১.
গাছের বড় হয়ে ওঠায় কিছু বন্যতা থাকে
পাতাদের নিচে কেঁপে ওঠা ছায়াদের তরী
বিশেষ সৌজন্যে আমাদের মানুষ ভেবেছিল।
ভেসে গেছি দূরের কম্পনে, কাছের বিহ্বলে।
তুমি আপেল কাটতেই পাখিরা উড়ে যায়।
দুই খণ্ড লাল স্তন থালার ওপর মৃত পড়ে থাকে।
আমরা বিকাল থেকে দু’তিনবার বড় বৃক্ষ হয়েছি।
২.
অরণ্যে বেড়াবার সময়
পরনের কাপড়গুলিকে
পররাষ্ট্রনীতি মনে হয়।
ছায়ার গভীরে বসে
বোঝা যায়,
কোন নীতি বেদনাবাহিত।
অরণ্য থেকে আসবে কখন?
দ্বিপাক্ষিক আলোর কাপড়ে
আমাদের কথা শুরু হবে।
৩.
হাসিনি উদ্বাস্তু ঠোঁটে।
বাহুর বিহার হলো।
বড় চাঁদ এলো শতবর্ষ পরে।
গৃহীত আখ্যান শেষে তরণী জাগিল তটে।
কুয়াশায় পাকশিব্রিজ কফিন-গহ্বর।
শাদার আঁধারে সূর্য কাঁদে, বিষণ্ন আপেল।
চলে গেলে তুমি।
পদ্মাতীরে পরাজিত কোন পারাপার?
প্রেম, কতটুকু চিনেছি তোমাকে?
৪.
শস্য-আত্মাগান
কৃষক-হূদয় চঞ্চল।
বাতাসে স্বর্ণজ্বলা শিষ
ক্ষুধার বাড়িতে আশিস।
আলোকপ্রধান মাঠে
জীবন প্রবল।
স্নান ফসল-অঞ্চলে
সাঁতার সোনারঙ জলে,
ধান কাটে বৃত্ত বাঁচার।
৫.
কুসুম জাগল হূদে
পদ্ম-কথা শুনছে পাষাণ:
শুরু হলো প্রেম
শেষ হলে তোমাকে পাওয়া যেত।
৬.
পারাপার নিঃশব্দে ডাকে।
কবেকার তীরে নৌকা রেখেছিলে।
আমাকে অসেতুসম্ভবের আর্তি
ঘুমহীন রাখে।
শ্রোতা কারা?
দূরের সেতুর ছায়া
পতনে-উত্থানে
ঊর্মির শরীরে ভাসে।
সব বোঝে, সব জানে
শুধু নীরব আমার সর্বনাশে।
৭.
এই দেশে উদারতা
নীল পোশাকের পাপ,
কাঁদছে আকাশ।
আমি শুধু কবিতা লিখেই
মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে পারি।
৮.
স্মৃতি আঁচড়ানো বৃষ্টির চিরুনি
ভেঙে পড়ছে রাত্রির নৈঃশব্দে।
অন্তরখনন শেষে জেগে ছিলে কেন?
৯.
(আমি হলাম অন্য কেউ। কী দুরবস্থা সেই কাঠের টুকরোর,
যে হঠাত্ দেখে, সে হয়ে উঠেছে বেহালা: জ্যঁ আর্তুর র্যাঁবো।)
মনে পড়ে?
হয়ে ওঠার সময়
করাতের দিন
আগুনের হিসিহিস।
একটি নির্মাণের রূপ
দেখা দিতে দিতে মনে হলো:
ক্ষতপর্ব শেষ
আর পুড়ব না
বাঁশি হতে পারি।
১০.
: কেমন আছে তোমার নতুন প্রেমিক?
: এখন পর্যন্ত খুব ভালো।
আমাদের দেখা হলো আরেক সন্ধ্যায়।
: সঙ্গে নেই তোমার প্রেমিক?
: কক্সবাজার বেড়াতে গেছে।
দেখা হলো এক বর্ষার বিকালে।
: কেমন আছে তোমার পুরনো প্রেমিক?
: এখন পর্যন্ত মানিয়ে নেবার মতো ভালো।
আগামীতে দেখা হলে
উত্তরে আসতে পারে অসময়ের শীত।
প্রশ্ন করা আহম্মকী হবে।
(রচনা: জানুয়ারি-মার্চ, ২০১৭)






