ঢাকা লিটফেস্ট দারুণ দ্যুতিময় করে তুলেছেন স্যার ভিদিয়াধর সূরজপ্রসাদ নাইপল। উত্সবের দ্বিতীয় দিন অপরাহ্ন ও সন্ধ্যার সন্ধিক্ষণে বাংলা একাডেমির মূল মঞ্চে যারা ভি এস নাইপলকে শুনেছেন, তাদের অনেকের জন্য এটা এক জীবনের অভিজ্ঞতা।

চমত্কারভাবে ভি এস নাইপলকে উপস্থাপন করেছেন আহসান আকবার। কেমন করে তাঁকে বাংলাদেশে আসতে রাজি করালেন, নেপথ্যে এবং মঞ্চে তাঁর লাস্যময়ী স্ত্রী নাদিরা কী ভূমিকা রেখেছেন, সেই ভেতর কাহিনীও প্রকাশিত হলো। নাদিরা খানুম আলভি, এখন লেডি নাদিরা বয়ঃসন্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর কাটিয়েছেন এই বাংলাদেশে, ঢাকায়। সে কথাই বললেন, তার অন্তরে ঢাকার একটি স্মৃতিময় অবস্থান ছিল বলেই স্যার ভিদিয়াকে রাজি করাতে পেরেছেন। অনেক ধন্যবাদ নাদিরা, অনেক ধন্যবাদ লিটফেস্ট আয়োজকবৃন্দ।

২০০১-এর নোবেল সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত ভি এস নাইপলকে খানিকটা বুঝতে, খানিকটা শ্রদ্ধা জানাতে এ নিবন্ধ রচনা করা হয়েছে।

নাইপল মনে করেন তিনি বিচ্ছিন্ন কেউ নন, তিনি তাঁর লেখাগুলোর সমষ্টি।

নাইপল হামেশাই বৈরিতা সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, ‘একজন লেখক যদি বৈরিতা সৃষ্টি করতে না পারেন, তা হলে তিনি মৃত।’

তাঁর কি কোনো পরিচিতির সংকট রয়েছে?

‘ইংল্যান্ডে আমি ইংরেজ নই, ভারতে আমি ভারতীয় নই, এক হাজার বর্গমাইলের একটি স্থানে আমি শিকলে বাঁধা, তার চার্ম ত্রিনিদাদ; আমি কেমন করে সেই নিয়তিকে এড়িয়ে যাব।’

নাইপল বসত গেড়েছেন উইল্টশায়ার ও লন্ডনে। শিল্প ও সাহিত্যের পীঠস্থান প্যারিস সম্পর্কে তিনি বলেছেন, যদি একগাদা বুদ্ধিবৃত্তিক ধাপ্পাবাজের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে চান, তাহলে প্যারিসে যান।

‘ফাতেল রাজাক’ নামক জাহাজে চড়ে ১৮৪৫-এর মে মাসে ভারতীয় চুক্তিভিত্তিক ক্ষেতমজুররাই প্রথম ভারতীয় হিসেবে ত্রিনিদাদে অবতরণ করেন। প্রতি বছর ৩০ মে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে ‘ভারতীয় আগমন দিবস’ উদযাপিত হয়। এই মজুররা সবল দুটি হাত নিয়ে অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে সাহায্য করেছেন কেবল তা-ই নয়, তারা সঙ্গে নিয়ে এসেছেন নতুন সংস্কৃতি ও নতুন মানুষ। ১৮৪৫ থেকে ১৯১৭— এই সময়ে প্রায় দেড় লাখ ভারতীয় ত্রিনিদাদে অবতরণ করেন। কষ্টকর ভ্রমণের পর তাদের মরণাপন্ন অবস্থা বিবেচনা করে আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই তাদের কাজে পাঠানো হতো না, দু-এক সপ্তাহ ভরপেট খাইয়ে শক্ত-সামর্থ্য করে চাষাবাদের কাজে পাঠানো হতো। নাইপলের পিতামহ এসেছিলেন আখ ক্ষেতের শ্রমিক হিসেবে— সুগার প্লান্টের ইনডেনচারড লেবার।

১৮৩৮-এ ব্রিটিশ ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ থেকে যখন দাসদের মুক্তি দেয়া হলো, বৃহত্ কৃষি খামারিরা দাসদের স্থলাভিষিক্ত করার মতো নিরীহ, নির্বিরোধ ও সস্তা শ্রমিক খুঁজতে থাকেন।

