২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া অ্যাপ হিসেবে রেকর্ড গড়েছে চ্যাটজিপিটি। গত বছর ওপেনএআইয়ের অ্যাপটি বিশ্বজুড়ে ৭৭০ মিলিয়ন বা ৭৭ কোটিবার ডাউনলোড করা হয়েছে। বিজনেস অব অ্যাপসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
অ্যাপ স্টোরগুলোর শুরুর দিকের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সে সময় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিল বিভিন্ন গেম এবং ফেসবুক, ইউটিউব বা গুগলের মতো সুপরিচিত ওয়েব সার্ভিসগুলোর মোবাইল সংস্করণ। তবে স্মার্টফোনের সেন্সর ও ফিচারের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে মোবাইল দুনিয়ায় প্রথম বড় আলোচনায় আসে ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও শাজামের মতো অ্যাপগুলো। মূলত স্মার্টফোনের ক্যামেরাকে কাজে লাগিয়ে ছবি শেয়ারিং বা মাইক্রোফোন ব্যবহার করে গান শনাক্ত করার মতো অভিনব কৌশল এসব অ্যাপকে জনপ্রিয় করে তোলে।
তবে ২০২৫ সালে এসে প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে। গত বছর অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস উভয় প্লাটফর্মেই সবচেয়ে বেশি ডাউনলোড হওয়া অ্যাপের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, সাধারণ যোগাযোগ বা বিনোদনের চেয়ে মানুষ এখন এআইয়ের মাধ্যমে সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। ফলে এক সময়ের প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলোকেও পেছনে ফেলে এখন রাজত্ব করছে জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি।
পরিসংখ্যান বলছে, গুগল প্লে-স্টোরে অ্যাপটি ডাউনলোড হয়েছে ৫৫ কোটিবারের বেশি। খোদ গুগলের নিজস্ব এআই অ্যাপ ‘জেমিনি’ ডাউনলোডের এ লড়াইয়ে চ্যাটজিপিটির চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল। এমনকি গত কয়েক বছরের দাপুটে অ্যাপ টিকটক ও ইনস্টাগ্রামকেও পেছনে ফেলেছে চ্যাটজিপিটি।
শুধু অ্যাপের বাজার নয়, পুরো জেনারেটিভ এআই খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে ওপেনএআইয়ের পরিষেবাটি। একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাম্প্রতিক মডেল আপডেট নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকালেও চ্যাটবটটি এখনো বাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। ডাটা প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনারেটিভ এআইয়ের বাজারে ৮১ দশমিক ১৩ শতাংশ হিস্যা নিয়ে শীর্ষে আছে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি।
চ্যাটজিপিটির বৈশ্বিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২৫০ কোটি প্রম্পট নেয় প্লাটফর্মটি। ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যান বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ এখন আমাদের পরিষেবা ব্যবহার করে এবং দ্রুতগতিতে এ সংখ্যা বাড়ছে। এটা অনেক বড় বিষয়।’
একই সঙ্গে এআই চ্যাটবটের বাজারে মোবাইল অ্যাপ থেকে সবচেয়ে বেশি আয়ের রেকর্ড গড়েছিল চ্যাটজিপিটি। ২০২৩ সালের মে মাসে চালুর পর অ্যাপটি গত আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের কাছ থেকে আয় করেছে ২০০ কোটি ডলার।
সাম্প্রতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গুগল প্লে-স্টোর ও অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে থাকা বিপুলসংখ্যক অ্যাপের মধ্যে বড় একটি অংশই ব্যবহারকারীদের মনোযোগ কাড়তে ব্যর্থ হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সিংহভাগ অ্যাপই এক হাজার ডাউনলোডের গণ্ডি পার করতে পারছে না। মূলত শীর্ষ পর্যায়ের মাত্র ১ শতাংশ অ্যাপই দখল করে আছে মোট ডাউনলোডের প্রায় ৮০ শতাংশ। এর মধ্যে বহু অ্যাপ রয়েছে, যা একবার আপলোডের পর আর কোনো আপডেট পায়নি, প্রযুক্তি বিশ্বে যেগুলোকে ‘ঘোস্ট অ্যাপ’ বা পরিত্যক্ত অ্যাপ হিসেবে গণ্য করা হয়।










