হার্শের বইটির নাম ‘দ্য প্রাইম অব পাওয়ার: কিসিঞ্জার অ্যান্ড নিক্সন ইন দ্য হোয়াইট হাউজ’। এতে ভারতের সাবেক ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইকে সিআইয়ের টাকাখোর দালাল বলা হয়েছে। বইটি সাময়িকভাবে ভারতে নিষিদ্ধ ছিল। এতে উল্লেখ করা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসনের কাল থেকে দীর্ঘ সময় সিআইএ মোরারজি দেশাইকে বছরে কুড়ি হাজার ডলার প্রদান করত। বিনিময়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা তথ্য প্রদান করতেন। মোরারজি দেশাইর পক্ষে মুম্বাই হাইকোর্টে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন মঞ্জুর হয়। ওদিকে দেশাই যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে লাইবেল সম্মানহানির মামলা করেন এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। লেখক সেইমুর হার্শ পুলিত্জার পুরস্কার পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি আদালতে ইঙ্গিত করেন মোরারজি বিরোধী সরকারই তাকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে, অন্যদিকে মোরারজির পক্ষে সাবেক সেক্রেটারি অব স্টেট আদালতে মোরারজির বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ নাকচ করে দেন, এ রকম কোনো বিষয় তার জানা নেই বলে উল্লেখ করেন। ছয়জন বিচারকের বেঞ্চ মোরারজির মামলাটি খারিজ করে দেন, পরবর্তী সময়ে মুম্বাই হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

* মার্কিস দ্য স্যাদের ১৭৮৯ সালের উপন্যাস ‘‘দ্য ওয়ান টোয়েন্টি ডে’জ অব সোডোম’’ অস্ট্রেলীয় সরকার ১৯৫৭ সালে ‘অবসিনিটি’র অভিযোগে নিষিদ্ধ করে। এখানে আপত্তিকর বিষয় ছিল সোডোম শহরের সমকাম। কিন্তু হালে অস্ট্রেলিয়া সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ ঘোষণা করেছে। বিয়ের পুরনো সংজ্ঞা ‘পুরুষ ও নারীর মিলন’— এটাও বদলে গেছে।&dquote;&dquote;

* প্রাণের ভয়ে পেরুমল মুরুগান নিজেই তার প্রকাশককে হুকুম দিয়েছেন তার বই ‘ওয়ান পার্ট উইমেন’ বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে যেন নষ্ট করে দেন। তিনি এই বইয়ে কৈলাশ নাথের মন্দিরের নারীদের সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি বলে অভিযোগ। আর এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘের কিছু সদস্য তার মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেছে। তিনি বাধ্য হয়ে লেখালেখি থেকে হাত গুটিয়ে নেন।

* আপটন মিংকনেয়ারের ১৯০৬ সালের উপন্যাস ‘দ্য জাঙ্গল’ ১৯৫৬ সালে পূর্ব জার্মানিতে নিষিদ্ধ হয়। কারণ উপন্যাসের কাহিনী কমিউনিজমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বার্লিন দেয়াল ভাঙার পর দ্য জাঙ্গলসহ এ ধরনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ অনেক বই বার্লিনের বইয়ের দোকানে ঠাঁই পায়।

* গল হ্যান্ডলের লেখা থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবলের জীবনী ‘দ্য কিং নেভার স্মাইলস’। ২০০৬ সালে প্রকাশিত, থাইল্যান্ড নিষিদ্ধ হয়ে আছে। ‘রাজা কখনো হাসেন না’— এ নাম থেকে শুরু করে বইয়ের ভেতরের অনেক বিবরণে রাজা ও রাজতন্ত্রকে কটাক্ষ করা হয়েছে।

* রেজা খোশনজরের ১৯৯৫ সালের উপন্যাস ‘গড স্মাইলস অন মানডেজ’ ইরানে কেবল নিষিদ্ধই হয়নি, পুরো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

* স্টেনলে ওলপার্টের ‘জিন্নাহ অব পাকিস্তান’ ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়। এটি পাকিস্তানের জাতির পিতা জিন্নাহর জীবনী। বইটি পাকিস্তানে নিষিদ্ধ। কারণ এতে উল্লেখ করা হয়েছে জিন্নাহ মদ্যপান করতেন, কখনো শূকরের মাংসও খেয়েছেন।

* ওলুসেগান ওবাসানজো নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০০৫ সালে তার তিন খণ্ডের আত্মজীবনী ‘মাই ওয়াচ’ প্রকাশিত হয়। এতে নাইজেরিয়ার রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে বেশ সমালোচনা করা হয়েছে। একটি সম্মানহানির মামলাও হয়েছে। আদালত সাময়িকভাবে বইটি নিষিদ্ধ করে বাজার থেকে এর সব কপি তুলে আটকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

* টমাস পেইনের ১৭৯১ সালের রাজনৈতিক তত্ত্বের বই ‘রাইটস অব ম্যান’ যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ করা হয় এবং ফরাসি বিপ্লবকে সমর্থন জানানোর জন্য তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা হয়। জার শাসিত রাশিয়ায়ও বইটি নিষিদ্ধ ছিল।

* ১৯৮২ সালে প্রকাশিত ক্লদ মিলোর ‘সুইসাইড মোড’ এখনো ফ্রান্সে নিষিদ্ধ। এতে আত্মহত্যার সহজ পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ মনে করছে এ বই আত্মহত্যায় প্ররোচিত করছে।

* তৃতীয় শতাব্দীর তৃতীয় দশকে আরিয়াসের লেখা আংশিক কাব্যিক ও আংশিক গদ্যের ধর্মীয় আলোচনা গ্রন্থ ‘থালিয়া’ নিষিদ্ধ হয়। তার সব প্রকাশনা পুড়িয়ে ফেলা এবং তাকে নির্বাসিত করার নির্দেশ দেয়া হয়। অনুমান করা হয় আরিয়াসকে রোমান চার্চের ইঙ্গিতে হত্যা করা হয়। তার গ্রন্থ নিষিদ্ধকরণের আদেশে লেখা হয়, হাজার বছরের বেশি সময়ের জন্য তা নিষিদ্ধ করা হলো। কারণ আরিয়াসের ধর্মীয় ব্যাখ্যা খ্রিস্টবাদের ট্রিনিটির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।

* ‘হলি কাউ: বিফ ইন ইন্ডিয়ান ট্র্যাডিশন’ গ্রন্থে দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ ঝা বলেছেন, আদিম ভারতে গরুর মাংস খাওয়ার প্রচলন ছিল। এতেই ক্ষেপে গেল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। তার বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি হলো। তিনি মৃত্যুর হুমকি পেলেন। তাকে পুলিশি নিরাপত্তার আশ্রয় নিতে হলো। আদালত বই বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল। পুষ্কেস পান্থ লেখকের পক্ষ নিয়ে বললেন, এটাই ঐতিহাসিক সত্য; তিনিও তখন হুমকির মধ্যে চলে এলেন।

১৭২৬-এর ২৮ অক্টোবর জোনাথন সুইফটের বিখ্যাত বই এবং এক সময় বাংলাদেশের স্কুলপাঠ্য ‘গালিভার্স ট্র্যাভেলস’ প্রকাশিত হয়। তত্কালীন এক গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজ ধর্মযাজক বইটি পড়ে মন্তব্য করেন, ‘এটি একটি গাঁজাখোরি বই, আমি এর এক বর্ণও বিশ্বাস করি না।’

ধর্মযাজকদের রসবোধ একটু কমই থাকে।