‘দাসত্বের নতুন পদ্ধতি’তে ভারত থেকে ইনডেনচারড লেবার আমদানি করাই উত্তম বিকল্প হিসেবে দেখা দিল। তাছাড়া ভারতেও ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী থাকায় আমদানি নিয়ে বিদেশী কোনো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দরকষাকষি করতে হয়নি। সে সময় ঔপনিবেশিক দুঃশাসনে নিঃস্ব ভারতীয়দের অনেকেই পেটের দায়ে এই অভিবাসন মেনে নিয়েছেন। নব্যদাসরা অত্যন্ত কষ্টকর জীবনযাপন করলেও ১৯৩০ দশকে তারা ভারত থেকে ব্রিটিশ খেদানোর জন্য ত্রিনিদাদের রাস্তায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। কষ্ট হলেও খাওয়া-পরার নিশ্চয়তা থাকায় তারা সেখানেই থেকে যান এবং দ্রুত ইংরেজি ভাষা শিখতে শুরু করেন। কিন্তু ভারতীয় সাংস্কৃতিক অন্যান্য আচরণের অনেকটাই বিশেষ করে শ্রেণী ও বর্ণপ্রথা বহাল তবিয়তেই থেকে যায়।

এই বাধ্য হওয়া অভিবাসীদের পরবর্তী প্রজন্ম পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে যুগপত্ ভারতীয় এবং ত্রিনিদাদীয় পরিচিতি নিয়ে ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’ থেকে উত্তরণের চেষ্টা করেছেন। তুলনামূলকভাবে শিক্ষিত এমন একটি পরিবারেই ভিদিয়াধর সূরজপ্রসাদ নাইপলের জন্ম।

২০০১ সালের নোবেল বিজয়ী ভি এস নাইপল তাঁর নোবেল ভাষণে নিজের পেছনের কথা খানিকটা তুলে ধরেছেন:

আমার প্রেক্ষাপট একই সঙ্গে অত্যন্ত সরল ও অত্যন্ত বিভ্রান্তিপূর্ণ। আমার জন্ম ত্রিনিদাদে। ভেনিজুয়েলার বিশাল অরিলোনো নদীর     মোহনায় এই দ্বীপটির অবস্থান। কাজেই ত্রিনিদাদ পুরোপুরি দক্ষিণ আমেরিকায় যেমন নয়, তেমনি পুরোপুরি ক্যারিবীয়ও নয়। জায়গাটা নব্য বিশ্বের আবাদি উপনিবেশ হিসেবে গড়ে উঠেছে, সেখানে ১৯৩২-এ আমার যখন জন্ম, তখন ত্রিনিদাদের মোট জনসংখ্যা চার লাখ। এর মধ্যে দেড় লাখ ভারতীয় হিন্দু ও মুসলমান এবং প্রায় সবাই গাঙ্গেয় অববাহিকা থেকে উঠে আসা কৃষক শ্রেণীর মানুষ।

এই ছিল আমার ছোট্ট জনপদ। ভারত থেকে আসা এই মানুষের অধিকাংশের অভিবাসন ঘটেছে ১৮৮৩ সালের পর। তাদের সঙ্গে মালিকদের চুক্তিটি ছিল এ রকম: তারা পাঁচ বছরের জন্য জোতে খাটার জন্য চুক্তিবদ্ধ হতো, চুক্তির সময় পার হলে তাদের দেয়া হতো ৩১ টুকরো জমি, সম্ভবত পাঁচ একর অথবা কেউ ভারতে ফিরে যেতে চাইলে, তার জাহাজভাড়া ও মজুরি। গান্ধী ও অন্যদের বিক্ষোভের কারণে ১৯১৭তে এই চুক্তিশ্রম পদ্ধতির অবসান ঘটে। সম্ভবত এ কারণে অথবা আরো কিছু কারণে জমি প্রদান কিংবা ভারতে প্রত্যাবাসনের চুক্তি পরবর্তীকালে আগতদের বেলায় মানা হয়নি। এই লোকগুলো ছিল সত্যিই দুর্দশাগ্রস্ত। তারা রাজধানী পোর্ট অব স্পেনের রাজপথে ঘুমিয়েছে। শৈশবে আমি তাদের দেখেছি। মনে হয় তাদের দৈন্যদশা তখন আমি বুঝতে পারিনি— এ চিন্তাটা পরে আমার মাথায় এসেছে। এ কারণে তারা আমার মনে তখন দাগ কাটতে পারেনি। আবাদি উপনিবেশের নির্মমতার এটি একটি অংশ।

প্যারিয়া উপসাগর দুই মাইল স্থলসীমার ভেতরে চাগুয়ানাস নামের একটি ছোট্ট জনপদে আমার জন্ম। বানানে এবং উচ্চারণে চাগুয়ানা একটি অদ্ভুত নাম, ভারতীয় অধ্যুষিত এই এলাকার মানুষ জায়গাটিকে ভারতীয় বংশ পদবি ধরে বলত চৌহান।

৩৪ বছর বয়সে আমি আমার জন্মস্থানের নাম সম্পর্কে জানতে পারি। আমি তখন লন্ডনে, ১৬ বছর ধরে ইংল্যান্ডে বসবাস করছি। আমি তখন আমার নয় নম্বর বইটি লিখছিলাম। এটা ত্রিনিদাদের ইতিহাস, সেখানকার মানুষ ও তাদের গল্প পুনঃসৃষ্টি করে একটি মানবিক ইতিহাস প্রণয়নের চেষ্টা করছিলাম। এই অঞ্চল সম্পর্কে স্প্যানিশ ভাষা রচিত দলিলসমূহ পাঠ করার জন্য আমি ব্রিটিশ লাইব্রেরিতে যেতাম। এই দলিলগুলো স্পেনের আর্কাইভ থেকে উদ্ধার করা— ভেনিজুয়েলার সঙ্গে নোংরা সীমান্ত বিরোধের সময় ১৮৯০ দশকে ব্রিটিশ সরকারের জন্য দলিলগুলো কপি করা হয়।

১২ অক্টোবর ১৬২৫ স্পেনের রাজা ত্রিনিদাদের গভর্নরকে লেখা একটি পত্র পেয়ে যান নাইপল। রাজা লিখেছিলেন:

‘ইন্ডিয়ানদের একটি জাতি চাগুয়ানেস সম্পর্কে আমাকে কিছু তথ্য দিতে আপনাকে নির্দেশ দিয়েছিলাম। আপনি বলেছেন, তাদের সংখ্যা এক হাজারের বেশি, তারা খারাপ মেজাজের মানুষ, ইংরেজরা যখন শহর অবরোধ করে, তারাই তাদের পথ দেখিয়ে শহরে নিয়ে আসে। তাদের সে অপরাধের শাস্তি তখন দেয়া হয়নি, কারণ এ উদ্দেশ্যে মোতায়েন করার মতো সৈন্য তখন পাওয়া যায়নি এবং ইন্ডিয়ানরা নিজেদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে কাউকে প্রভু বলতে নারাজ। আপনি তাদের শাস্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি আপনাকে যে বিধিবিধান দিয়েছি, তা অনুসরণ করবেন এবং আপনি কেমনভাবে মোকাবেলা করছেন, তা আমাকে অবহিত করবেন।’

গভর্নর এর পর কী করেছেন, নাইপল বের করতে পারেননি। কারণ চাগুয়ানেস-সংক্রান্ত আর কোনো দলিল ব্রিটিশ মিউজিয়ামে ছিল না। ১৬২৫-এর পর নাইপলই প্রথম ব্যক্তি, যার কাছে পত্রটির একটি নিজস্ব মানে ছিল।

‘আমরা চাগুয়ানেসদের ভূমিতে বাস করতাম। আমি তখন কেবল স্কুল শুরু করেছি, স্কুল চলাকালে আমি আমার দিদিমার বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রধান সড়কের দু’তিনটি বড় দোকান-চাইনিজ পার্লার, জুবিলি থিয়েটার এবং তীব্রগন্ধী পর্তুগিজ সাবান ফ্যাক্টরি— সস্তা নীল ও হলুদ সাবানের লম্বা বার তৈরি করে সকাল নাগাদ শুকাতে ও শক্ত হতে বাইরে বিছিয়ে রাখত— আমি এসব পার হয়ে যেন অনন্তকাল ধরে চলতে চাগুয়ানস সরকারি স্কুলে যেতাম। স্কুল ছাড়িয়ে আখক্ষেত, জোতজমি প্যারিয়া উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। যে মানুষকে এখান থেকে উত্খাত করা হয়েছে, তাদের নিজস্ব কৃষি ছিল, নিজস্ব দিনপঞ্জি, নিজস্ব বিধি-বিধান এবং পবিত্র স্থান ছিল। ওরিনোকেরি যে স্রোতধারা প্যারিয়া উপসাগরে আছড়ে পড়ে, তারা নিশ্চয়ই এ ভাষার মানে বুঝত। দক্ষতা থেকে শুরু করে তাদের যা কিছু ছিল, সবই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

