১.

দরিয়াগঞ্জ বইবাজার

মেরিলিন মনরোর রাতপোশাক পরা প্রচ্ছদ

লাল লিপস্টিকে ‘মেমোয়ারস অব গেইশ্যা’

ল্যাম্পপোস্টের তলায় যেন রাতপরীদের তামাশা

অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে একের পর এক বই

কিলোদরে এখানে বিকোয় উপন্যাস।

শাহি দিল্লির কালি ধুলোময় রুখু ইতিহাস

যেখানে পুরোন গল্পের আত্মারা কবর থেকে বেরিয়ে এসে

মিশে রয়েছে এ ধূসর বাতাসে,

গলি থেকে তস্য গলি পেরিয়ে রৌদ্রকরোজ্জ্বল

শহুরে রাস্তায়। যেখানে অতীত আর ভবিষ্যৎ

একসাথে হাত ধরাধরি করে বলে,

‘হাজারো খোয়াহিশে ঐসী কেহ্ হর খোয়াইশ পে দম নিকলে

বহৎ নিকলে মেরে অরমান, ফির-ভী কম নিকলে।’

 

২

স্মৃতিসুধা

জামা মসজিদের মিনারে

ঈষৎ ঝুঁকে তেরছাভাবে এসে পড়া ওই রোদ

তুমিও কি ভালোবাসা খুঁজতে গিয়ে

পথ হারিয়ে, কখনো বাদশাহর খিদমতগার

কখনোবা জেলখানার কয়েদি,

কখনো পেয়েছ তকমা বিশ্বাসঘাতকতার?

আড়াইশ বছরেরও বেশি সময় ধরে তোমার কবরেই

বুঝি জড়ো হয়েছে এ পৃথিবীর তামাদি শোক

বাগিচা শহরে কালেমহলের দিনগুলোও

সব এতিমখানার স্মৃতি।

যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ওয়ালিদের চিঠি নয়, ভালোবাসা নয়

এসেছিল তরোয়াল। তুমি তাকে ছুঁতে পারোনি।

তাই তোমার বেওয়া মায়ের কথা নয়,

কোনো মৃত্যু গন্ধ নয়, গজল ঘিরে শুধুই আত্মার গন্ধ।

যমুনার তীরে বসে দেখা হোদহোদের স্বপ্ন

সুলেইমান নবীর হোদহোদ,

রানী বিলকিসের খবর এনে দেয়

মৃতের শরীরে জেগে ওঠা শহরের প্রতিটা কবরে

গোলাপ দিয়ে যায়

গালিবের গলি থেকে পুরনো দিল্লি

অদূরে ল্যুটিয়েন দিল্লির কলোনিয়াল হ্যাংওভারে

পুরনো শরাবের স্মৃতির পেয়ালায় চুমুক দিয়ে যায়

আর বলে যায়—

‘ভরা থাক, ভরা থাক, স্মৃতি সুধায়।’

 

৩

শূন্যতা

তাওয়ায় সেঁকা কাবাব আর মাখন মাখানো রুটি

সেই কবেই গদ্যের খাতায় কবি দিয়ে গেছেন ছুটি

উনুনের গরম আঁচে ভরভার্তিক সন্ধ্যায়

জনিওয়াকার নয়, ক্যারামেলের স্বাদ নয়

অদূরবর্তী লালকেল্লায় বিদেশী ট্যুরিস্টের গাইড নয়

নিজের সাথেই কাটাতে চেয়েছিল যে ছেলেটা

কিসসা শুনতে ভালোবেসেছিল,

হয়তোবা পাখি হতে চেয়েছিল

জীবনভর গনগনে কয়লার আগুনে সেঁকেও

স্বপ্ন দেখেছিল। কোনো এক শবেবরাতের রাতে

হালুয়ার সুবাসে ভরে যাবে তার ছোট্ট এতিমখানা

জন্নত থেকে হুরী-পরীরাও নিয়ে আসবে উপহার

যেমন এনেছিল জেরুজালেমে কয়েক শতাব্দী আগে

পিতৃপরিচয়হীন ছোট্ট শিশুটির জন্ম হলে।

শহরের এতিমখানাগুলো ভরে আছে সেই শিশুটির বংশধরে।

কুরসিনামায় কি লেখা থাকে শুধুই একটা তালিকা?

রক্ত দিয়ে নয়, আত্মা দিয়ে তৈরি এ বংশলতিকা

গালিবের গলি থেকে বড় রাস্তা

চাঁদনি চকের মিঠাইওয়ালা সবাই জানে সে বৃত্তান্ত

ভালোবাসা কি শুধুই আত্মার দহন?

        শূন্যতাও আজ বড় ক্লান্ত।