স্মার্টফোন প্রেমীদের কাছে ‘স্লিম’ বা পাতলা ফোনের আকর্ষণ সবসময়ই আলাদা। প্রযুক্তি দুনিয়ায় গত বছরই গুঞ্জন ছিল যে ২০২৬ সাল হবে আল্ট্রা স্লিম বা অতি পাতলা স্মার্টফোনের বছর। কিন্তু বছরের শুরুতেই দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। গ্রাহকের চাহিদা আর প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা মিলিয়ে স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন পাতলা ফোন নির্মাণ থেকে সরে আসছে। সম্প্রতি শাওমির ‘সেভেনটিন এয়ার’ প্রটোটাইপ বাতিল হওয়ার ঘটনাটি তারই বড় প্রমাণ।

চাহিদা ও প্রযুক্তিগত কারণে এ মডেলের ফোন উৎপাদন আর সম্ভব হয়নি। প্রযুক্তি দুনিয়ার নির্ভরযোগ্য সূত্র আইস ইউনিভার্স ও বল্ড পান্ডার তথ্যমতে, শাওমি মাত্র ৫ দশমিক ৫ মিলিমিটারের পুরু ফোন তৈরির কাজ করছিল, যা অ্যাপলের আইফোন ১৭ এয়ারের চেয়েও পাতলা। এ ফোনে ‘কোল্ড স্কাল্পটেড’ মেটালিক বডি ও বিশেষ আনুভূমিক একটি ক্যামেরা বার থাকার কথা ছিল। শাওমি সবচেয়ে বড় ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জগুলোর জন্য ‘মাস্টার’ ব্যাজ ব্যবহার করে, যা এ ফোনের ক্ষেত্রেও ব্যবহার হওয়ার কথা ছিল। এমনকি এত পাতলা ফ্রেমের ভেতরও ২০০ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু এ ক্যামেরা বসাতে গিয়ে ফোনের পেছন দিকে বড় একটি বাম্প তৈরি হয়, যা ফোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দিচ্ছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রধানত তিনটি কারণে এত পাতলা ফোন তৈরি করা কঠিন ছিল। প্রথমত, অ্যাপলের আইফোন ১৭ এয়ার বাজারে আসার পর আশানুরূপ সাড়া পায়নি। দ্রুত গরম হওয়া ও ব্যাটারির সমস্যার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। এতে শাওমি, অপো বা ভিভোর মতো চীনা প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রভাবিত হয়েছে।

দ্বিতীয় বড় কারণ হলো ব্যাটারির স্থায়িত্ব। ২০২৬ সালে গ্রাহকরা ফোনের ডিজাইন বা সৌন্দর্যের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। যেখানে শাওমি স্ট্যান্ডার্ড মডেল সাত হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ও প্রো ম্যাক্স মডেলে সাত হাজার ৫০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ারের ব্যাটারি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেখানে সেভেনটিন এয়ার ফোনে পর্যাপ্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ দেয়া অসম্ভব ছিল।

তৃতীয়ত, নতুন স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ প্রসেসরটি অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও বেশ তাপ উৎপন্ন করে। অতি পাতলা ফোনে প্রসেসর ঠাণ্ডা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ‘ভেপার চেম্বার’ বসানোর জায়গা না থাকায় ফোনটি অসহনীয় মাত্রায় গরম হয়ে যাচ্ছিল।

এ কারণে শাওমি প্রটোটাইপটি বাজারে ছাড়ার আগেই বাতিল করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন ফোনের কর্মক্ষমতা, ব্যাটারির স্থায়িত্ব ও তাপ নিয়ন্ত্রণ সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৬ সালে গ্রাহকরা পাতলা স্মার্টফোনের ডিজাইনের বদলে শক্তিশালী সক্ষমতা ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারির দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। ফলে স্মার্টফোন বাজারের এ ‘স্লিম’ যুগের সমাপ্তি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। গিজচায়না অবলম্বনে