পৃথিবী তো সবসময়ই চলার মধ্যেই আছে। এক সময় যাদের সবই ছিল, তারা বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আমার জন্মভূমি সম্পর্কে ১৯৬৭ সালে আমার এই আবিষ্কার আমাকে ব্যথিত করেছে কারণ এ সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। কিন্তু কৃষি উপনিবেশগুলো আমাদের অধিকাংশই এভাবে বাস করে অন্ধের মতো। কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে আমাদের অন্ধকারে রেখেছে এমন নয়। আরো সহজভাবে বলতে গেলে সেই জ্ঞানই সেখানে ছিল না। চাগুয়ানেসদের সম্পর্কে যে জ্ঞান, তা গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়নি আর তা পুনরুদ্ধার করা সহজ কোনো কাজ হবে না। এটি একটি ছোট গোত্র, তারা আদিবাসী। স্থলভাগে যা ব্রিটিশ গায়ানা নামে পরিচিত, সেখানে এই মানুষদের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছে। তাদের নিয়ে হাসি-মশকরাই করা হতো। জোর গলায় কথাগুলো কর্কশ ব্যবহারের এই মানুষগুলো ত্রিনিদাদে ‘ওয়ারাদুন’ নামে পরিচিত ছিল। আমি ভাবতাম এটা বানানো শব্দ, বুনো স্বভাব বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। আমার বয়স যখন চল্লিশের ঘরে, আর আমি ভেনিজুয়েলা ভ্রমণে বের হয়েছি, আমি বুঝতে পেরেছি এটা আদিবাসী একটি বড় গোত্রের চাপ।

শৈশবে শোনা একটি গল্প ভাসা ভাসা মনে আছে— কিন্তু এখন তা আমার জন্য ছুটিসহ প্রভাব বিস্তারকারী: কোনো নির্দিষ্ট সময় মূল স্থলভাগ থেকে আদিবাসীরা ক্যানুতে চেপে চলে আসতেন, বনের মাঝখান দিয়ে দ্বীপের দক্ষিণে এসে কোনো নির্দিষ্ট জায়গা থেকে এক ধরনের ফল কুড়িয়ে নৈবেদ্য প্রদান করতেন, তার পর প্যারিয়া উপসাগর হয়ে অরিনোকোর মত্ত মোহনায় চলে যেতেন। ত্রিনিদাদে আদিবাসীদের অবলুপ্তির পর চার বছরের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে যারা টিকে আছেন, তাদের কাছে এই ধর্মাচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ— কিংবা হয়তো ত্রিনিদাদ ও ভেনিজুয়েলার সমধর্মী উদ্ভিদবৈচিত্র্য থাকার কারণে সেই মানুষগুলো কেবল বিশেষ এক ধরনের ফল কুড়াতেই আসত।

আমি এর বেশি কিছু জানি না। কেউ তা জানতে চেয়েছে, আমি তাও শুনিনি। আর এখন স্মৃতি তলিয়ে গেছে, আর যদি কোনো পবিত্র স্থান  থাকতও, তা এখন সাধারণ জমিন হয়ে গেছে।

যা ঘটে গেছে, তা ঘটে গেছে। আমার মনে হয় এটাই ছিল সাধারণ মনোভাব। আর আমরা ভারতীয়রা, ভারত থেকে আসা অভিবাসীদেরও ছিল একই মনোভাব। আমাদের জীবনের অধিকাংশই সময় আচারের মধ্য দিয়ে কেটে গেছে, আমরা এখনো আত্মমূল্যায়নের যোগ্য হয়ে উঠিনি। চাগুয়ানেসদের এই ভূমিতে আমাদের অর্ধেকই ভান করেছে, সম্ভবত ভান নয় কেবল একটি অনুভূতি, যা কখনো দানা বেঁধে একটি ভাবনা হয়ে উঠেনি— আমরা আমাদের সঙ্গে এক ধরনের ভারতকে নিয়ে এসেছি বা আমরা যেন তা সমতলে কার্পেটের মতো বিছিয়ে দিচ্ছি।’

ভি এস নাইপল এভাবেই তাঁর নিজের মূল বিচ্ছিন্ন হওয়ার ও মূল ধরে রাখার দ্বন্দ্বটি তুলে এনেছেন তাঁর নোবেল ভাষণে।

