মানুষের মতো দেখতে ও চলাফেরা করতে সক্ষম হিউম্যানয়েড রোবটের বৈশ্বিক বাজার দ্রুত উত্থানের দিকে এগোচ্ছে। গবেষণা সংস্থা আইডিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৮ হাজার ইউনিট হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করা হয়েছে, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় প্রায় ৫০৮ শতাংশ বেশি। খবর গিজচায়না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিউম্যানয়েড রোবট শুধু গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিগগিরই এগুলো বাস্তবে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার শুরু হবে, আর তখন বাজারটির মোট আয় প্রায় ৪৪ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদন ও বিক্রির ক্ষেত্রে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোই সামনের দিকে অবস্থান করছে।
হিউম্যানয়েড রোবটের প্রসারের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছে হাতেগোনা কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে লজিক রোবোটিকস ও ইউনিট্রি রোবোটিকস এরই মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার করে রোবট বিক্রি করেছে। এছাড়া লেজু রোবোটিকস ও সংইয়ান পাওয়ারের মতো ব্র্যান্ডগুলোও বড় পরিসরে রোবট সরবরাহে বিশেষ অবদান রাখছে।
উন্নত বিশ্বে এখন দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জায়গা করে নিচ্ছে হিউম্যানয়েড রোবট। ২০২৫ সালে শিক্ষা থেকে শুরু করে বিনোদন—সব ক্ষেত্রেই এ রোবটগুলোর ব্যবহার দেখা গেছে। তবে রোবট বিক্রির পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন আর একবারে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে রোবট কেনার প্রয়োজন পড়ছে না; বরং অনেক প্রতিষ্ঠান রোবট-অ্যাজ-এ-সার্ভিস মডেল চালু করেছে। এটি অনেকটা মাসিক সাবস্ক্রিপশন বা ভাড়ার মতো।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হিউম্যানয়েড রোবটের সাফল্যের মূলে রয়েছে এদের উন্নত গঠনশৈলী ও বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়। প্রকৌশলীরা এখন এমনভাবে রোবট তৈরি করছেন যেখানে ‘মস্তিষ্ক’ ও ‘দেহ’ একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। এর ফলে রোবটগুলো নিজের নড়াচড়া আরো নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে।
তবে রোবট নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে প্রযুক্তি মহলে। অনেকের মতে, কর্মক্ষেত্রে মানুষের বিকল্প হয়ে উঠতে রোবট এখনো অনেক পিছিয়ে। চীনের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউবিটেকের মতে, কোম্পানির নিজের তৈরি অত্যাধুনিক রোবটগুলোও একজন দক্ষ মানবকর্মীর তুলনায় বড়জোর অর্ধেক (৫০ শতাংশ) কার্যকর।










