বিখ্যাত ফ্রেঞ্চ ঔপন্যাসিক আলেকজান্ডার দুমা তার বিশ্বখ্যাত দুটি উপন্যাস ‘দ্য থ্রি মাস্কেটিয়ার্স’ এবং ‘দ্য কাউন্ট অব মন্টে ক্রিস্টো’ প্রেতলেখককে দিয়ে লিখিয়েছেন।বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সেবার বেশকিছু জনপ্রিয় বইয়ের প্রেতলেখক আমাদের অনেকেরই প্রিয় লেখক শেখ আবদুল হাকিম কিনা, জানতে চাওয়া যেতে পারে। উত্তর হবে সেবা প্রকাশনীর শেখ আবদুল হাকিম হলেন এ সময়ের সেরা গণেশ। কাজী আনোয়ার হোসেন মাসুদ রানা লেখান একাধিক গণেশ দিয়ে

 

বাংলা একাডেমির ‘ইংলিশ-বেঙ্গলি ডিকশনারি’তে গোস্টরাইটার মানে: যে ব্যক্তির লেখা তার মনিব স্ব-নামে চালায়, লেখক-কর্মচারী। ক্রিয়া হিসেবে গোস্টরাইট মানে: (কারো জন্য) লেখক-কর্মচারী হিসেবে কাজ করা। গোস্টেড মেমোয়ার্স মানে: কোনো লেখক-কর্মচারী দ্বারা রচিত স্মৃতিকথা। তিনি কি গণেশ নন!

এক শব্দের কিছু একটা থাকলে বিজনেস কার্ডে লিখতে সুবিধে হতো। আমার যথেষ্ট টাকা-কড়ি থাকলে কিংবা যথেষ্ট টাকা-কড়ি পেলে আমি এ লেখাটি আমার একজন প্রেতলেখকে দিয়ে লেখাতাম এবং প্রাপ্য লেখক সম্মানীর অর্ধেক তাকে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতাম।

বিখ্যাত ফ্রেঞ্চ ঔপন্যাসিক আলেকজান্ডার দুমা তার বিশ্বখ্যাত দুটি উপন্যাস ‘দ্য থ্রি মাস্কেটিয়ার্স’ এবং ‘দ্য কাউন্ট অব মন্টে ক্রিস্টো’ প্রেতলেখককে দিয়ে লিখিয়েছেন।

বাংলাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সেবার বেশকিছু জনপ্রিয় বইয়ের প্রেতলেখক আমাদের অনেকেরই প্রিয় লেখক শেখ আবদুল হাকিম কিনা, জানতে চাওয়া যেতে পারে। উত্তর হবে সেবা প্রকাশনীর শেখ আবদুল হাকিম হলেন এ সময়ের সেরা গণেশ। কাজী আনোয়ার হোসেন মাসুদ রানা লেখান একাধিক গণেশ দিয়ে

১৯৮১-৮২ সালে বিদেশে প্রকাশিত ইংরেজিতে লিখিত একটি কথিত গবেষণা গ্রন্থের প্রেতলেখক হিসেবে আমি ২১ হাজার ৬০০ (টাকার অংক অক্ষরে লেখার নসিহত রয়েছে: একুশ হাজার ছয়শত) টাকা মজুরি পেয়েছি; মূল লেখক কত সম্মানী পেয়েছেন, আমার জানা নেই। লক্ষ করুন আমারটা কিন্তু মজুরি, সম্মানী নয়।

আয়ান ফ্লেমিংয়ের জেমস বন্ড সিরিজের কিছু সংখ্যক বই প্রেতলেখক রচনা করেছেন। আর্ল স্ট্যানলে গার্ডনার যখন সিদ্ধান্ত নিলেন, প্রতি মাসে তার ছ’টি বই প্রকাশিত হতে হবে, তিনি ছ’জন মেধাবী প্রেতলেখক নিয়োগ করলেন। হালের সর্বোচ্চ আয়ের লেখক জেমস পেটারসনের ওপর লেখালেখির চাপ বেড়ে যাওয়ায় তিনিও প্রেতলেখকের সেবা ক্রয় করছেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত একাধিক মুন্সীকে ডিকটেশন দিতেন। অবশ্য ডিকটেশন গ্রহণকারী লিখিয়েকে প্রেতলেখকের মর্যাদা না দেয়াই সমাচীন।