‘যখন আমি শুরু করি, কেমন করে এগোবো— আমার সে রকম কোনো ধারণাই ছিল না। আমি কেবল একটি বই লিখতে চেয়েছিলাম। আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে আমি ইংল্যান্ডেই রয়ে গেলাম, আমি সেখানেই লিখতে চেষ্টা করি, তখন আমার নিজেরই মনে হয় আমার অভিজ্ঞতা বেশ কম, এই লেখার জন্য তা নিতান্তই সামান্য। আমার যে প্রেক্ষাপট, তার কাছাকাছি কোনো বইই খুঁজে পেলাম না। কোনো তরুণ ফরাসি কিংবা ইংরেজ লিখতে চাইলে তার সামনে হরেক রকমের মডেল। কিন্তু আমার কেউ নেই। ভারতীয় সম্প্রদায় নিয়ে আমার বাবার গল্পগুলো দূর অতীতের। আর আমার পৃথিবীটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটা অনেক বেশি নগরাশ্রিত ও মিশ্র। আমাদের বর্ধিত সংসারের নৈরাজ্যময় জীবনের সাধারণ বাস্তব বিবরণ— ঘুমের ঘর, কিংবা ঘুমানোর জায়গা, খাবার সময় এত সংখ্যক মানুষ আমার পক্ষে সামলানো অসম্ভব বলে মনে হয়। ব্যাখ্যা করার মতো অনেক কিছু আমার গার্হস্থ্য জীবনের এবং বাইরের পৃথিবীর। একই সঙ্গে আমাদের নিজেদের অনেক কিছু বলার আছে— আমাদের পূর্বপুরুষ এবং ইতিহাস এসব আমার জানা নেই।

এই টানাপড়েনের মধ্যেই তিনি লিখতে শুরু করলেন। দিনে একটি করে গল্প! তিনি লেখক হয়ে উঠলেন। তিনি ভি এস নাইপল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন।

দুই

প্যাট্রিক ফ্রেঞ্চ লিখলেন নাইপলের ‘অথোরাইজড বায়োগ্রাফি’— দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ হোয়াট ইট ইজ।

আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে সৃজনশীল লেখার শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁর অবস্থান যত উপরেই থাকুক না কেন, নাইপল বললেন, ‘জীবিকার জন্য যদি আমাকে এ কাজ করতে হয়, তার চেয়ে বরং আমি বিষ খেয়ে নেব।’

অক্সফোর্ডে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ক্লাসে ইংরেজ মেয়ে প্যাট্রিসিয়া হেইল এবং নাইপলের পরিচিতি, প্রেম ও পরিণয়।

নাইপলের জন্য প্যাট্রিসিয়া তার সংসার, ভবিষ্যত্, ধর্মবিশ্বাস সব ত্যাগ করেন। সে সময় বর্ণবাদী আবহে নাইপল যখন চাকরি পাচ্ছিলেন না প্যাট্রিসিয়া তাকে চাকরি করে খাইয়েছেন, লন্ডনে নিয়মিত বাড়িভাড়া পরিশোধ করেছেন, হাতখরচও জুগিয়েছেন। কিন্তু নাইপলের ক্রমাগত উপেক্ষা তার পৃথিবীকে ক্রমেই সংকুচিত করে এনেছে, অনেকটা স্বেচ্ছা গৃহবন্দি জীবন কাটাতে শুরু করেন। তখন নাইপল তাঁর আর্জেন্টাইন মিসস্ট্রেসকে নিয়ে পৃথিবী ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি অবশ্য স্বীকারও করেছেন, বলা যেতে পারে আমি তাকে হত্যা করেছি।’ ক্যান্সার আক্রান্ত প্যাট্রিসিয়ার উঠে দাঁড়াবার সম্ভাবনা যখন তিরোহিত, নাইপল অস্থির হয়ে উঠেছেন ‘দ্রুত মরছে না কেন’। তার শেষকৃত্যের পরদিন ঘরে তুলে আনেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নাদিরা খানুমকে। ক’মাস পর নাদিরা নিজেই ‘আল্লাহর নামে’ তার দেহভষ্ম নিকটবর্তী অরণ্যে ছড়িয়ে দেন।

রুক্ষ আচরণের কারণে তিনি অনেক বন্ধু হারিয়েছেন। নাইপল বেশ জোর দিয়েই বলেছেন বন্ধুত্ব আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।’

তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের মিসস্ট্রেসকে খারিজ করে দিলেন। কারণ তত দিনে মহিলাটি  ‘মধ্যবয়সী, প্রায় বৃদ্ধা’। অথচ স্বামী ও সন্তানদের ছেড়ে মার্গারেট তাঁর কাছে চলে এসেছিল। খোলামেলা কথা বলার জন্য তার সততার প্রশংসা করা হলেও তাঁর দানবীয় আচরণের জন্যও নাইপল কম নিন্দিত হননি।

