দর্শনের ইতিহাসে সক্রেটিস একটি বিশেষ নাম। পৃথিবীর দর্শনের ইতিহাসে সক্রেটিস একাধারে সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং সবচেয়ে বিস্মৃত বা আড়ালে থাকা দার্শনিক। স্বাধীন চিন্তার জন্য নিন্দিত হওয়ার ঘটনা আজও যেমন ঘটছে, তখনো ঘটেছে। মুক্ত চিন্তার কারণে সক্রেটিসকে নিজ হাতে বিষ পানে হত্যার শিকার হতে হয়।

সক্রেটিসের চিন্তাভাবনা লিপিবদ্ধ নেই বলে পাঠকের কাছে তার যুক্তি বা দর্শন সরাসরি প্রবাহিত হওয়ার উপায় নেই। সক্রেটিস কিছুই লিখে রেখে যাননি। তিনি তার দর্শন ও তত্ত্ব মৌখিকভাবে অনুসারী কিংবা ভক্তদের মধ্যে বিলিয়ে যেতেন। সমসাময়িক ও অনুজ শ্রোতা বা দার্শনিকদের মধ্যে তার প্রবল প্রভাব পড়েছিল। অনুসারীদের ভেতরে প্লেটোর ওপরে তার প্রভাব পড়েছিল সবচেয়ে বেশি। সক্রেটিসের মৃত্যুর কিছু পরে প্লেটো তার সঙ্গে নিজের আলাপ লিপিবদ্ধ করেছিলেন। সক্রেটিসের দর্শন থেকে শুরু করে তার মৃত্যুর মুহূর্তে বলা কথাও প্লেটো লিপিবদ্ধ করেছেন। প্লেটোর লেখার মধ্যে দিয়ে পৃথিবীর মানুষ সক্রেটিসের দর্শনের কথা জানতে পারে। এ লেখা থেকে সাহিত্যে নতুন একটি ধারাও সৃষ্টি হয়, যাকে বলে সংলাপ, সক্রেটিসের সংলাপ। সাহিত্যে নতুন ধারাটি আরম্ভ করে প্লেটো যেভাবে সক্রেটিসকে মানুষের সামনে এনেছেন, তা তার দর্শনের সঙ্গে তাবৎ পৃথিবীর পরিচয়ের জন্য জরুরি ছিল। প্লেটোর স্মৃতিচারণ ছাড়া সক্রেটিসের পক্ষে মহৎ দার্শনিক হিসেবে আবির্ভূত হওয়া সম্ভব হতো না। অন্যদিকে, পশ্চিমা দর্শনের চেহারাটা অকল্পনীয় অন্যরকমের হতো।

তাই প্লেটোর কারণেই আমরা সক্রেটিসের দার্শনিক মূর্তি দেখতে পাই। সক্রেটিসের জীবনের আদর্শ, তাত্ত্বিক গভীরতা ও তার প্রাত্যহিক জীবনের টুকটাক অভিজ্ঞতা, বিতর্কিত হয়ে মৃত্যুবরণ এবং মৃত্যুর আগে সক্রেটিসের নিজের কথা—সবকিছু প্লেটোর মাধ্যমেই মানুষের নজরে আসে।

সক্রেটিসের চিন্তাধারা যখন যিনি লিখেছেন তিনি তার মতো করে সক্রেটিসকে আবিষ্কার করেছেন। যার যার দৃষ্টিভঙ্গিতে ও লেখার কায়দায় সক্রেটিসের যেকোনো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিজের মতো করে তারা তুলে ধরেছেন। এভাবে টুকরো টুকরো বর্ণনা মিলিয়ে হাজার বছর পরের মানুষও সক্রেটিসকে পূর্ণাঙ্গ রূপে খুঁজে পায়। প্লেটো বা জেনোফন নিজেদের লেখার ধারা অনুযায়ী সক্রেটিসকে শব্দ দিয়ে আঁকতে চেষ্টা করেছেন। আর এ করতে গিয়ে যা দাঁড়িয়েছে তা না কল্পকাহিনী, না পুরোপুরি বাস্তব। সংলাপের বর্ণনা কখনো হয়তো হুবহু, আবার কখনো খানিকটা কল্পনার মিশেলে সমার্থক ভিন্ন শব্দে। সুতরাং বর্ণনাগুলোকে কিছুটা কল্পকাহিনীর আদলে লেখা জীবনী, এমনটা বলা যেতে পারে। কারণ লেখাগুলোর আশ্রয়ে পাঠককে লেখকের অনুভূতির রাস্তা দিয়ে সক্রেটিসের কাছে পৌঁছতে হয়।

এর পরও কিছুই না লিখে সক্রেটিসের দর্শন মানুষের অনুভূতিতে পৌঁছনো কি বিস্ময়কর নয়?

