প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট ২০২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটির আয় ও মুনাফায় বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। মূলত ক্লাউড কম্পিউটিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সেবার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণেই এ সাফল্য এসেছে। তবে ক্লাউড ব্যবসায় সুসময় চললেও গেমিং ও হার্ডওয়্যার খাতের আয়ে কিছুটা ভাটা পড়েছে। খবর দ্য ভার্জ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে মাইক্রোসফটের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৮১ বিলিয়ন বা ৮ হাজার ১৩০ কোটি ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ২৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯০ কোটি ডলারে। আর্থিক এ ফলাফল বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন মাইক্রোসফটের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) অ্যামি হুড।
মাইক্রোসফটের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো একক প্রান্তিকে ক্লাউড ব্যবসা থেকে আয় ৫ হাজার কোটি ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ‘ইন্টেলিজেন্ট ক্লাউড’ বিভাগ থেকেই মূলত বড় অংকের আয় এসেছে। এ খাতে আয় ২৯ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ২৯০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষ করে আজুর এবং অন্যান্য ক্লাউড সেবার চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সত্য নাদেলা বলেন, ‘বিশ্ব এখন এআই বিপ্লবের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি প্রযুক্তি খাতে পড়ছে। তিনি জানান, তাদের এআই ব্যবসা এখন অনেক বড় বড় ফ্র্যাঞ্চাইজির চেয়েও বেশি আয় করছে। ওপিআইয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বের সুফল মাইক্রোসফটের ক্লাউড ব্যবসায় বড় ভূমিকা রাখছে।’
ক্লাউড ব্যবসায় জয়জয়কার থাকলেও মাইক্রোসফটের পার্সোনাল কম্পিউটিং বিভাগে কিছুটা মন্দা দেখা গেছে। এ বিভাগে আয় ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৩০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গেমিং খাতে পতন হয়েছে চোখে পড়ার মতো। এক্সবক্স হার্ডওয়্যার থেকে আসা আয় আগের বছরের তুলনায় ৩২ শতাংশ কমেছে। এছাড়া গেমিং কন্টেন্ট ও সাবস্ক্রিপশন সেবা থেকেও আয় ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
তবে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে উইন্ডোজ ১১ ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ১০০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। উইন্ডোজ ১০-এর সাপোর্ট বন্ধের ঘোষণার ফলে অনেক গ্রাহক নতুন এ সংস্করণে আপগ্রেড করছেন, যা উইন্ডোজের বাজার বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে মাইক্রোসফট বিপুল বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। এ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার খরচ করেছে, যার বড় অংশই ব্যয় হয়েছে এআই অবকাঠামো এবং শক্তিশালী চিপ তৈরিতে। সম্প্রতি মাইক্রোসফট নিজস্ব এআই চিপ ‘মাইয়া ২০০’ বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে, যা অ্যামাজন ও গুগলের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করবে।
সব মিলিয়ে গেমিং ও ডিভাইসে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও ক্লাউড এবং এআই সেবার মাধ্যমে মাইক্রোসফট তাদের ব্যবসার শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। আগামী দিনগুলোয়ও এআই প্রযুক্তিই প্রতিষ্ঠানটির আয়ের প্রধান উৎস হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।