সৈয়দ আলী আহসান ১৯৭৯ সালে একবার আমাকে তাঁর কলাবাগানের বাসায় নিয়ে গেলেন। সমকালীন বাংলা সাহিত্য নিয়ে কোনো বক্তৃতা কিংবা প্রকাশনার জন্য তিনি ইংলিশ ডিকটেশন দেবেন, আমাকে তা শুনে লিখতে হবে। আমিও একজন খ্যাতিমান মানুষের সান্নিধ্য পেতে চাচ্ছিলাম। আমি তখন পর্যন্ত শ্রুতিলেখক বা গণেশ।

তিনি বলতে শুরু করলেন, আমি লিখতে শুরু করলাম।

একটি দীর্ঘ বাক্যের মাঝখানে এসে তিনি বললেন, কী লিখেছো পড়ে শোনাও।

এ রকম কয়েকবার ঘটার পর ব্যাপারটা আমার কাছে খুব বিরক্তিকর মনে হলো, আমি বেশ বুঝে গেলাম, শ্রুতিলেখক হওয়ার যোগ্যতা আমার থাকতে পারে; কিন্তু গণেশ হিসেবে টিকে থাকার মেজাজ বা টেম্পারামেন্ট আমার নেই।

আমি সবিনয়ে বললাম, এভাবে আমি পারছি না। আপনি যদি দয়া করে পুরো বিষয়টা আমাকে বাংলা বা ইংলিশে— যেভাবেই হোক বুঝিয়ে দেন, আমি একটা লেখা দাঁড় করাতে পারব। আপনি সেটা কাটছাঁট করে যোগ বিয়োগ করে ঠিক করে নিতে পারবেন। তাতে সময় বাঁচবে, আর আমি যখন কাজটা করব, তখন আপনি জরুরি অন্যান্য কাজও করতে পারবেন।

(মনে মনে বললাম, এক বাক্য একাধিকবার পড়ে শোনানোর যাতনা থেকে আমি মুক্তি পাব।)

তিনি অসন্তুষ্ট চিত্তে বললেন, বেশ করো। দেখো, কোনো পয়েন্ট যেন ছেড়ে না দাও।

ছেড়েছি কি না মনে নেই। তিনি কিছু কাটছাঁট সত্যিই করলেন। অসন্তোষ সম্ভবত দূর হলো, সাবেক উপাচার্যের মেজাজ ধরে রেখেই বললেন, ভালোই তো!

সম্ভবত শ্রুতিলেখক বা গণেশ হিসেবে ব্যর্থ হয়ে আমি মোটামুটি মানের একজন প্রেতলেখক হিসেবে আবির্ভূত হলাম।

নগদ কিছু পাইনি, কাজেই বাংলা একাডেমির অভিধান অনুযায়ী আমাকে লেখক-কর্মচারী বলা সমীচীন হবে না, তবে কয়েক দিনের মধ্যেই ফ্রেঞ্চ অ্যাম্বাসির কালচারাল অ্যাটাশে মাদাম কুলোর একটি নৈশভোজের দাওয়াত পেলাম। আমাকে খাওয়ানোর যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণই নেই। আমার বয়স তখন একুশ ছাড়িয়েছে। ঢাকা কলেজে ইন্টারমিডিয়েট পড়ার সময় মিলটনের ‘অন হিজ হ্যাভিং অ্যারাইভ অ্যাট দ্য এজ অব টোয়েন্টি টু’ বাধ্য হয়ে পড়তে হয়েছে এবং এত দিনে আমিও মিলটনের মতো আফসোস করতে শুরু করেছি: বাইশ তো হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কিছুই তো করতে পারলাম না!

&dquote;হিলারি

মাদাম কুলোর বাড়িতে দাওয়াতপত্রটি হাতে নিয়ে ঢুকলাম। ভেতরে সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা অঙ্গনের বড় বড় সব মানুষ, বয়সও বেশি। সৈয়দ আলী আহসান ঘাড় ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে তুমি এসেছো। তুমি পরেও ডাক পাবে।

তার একটাই মানে, সৈয়দ আলী আহসান মাদাম কুলোর মেইলিং লিস্টে আমার নাম ঢুকিয়ে দিয়েছেন। একবার কিঞ্চিত ‘গোস্টিং’ করে সম্মানী ক্যাশে না হলেও কাইন্ডে ভালোই পেলাম।

অল্পের জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট না হতে পারা হিলারি ক্লিনটন তার ‘লিডিং হিস্ট্রি’ গ্রন্থটি প্রেতলেখক দিয়ে লিখিয়েছেন এবং স্বীকারও করেছেন। সেই প্রেতলেখকের নাম ম্যারিয়েন ভোলার্স! অভিনেতা-প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগানের আত্মজীবনী ‘অ্যান আমেরিকান লাইফ’ প্রেতলেখকের রচনা। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ও আলাস্কার গভর্নর সারাহ পেলিনের ‘গোয়িং রোগ’ অবশ্যই তার বই, কিন্তু লিখেছেন লিন ভিনসেন্ট।

ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান অ্যালান গ্রিনস্প্যান প্রেতলেখক ব্যবহার করতেন। হালে বাংলাদেশে প্রতিটি পাঁচ কেজি ওজনের দুটি জীবনী/আত্মজীবনী প্রেতলিখিত বলেই সন্দেহ করা হয়।

শিশুদের মজার বই গুজবাম্পস সিরিজ আর এল স্টাইনেরই, কিন্তু তিনি প্রেতলেখক নিয়োগ করেছেন। ‘হার্ডি বয়েস’ সিরিজের লেখক ফ্রাংকলিন ডিক্সন এবং ‘ন্যান্সি ড্রু’ সিরিজের ক্যারোলিন কিন প্রেতলেখক পুষেছেন।

 

আত্মজীবনীর প্রকাশকের বিরুদ্ধে মামলা

হেডি ল্যামার মেরিলিন মনরোর আগের যুগের মেরিলিন। জন্ম ৯ নভেম্বর ১৯১৪ প্রথম যুদ্ধকালে ভিয়েনায়, মৃত্যু ১৯ জানুয়ারি ২০০০ ফ্লোরিডায়। শুরুতে মাথা ঘুরিয়ে দেয়া সৌন্দর্য তাকে খ্যাতিমান করে তোলে। ১৯৩৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘এক্সট্যাসি’ ছবিতে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে সাঁতার কেটে, সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে দৌড়ে এবং সঙ্গমকালীন চরমানন্দের শীত্কার দিয়ে তিনি বিখ্যাত ও বিতর্কিত হয়ে ওঠেন। ধনকুবের ইহুদি অস্ত্র ব্যবসায়ী ফ্রেডরিখ ম্যান্ডল তাকে বিয়ে করেন। তার বাড়িতে বিভিন্ন সময় অতিথি হয়ে আসেন হিটলার এবং মুসোলিনি। অস্ত্রের বড় চুক্তি ও লেনদেনের সময় স্বামী সুন্দরী স্ত্রীকে সঙ্গে রাখতেন। হেডি একসময় বুঝতে পারলেন এ ধনকুবের প্রাসাদে আসলে তিনি সোনার শিকলে বন্দি।

&dquote;&dquote;

আরো অবাক হলেন নিজে ইহুদি হয়ে ইহুদি নিধনের জন্য ফ্রেডরিখ অস্ত্রের চালান পাঠাচ্ছেন! হেডি ছন্দবেশে রাস্তায় নামলেন এবং প্যারিস পর্যন্ত পৌঁছলেন। তার পর তিনি ফিরে এলেন তার স্বতঃস্ফূর্ততার জগতে— সিনেমায়, তার পর চলে এলেন হলিউডে। এমনকি দুর্বল সিনেমাও তার সৌন্দর্যের ভারে উতরে যেত।

হেডি এতেই সন্তুষ্ট নন। অভিনয়ের পাশাপাশি তার অনুসন্ধিত্সা ও বিজ্ঞানমনস্কতাও তাকে সারাক্ষণ ব্যস্ত রেখেছে। তিনি আবিষ্কার করলেন বিশেষ স্বাদের কার্বোনেটেড ওয়াটার। পাখির উড়াল পর্যবেক্ষণ করে উড়োজাহাজের দক্ষ উড্ডয়নের জন্য পাখার ডিজাইন করলেন এবং তার প্রয়োগ হেডির মেধার প্রমাণ দেয়। তিনি রেডিও সিগনালযুক্ত পিয়ানো আবিষ্কার করেন, ১৯৪২ সালে তা পেটেন্ট রাইট পায়। আজকের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক, ব্লুটুথ প্রযুক্তি এবং স্প্রেড-স্পেকট্রাম কমিউনিকেশন টেকনোলজির ঠিকানা তার আবিষ্কার থেকেই। সিনেমাতে বটেই, সায়েন্স চ্যানেল ও ডিসকোভারি চ্যানেলে তিনি উপস্থাপিত হন; এবং ইলেকট্রনিক ফাউন্ডেশন ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন পাইওনিয়ার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় কল্যাণ তহবিল সংগ্রহে তিনি যুক্ত ছিলেন। চুম্বনের বিনিময়ে হেডি সাহায্য কর্মসূচি চালু করেন।