সক্রেটিস প্রতিদিন অ্যান্থেনিয়ন আগোরা নামের উন্মুক্ত স্থানে বসে সমসাময়িক ও অনুজ মানুষদের নিজের ভাবনার কথা বলতেন। তিনি মৃত্যুর পরের অচেতনতা বা শূন্যতার কথা বলতেন। মৃত্যুর পরের অন্য জীবনের প্রতি তার অনাস্থা ছিল। এথেন্সের যেসব ধর্মীয় দেবদেবী ছিল, সক্রেটিস তাদের অস্বীকার করতেন। তিনি কেবল তাদের অস্বীকার করেই ক্ষান্ত হননি, নিজে ভিন্ন দেবতার প্রচলন করতেও চেয়েছেন। মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো তার কথা শুনত। যদিও যতটুকু জানা যায়, সক্রেটিস ছিলেন এথেন্সের অধিবাসীদের রূপের সংজ্ঞায় কুৎসিত। তার নাকটা ছিল অস্বাভাবিক রকমের মোটা, তিনি হেঁটে গেলে তার ঝুলে পড়া গাল দুলত আর দিনের পর দিন গোসল না করার কারণে তার শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হতো কিন্তু তিনি যখন কথা বলতে শুরু করতেন তখন মানুষ চারদিকে ঘিরে মুগ্ধ হয়ে তার কথা শুনত। 

সক্রেটিস ছিলেন এথেন্সে। এথেন্স বরাবর রাজনৈতিক স্বাধীনতা, উদারতা আর জ্ঞানচর্চার জন্য বিখ্যাত। খ্রিস্টপূর্ব ৪৩১-৪০৪ পর্যন্ত এথেন্সবাসীদের সঙ্গে স্পার্টানদের দীর্ঘ পেলোপনেসিয়ান যুদ্ধের পর স্পার্টানরা জয়ী হয়। স্পার্টানরা যুদ্ধে জেতার পরে এথেন্স ত্যাগ করে কিন্তু বাছাই করে ৩০ জনকে ক্ষমতায় বসিয়ে যায়। ক্ষমতালোভী ওই ৩০ জনকে দ্য থার্টি কিংবা থার্টি টাইর‌্যান্ট বলা হতো। কিছুদিন পর তাদের হটিয়ে গণতন্ত্রপন্থীরা ক্ষমতায় আসে। অলিগার্কিক দলের বিজয়ের সঙ্গে সক্রেটিসের যোগাযোগ আছে বলে সন্দেহ করা হতো। আসলে এথেন্সবাসী স্পার্টানদের কাছে যুদ্ধে হারার জন্য কাউকে দোষী ভাবতে চেষ্টা করছিল। তারা এমন কাউকে খুঁজে বের করতে চাইত যার ওপরে পরাজয়ের দায় চাপানো যায়। ওরকম সময়ে তারা খুঁজে পেয়েছিল সক্রেটিসকে, যাকে তারা সোফিস্ট বলেও সন্দেহ করত। অথচ শেষ পর্যন্ত সোফিস্টদের অভিযোগের কারণেই সক্রেটিসকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। সক্রেটিসের বিচার ও রায় সবকিছুই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের উদ্দেশ্যে হয়। ক্রিতিয়াস ও কারমিদিজ নামে সক্রেটিসের দুজন অনুসারী ছিল, যারা যুদ্ধের সময়ে স্পার্টানদের সঙ্গে যোগ দেয়। এ থেকেই সক্রেটিসের দিকে সন্দেহের তীর আসে। তাদের কাছে লিয়ন ও সালামাইনকে হত্যার বিষয়ে একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যার সঙ্গে সন্দেহপ্রবণ মানুষেরা সক্রেটিসের সংযোগ আবিষ্কার করে। ঐতিহাসিক কোলম্যান ফিলিপসন একে ‘যেমন শিক্ষক তেমন ছাত্র’ বলে বর্ণনা করেন।