নাদিরা খানুম আলভি, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হুইলচেয়ারবন্দি নাইপলকে শক্ত হাতে আগলে রাখছেন। প্যাট্রিক ফ্রেঞ্চ দেখিয়েছেন প্ররোচনা দেয়া, ক্ষেপিয়ে তোলা তাঁর চরিত্রে গভীরভাবে মিশে আছে। যখন তাঁর নিজের একটি বই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, সে সময় দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনজন গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজ লেখকের একজনকে বললেন, অসহ্য; একজন অপাঠ্য এবং অন্যজনকে বললেন, ভয়ঙ্কর সমকামী বুড়ো।

প্যাট্রিসিয়ার বোন এলিনর বলেছেন, তিনি এক পাকিস্তানিকে বিয়ে করেছেন অথচ তিনি বলতেন পাকিস্তানিরা ভয়ঙ্কর, তারা মিথ্যাবাদী, তারা খুনি।

প্যাট্রিক ফ্রেঞ্চ দেখিয়েছেন নাইপলের নৈতিক অক্ষ সাদা ইউরোপীয় সংস্কৃতিতে নয়, ইসলাম-পূর্ব হিন্দু সংস্কৃতিতে নয়, কিংবা বহমান অন্য কোনো সংস্কৃতিতেও নয়। এটা তাঁর আত্মগত, তিনি নিজেই তাঁর নৈতিক গুরু।

তার পর প্রশ্ন উঠেছে: তাহলে কি বলতে হবে তিনি অনেক উপর থেকে নিজের মানুষের ওপর মূত্রপাত করেছেন?

নাইপল সমালোচনাকে পাত্তাই দেন না।

লোকে যা বলে বলুক। এক জীবনে যে ক’টা গৌরবময় অর্জন সম্ভব, তিনি তার সবই অর্জন করেছেন।

বৈরিতার জনক

ভি এস নাইপল বলেছেন, ‘একজন লেখক যদি বৈরিতা সৃষ্টি করতে না পারেন, তা হলে তিনি মৃত।’

এমিরি টেম্পল নাইপল সৃষ্ট কিছু বৈরিতার কথা তুলে ধরেছেন :

হেনরি জেমস সম্পর্কে নাইপল বলেছেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বাজে লেখক।’

হেমিংওয়ে সম্পর্কে: আমেরিকান হয়ে এত ব্যস্ত ছিলেন যে, তিনি কোথায় আছেন তাও জানতেন না।

ওলে সোয়েঙ্কার নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির পর নাইপল বলেছেন: তিনি কি আদৌ কিছু লিখেছেন? নোবেল কমিটি অনেক উঁচু থেকে সাহিত্যের ওপর মূত্রপাত করল।

ই এম ফস্টার সম্পর্কে এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, ভারতে তার নিজস্ব ধান্ধা ছিল। ফস্টার সমকামী... ভারতে মনের মতো সময় কাটিয়ে গেছেন। তিনি চিনতেন দফতর, কিছু ভারতীয় মধ্যবিত্ত এবং মুগ্ধ করে নিজের ভোগে লাগাবার মতো কিছু বাগান বালক।

উগান্ডা সম্পর্কে: আফ্রিকানদের লাথি মারা উচিত, একমাত্র লাথিকেই তারা বুঝতে পারে।

নিজ জন্মভূমি ত্রিনিদাদ সম্পর্কে: অগুরুত্বপূর্ণ, অসৃজনশীল মানচিত্রে ছোট্ট একটি বিন্দু।

নাইপল পল থেরোর কাছে ব্যাখ্যা করেছেন: বিষণ্নতার বিষয় হচ্ছে পৃথিবীটা আসলে আহাম্মকে ঠাসা আর আহাম্মক ও সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্যই পৃথিবীটা চালু আছে।

ইসলাম-কটাক্ষ বক্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিতদের ওপর এর দুর্যোগময় প্রভাব পড়ে। ধর্মান্তরিত হওয়া মানে তোমাকে তোমার অতীত ধ্বংস করতে হবে, তোমার ইতিহাস ধ্বংস করতে হবে। তোমাকে শপথ করে বলতে হবে, ‘আমার পূর্বপুরুষের সংস্কৃতির কোনো অস্তিত্ব নেই এবং তাতে কিছু এসে যায় না।’

নাইপলকে প্রশ্ন করা হয়েছে: ‘আফ্রিকার ভবিষ্যত্ কী?’

তিনি সাফ জবাব দিয়েছেন: ‘আফ্রিকার কোনো ভবিষ্যত্ নেই।’

ভারত নিয়ে, মুসলমানপ্রধান দেশগুলো নিয়ে তিনি অনেক বৈরী বাক্য উচ্চারণ করেছেন। উগ্রবাদী মুসলমানরা তার মুণ্ডু চাইতেই পারে। ভারতও ভাবতে পারে গায়ের যোগী ভারতে ভিখ না পেয়ে ত্রিনিদাদে গিয়ে ছোট মুখে এত বড় বড় কথা!

২০০১ সালে নাইপল বলেছেন, ‘যে সমাজে কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন নেই, সে সমাজ নিয়ে আমার মতো লোক যদি লিখতে যায়, তাহলে সেখানকার জনগণ ক্ষুব্ধ হবে।’

 এমি ফ্যালন লিখেছেন, নাইপল নারী লেখকদের চটিয়েছেন। তাঁর সমমানের কোনো নারী লেখকের কথা বলতে বলা হলে তিনি বললেন, এমন কেউ আছে বলে তার মনে হয় না। এমনকি জেন অস্টেনের সংবেদনশীল বৈশ্বিক অনুভূতিকেও তিনি কটাক্ষ করলেন।

তিনি মনে করেন নারী লেখকরা একেবারেই ভিন্ন ধরনের। ‘আমি কোনো রচনার এক বা দুই অনুচ্ছেদ পড়তেই বুঝে ফেলি লেখক একজন নারী বা অন্য কেউ।’ নারীর সংবেদনশীলতা এবং পৃথিবী সম্পর্কে ক্ষীণ ধারণা এবং নারীর যেহেতু গৃহের পূর্ণাঙ্গ কর্তৃত্ব নেই— সবই নারীর লেখায় চলে আসে।

নাইপল বললেন, তাঁর নারী প্রকাশক যত দিন সম্পাদনা করেছেন অত্যন্ত রুচিশীল ছিলেন কিন্তু যখনই তিনি লেখক হতে গেলেন, নারীর সীমাবদ্ধতা তার লেখাতেও প্রতিফলিত হতে শুরু করেন।

ব্রিটিশ লেখক পল থেরো আবিষ্কার করলেন, তিনি নাইপলকে নিজের যে বই উপহার দিয়েছিলেন, তা ৯১৬ পাউন্ড স্টার্লিংয়ে নিলামে উঠেছে। তাঁদের তিরিশ বছরের বন্ধুত্বের সেখানেই সমাপ্তি ঘটল।

অ্যালেক্স ক্লার্ক জিজ্ঞেস করলেন, হিলারি ম্যান্টল এ এস বাইয়াত কিংবা আইরিস মারডক কি সেন্টিমেন্টাল রাইটার?

তিনি বললেন, তারা নারী, যারা লিখে থাকেন।

সমালোচক অ্যালেন ব্রাউন বলেছেন, নাইপল উদ্ধত এবং সবসময় দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান। তার মনে রাখা উচিত, নারী লেখক জর্জ এলিয়টের বিশ্বসংস্কৃতিতে প্রভাব ভি এস নাইপলের চেয়ে অনেক বেশি।

ভিদিয়াধর সূরজপ্রসাদ নাইপলের বাবা সিপেরসাদ নাইপলও লিখতেন, ভাই শিভা নাইপলও কথাসাহিত্যিক।

১৯৫৫-এর এক অপরাহ্নে মিগুয়েল  স্ট্রিটের প্রথম এপিসোড বোগার্ট লিখলেন। পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে লিখে ফেললেন প্রথম উপন্যাস ‘মিগুয়েল স্ট্রিট’। অবশ্য প্রথম প্রকাশিত ফিকশন : দ্য মিস্টিক ম্যাসিউর (১৯৫৭)। পরের বছর প্রকাশিত ‘মিগুয়েল স্ট্রিট’ তাঁকে এনে দেয় সমারসেট মম সাহিত্য পুরস্কার। বুকার, নোবেল সবই পেয়েছেন।

স্মার্টেস্ট ইংলিশ রাইটার হিসেবে কট্টর সমালোচকদের স্তুতিও তিনি পেয়েছেন।

 

নাইপলের বইপত্র

ফিকশন: দ্য মিস্টিক ম্যাসিউর (১৯৫৭), দ্য সাফ্রেজ অব এলভিরা (১৯৫৮), মিগুয়েল স্ট্রিট (১৯৫৯), এ হাউজ ফর মিস্টার বিশ্বাস (১৯৬১), মি. স্টোন অ্যান্ড দ্য নাইট কোম্পানিয়ন (১৯৬৩), দ্য মিমিক ম্যান (১৯৬৭), এ ফ্ল্যাগ অন দ্য আইল্যান্ড (১৯৬৭), ইন এ ফ্রি স্টেট (১৯৭১), গেরিলা (১৯৭৫), এ বেন্ড ইন দ্য রিভার (১৯৭৯), দ্য এনিগমা অব অ্যারাইভাল (১৯৮৭), এ ওয়ে ইন দ্য ওয়ার্ল্ড (১৯৯৪), হাফ এ লাইফ (২০০১), দ্য নাইটওয়াচম্যানস অকারেন্স বুক (২০০২) ও ম্যাজিক সিডস (২০১৪)