তিনি ছ’বার বিয়ে করেন। এলিজাবেথ টেলর তার রেকর্ড ভাঙেন।

একসময় সিনেমা ছেড়ে দেন, অবিশ্বাস্য অনেক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। শেষদিকে ক্লিপটোম্যানিয়াক (চুরি করার বাতিকগ্রস্ত) হয়ে পড়েন। লস অ্যাঞ্জেলেস ও ফ্লোরিডায় শপলিস্টিং দোকান থেকে এটা ওটা চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েন।

হেডি ল্যামারের আত্মজীবনী ‘এক্সট্যাসি অ্যান্ড মি’ প্রকাশিত হওয়ার পর আত্মজীবনী সঠিকভাবে লিখিত না হওয়ার অভিযোগ এনে প্রকাশকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

হেডি ল্যামারের বর্ণাঢ্য আত্মজীবনীর প্রেতলেখক ছিলেন লুই গোল্ড।

 

প্রেতপ্রকাশনার রমরমা বাজার

গত ২০০ বছরের সবচেয়ে খ্যাতিমান জাদুকর হ্যারি হুডিনি, এ নিয়ে সম্ভবত বিতর্ক নেই। তাঁর চোখ পড়ে লেখক এইচপি লাভক্রাফটের ওপর। আধি ভৌতিক কাহিনীর লেখক হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠিত। হুডিনি তাকে করে নিলেন নিজের প্রেতলেখক। তাদের প্রথম রচনা ইমপ্রিজনড উইথ ফ্যারাও। সম্প্রতি আবিষ্কৃত আরো একটি রচনা ‘দ্য ক্যান্সার অব সুপারস্টিশন’ চড়া দামে নিলামে বিক্রি হয়েছে।

শিল্পী এলটন জনের অনেক গান বিশেষ করে ‘ক্যান্ডল ইন দ্য উইন্ড’, ‘টাইনি ড্যান্সার’, ‘রকেটম্যান’ প্রেতরচনা। সেই প্রেতগীতকারের নাম বার্নি টোপিন।

প্রেতলেখক জোনাথান ফ্যাব্রুকে নিজের প্রেতলেখক হিসেবে বারাক ওবামার এতই পছন্দ ছিল যে, তিনি তাকে হোয়াইট হাউজে তার ভাষণ-লেখকদের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন। ওবামা বলতেন, জোনাথান হচ্ছেন ‘মাইন্ড রিডার’- তার মনের কথা পড়ে ফেলতে পারেন। ওবামার বইগুলো তার কলমেই লিখিত। ২০১৩ সালে জোনাথান হোয়াইট হাউজ ছেড়ে অন্যত্র যোগ দেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের, ‘দ্য আর্ট অব দ্য ডিল’-এ তার প্রেতলেখক টনি শোয়র্জ। জেনারেল নর্ম শোয়ার্জকফ-এর আত্মজীবনী ‘ইট ডাজ নট টেইক আ হিরো’র লেখক পিটার পেট্রে। রিচার্ড ব্র্যানসন (ভার্জিন এয়ারলাইন্সের মালিক) একটি অসাধারণ ঘটনাবহুল জীবন কাটাচ্ছেন। তার আত্মজীবনীর নাম ‘লুজিং মাই ভার্জিনিটি’, প্রেতলেখক এডওয়ার্ড হুইটলে।

মোত্জার্ট অন্যের জন্য সুর রচনা করেছেন। প্রেতসুরকার! কার্ল ফোরম্যান ও মাইকেল উইলসনস নিজ দেশে নিষিদ্ধ ছিলেন বলে পিয়েরে বোলের নামে সিনেমার জন্য প্রেতলিখন করেছেন ‘ব্রিজ অন দ্য রিভার কাওয়াই’। অবশ্য পিয়েরে বোলই মূল উপন্যাসের লেখক। 

সিনেমাটি অস্কার পেয়েছে। ‘রোমান হলিডে’র ব্যাপারেও একই ঘটনা ঘটেছে।

প্রেতলেখকদের নিয়ে সেরা দুটি উপন্যাস ফিলিপ রথের দ্য গোস্ট রাইটার এবং রবার্ট হ্যারিসের দ্য গোস্ট: রোমান পোলানস্কি রবার্ট হ্যারিসের উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে ‘দ্য গোস্ট রাইটার’ সিনেমাটি করেছেন।

ফিলিপ রথের উপন্যাসটি নিয়ে একটি পৃথক নিবন্ধ রচিত হতে পারে।

প্রকাশনা মোঘল নাইম আতাল্লার প্রেতলেখক হিসেবে টানা কুড়ি বছর কাজ করেছেন জেনি এরডাল। ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়েছে জেনির আত্মজীবনী ‘গোস্টিং: আ মেমোয়ার’।