সক্রেটিসের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট দুটো অভিযোগ আনা হয়। প্রথমত, বলা হয় সক্রেটিস নাস্তিক ও নিজস্ব দেবদেবী তৈরি করে তিনি রাষ্ট্রীয় আইন অমান্য করছেন। দ্বিতীয়ত, বলা হয় সক্রেটিস তার যুক্তি ও দর্শনের মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছেন। তাকে যে সোফিস্ট মনে করা হতো, সে অভিযোগও সত্য ছিল না, কারণ তিনি কখনো জ্ঞান বিতরণের বিনিময়ে পয়সা নিতেন না। তবে এসব কারণে তাকে এক পর্যায়ে বিচারের আওতায় আনা হয়। অন্যদিকে, সক্রেটিস যার সঙ্গেই তর্কে লিপ্ত হতেন তাকেই তিনি যুক্তির জোরে বোকা প্রমাণিত করতেন, এ নিয়েও ছিল অনেকের অনেক অভিযোগ। সামগ্রিক এ অভিযোগের কারণে সক্রেটিসকে রাষ্ট্রীয়ভাবেও বিপজ্জনক মনে করা হতো। এথেন্সের যারাই টাইর‌্যান্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করত, তাকেই এথেন্সের শত্রু বলে ধরে নেয়া হতো। সক্রেটিস মূলত ছিলেন সে তালিকার শুরুতে। 

বিচারের দিন ধার্য হলে সেখানে অন্তত ৫০০ মানুষ উপস্থিত ছিল। উপস্থিত মানুষের মধ্যে ২৮০ জন সক্রেটিসের বিপক্ষে এবং ২২১ জন তার পক্ষে রায় দেয়। সক্রেটিসের বিপক্ষে বেশি মানুষের রায় হওয়ায় তার মৃত্যুদণ্ড ধার্য হয় বিচারের দিন থেকে ৩০ দিন পরে। সক্রেটিসের শুভাকাঙ্ক্ষীরা এর মধ্যে তাকে বন্দিদশা থেকে পালানোর জন্য উপায় করে দেয়। কিন্তু সক্রেটিস পালাতে রাজি হন না। যা বলেছেন সে সত্যের প্রতি অটল থাকার প্রমাণস্বরূপ তিনি মৃত্যুদণ্ডকে মাথা পেতে নেন। সুনির্দিষ্ট দিনে হেমলক বিষ নিজের হাতে পান করে ৭০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মৃত্যুর আগ মুহূর্তে সক্রেটিসের মুখ থেকে শেষ যে কথাটি বের হয় তা হলো নিজের ঋণ শোধ করতে কখনো ভুলো না।

সক্রেটিসের মৃত্যুর কিছু পরে প্লেটো স্মৃতি থেকে হুবহু মৃত্যুকালীন বর্ণনা দেন। গ্রিসের মানুষদের মধ্যে যারা সেখানে উপস্থিত ছিল, কেউ বর্ণনাটির সঙ্গে দ্বিমত করেননি। বিচারের আসরে একজন সাক্ষীও উপস্থিত হয়নি যে সক্রেটিস তরুণদের বিভ্রান্ত করে বলে যুক্তিতর্ক উপস্থিত করেছে কিংবা দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার পক্ষে কথা বলেছে। তবে সক্রেটিসকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ব্যাপারে তারা শোকাভিভূত হলেও ভয়ে কেউ আপত্তি করেননি। নিজের সত্য-দর্শনের জন্য সক্রেটিস এতটুকু কুণ্ঠিত ছিলেন না। তাই মৃত্যুর আগে জবানবন্দিতে সক্রেটিস বলেন, ‘সারাজীবন আমি চুপ থাকিনি। অধিকাংশ মানুষ যেসব জিনিস নিয়ে মাথা ঘামায়—অর্থকড়ি, সহায়-সম্পত্তি, বানানো সামরিক পদ লাভ, বক্তৃতায় নাম কামানো, রাজনৈতিক পদ দখল করা, ষড়যন্ত্র আর দলবাজিতে অংশগ্রহণ করা, এসব আমি অবহেলা করেছি। তাই আমি এমন পথে হাঁটিনি, যাতে আমার নিজের উপকার হবে না, আপনাদেরও হবে না; বরং প্রত্যেকের দুয়ারে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে আমি আপনাদের সেবা করার চেষ্টা করেছি।’ (অনুবাদ: আমিনুল ইসলাম ভুইয়া)