নন ফিকশন: দ্য মিডল প্যাসেজ (১৯৬২), অ্যান এরিয়া অব ডার্কলেস (১৯৬৪), দ্য লস অব এল ডোরাডো (১৯৬৯), দ্য ওভার ক্রাউডেভ বারাকুল অ্যান্ড আদার আর্টিকেলস (১৯৭২), ইন্ডিয়া: এ ওন্ডেভ সিভিলাইজেশন (১৯৭৭), এ কঙ্গো ডায়েরি (১৯৮০), দ্য রিটার্ন অব ইভা পেরন অ্যান্ড কিলিংস ইন ত্রিনিদাদ (১৯৮০), অ্যামাঙ্গ দ্য বিলিভার্স: এ ইসলামিক জার্নি (১৯৮১), ফাইন্ডিং দ্য সেন্টার: টু ন্যারেটিভস (১৯৮৪), বিয়ন্ড বিলিফ (১৯৯৮), ইন্ডিয়া: এ মিলিয়ন মিউটিনিজ নাও (১৯৯০), বিয়ন্ড বিলিফ (১৯৯৮), বিটুইন আ ফাদার অ্যান্ড সান: ফ্যামিলি লেটার্স (১৯৯৯) ও দ্য মস্ক অব আফ্রিকা (২০১০)

ভি এস নাইপলের হাতে আর ফিকশন আসছে না। কেউ কেউ মনে করেন তাঁর সৃষ্টিশীলতা শ্রেষ্ঠ সময় আশির দশকেই ফুরিয়ে গেছে। সুতরাং তাকে লিখতে হচ্ছে জীবনী, ইতিহাস এবং ভ্রমণকাহিনীও। লেখক যদি হোন ভি এস নাইপল, তাহলে এগুলো চমত্কার সাহিত্যকর্ম হতে পারে।

 

একটি ব্যক্তিগত নাইপল-স্তুতি

১৯৭৬-এর ব্রিটিশ কাউন্সিল বইপত্রে ঠাসাই ছিল। টোয়েন্টিথ সেঞ্চুরি এনকাউন্টার নামের একটি বইও অন্যান্য বইয়ের সঙ্গে নিলাম। তাতে ভি এস নাইপলের লেখা মিগুয়েল স্ট্রিট উপন্যাসের একটি এপিসোড পড়ে এতটাই মুগ্ধ হলাম যে, এই মজার লেখাটির আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য (আসলে এমনিতেই) দ্রুত অনুবাদ করে ঢাকা ডাইজেস্ট নামের একটি মাসিক পত্রিকায় পাঠিয়ে দিলাম। শুধু ছাপা হলো বললে কম বলা হবে, ৪০ টাকা সম্মানীও পেলাম। এটিই আমার প্রথম গদ্য অনুবাদকর্ম। এর আগে বাংলাদেশে কেউই নাইপল অনুবাদ করেছেন কিনা, জানা নেই। তখনো বুঝিনি তিনি কত বিখ্যাত। কিছুকাল পর বইটিই পেয়ে গেলাম ব্রিটিশ কাউন্সিলের ফিকশন শেলফে, গোগ্রাসে পড়ে ফেললাম। একটি কি দুটি এপিসোড অনুবাদ করে পাঠালাম উত্তরাধিকার পত্রিকায়, ছাপা হলো, সম্মানীও খানিকটা বেশি পেলাম। পাঠের আনন্দ এত প্রবল ছিল যে, দেরি না করে প্রায় ঢাউস আ হাউজ ফর মিস্টার বিশ্বাসও পড়ে ফেললাম, ভারত থেকে ত্রিনিদাদে গিয়ে রামসোয়ামি কেমন করে র্যামজে মুর হলেন, সে কাহিনী অনেক দিন আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখল।

ভি এস নাইপলের যত নিন্দাই করি না কেন, কোনো সন্দেহ নেই তিনি আমার প্রিয় লেখকদের অন্যতম একজন। ঢাকা লিটফেস্টে তাঁকে কাছ থেকে দেখেছি, তাঁর কথাও শুনেছি।