অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের তথ্য গোপনে সংগ্রহের অভিযোগে একটি বড়সড় আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়েছিল টেক জায়ান্ট গুগল। অবশেষে মামলাটি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ১৩৫ মিলিয়ন বা ১৩ কোটি ৫০ ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৭ সালের ১২ নভেম্বর থেকে গুগল অবৈধভাবে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ‘সেলুলার ডেটা’ সংগ্রহ করে আসছে। ব্যবহারকারীরা ফোনের লোকেশন ফিচার বন্ধ করে রাখলে কিংবা কোনো অ্যাপ ব্যবহার না করলেও গুগল গোপনে এ তথ্যগুলো হাতিয়ে নিত।
ক্লাস অ্যাকশন মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান জোসে ফেডারেল কোর্টে দায়ের করা হয়।
কিছু অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের দাবি, গুগল তাদের অনুমতি ছাড়াই ব্যাকগ্রাউন্ডে তথ্য সংগ্রহ করে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে কেনা ফোনগুলোয় এ সমস্যা বেশি দেখা গেছে।
ব্যবহারকারীরা মামলায় দাবি করেছেন, গুগল তাদের ব্যক্তিগত তথ্য বিপণন ও পণ্য উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করে মূলত ‘কনভার্সন’ বা সম্পত্তি দখলের সমতূল্য অপরাধ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কনভার্সন তখনই ঘটে যখন এক পক্ষ অন্য পক্ষের কোনো সম্পদ বা সম্পত্তি বেআইনিভাবে নিজের দখলে নিয়ে নেয়।
ব্যবহারকারীদের দাবি, তাদের ব্যক্তিগত ডিজিটাল তথ্য বা ডাটা হলো তাদের নিজস্ব সম্পত্তি। গুগল যখন ব্যবহারকারীদের অনুমতি ছাড়াই সে তথ্য নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং নতুন পণ্য তৈরির কাজে লাগিয়েছে, তখন কোম্পানিটি মূলত গ্রাহকের সম্পত্তির ওপর অনৈতিকভাবে নিজেদের অধিকার ফলিয়েছে।
বাদীদের পক্ষে লড়া আইনজীবী গ্লেন সামার্স জানিয়েছেন, এ ধরনের মামলার ইতিহাসে এটি এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় অংকের আর্থিক সমঝোতা। ডিজিটাল ডাটাকে ‘ব্যক্তিগত সম্পদ’ হিসেবে গণ্য করে আইনি লড়াই করার ক্ষেত্রে রায়টি এক যুগান্তকারী উদাহরণ হয়ে থাকবে।
ক্যালিফোর্নিয়ার সান জোসে ফেডারেল কোর্টে চলতি সপ্তাহের শুরুতে গুগলের বিশাল অংকের সমঝোতা প্রস্তাবটি জমা দেয়া হয়েছে। এখন কেবল একজন বিচারকের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা।
গুগল ও অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের মধ্যকার এ আইনি লড়াইয়ের সমঝোতা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা আর্থিক ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ফোনের ফিচারেও বড় পরিবর্তন পাবেন।
মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যবহারকারী গুগল থেকে সর্বোচ্চ ১০০ ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এছাড়া গুগলের অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমে কিছু বাধ্যতামূলক পরিবর্তন আসছে। যেমন এখন থেকে নতুন ফোন চালুর সময় ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের আগে তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট অনুমতি নিতে হবে। একই সঙ্গে গুগলের ‘টার্মস অব সার্ভিস’ বা সেবার শর্তাবলিতে তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি স্বচ্ছ থাকবে।
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরির অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই গুগলকে আরো একটি বড় আইনি সমঝোতায় পৌঁছতে হয়েছে। গত সপ্তাহে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত আলাপচারিতা গোপনে রেকর্ড করার অভিযোগে ৬৮ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ব্যবহারকারীদের অভিযোগ ছিল, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট অনেক সময় ভুলবশত সক্রিয় হয়ে যেত (যাকে আইনি ভাষায় ‘ফলস অ্যাকসেপ্ট’ বলা হচ্ছে)। অর্থাৎ ‘হে গুগল’ বা ‘ওকে গুগল’ না বললেও এটি চালু হয়ে ব্যবহারকারীর ঘরের ভেতরের বা ব্যক্তিগত কথা রেকর্ড হয়ে যেত।