সক্রেটিস মানুষকে শেখাতেন কী করে ব্যক্তিগত অনুভূতি বা চিন্তা জোরালোভাবে উচ্চারণ করতে হয়। তিনি বলতেন, যে দেশে ব্যক্তিগত চিন্তাকে প্রকাশ বা প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না, সে দেশ অরাজকতায় পূর্ণ। তিনি তাই তরুণ ও সমসাময়িক প্রজন্মকে নিজেদের মত প্রকাশের ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন, নিজের অস্তিত্ব ও ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন করতেন এবং নিজের ধর্ম রাষ্ট্রীয় আইনকানুনের চেয়ে বড়—এ রকম নীতিতে বিশ্বাসী করে তুলতেন। সুতরাং মানুষের একক মতবাদ বা মতপ্রকাশের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সক্রেটিস এক চিরকালীন আদর্শ। সক্রেটিস মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখাতেন, সংযম কী? জ্ঞান কী? অভিমত কী? সাহস, প্রেম বা বন্ধুত্ব কী? রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সম্পর্ক কী? নৈতিকতা কী? প্রশ্নের উত্তর যাচাইয়ের মধ্যে দিয়ে জ্ঞানচর্চা আমাদের বর্তমান সমাজে কার্যকর হতে পারে।

সক্রেটিসের দর্শনের বিশেষ কিছু বিষয় সব যুগের সব মানুষের জন্য প্রযোজ্য। যেমন নিজেকে জানো। বস্তুত নিজেকে জানার মাধ্যমেই মানুষের নিজেকে এবং নিজের পারিপার্শ্বিকতাকে জানার সূচনা হয়। আবার, সত্যিকারের জ্ঞানী হওয়ার প্রক্রিয়াটি তখনই শুরু হবে, যখন আপনি জানবেন যে আপনি কিছুই জানেন না। এছাড়া আত্মার উন্নয়ন না করে শারীরিক সুস্থতা অর্থহীন। জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে আত্মার উন্নয়ন সাধন মানুষের প্রথম ও প্রধান কাজ। সক্রেটিস তার প্যারাডক্সিক্যাল বাচনভঙ্গির জন্য বিখ্যাত, যেমন কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনি কি সক্রেটিস? তিনি উল্টো জবাব দিয়েছিলেন, আপনি প্রমাণ করুন যে আমি সক্রেটিস নই। এভাবে প্রশ্নের বিপরীতে প্রশ্ন করার মাধ্যমে উত্তর দিতে পারদর্শী ছিলেন তিনি। 

হাল আমলে সক্রেটিসের বিষয়ে কৌতূহলী হওয়ার মতো একটি ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রায় ২ হাজার ৪১৫ বছর পরে গ্রিসের একটি আদালত জানিয়েছে যে সক্রেটিস নির্দোষ ছিলেন। তিনি সত্যিই দোষী ছিলেন কিনা—এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য এথেন্সের ওনাসিস ফাউন্ডেশনের একটি আদালত নতুন করে বিচারের আয়োজন করে। সে বিচারে আদালত সক্রেটিসকে নির্দোষ বলে রায় প্রদান করে।

সক্রেটিসের সমর্থনে আইনজীবী বলেন, ‘ব্যক্তির অভিমত অপরাধ হতে পারে না। সক্রেটিস সত্যের সন্ধান করতেন, আর তা করতে গিয়েই তিনি নিজস্ব মত তুলে ধরতেন। তবে আমার মক্কেলের একটাই দোষ, তিনি উসকানিমূলক কথা বলতেন এবং মানুষকে ক্ষেপাতেন। বাঁকা কথা বলাই ছিল তার নেশা। যেমন তিনি বলতেন, ‘‌দেখাও তোমাদের গণতন্ত্র কতটুকু খাঁটি ও বিশ্বাসযোগ্য।’ এ মামলার বিচারের জন্য আমেরিকা ও ইউরোপীয় বিচারকদের একটি প্যানেল তৈরি করা হয়। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে সক্রেটিসের পক্ষে রায় দেন বিচারকরা। ২০১৬ সালে নিউইয়র্কের একটি আদালতও সক্রেটিসকে নির্দোষ প্রমাণ করে রায় দিয়েছিল।

আজ যখন দেশে দেশে গণতন্ত্রের নামে প্রহসনের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার যখন হুমকির মুখে, তখন সক্রেটিস মানুষের ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন। যুগে যুগে সক্রেটিস জন্মান না, মতপ্রকাশের বলি হিসেবে তাই পৃথিবীর হাজার মানুষকে আমরা সক্রেটিসের মতো শহীদের মর্যাদাও দিতে পারি না। তবে মতপ্রকাশের প্রয়োজনীয়তা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আমাদের জীবন থেকে কখনই ফুরিয়ে যাবে না। তাই সক্রেটিসের প্রাসঙ্গিকতাও থাকবে চলমান।

আফসানা বেগম: কথাসাহিত্যিক