হোয়াটসঅ্যাপের ‘এন্ডটুএন্ড এনক্রিপশন’ বা ব্যক্তিগত বার্তার সুরক্ষা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। জনপ্রিয় এ মেসেজিং পরিষেবার মালিক মেটা এনক্রিপ্ট করা বার্তা পড়তে পারে, এমন অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ। মেটা এ অভিযোগকে অস্বীকার করলেও মার্কিন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে দায়ের করা এক মামলায় দাবি করা হয়, মেটা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের প্রায় সব ব্যক্তিগত বার্তায় প্রবেশাধিকার রাখতে পারে। মামলাটি করেছে কুইন ইমানুয়েল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ভারত, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকজন ব্যবহারকারীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় বলা হয়, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের কাছে যে ‘ব্যক্তিগত যোগাযোগের নিশ্চয়তা’ দেয়া হয়, বাস্তবে তা বিভ্রান্তিকর।
আরেক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মেটা সত্যিই এনক্রিপ্ট করা বার্তা পড়তে পারে কিনা, তা খতিয়ে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। যদিও মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এ তদন্তের দাবিকে বর্তমানে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন।
মেটা অভিযোগ অস্বীকার করে এ মামলাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হাস্যকর’ বলে আখ্যা দিয়েছে। মেটার মুখপাত্র কার্ল উগ এবং অ্যান্ডি স্টোন জানান, গত এক দশক হোয়াটসঅ্যাপে সিগন্যাল প্রটোকল ব্যবহার করে এনক্রিপশন বজায় রাখা হচ্ছে। তাদের দাবি, মামলাটি মূলত ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এনএসও গ্রুপ’কে সহায়তা করার একটি কৌশল। মেটা মনে করে, আইনি লড়াইয়ে সুবিধা পেতেই এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় নিশ্চিত করেছে, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখাই মেটার প্রধান অগ্রাধিকার এবং এনক্রিপশন পদ্ধতিতে কোনো আপস করা হয়নি।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এ অভিযোগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা বলছেন, মেটার মতো প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন বড় কেলেঙ্কারি গোপন রাখা অসম্ভব। যদি মেটা সত্যিই এনক্রিপশনের নিয়ম ভেঙে বার্তা পড়ত, তবে তা অনেক আগেই ফাঁস হয়ে যেত।
প্রযুক্তি খাতের অন্য এক বিশেষজ্ঞ জানান, এন্ডটুএন্ড এনক্রিপটেড চ্যাট থেকে পেছনের তারিখের বার্তা পড়া গাণিতিকভাবে অসম্ভব। তবে হোয়াটসঅ্যাপ যে ব্যবহারকারীদের প্রোফাইল তথ্য বা কন্টাক্ট লিস্টের মতো মেটাডাটা সংগ্রহ করে, তা নিয়ে অনেক আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে।
তবে সমালোচকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার কনটেন্ট না পড়লেও তার ব্যবহারকারীদের মেটাডাটার মাধ্যমে কে কার সঙ্গে কথা বলছে, কখন বলছে, যোগাযোগের তালিকাসহ যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে। ফলে গোপনীয়তার প্রশ্ন পুরোপুরি মিটে যায় না।
হোয়াটসঅ্যাপের জনপ্রিয়তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এর ‘এন্ডটুএন্ড এনক্রিপশন’ ব্যবস্থা। মেটার দাবি অনুযায়ী, এ ফিচারের কারণে প্রেরক ও প্রাপক ছাড়া তৃতীয় কেউ এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও কারো মেসেজ পড়তে পারে না।










