বিনোদন জগতের একসময়ের অপরিহার্য অনুষঙ্গ ব্লু-রে ডিস্ক রেকর্ডারের বাজার থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সনি। আজকের স্ট্রিমিং-নির্ভর বিশ্বে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
টেক জায়ান্টটি গত সপ্তাহে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, চলতি মাস থেকে পর্যায়ক্রমে ব্লু-রে ডিস্ক রেকর্ডারের সব মডেলের শিপমেন্ট বা সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হবে। শুধু তাই নয়, এ ঘরানার পণ্যের আর কোনো নতুন সংস্করণ বা ‘সাকসেসর মডেল’ বাজারে না আনার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।
তবে সনি ব্লু-রে প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে যে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তটি কেবল ইনটিগ্রেটেড প্লেয়ার সংবলিত ব্লু-রে রেকর্ডার মডেলগুলোর ওপর প্রভাব ফেলবে। বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনা করে ব্লু-রে ডিস্ক চালানোর জন্য নির্ধারিত প্লেয়ারগুলোর উৎপাদন অব্যাহত থাকবে।
সনির সাম্প্রতিক এ ঘোষণা ২০০৩ সালে শুরু হওয়া এক দীর্ঘ যুগের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ওই বছরই কোম্পানিটি বিশ্বের প্রথম ব্লু-রে ডিস্ক রেকর্ডার বাজারে এনেছিল।
সনি ২০২৪ সালে থেকেই রেকর্ড-যোগ্য ব্লু-রে ডিস্ক ও অন্যান্য অপটিক্যাল ডিস্ক ফরম্যাট তৈরির কাজ ধাপে ধাপে বন্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে আসছে। অপটিক্যাল স্টোরেজ বাজারের মন্দা ভাবকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি মিডিয়া বিভাগের প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মীও ছাঁটাই করে। এর আগের বছর সনি জানিয়েছিল, তারা রেকর্ড-যোগ্য ব্লু-রে ডিস্ক, মিনি-ডিস্ক, এমডি ডাটা ও মিনি-ডিভি ক্যাসেট উৎপাদন বন্ধ করে দেবে। এরপর ২০২৬ সালের দিকে তাকিয়ে প্রযুক্তি জায়ান্টটি জানিয়েছে, ব্লু-রে ডিস্ক রেকর্ডারের সব ধরনের সরবরাহ বন্ধ করা হবে।
এক দশকে বেশকিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্লু-রে প্রযুক্তি থেকে সরে এসেছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে অপো, এ-২০১৯ সালে স্যামসাং এবং ২০২৪ সালে এলজি ব্লু-রে উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। তা সত্ত্বেও প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে ব্লু-রে এখনো বেশ জনপ্রিয়। আসুস, পাইওনিয়ার, প্যানাসনিক ও ভারবাটিমের মতো ব্র্যান্ডগুলো এখনো এসব ডিস্ক ও ড্রাইভ উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে।