 

লেখক-প্রেতলেখক সম্পর্ক

বলেছিই তো হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন তার প্রেতলেখককে স্বীকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু কেমন করে? তার একজন প্রেতলেখকের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছি:

লেখক-প্রেতলেখক সম্পর্কটি আসলে বৈবাহিক সম্পর্কের মতো। পুরো আশা নিয়েই সম্পর্কটি শুরু করবেন। টিকে থাকার সম্ভাবনা ৫০:৫০। ১৯৯৬ সালে যখন হিলারির ‘হোয়েন ইট টেইকস আ ভিলেজ’ প্রকাশিত হলো, তিনি ঠিক করলেন আমাকে তার ‘প্রেত’ স্বীকার করবেন না। কারণটা এখন পর্যন্ত তিনি ব্যাখ্যা করেননি।

বইটি যে হিলারি নিজেই লিখেছেন, তা প্রমাণ করার জন্য সাংবাদিক ডেকে তার হাতের লেখা, নোটবই এসব দেখিয়েছেন। বলেছেন, সম্পাদনায় সামান্য সহযোগিতা নিয়েছেন শুধু। নির্বাচনী প্রচারণার সময় হিলারির এই শঠতার কথা বারবার তার মনে পড়েছে।

কিন্তু গত নির্বাচনে তিনি কি হিলারিকে ভোট দিয়েছেন? প্রেতলেখক বারবার ফিনম্যান টড লিখেছেন: আমি ভোট তাকেই দিয়েছি। কিন্তু আমার অন্তরে এটি ছিল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আমার একটি ভোট।

হিলারিভক্তরা নিশ্চয়ই আমার এই অনুচ্ছেদ পড়ে একটা ধাক্কা খাবেন। বলবেন, তাই নাকি?

আর একজন প্রেতলেখকের দুঃখগাথা আমি তাঁর মুখেই শুনেছি। লেখক শক্তিমান ও প্রভাবশালী। প্রেতলেখক একটি সরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত চাকুরে। দরকষাকষি না করেই তিনি আত্মজীবনীমূলক বইটির প্রেতলিখন শুরু করলেন। লেখার সময় কদাচিত্ চা পেয়েছেন। লেখা শেষ হলে যখন পাণ্ডুলিপি তুলে দিলেন, ভাবলেন টাকা পাবেন। পেলেন না। যখন বইটি প্রকাশিত হলো, পাতা উল্টে ভেঙে পড়লেন, কোথাও তার নাম নেই।

আত্মজীবনীর প্রেতলেখকদের জন্য পরামর্শ: আগাম টাকা নেবেন। ভেতরে কোথাও আপনার নাম প্রত্যশা করবেন না।

পাদটীকা ১

অন্ধ হোমার কি ব্রেইল পদ্ধতি ব্যবহার করে ‘ইলিয়াড’ আর ‘অডেসি’ রচনা করেছেন? ব্রেইলের সূচনা ১৮২৪-এ ফরাসি ফ্রেঞ্চ হরফ দিয়ে। আর হোমারের কাল খ্রিস্টজন্মের আট থেকে সাড়ে আটশ বছর আগেকার। প্রেতলেখক বিনে পয়সায় বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম উপকারটি করেছেন।

ক্রিস্টোফার মারলো, শেক্সপিয়ার কিংবা অন্য কেউ— কে কার প্রেতলেখক— এসব বিতর্ক আপাতত দূরেই থাকুক।

 

পাদটীকা ২

আমি নিজের জন্য প্রেতলেখক পেতে চাই। টাকা দেব। কিন্তু তার আগে আরো বেশি টাকা কামাই করার জন্য নিজে প্রেতলেকক হতে চাই: উপন্যাস, স্মৃতিকথা, আত্মজীবনী— কি চাই? এমনকি পাঠ্যবইও।

আমার প্রিয় লেখকদের একজন সিংকলেয়ার লিউইস (আমি সাগ্রহে তাঁর ‘মেইনস্ট্রিট’, ‘ব্যাবিট’ ‘উডসওয়ার্থ’ ও ‘অ্যারোস্মিথ’ গত শতকের সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে পড়েছি।) ১৯৩০ সালে নোবেল সাহিত্য পুরস্কার পাওয়ার ১৩ বছর আগে প্রেতলেখক হিসেবে কাজ করেছেন। আমি করলে সমস্যা কোথায়?