স্ট্রোকের পর কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলা রোগীদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছেন কেমব্রিজ ও বেইহাং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত রিভয়েস নামক একটি পরিধানযোগ্য ডিভাইস উদ্ভাবন করেছেন। এটি কোনো অস্ত্রোপচার ছাড়াই রোগীর মনের কথা অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম। সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার কমিউনিকেশনসে এ গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

গবেষকরা জানান, স্ট্রোকের পর অনেক রোগী ডিসার্থ্রিয়া নামক সমস্যায় আক্রান্ত হন। এতে মুখের পেশিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলায় তারা স্পষ্টভাবে শব্দ উচ্চারণ করতে পারেন না। এ সমস্যা সমাধানে রিভয়েস তৈরি করা হয়েছে, যা কণ্ঠনালির ঠিক ওপরে ব্যান্ডের মতো (চকার) পরে থাকতে হয়। কথা বলার সময় এটি গলার সূক্ষ্ম কম্পন ও রক্তনালির স্পন্দন শনাক্ত করে এআইয়ের সাহায্যে বিশ্লেষণ করে।

প্রযুক্তিটিতে দুটি এআই এজেন্ট কাজ করে। একটি এজেন্ট রোগীর অস্পষ্ট নড়াচড়া থেকে শব্দ শনাক্ত করে এবং অন্যটি ব্যবহারকারীর আবেগ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিচার করে অসম্পূর্ণ চিন্তাগুলোকে পূর্ণ বাক্যে রূপান্তর করে। এতে রোগীর মনের ভাব অনেকটা স্বাভাবিক মানুষের কণ্ঠের মতো আবেগসহ ফুটে ওঠে।

ডিভাইসটির কার্যকারিতা যাচাইয়ে পাঁচজন স্ট্রোক রোগীর ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছে। সাধারণ ব্যবহারের ৪৭টি শব্দের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এ পরীক্ষায় দেখা গেছে, যন্ত্রটি ৯৫ দশমিক ৮ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক শব্দ এবং ৯৭ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক বাক্য শনাক্ত করতে পেরেছে। এটি প্রতি ১০০ মিলিসেকেন্ড অন্তর তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে, যা মানুষের স্বাভাবিক আলাপচারিতার গতির খুব কাছাকাছি। এছাড়া নাড়ির স্পন্দন পরীক্ষা করে এআই বুঝতে পারে রোগী কোন মানসিক অবস্থায় আছেন। তাছাড়া আবেগসহ পূর্ণাঙ্গ বাক্য ব্যবহারে রোগীরা ৫৫ শতাংশ বেশি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

গবেষকদের মতে, প্রযুক্তিটি ব্যবহারের জন্য মস্তিষ্কে চিপ বসানোর মতো জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই। স্ট্রোক ছাড়াও পারকিনসন্স ও মোটর নিউরোন ডিজিজে আক্রান্তদের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর হতে পারে। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও শিগগিরই এর বড় আকারের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার পরিকল্পনা করছেন গবেষকরা। সফল হলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতে সক্ষম এ পরিধানযোগ্য যন্ত্রটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, যা পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের সেবায় নতুন যুগের সূচনা করবে।