বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে যখন ফোনের স্ক্রিন ফেটে যায় বা ব্যাটারিতে সমস্যা দেখা দেয়, তখন খুব দ্রুত কাছের কোনো মেরামত কেন্দ্রে ছুটে যান অনেকেই। হার্ডওয়্যার ঠিক করা জরুরি হলেও অনেকেই জানেন না যে কোনো তৃতীয় পক্ষের সার্ভিস সেন্টারে ফোন জমা দেয়া ব্যক্তিগত তথ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ফোন মেরামতের পর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ফোন মেরামতের পর সেটি ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়। এ কাজের দোহাই দিয়ে অনেক অননুমোদিত বা তৃতীয় পক্ষের মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কাছ থেকে ফোনের পাসওয়ার্ড বা পিন নম্বর চেয়ে থাকে। তারা সাধারণত দাবি করেন যে ফোনটি লক করা থাকলে তারা মেরামত শেষ করতে পারবেন না বা পরীক্ষা করতে পারবেন না। ঠিক এ জায়গা থেকেই নিরাপত্তার ঝুঁকি শুরু হয়। যখন কেউ ফোনের পাসওয়ার্ড পেয়ে যায় তখন ফোনের ই-মেইল, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং ব্যক্তিগত ছবির গ্যালারিসহ সব ধরনের তথ্যে তার পূর্ণ প্রবেশাধিকার তৈরি হয়।
বাস্তবে এমন অনেক উদাহরণ দেখা গেছে যেখানে ফোন মেরামত করার কিছু সময় পরই ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ইন্টারনেটে দেখতে পেয়েছেন বা অর্থ আদায়ের জন্য ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ফোন ফেরত নেয়ার সময় ব্যবহারকারী অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ করেন না। ফোনটি ঠিকঠাক কাজ করে এবং বাহ্যিকভাবে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু পর্দার আড়ালে ততক্ষণে গোপন তথ্য চুরি হয়ে যায়। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে স্মার্টফোন মেরামতের ক্ষেত্রে ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
তবে আশার কথা হলো, আধুনিক প্রযুক্তিতে পাসওয়ার্ড না দিয়েই তথ্য সুরক্ষিত রাখার বেশকিছু উপায় রয়েছে। বর্তমানের বেশির ভাগ নতুন স্মার্টফোনে এখন ‘রিপেয়ার মোড’ বা ‘মেইনটেন্যান্স মোড’ নামক একটি বিশেষ ফিচার থাকে। ফিচারটি চালু করলে ফোনটি একটি সীমাবদ্ধ পরিবেশ তৈরি করে, যা টেকনিশিয়ানকে ক্যামেরা, স্পিকার বা টাচস্ক্রিনের মতো মৌলিক ফাংশনগুলো পরীক্ষা করার অনুমতি দেয়। কিন্তু এর মাধ্যমে ফোনের ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, অ্যাপ এবং ফাইলগুলো সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা হয়। এতে করে ফোনের মেরামত যাচাই করা যায় এবং ব্যবহারকারীর গোপনীয়তাও রক্ষা পায়। ফোন ফেরত পাওয়ার পর মালিক কেবল তার নিজস্ব পাসওয়ার্ড দিয়ে এই মোড থেকে বের হয়ে আসতে পারেন।
যাদের স্মার্টফোন কিছুটা পুরনো এবং এ বিশেষ মোডটি নেই, তারা ‘গেস্ট মোড’ ব্যবহার করতে পারেন। এটি ফোনে একটি দ্বিতীয় স্পেস বা জায়গা তৈরি করে যা মূল ব্যবহারকারীর তথ্য থেকে আলাদা থাকে। যদি এ বিকল্পগুলোর কোনোটিই ফোনে না থাকে, তবে সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো ফোনের সব তথ্যের একটি ব্যাকআপ রাখা এবং মেরামতকারীকে দেয়ার আগে ফোনটি ‘ফ্যাক্টরি রিসেট’ দেয়া। এতে কিছুটা বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হলেও ফোনে কোনো তথ্য অবশিষ্ট না থাকায় চুরির ভয় থাকে না। মনে রাখতে হবে, সাময়িক সুবিধার চেয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা সবসময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। —ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে










